কাঠ পেন্সিল//

পেন্সিলটা আমার আদরেই থাক
কালের গর্ভে না হারাক তোর আবেদনি মোহ আমার থেকে। নিধনকৃত বৃক্ষের অভিশাপ হোক-
হোক নাহয় আশির্বাদের মন্ত্র;
শুরু থেকে শেষঅব্দি রেখা টেনে টেনে রেখে যাওয়া জলছায়ায় চোখ লেগে থাকুক নির্ভুল আলোর ঝলকানি।

আমার বড় স্বস্তি কাঠ পেন্সিলের আখরে!
যতই সাজুক ভুলে ভরা
অক্ষরের পাণ্ডুলিপি-
ইরেজারটা সাথেই রাখি;
হস্তরেখার দাগ নয়;
মুছে ফেলি ভুল শব্দের লেখনী।

মুছে দেই পৃষ্ঠাভরা বধ্যভূমির আগাছাসম
অ-প্রয়োজনের শেকড়!
মনখারাপের ঘরবাড়িতে
একলা থাকার অহংকারি
গর্ব আমার ; বৃক্ষের মত
শুস্ক কাঠের কঠিনতম মধ্যভাগের শীস।
লিখে চলে আপনমনে
ভুল থেকে শুদ্ধহওয়া
কাব্যের আশীষ।

মোট পড়েছেনঃ ১,৫০৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৯টি মন্তব্য

  1. আমার বড় স্বস্তি কাঠ পেন্সিলের আখরে!
    যতই সাজুক ভুলে ভরা
    অক্ষরের পাণ্ডুলিপি-
    ইরেজারটা সাথেই রাখি;
    হস্তরেখার দাগ নয়;
    মুছে ফেলি ভুল শব্দের লেখনী।

    সত্যিই কি মুছে ফেলা যায় ভুল শব্দের ভুল লেখা?
    চমৎকার উপস্থাপন আপু 👏👏

    1. এজন্যই তো কাঠপেন্সিলের ওপর আদর আমার।কাঠপেন্সিলের লেখা সহজেই ইরেজ করে দেয়া যায়। ভুল শব্দের ভুল বানান! বলপেনে যায়না কিন্তু! ঢেকে দিতে ফ্লুইড দিয়ে, নয়তো কাটাকুটি করতে হয়।
      ধন্যবাদ সহ শুভেচ্ছা জানবেন।

  2. “আমার বড় স্বস্তি কাঠ পেন্সিলের আখরে! “
    আমার ও খুব দরকার
    দিবেন একটু ধার ?
    আমার লেখায় ভুলে ভড়া
    করব শুদ্ধাচার !
    লাগলো ভালো। শুভ কামনা।

  3. ভুল শব্দের লেখনী ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলাই ভালো,
    যেমন ভালো ভুল মানুষ এবং অন্যকিছু মুছে ফেলা।

    ভাল লেগেছে কবিতা।
    শুভ কামনা।

    1. আমার কবিতা লেকতে পারো সিরিজে লুনা’র কথা উল্লেখ আছে। লুনা কি করতো? খাতা বাঁচানোর সবসময় কাঠপেন্সিলে লিখতো।যে পৃষ্ঠা লেখা শেষ হতো! রাবার দিয়ে পুরো পৃষ্ঠা মুছে, আবার নতুন লেখা লিখতো। ঘন ঘন এত খাতা বানাতো না। এভাবেই লুনা দিস্তা কাগজ কেনার পয়সা বাঁচাতো। মনে পড়ে গেলো বলে…. এ লেখার জন্ম হলো।
      শ্রদ্ধা জানবেন।

  4. ইরেজারে ঘষে উঁচুনিচু মনটাকে মুছে ফেলি,
    মন খারাপের ঘর-বাড়িতে তালা এঁটে হেটে চলি গন্তব্যহীন পথে,

    হস্ত রেখার ম্যাপ বরাবর খুঁটিটা গেড়ে
    ভুল সব ঠিক করার ছলে,
    নিজেকেই নিজে শুধরে নিবো বারংবার;
    একাকী পথ, নির্ভুল ঠিকানায় পৌঁছে একদিন যাবোই,

    সময়ের তালে তাল মিলিয়ে
    খেয়ালে- বেখেয়ালি শব্দের সোরগোলে হবো না আর অতিষ্ট,
    হৃদয়ের গহীনে রেখেছি আনকোরা এক পান্ডুলিপি,
    লিখবো তাতে কাঠ পেন্সিলের সূক্ষ্মতম ধারে,

    আরেকটু অপেক্ষা
    সবই লেখা হবে সারিবদ্ধ কাব্যে…

    1. ওয়াও! একেই বলের কবির কলমের ধার!!
      বিশ্লষন ব্যাখ্যা দুরেই থাকুক, কাব্যের জবাব যদি এমনই হয়! কবে আর ভাবনা কিসে?
      রইলাম অপেক্ষায়।
      ভালবাসা তোমায়❤❤❤❤❤❤

  5. এমন করে সব ভূল মোছার আরো কিছু আবিষ্কার হলে অনেক ভালো হতো। বৃক্ষের শুষ্ক কাঠের মতো কারো বা কোন প্রানের উপকারী হতে পারলেই জীবন সার্থক। অনেক সুন্দর কবিতা। কবিতার প্রতিটি শব্দের বিশ্লেষণ লিখে শেষ করার মতো নয়।

    1. জীবনের সব ভুলগুলো সবসময় শুধুই ভুল কি হয় কখনো? কিছু ভুল না হলে জানাই যেতনা সঠিকটা কি? কোনোকিছুই অ-প্রয়োজনীয় নয়, বলে মনে হয় আমার।
      মোচনীয় ইরেজার কখনো সখনো নিজেদেরই তৈরী করে নিতে হয়। তাতেই গর্বিত হয় মন।
      আপনার চমৎকার মন্তব্য আমার অনুপ্রেরনা শক্তি যোগালো।
      ভালবাসা রইলো।

  6. ইরেজার দিয়ে পেন্সিলের দাগ কাগজ থেকে মুছে যায় ঠিকই, কিন্তু কাগজের বুকে থাকে যায় ক্ষত চিহ্ন। মন খারাপের কারণটা হয়তো ইরেজার দিয়ে কোন দাগ মুছে ফেলার চেষ্টারই প্রতিফলন…………শুভ কামনা সব সময়।

    1. ইরেজারটার শক্তি অনেক! কোনো দাগ অবশিষ্ট রাখেনা। সময়ের পৃষ্ঠায় নতুন লেখা লিখতেই ইরেজারটা যত্নে থাকুক।
      শুভ কামনা আপনার জন্য।

    2. কোনো সমস্যা নেই ভাইজান! আমার কাজ লেখা, পাঠক যে যেমন বুঝবেন, সেভাবেই মন্তব্য করবেন। আমার আপত্তি নেইতো! মূলত আমি এখানে সার্বিক দিক আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি।
      জীবনের ভুল,মনখারাপের মতো ভুল,
      এসব কিছুই বোঝাবার চেষ্টা।
      আপনি আপনার মতো মন্তব্য করেছেন, আমি আমার মতো জবাব দেবার চেষ্টা করেছি।

  7. মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করে জীবন খাতার অনেক কিছুই ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলি। নতুন করে আঁকিবুঁকি করি। কিন্তু হাস, দুঃসহ সব স্মৃতিরা মুছে যেতে চায় না।

    কবিতা ভালো লেগেছে।

    1. থাকনা কিছু স্মৃতি আপনমনে! ওগুলো মোছার কি দরকার? কিছু স্মৃতি শিক্ষাও তো দেয় নতুন উদ্যমে কিছু লেখার!
      কৃতজ্ঞতা সহ শুভেচ্ছা ভাই।

    1. কাঠপেন্সিলের লেখা তো এমনিই ভাই। ভুল হলেই কাটাকুটি নয় ডাইরেক্ট মুছে ফেলা। তারপর ভুল শুধরে আবার নতুন করে শুদ্ধ বানান বসিয়ে দেয়া।
      কৃতজ্ঞতা সহ আন্তরিক শুভেচ্ছা।

  8. লেখা পড়লাম, মন্তব্য পড়ে পড়ে শানেনজুল ও জানলাম।
    আমাদের লেখাগুলো এমন নানান উৎস থেকেই সময় বুঝে হুট করে লাফিয়ে পড়ে।

    1. আমার লেখা সবসময়ই এরকম! যখন যেখানে যেমন ভাবে মন নাড়া খায়….অমনি শব্দেরা এসে ভর করে লেখনীতে।পড়েছেন জেনে আনন্দিত হলেম।

মন্তব্য করুন