আমাদের স্বপ্ন-লেবু

এই পোষ্টের বীজ বপন করেছেন ব্লগার সুরাইয়া পারভীন। তিনি সোনেলার জনপ্রিয় সম্মিলিত গল্প ‘স্বপ্ন’ লিখে ফেলেছেন, কবে তা প্রকাশ করবেন জানতে চেয়েছেন সোনেলার ফেসবুক গ্রুপে পোষ্ট দিয়ে। জিসান শা ইকরাম, বন্যা লিপি, সুরাইয়া পারভীন, শামীম চৌধুরী, মাহবুব আলম, রোকসানা খন্দকার রুপু এবং আমি, তুমুল আড্ডাবাজীতে মেতেছিলাম এই বৃস্টির দিনে। এরই এক পর্যায়ে জিসান শা ইকরাম গ্রুপে লেবু নিয়ে স্বপ্ন পোষ্ট দিলেন। মন্তব্যে আসতে থাকলো একের পর এক লেবু স্বপ্ন। ব্লগের সবার সাথে শেয়ার করার ইচ্ছে তখনই হলো।

আসুন সবাই, মন্তব্যে লেবু নিয়ে স্বপ্ন লিখুন। সবার স্বপ্ন পোষ্টে যুক্ত করা হবে।

★ জিসান শা ইকরাম  = #স্বপ্ন –৫৭০

অনেক দিন যাবতই আমার মাথার একটা স্ক্রু ঢিলা ছিল। কয়েকদিন পূর্বে তা মাথা থেকে পরে গিয়েছে। কত যে খুঁজেছি তা বলার মত না। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া খোঁজা শেষ করে সোনেলা গ্রুপে এসে গাছ তলায় বসে মাথায় হাত দিয়ে ঝিমাইতেছি। হঠাৎ দেখি এম ইঞ্জা ভাই একটা স্ক্রু খুঁজে পাওয়ার পোষ্ট দিছে। এইত আমার স্ক্র। কাউরে কিছু না বলে স্ক্রু আবার মাথায় দিলাম। স্ক্রু না থাকায় কোনো লেখা মাথায় আসছিল না, মন্তব্যও করতে পারিনা। এখন সব ঠিক ঠাক, লেখা চলে আসছে আবার, আলহামদুলিল্লাহ।

বহুদিনের স্বপ্ন একটি লেবু বাগান করার। স্বপ্নের মধ্যে স্বপ্নে সেই লেবু প্রিয় মানুষকে দেয়ার। লেবুর বাগানই তো করতে পারলাম না, স্বপ্নের লেবু কারে দেই?

এখন বিকেল চারটে ছত্রিশ। সকালের নাস্তা খেলাম দুই ঘন্টা আগে। দুপুরের খাবার খেতে হবে। স্ক্রু টা ঠিক ঠাক মত লাগছে কিনা বুঝতাছি না।

★সাবিনা ইয়াসমিন = #স্বপ্ন –৫৭১ 😁

সকাল থেকে ভীষণ বৃষ্টি। বৃষ্টিতে মাখামাখি হয়ে ভাবছি আজ কোন কাজ নয়, ঘরের ফ্যান ছেড়ে কাঁথা মুড়ে ঘুমাবো। কিন্তু হায়, পরিবারের গৃহ কামলাদের এত সুখ কই! অর্ডার এসেছে রাঁধতে হবে খিচুড়ি আর ভুনা মাংস। ঝটপট রেঁধে সবাইকে খাওয়ানোর পর দেখি ফ্রিজে রাখা লেবু সব শেষ! আহারে, কেন একটা লেবু গাছ নেই আমার!  মনের কষ্টে দুমড়েমুচড়ে বিছানায় শুয়ে পড়েছি।

“লেবু চাই লেবু?  আমার বাগানের তরতাজা লেবু, এই বৃষ্টিতে একটাও বিক্রি হচ্ছে না। আপনি নিবেন ম্যাডাম?” দু’হাত পেতে নিলাম। খুশিতে জিজ্ঞেস করলাম আবার কবে আসবেন লেবু নিয়ে? – আগামীকাল!

★সুরাইয়া পারভীন = #স্বপ্ন –৫৭২😁😁

সকাল সকাল মটকা গেলো তো গরম হয়ে! ফ্রিজ খুলে দেখি একটাও লেবু নেই। সকালের আদা চায়ে একটা লেবু চাই, এগারোটার গ্ৰীন-টি এ একটা লেবু চাই, বারোটার একবাটি স্যুপে একটা লেবু চাই, লাঞ্চে একটা লেবু চাই, বিকেলের রঙ চায়ে একটা লেবু চাই, ডিনারেও একটা লেবু চাই। অথচ দেখো ফ্রিজে একটাও লেবু নেই। আজ বাসায় কোনো রান্না বান্না হবে না। আজ কিচেনে অনশন করবো। না হয় লেবুই একটু বেশি লাগে তা বলে এভাবে কষ্ট দেওয়া! দেখি আজ খায় কি! প্রচণ্ড রেগে হাড়ি-পাতিল আচড়াতে শুরু করেছি। একা একাই গজগজ করছি। এমন সময় পাশের বিল্ডিং থেকে সাবিনা আপু বলছেন

-কী হলো, কী হলো? সুরাইয়া এতো চিৎকার চেঁচামেচি করছে কেনো? ভূতে ভর টর করলো নাকি।

~আর বলেন না আপু। সকালে লেবু আদা চা খাবো কিন্তু একটাও লেবু নেই ফ্রিজে। কেমন লাগে বলেন?

আপু মুচকি হেসে বললেন

– ওহ্ এই কথা! দাঁড়াও একটু

এই বলেই তিনি এক ঝুড়ি লেবু সহ একজনকে নিয়ে এলেন আমার বাসায়। আর তার পর বললেন এই নাও যতো খুশি।

চোখের সামনে লেবু দেখে আমি তো সেই খুশি। এতক্ষণ খেয়ালই করিনি লেবু বিক্রেতাকে। লেবু বিক্রেতার দিকে চোখ পড়তেই  দেখি এ মা উনি তো আমাদের সবার প্রিয় জিসান ভাইয়া!

★শামীম চৌধুরী = #স্বপ্ন –৫৭৩

আজ শুক্রবার ছুটির দিন। তার উপর সারা রাত বৃষ্টি হওয়ায় ঠান্ডার ইমেজটা বেশ ভাল করেই দেহে ভর করেছিলো। কাঁথা মুড়ি দিয়ে সেই আরামের ঘুম ঘুমাচ্ছিলাম। বউ আমার ঘুম দেখে বেশ সুযোগ করে দিলো। সকালের নাস্তা খাবারও তাড়া নেই। অফিসেরও কোন তাড়া নেই। তাই দে ঘুম।
হঠাৎ কানে ভেসে আসলো বাসার সামনের রাস্তায় কে যেন চিৎকার করে বলছে “আই লাভ ইউ” ভালোবাসার ডাক শুনেই ধর ফরিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম। বারান্দায় গিয়ে বাহিরে তাকালাম। কাউকে দেখা যাচ্ছে না। অথচ আই লাভ ইউ শব্দটা তখনও বাতাসে ভেঁসে বেড়াচ্ছে।
হঠাৎ বাঁদিকে তাকিয়ে দেখি আমাদের জিসান ভাই মাথায় এক টুকরি লেবু নিয়ে চিৎকার করে বলে বেড়াচ্ছেন-
অ্যাই লাব উউউ………

★রোকসানা খন্দকার রুকু =#স্বপ্ন ৫৭৪

এইডা কোন কাম হইল যার পর নাই মন খারাপ। একজনকে খেতে দিলাম পরশু বলে, লেবু হলে ভালো হত। কালও তাই বলে দিল ধমক। সারাদিন মোবাইল হাতে নিয়া থাক তোমার আজ পর্যন্ত লেবু ওয়ালার সাথে সখ্যতা নাই, কিসের কি? এমন বৃষ্টিতে প্রেম না করে সাধারণ লেবুর জন্য বকা! মন খারাপ করে রাস্তায় গিয়ে দাডালাম। ডাক্তার দেখানোর পরও মনে করতে পারছিলাম না যে , কার সাথে যেন পরিচয় আছে। সেও আমার মত কিছুটা। মানে বুঝছেন তো! গতকাল সে হারানো স্কু খুঁজে পাইছে। আমিও চেক করছিলাম তা আমার না। বেশি ঝকাঝকা। আর আমার তো জং ধরা হইত। আমার গুলা তো কোনদিন হারাইছে আমি আর খুঁজিও নাই। থাউক গা সবার সবটা থাকতে নাই। এই জন্যে কিছু মনে থাকে না আরকি?
– এমা কেডা যাও গো তুমি ? ও ঢিলা সামছু? কি হাসিরে হাসি। লুঙ্গির কোচা পেছনে গুজিয়া মাথায় ঝুড়িঁ নিয়া হাসি।
– চিনবার পারছি রে দোস্ত।
-হ আমিও পারচি? তা এগুলা কি?
– আচেনি তোমার নদীর জেলেডা?
– হ আছে।
– তাই তো কই তুমি রাস্তাত ক্যা? লেবুখোরটার কাছে আর আইস না। বদ একটা। তা যাউক নিবা নাকি?
– আমি হাতপা ছোড়াছুড়ি কান্না শুরু কইচ্চি। এই না হইল সমগোত্রীয়। কষ্ট ক্যামনে বুঝবার পারিয়া চলি আইচ্চে।
অতঃপর সংসারে শান্তি।

* ইঞ্জা = #স্বপ্ন ৫৭৫


সকালে ঘুম থেকে উঠে লেবু পানি খাওয়ার অভ্যাস করছি, আজ সকালে দেখি লেবু পানি দেওয়া হয়নি, দেখেই মটকা গরম, গিন্নিকে ডাক দিলাম।
কি ব্যাপার তুমি এখনো ওয়াসরুমে যাওনি, গিন্নির জিজ্ঞাসা?
কিভাবে যাবো, আমার লেবু পানি কই?
লেবু শেষ।
লেবু শেষ তো কি হয়েছে, গাছ থেকে ছিড়ে নিলেই তো হতো।
গাছের লেবুই শেষ।
আমি হা করে তাকিয়ে থাকলাম, মনে মনে বলি “আহারে লেবু তুইও শেষ হওয়ার সময় পেলি না”?
আজ কি লেবু দিবস নাকি, লেবুর জন্য হাহাকার চারিদিকে?

* আরজু মুক্তা= #স্বপ্ন ৫৭৬

করোনার কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ। আজ অফিস যাবো। অকাজের বৃষ্টি শুরু। এক হাঁটু পানি। দেখি রাস্তায় কে জানি মাছ ধরছে। আরে চেনা চেনা লাগে!
হুম। চিনেছি।
নাবাদের স্কুলের ফুচকাওয়ালা। ডাকলাম, কি খবর?
ম্যাডাম, ভালো আছি।
এখন কি করো?
লেবু বিক্রি করি। এই যে ডালা। করোনার কারণে লেবুর দাম বাড়তি।ভালোই ইনকাম। দোয়া করিয়েন।
যাই হোক। পরিচিত একজন ভালো আছে।

সুপায়ন বড়ুয়া= #স্বপ্ন ৫৭৭

করোনা কালে লেবু খেয়ে
বাঁচার স্বপ্ন দেখি।
সকাল বিকাল লেবু ছাড়া
চা-পানিটাই ফাকি।
লেবু নিয়ে স্বপ্ন রসে
মজা নিয়ে আছি।
শুভ কামনা।

★রেজওয়ানা কবির =#স্বপ্ন -৫৭৮


সকালে ঝুম বৃষ্টি নেমেছিল কিন্তু উপায় নেই, কলেজ বন্ধ তা কি হয়েছে? অগত্যা অনলাইন ক্লাস নেয়ার জন্য কলেজে গেলাম, আজকের টপিক ” লেবুর গুনাগুন”।ভালোভাবে লেবু গুনাগুন শেষ করেই টপাক করে গাড়িতে উঠলাম। বাসায় এসে রেস্ট নিচ্ছিলাম,টিভিতে আবার লেবুর গুনাগুন শুনে মুখের কাল দাগ দূর করার জন্য ফ্রিজ খুলে দেখি লেবু এতটাই শুকিয়ে গেছে যে কাটার পর মনে হচ্ছে বাইরে ফিটফাট,ভেতরে সদরঘাটের মত অবস্থা। রুপচর্চা করব তাতেও শান্তি নেই,আজাদ কে লেবু আনতে বললে বৃষ্টির কারনে অনলাইনে অর্ডার করে দিল।এক ঘন্টা বসে অপেক্ষার প্রহর গুনছি, সেই সময় দড়জায় নক,খুলেই দেখি তৌহিদ ভাই লেবু নিয়ে এসেছে, অনলাইনের অর্ডার পেয়ে।যাক হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। এবার লেবু কেটে মুখে লাগাব ঠিক তখনি দেখি আজাদ সব লেবু দিয়ে নতুন রেসিপি বানিয়েছে নাম তার “লেবুর ফ্রাই ” জীবনে নাম শুনি নাই এই রেসিপির। তবুও রাগে ফোপাতে লাগছিলাম, আজাদের অত্যাচারে অনিচ্ছা সত্বেও মুখে তুলে,,উয়াক,,,,,,,আমার লেবুগুলোর ১২ টা বেজে গেল।আমার আর মুখে দেয়া হল না লেবু মধু।হায়রে আমার সাধের লেবু গরল তেলে টগবগ করছে😭😭😭

★খাদিজাতুল কুবরা= #স্বপ্ন-৫৭৯

চৈত মাসে খেঁতা গাত দিলে তারে কয় জ্বর!
ঘরের কথা বার কইরলে তারে কয় পর! ”
আঁঙ্গো নোয়াখাইল্যা প্রবাদ ইয়ান। কি কইতাম আঁর ঘরে লেবু লই যে একখান কাণ্ড! কর্তার সুগার আছে, বেইন্যা ঘুমেতুন উডি হে গরম লেবু জল খায়। বাবুরে বাবু একদিন লেবু ন থাইকলে বাড়ি মাথাত তুলু হালায়। আঁর ছোড বোইনেরা টিপ্পনি কাডে কয় দুলাভাই দীপিকার ডায়েট ফলো করে। আঁর কি দোষ আন্নেরা কন, আঁই ডায়েট ফায়েটের ধার ধারিনা যা হাই তা-ই খাই। তো যে কথা কইবার লাই এতো কথা হেডা হইলো লেবুর দাম হুনি মাথা ঘুরায় উডনে দোকানদাইরগার লগে তর্ক লাগি গেছি। লেবুর হালি ত্রিশ টেয়া ত আবার বুলডোজার দি চাপলেও রস বার অইতন। আঁই বুইঝঝেন নি লেবু নকিনি চলি আইসি। ওমা কর্তা মারমুখী লেবু ন খাইলে যেন হে বাঁইচতোন।
মাথা যে গরম অইসে, এক্কেরে মোবাইল আতে লই সোনেলা খুলি চাই যে জিসান ভাইয়ার লেবু কারবার। আন্নেরগোরে কইয়ের লেবুঅলা দেখলে কইয়েন আঁর ইয়ানদি কদ্দূর আইত। কোগা লেবু কিনি ঘর শান্তি কইত্তাম।
আঁই নোয়াখাইল্যা, কইজ্জা হাসাদ একদম হছন্দ করিনা।
আইচ্ছা বেকে ভালা থাইয়েন আল্লাহ হাফেজ।

মোট পড়েছেনঃ ১,৮৮২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৪৭টি মন্তব্য

  1. গল্পের জন্ম বা উৎপত্তি যেখান থেকে, যেমন করেই সৃষ্টি হোক না কেন! তা যে মহা আরম্বেরে ইতিহাস গড়বার কাজে যথেষ্ঠ, তা এই পোষ্ট আরেকবার প্রমান করলো। কী দুর্দান্ত একেকজন লেখক! চটপট নামিয়ে দিলো একেকটা লেমন স্টোরি😊😊। দুর্ভাগ্য আমি কিছুই পারছি না লিখতে।

  2. সকালে ঘুম থেকে উঠে লেবু পানি খাওয়ার অভ্যাস করছি, আজ সকালে দেখি লেবু পানি দেওয়া হয়নি, দেখেই মটকা গরম, গিন্নিকে ডাক দিলাম।
    কি ব্যাপার তুমি এখনো ওয়াসরুমে যাওনি, গিন্নির জিজ্ঞাসা?
    কিভাবে যাবো, আমার লেবু পানি কই?
    লেবু শেষ।
    লেবু শেষ তো কি হয়েছে, গাছ থেকে ছিড়ে নিলেই তো হতো।
    গাছের লেবুই শেষ।
    আমি হা করে তাকিয়ে থাকলাম, মনে মনে বলি “আহারে লেবু তুইও শেষ হওয়ার সময় পেলি না”?
    আজ কি লেবু দিবস নাকি, লেবুর জন্য হাহাকার চারিদিকে?

  3. এই ছিলো আপনার মনে!
    আগে একটু ধারনা দিলে লেখাটা তো কিছুটা ধাঁর দিয়ে শানিত করে দিতাম।
    আগে না বলার জন্য তীব্র প্রতিবাদ।

    1. এটা কিন্তু দারুণ হয়েছে ভাইয়া
      হুটহাট করে লেখা গল্প গুলো নিয়ে একটা আড্ডা পোস্ট হয়েছে। দারুণ লেগেছে ব্যাপারটা

  4. স্বপ্ন পড়ে সবার শেষে এসে দেখি গুগলের এড! ওজন কমান ৪০ কেজি!

    ব্লগের এডও সকলের স্বপ্নকে সমর্থন জানালো কাজেই স্বপ্ন স্বার্থক।

    শুভ হোক প্রতিক্ষণ। লেবুর আকালে স্বপ্ন দেখতে পারছিনা। কেউ লেবু ধার দিবাইন!!

  5. ঝাঁকা ভরা লেবু নিয়ে জিসান ভাইয়া আর সব্বার লেবু-গল্প কখন কখন এত জমাটি হল? হায় রে, শুক্রবার সারাদিন রান্না আর রাজ্যের কাজ করলে এমনই হয় রে বীথি, দুক্কু করিস না!!! 😭

    1. আমিও বলি দুষ্ক করবেন না প্লিজ। লেবু নিয়ে আপনার কিছু যোগ/অভিযোগ থাকলে কমেন্টে লিখুন। সোনেলার আড্ডা পোস্টে সবার সেল্ফি (গল্প) থাকবে না, তা কী হয়!!

  6. লেবু উপর এতো অত্যাচার করলে লেবুও একসময় ব্লগ অচল করার হুমকি দিবো। তাই লেবু লাগান লেবু ব্যবসায়ীর চাপ কমান।

    আমি লেবুর বাঁকল খাই, আমাকে মিষ্টি বাঁকল দিলেই হইবো। 🙊😆

  7. সবজির বাজারে নাকি আগুন জ্বলছে । মানুষ দিশাহারা হয়ে জ্ঞানহীন। ভাগ্য ভালো কোন বুঝদার এখনো বলেনি সবজি খাবেন না যেমন আগে বলে ছিল পিয়াজ খাবেন না। এবং এখনো এটাও বলেনি কচুরি ফেনা সবজি হিসাবে খান । মনে হয় লেবুর দাম কম তাই আজ খাওয়ার মেনু ডাল কচুরি ফেনার সবজি এবং লেবু। 😀😀

  8. করোনার কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ। আজ অফিস যাবো। অকাজের বৃষ্টি শুরু। এক হাঁটু পানি। দেখি রাস্তায় কে জানি মাছ ধরছে। আরে চেনা চেনা লাগে!
    হুম। চিনেছি।
    নাবাদের স্কুলের ফুচকাওয়ালা। ডাকলাম, কি খবর?
    ম্যাডাম, ভালো আছি।
    এখন কি করো?
    লেবু বিক্রি করি। এই যে ডালা। করোনার কারণে লেবুর দাম বাড়তি।ভালোই ইনকাম। দোয়া করিয়েন।
    যাই হোক। পরিচিত একজন ভালো আছে।

  9. করোনা কালে লেবু খেয়ে
    বাঁচার স্বপ্ন দেখি।
    সকাল বিকাল লেবু ছাড়া
    চা-পানিটাই ফাকি।
    লেবু নিয়ে স্বপ্ন রসে
    মজা নিয়ে আছি।
    শুভ কামনা।

  10. মজা করতে করতে হুট করেই এতো কম সময়ে সবাই এমন একটা জম্পেশ আড্ডা গল্প লিখে ফেলবে ধারণাও করিনি। আর এই পোস্ট দেখে তো আমি বিস্মিত। ধন্যযোগ ভালোবাসা রইলো আপুর আপনার জন্য💜💜💜

  11. ‘আই লাভ ইউ’ শুইন্যা শামীম ভাইয়ের ঘুম ভেঙ্গে গেল! চেয়ে দেখলো জিসান দাদা ভাই ‘অ্যাই লাব উউ’ বলছে লেবুর ঝাঁকা নিয়ে 🤣🤣🤣🤣 শামীম ভাই এতো সুন্দর সুন্দর ডায়লগ কৈ পান? পাখির কাছ থেকে! সবার লেবু আড্ডা দারুন হয়েছে। আমিও আজকে লেবু আনতে ভুলে গেছি। ক্যামনে মিলে গেল আড্ডার আড্ডাবাজিতে? সবার লেখাই চমৎকার লেগেছে। ঈশ্বর সহায় হোন সবার

  12. সকালে ঝুম বৃষ্টি নেমেছিল কিন্তু উপায় নেই, কলেজ বন্ধ তা কি হয়েছে? অগত্যা অনলাইন ক্লাস নেয়ার জন্য কলেজে গেলাম, আজকের টপিক ” লেবুর গুনাগুন”।ভালোভাবে লেবু গুনাগুন শেষ করেই টপাক করে গাড়িতে উঠলাম। বাসায় এসে রেস্ট নিচ্ছিলাম,টিভিতে আবার লেবুর গুনাগুন শুনে মুখের কাল দাগ দূর করার জন্য ফ্রিজ খুলে দেখি লেবু এতটাই শুকিয়ে গেছে যে কাটার পর মনে হচ্ছে বাইরে ফিটফাট,ভেতরে সদরঘাটের মত অবস্থা। রুপচর্চা করব তাতেও শান্তি নেই,আজাদ কে লেবু আনতে বললে বৃষ্টির কারনে অনলাইনে অর্ডার করে দিল।এক ঘন্টা বসে অপেক্ষার প্রহর গুনছি, সেই সময় দড়জায় নক,খুলেই দেখি তৌহিদ ভাই লেবু নিয়ে এসেছে, অনলাইনের অর্ডার পেয়ে।যাক হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। এবার লেবু কেটে মুখে লাগাব ঠিক তখনি দেখি আজাদ সব লেবু দিয়ে নতুন রেসিপি বানিয়েছে নাম তার “লেবুর ফ্রাই ” জীবনে নাম শুনি নাই এই রেসিপির। তবুও রাগে ফোপাতে লাগছিলাম, আজাদের অত্যাচারে অনিচ্ছা সত্বেও মুখে তুলে,,উয়াক,,,,,,,আমার লেবুগুলোর ১২ টা বেজে গেল।আমার আর মুখে দেয়া হল না লেবু মধু।হায়রে আমার সাধের লেবু গরল তেলে টগবগ করছে😭😭😭

      1. হুম কিন্তু আইডিয়াটা খুব ভালো ছিল সাবিনা আপু।ইশ! আমি ফেসবুকে ছিলাম না তাই এখন দেখে খুব হিংসা হচ্ছে। অবশ্য পরে নিজেকে বললাম দীপ্তি মন খারাপ কর না, ফেসবুকে নাইতো কি হয়েছে ব্লগে লেখ।তাৎক্ষনিক লেখা সত্যি ভালো লাগে, এটাতে একটা মজা আছে।

  13. শামীম ভাইয়ারটা দারুন হয়েছে। পড়ে মনে হচ্ছে সবগুলারে “বাবুর” ছোয়া লাগছে।
    সাবিনা ইয়াসমিন আপু- এমন অসাধারণ কাজটি করার আগে একটু বললে হত আর একটু সুন্দর করার চেষ্টা করতাম। আমাকে ডিটেইল লিখতে বলা হলে আমি ভাবলাম গ্রুপের মজা। আল্লাহ এখন দেখি ঘটনা অন্য।
    দারুন হয়েছে। অসংখ্য ধন্যবাদ ও ভালোবাসা অবিরাম।

  14. লেবু নিয়ে এতকিছু!
    লেবুর উপর এত চাপ তা মেনে নেওয়া যায়না।
    বাড়িতে লেবু বাগান আছে সমস্যা নেই।
    ঘাটতি হলে প্রদীপ আছে পাঠিয়ে দিবো😂
    সাবিনা দিদি লেখাটা তো বেশ জম্পেশ লিখেছেন।

  15. ভাবছি বীজেই যদি এই কাব্জাব অবস্থা হয়, গাছের তলায় দাঁড়াতে পারব কী না ভাবতে ভাবতে
    দিশেহারা লাগছে, আল্লাহ সহায় হবেন, নিশ্চয়-ই ।

  16. “চৈত মাসে খেঁতা গাত দিলে তারে কয় জ্বর!
    ঘরের কথা বার কইরলে তারে কয় পর! ”
    আঁঙ্গো নোয়াখাইল্যা প্রবাদ ইয়ান। কি কইতাম আঁর ঘরে লেবু লই যে একখান কাণ্ড! কর্তার সুগার আছে, বেইন্যা ঘুমেতুন উডি হে গরম লেবু জল খায়। বাবুরে বাবু একদিন লেবু ন থাইকলে বাড়ি মাথাত তুলু হালায়। আঁর ছোড বোইনেরা টিপ্পনি কাডে কয় দুলাভাই দীপিকার ডায়েট ফলো করে। আঁর কি দোষ আন্নেরা কন, আঁই ডায়েট ফায়েটের ধার ধারিনা যা হাই তা-ই খাই। তো যে কথা কইবার লাই এতো কথা হেডা হইলো লেবুর দাম হুনি মাথা ঘুরায় উডনে দোকানদাইরগার লগে তর্ক লাগি গেছি। লেবুর হালি ত্রিশ টেয়া ত আবার বুলডোজার দি চাপলেও রস বার অইতন। আঁই বুইঝঝেন নি লেবু নকিনি চলি আইসি। ওমা কর্তা মারমুখী লেবু ন খাইলে যেন হে বাঁইচতোন।
    মাথা যে গরম অইসে, এক্কেরে মোবাইল আতে লই সোনেলা খুলি চাই যে জিসান ভাইয়ার লেবু কারবার। আন্নেরগোরে কইয়ের লেবুঅলা দেখলে কইয়েন আঁর ইয়ানদি কদ্দূর আইত। কোগা লেবু কিনি ঘর শান্তি কইত্তাম।
    আঁই নোয়াখাইল্যা, কইজ্জা হাসাদ একদম হছন্দ করিনা।
    আইচ্ছা বেকে ভালা থাইয়েন আল্লাহ হাফেজ।

      1. তাই
        আপু বোঝার কথা নয়।
        কি করবো বলুন এটাই আমার আঞ্চলিক ভাষা।
        মানে বোঝাতে চেয়েছি কর্তার জন্য লেবু কিনবো। লেবুঅলা দেখলে আমার বাড়িতে পাঠাবেন। লেবু নিয়ে ঘরে অশান্তি চলছে।

    1. ইয়ান এককান গপ্প মোর বহত পছন (পছন্দ) হইছে গো রুবি বুইনডি। তোঁয়ার নোয়াখাইল্লা ভাষা আঁর খুব ভালা লাগে। কিছু বুজি আর কিছু বুজি ন, তয় বহুত বালা লাগে।

      1. আপু আমি আপ্লূত আপনার ভালো লেগেছে জেনে। আমি তো সিরিয়াস টাইপের মানুষ মজা করে কিছু লিখতে পারি না তাই আঞ্চলিক ভাষার আশ্রয় নিয়েছি। আমি আঞ্চলিক ভাষা খুব ভালোবাসি। বাসায় আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলি। বাইরে ও পরিচিতদের সাথে বলি। মোটামুটি বাংলাদেশের সব আঞ্চলিক ভাষা বুঝি। থাকি চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের জটিল ভাষা শিখেছি খুব কসরত করে।
        ভালোবাসা রইলো আপু

    2. এটার নাম ফাটাফাটি রম্য। আপনার কর্তার জন্য জিসান ভাইয়ের হল বিপদ। এত লেবু সাপ্লাই দিবে ক্যামনে। জিসান ভাই অসাধারণ ভাই আমারও সংসার বাঁচিয়েছে।
      শুভ কামনা সবার বেঁচে থাকা সংসারের জন্য আর এই ভাইয়ের জন্য। ভাইয়া এর আগে আপনার জিসান জিসানী পড়ে মজা পেয়েছি। এবার ডাবল।এমন রম্য আড্ডা আরও চাই।

      1. রুকু আপু রম্য হলেও ঘটনা কিন্তু সত্যি। আমার জামাই দীপিকার মতো ডায়েট মেইনটেইন করে। আমার জীবন একেবারে তেজপাতা সে জল ঢেলে ও খায়না পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙে।
        তারপর ও তাকে ঘিরেই আমার পৃথিবী রঙধনু সাতরঙে সাজে।

  17. বেশি চিবাইয়েন না রস কিন্তু বেরস হইয়া গলায় আটকাইয়া যাইব। না পারিব গিলতে না পারিব বমি ওক ওক ওক পেটের নাড়ী ভুড়ি ঠিলা হইয়া গেছে গা।

    চঞ্চল চৌধুরীকে বলেন পিউর ঈট থেকে দুর্গন্ধমুক্ত পানি সাপ্লাই করতে। না হইলে লেবুর রস পেট মন্দা হইবে।

  18. একটু ঝামেলার কন্য পোষ্ট পড়তে দেরি হলো।সবার কমেন্ট পড়েও হাসতে হাসতে অস্থির। দারুন বিনোদনের সৃষ্টির রুপকার জিসান ভাইয়া সুরাইয়া আপু।অন্যান্য আপুদের রম্য কমেন্টে ভরপুর। তবে লেবু নিয়ে লেখা হলো না।
    উল্লেখ্য এখানে যে ঘটনা বলীর বিবরণ সবাই দিয়েছেন,সোনেলা পরিবারের অনেকের ই নাম আছে,তবে কম বেশী এধরনের ঘটনার মুখোমুখি কখনও হয়ে যায় যাপিত জীবনে। সুন্দর সুন্দর চরিত্র রূপায়ণ করেছে,তাতে করে বিনোদনের মাত্রা বেড়েছে। বেশ ভাল লাগলো।
    সবার জিন্য শুভ কামনা সব সময়।

মন্তব্য করুন