বিশ্বাসের ভগ্নাংশ

তুমি আর এসোনা উলঙ্গ দেহের ভাঁজে খাঁজে
কামনার স্ফূরণ ছোঁয়াতে।
তুমি আর খুঁজোনা নিতম্বদেশে
অগ্ন্যুৎপাতের তপ্ত লাভা,
যেখানে পৌরুষের বীর্যপাতে অঙ্কুরিত হয়
একখন্ড মাংসপিণ্ড।
নগ্নতার বলয় ভেদ করে আমাতে
নষ্ট নীড় বেঁধোনা।
চাইনা শিরদাঁড়া বেয়ে
তোমার শীতলতার স্রোতধারা ।

তোমার উত্তমাঙ্গে অন্য নারীর
মধু গন্ধ নাসারন্ধ্রে তীব্র বেগে কড়া নাড়ে।
মার্তন্ড তাপে পুড়ে যাক আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র;
তবুও চাইনা তোমার হিমেল পরশ।
বসত ভিটায় শকুনের আনাগোনা ;
বিভাবরী আঁধারে কামনার লেনা দেনা।
একাকীত্বের মূর্ছনায় রাগ-রাগিনীর লহরী।
কুহেলিকারা দলবেঁধে শানবাঁধানো ঘাটে
পুঁথিপাঠের আসর করে;
উত্তপ্ত আসরে জলছবি আঁকি-
উদ্দামতার তুলিতে।

আৎকে উঠি!তোমার বুকের ছাতিতে
কুমারী নারীর আনাড়ি আঁচড়ে।
অভিসারের নিমগ্নতায় পাপ-পূণ্য ভুলেছো,
বাঁ চোখের কাঁপনে অংশনি সংকেতের
ডামাডোল বেজে ওঠে;
তবুও তোমাতেই আকন্ঠ ডুবে অপ্রকৃতিস্থ মন-
ঝিনুক ছেঁচে মুক্তো খুঁজে।
বাসনার বৃত্তে আবদ্ধ অতরিন্দ্রিয় ব্যাস-ব্যাসার্ধ বুঝেনা।
লিপ্সার বাত্যা যতই তান্ডবলীলা ঘটাক-
বিশ্বাসের ঘরে যমদূতের আনাগোনায়;
তোমা হতে যোজন যোজন দূরে বিষাদের সুর-সঙ্গী হবো।

মোট পড়েছেনঃ ১,১০১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩২টি মন্তব্য

  1. মানুষ নামের অমানুষগুলোর হিতাহিত জ্ঞান নেই, বোধশক্তিও নেই। নারীকে সম্মান দিতে জানেনা যারা তাদের সমাজে থাকার অধিকারও নেই।

    কবিতা পড়ে শিহরণ জেগে উঠলো। দারুণ হয়েছে আপু।

  2. **বাসনার বৃত্তে আবদ্ধ অতরিন্দ্রিয় ব্যাস-ব্যাসার্ধ বুঝেনা**

    প্রতারণার প্রেক্ষিতে প্রত্যাখ্যানের ভাষা-শব্দে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি।

    অসাধারণ লেখায় এক রাশ মুগ্ধতা ❤❤

  3. এটা ঊনিশ শতক বা তার আগেকার গল্প হলে ঠিক আছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও যে অনেক প্রগতিশীল!!
    এখানে কুমারীর নখের আঁচড়ে বুকের পাঁজরে ক্ষত চিহ্ন না বসলে যে পৌরুষ হতাহত হয়😭😡

    1. হেলাল ভাই কি সাত সকালে ঘুম ভেঙ্গেই পরকীয়ার গ্রাফিক্স করতে বসছেন বুঝি? বলা তো যায় না ইঞ্জিনিয়ার মানুষ,,, তাই বলে কুমারী নারীর আনাড়ি আঁচড়েও পরকীয়ার অস্তিত্ব !!!

  4. “আৎকে উঠি!তোমার বুকের ছাতিতে
    কুমারী নারীর আনাড়ি আঁচড়ে।
    অভিসারের নিমগ্নতায় পাপ-পূণ্য ভুলেছো, “

    আমি কি গুনের কবিতা পড়ছি ,
    নাকি আপুর আগুনের ফুলকি দেখছি ?
    অসাধারন !
    শুভকামনা রইলো।

  5. আমাদের পুরুষ জাতির মাঝে কিছু কাপুরুষ আছে। যাঁদের কারণে মা জাতি প্রায়ই দিশেহারা হয়ে পথেঘাটে, ঘরেবাইরে, পাগল না হয়েও পাগলের মতো হয়ে থাকে। এর জন্য আমরাই দায়ী। শুভকামনা থাকলো কবি দিদি।

    1. আপনার বলিষ্ঠ মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ দাদা। একদম সত্যি কথা কিছু কিছু কাপুরুষের কারনে মেয়েদের বিশ্বাস শ্রদ্ধা নষ্ট হয়, ঘরের মা বোনরাও মুখ দেখাতে পারেনা। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য

  6. তোমার উত্তমাঙ্গে অন্য নারীর
    মধু গন্ধ নাসারন্ধ্রে তীব্র বেগে কড়া নাড়ে।
    মার্তন্ড তাপে পুড়ে যাক আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র;
    তবুও চাইনা তোমার হিমেল পরশ।
    বসত ভিটায় শকুনের আনাগোনা ;
    বিভাবরী আঁধারে কামনার লেনা দেনা।

    এক কথায় অসাধারন…
    অনেক বেশি ভালো লেখেন আপনি

  7. বিশ্বাস ভঙ্গের কষ্ট মারাত্বক ক্ষত সৃষ্টি হয়,
    এমন পুরুষকে এড়িয়ে চলতে হবে,
    দয়ামায়াহীনা হয়ে ফিরিয়ে দিতে হবে এদের।

    ছোট দি, অনেক অনেক ভালো লিখেছ এই কবিতা,
    মুগ্ধ হয়ে গেলাম।
    শুভ কামনা।

মন্তব্য করুন