তারা মরছে, আমার কি?

 

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের, গুরুত্ব বুঝতে না পারাটা মানবজাতির স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। কেউ কি কাজ করে সময় পার করবে সেটা ভেবে পায় না,আবার কারও কাছে এতো কাজ,সময় খুজে পায় না। কারও কাছে এতো টাকা যে খরচ করার জায়গা পায় না,আবার কারও কাছে টাকা নেই বলে কি খরচ করবে সেটা খুজে পায় না। জীবনে কেউ সব পেয়েছে বলে বাঁচতে চায় আরও সহস্র বছর, আর কেউ কিছু পায় নি বলে আত্মহত্যার তারিখ গুনছে। বৈচিত্র্য আজ ছায়া হয়ে আছে সবার মাথার উপরে।

যে কাজ পায় না,তার কাজের দরকার,কিন্তু যার কাজের দরকার নেই,সমাজ তাকেই বেশি করে কাজ দিচ্ছে। যার টাকা আছে সে দান করবে,যার নাই সে গ্রহণ করবে। কিন্তু যার টাকা আছে সে দান করে না,উড়িয়ে দেয়,মাটিতে পরার আগেই তা ঝড় বৃষ্টিতে ছিড়ে যায়,যা আর কোনো কাজে আসে না।

বাস্তবতা বা অন্যকিছুর দোহাই দিয়ে এসব সমাধান করা সম্ভব না। কেননা পেটের ক্ষুধা মুখের ভাষনে চলে যায় না। ক্ষুধা লাগা,আর ক্ষুধা অনুভব করা এক বিষয় নয়৷ টাকা আছে এখন,আর ভবিষ্যতে অনেক টাকা হবে আমার, দুইটার মধ্যে পার্থক্য আছে।

ধুর মিয়া এতো বলে কি হবে, নিজেই তো বাল এসব কথা বুঝিনা, মানুষ কি বুঝবে। নিজেই তো এখনো অন্যের চলাফেরা দেখে হাসি,জীবনও তো দান করি না,উল্টো দেখি কবে, কে, কোথায় ট্রিট দিবে। আর বালের কাহিনি বলা শুরু করছি।

ঠিকই আছে সব। ভালোই চলছে তো। আমি ভালো আছি,সে ভালো আছে, তারা ভালো নাই তা আমার কি। আমেরিকা উন্নত দেশ বলে আমাদেরও হতে হবে নাকি। তারা যদি এখন মদকে জাতীয় খাবার বানায় তাহলে আমাদেরও বানাতে হবে নাকি। কোন দরকার নাই।

প্রতিমাসে দুই চারটা খুন হবে,ধর্ষন হবে, মিন্নির ভিডিও ভাইরাল হবে, ডিসির কাহিনি দেখবো, তারপর খাওয়া করে ঘুমাবো। এতো শান্তির জীবন আছে নাকি হ্যাঁ। মানে সুখে থাকলে ভূতে কেলায়। আসলেই। কথা একদম সত্য। হুদাই মোটিভেট করতে আইছে!

মোট পড়েছেনঃ ১,২১৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৯টি মন্তব্য

  1. হা হা হা ঘুরে ফিরে কথা আবার নিজের ঘাড়ে এসেই পড়ল। চমৎকার লিখেন আপনি। জীবনের বাস্তবতাকে প্রকাশ করে তাকে ফেলতেও সময় নেননি আসলে তাই কী হবে আর অন্যের কথা ভেবে।

  2. আপনার প্রতিবাদী কন্ঠ ভালো লেগেছে। তবে কিছু কথা আমি বলতে চাই। আমরা স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সহজ পথ ছেড়ে কঠিন পথে হাটি যেমন ধরুন আমি সংসারে স্বাচ্ছন্দ আনার জন্য টাকা চাই, আর টাকা কামানোর জন্য বিদেশে যেতে চাই। আবার বিদেশে যেতেও টাকা লাগে, সেই টাকার যোগার করি জমি বিক্রি করে বা লোন নিয়ে। অথচ জমি না বিক্রি করে সেই জমিতে আবাদ করার চিন্তা করিনা। শিক্ষিত বলে কৃষি কাজে আমাদের লজ্জা লাগে, অথচ বিদেশে এর থেকেও অনেক অনেক নিকৃষ্ট কাজ করে থাকি। আর সেই নিকৃষ্ট কাজের বিনিময়েও সেই জমিটা ফেরৎ আনার টাকা আর হয়ে উঠে না।

    অনেকে আবার জীবনের ঝুকি নিয়ে সাগরে ভেসে কঙ্কাল হই, অপর দিকে বাড়িতে আপন জনের নাভিশ্বাস উঠে পাওনাদারদের যন্ত্রনায়। আমাদের উচিৎ নিজ দেশে ঝাপিয়ে পড়ে কাজ করা। যারা কাজের লোক তাদের অভাব থাকে তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। দুটো শব্দ বাদ দিলে পোষ্ট ভালো লেগেছে। আমাদের সবার আরো মানবিক হওয়া উচিৎ।

    …………….শুভ কামনা সব সময়।

  3. বাস্তবতা বা অন্যকিছুর দোহাই দিয়ে এসব সমাধান করা সম্ভব না। কেননা পেটের ক্ষুধা মুখের ভাষনে চলে যায় না। ক্ষুধা লাগা,আর ক্ষুধা অনুভব করা এক বিষয় নয়৷ টাকা আছে এখন,আর ভবিষ্যতে অনেক টাকা হবে আমার, দুইটার মধ্যে পার্থক্য আছে।….

    নির্মম বাস্তব। ক্ষুধার তাড়না আর ক্ষুধার অনুভব এক জিনিস নয়, এক নয় টাকা আছে আর হওয়ার মধ্যেও।
    খুব সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছো। অবাঞ্চিত শব্দটা হয়তো মনের ক্ষোভ থেকে লিখেছো, বাদ দিলে ভালো হয়। মুল লেখার ভাব এতে পরিবর্তন হবে না।

    দীর্ঘদিন পর তোমাকে ব্লগে দেখে খুশি হয়েছি। পড়ালেখার চাপ যখনই কম থাকবে এসে লেখা দিও।
    ভালো থেকো।

    শুভ কামনা 🌹🌹

  4. সব কিছুতেই বৈপরিত্ব আমাদের।
    লেখায় আমাদের সমাজের বাস্তবতা সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছ।
    ভাল লেগেছে লেখা।

    অনেকদিন পর এলে,
    পড়াশুনার চাপ যাচ্ছে খুব?
    শুভ কামনা।

মন্তব্য করুন