মর্নিং ওয়াক করে আজ আর হেঁটে নয়, বাসেই ফিরছিলাম..বাসে উঠে সীটও পেলাম..ঠিক আমার অপরদিকে ডানহাত বরাবর তিনটে সীট জুড়ে বসে ছিলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জামাকাপড় পরা ৬জন অফিসযাত্রী,, প্রত্যেকের বয়স আনুমানিক আটচল্লিশ থেকে বাহান্ন বছরের কাছাকাছি হবে।।
একজনের হাতে আনন্দবাজার পত্রিকা,, তিনি পড়তে পড়তে হঠাৎ বলে উঠলেন -” খবরের কাগজে ধর্ষণের নিউজ না থাকলে আমার ভাল্লাগে না”….পাশ থেকে অন্যজনের মন্তব্য -” পেপার হাতে নিয়ে আমিও আগে দেখি কোথায় কে কাকে কিভাবে ধর্ষণ করেছে”…. তৃতীয় আরেকজনের মন্তব্য -” হ্যাঁ ভাই যা বলেছো, পেপারে এসব না থাকলে খুব মিসিং লাগে বাল”…. কথাগুলো বলে তারা প্রত্যেকেই হাসাহাসি করছিল এবং তাদের চোখে মুখে একটা পৈচাশিক আনন্দ স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল..
বাস ভর্তি লোক প্রত্যকেই নিজের মনে মনে এটার প্রতিবাদ করছিলো,, কিন্তু আমি মনে মনে করতে পারিনি,,ব্যাসস, এটাই আমার অপরাধ, আমি নাকি তাদের ব্যক্তিগত আলোচনায় ইন্টারফেয়ার করেছি,.. মানলাম ব্যক্তিত্বহীন মানুষদের ব্যক্তিগত আলোচনা, তাবলে এই বিষয়ে এরকম???? বাঁধলো আমার সাথে তুমুল ঝগড়া, এরপর গন্তব্যস্থল এসে পড়ায় ছেঁচড়াগুলো বাস থেকে নেমে যায়।।
কি আশ্চর্য তাইনা? দেখতে হুবহু মানুষের মতোই, কিন্তু আসলেই একেকটা মানুষরূপী জানোয়ার,, মানসিকতার কি অবস্থা ভাবতেও অবাক লাগছে..অবশ্য যে দেশের আইনশৃঙ্খলাই নড়বড়ে যেখানে এগুলো আশা করাই যায়.. আমার চোখে এরাও একেকজন ধর্ষক..
নিন্দার ভাষা হারিয়েছি
স্থান: কলকাতা
তারিখ: ০৬/১২/১৯
দিদি এরকম কিছু অমানুষ বদমানসিকতার মানুষদের জন্যই দেশ থেকে ধর্ষণ মুক্ত হয় না। কয়দিন পর মরে যাবে তারপরও শালাদের কাম কমে না। এসব নোংরাদের জন্যই পুরো পুরুষ জাতি আজ লজ্জিত। আপনি প্রতিবাদ করছেন শুনে খুশি হলাম বোন।
প্রতিবাদ করতে গিয়ে কটুক্তি শুনতে হয়েছে, তাও বাসভর্তি লোক চুপ করে দেখলো, কেউ একটাও কথা বলেনি তাদের,, সবাই শুধু আমাকে চুপ করতে বলছিলো, কি আশ্চর্য তাইনা
আপনার সাথে একমত পোষণ করছি
দিদিভাই এরকম অভিজ্ঞতা এর আগে কখনোই হয়নি, আমি কি ভাষায় এর নিন্দা করবো জানি না
ভিন্নধর্মী মানুষ থাকে, মানসিকতায় ভিন্নতাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু পাবলিক প্লেসে ওপেন এভাবে তা প্রকাশ করা অবশ্যই সঠিক হয়নি। আমার এক বন্ধু আছে খবরের কাগজে তার প্রথম চোখ বুলানো হলো সিনেমার পাতায়।
আপনার সাহসিকতার তারিফ করতে হয়, তাছাড়া সাহসী না হলে তো পুলিশও হতে পারতেন না। এমনভাবে প্রতিটা ক্ষেত্রে আমরা যদি অসংগতিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে পারি তাহলে হয়তো এসব কিছুটা হলেও কমবে, ধন্যবাদ আপু.
খবরের কাগজে সিনেমার বিষয় খুঁজে দেখে আনন্দ পাওয়া আর নারীধর্ষণের খবর খুঁজে আনন্দ পাওয়া দুটো অনেকটাই আলাদা ভাই, এরা এ বিকৃতমষ্তিষ্ক নিয়ে ই জন্মেছে মনে হয়
হুমম, সত্য বলছেন আপু
এরা প্রতিজনই ভিতরে ভিতরে একজন ধর্ষক।
নিঃসন্দেহে দাদাভাই
বেলা-শেষের আক্ষেপ থেকেও এই হীনমন্যতা তৈরি হতে পারে।
ধন্যবাদ আপনাকে।
কিজানি,
তবে তারাও সুযোগ পেলে নোংরামো করবে ,এ আমি নিশ্চিত, দূর্ভাগ্যবশত ছবি তুলতে পারিনি
ব্যাক্তিগত আলোচনার পরিবেশটাও ব্যাক্তিগত হওয়া চাই।
ওদের বয়স হয়েছে ঠিকই, স্থান, কাল, পাত্রের বোধ হয়নি।
আসলে অমানুষগুলিও দেখতে মানুষের মতো।
এটাই চরম বিড়ম্বনা।
অনেক ভাল থাকবেন।
আমি যে কি ভাষায় নিন্দা জানাই বুঝিনা,
এরকম মানুষ ও আছে ভেবে আশ্চর্য হলাম
জ্বী তেমনি
আরও খারাপ মানুষদের ও সাময়িক চক্ষ্মুলজ্জা থাকে, ওদের তা ও নেই।
এজন্যই কিছু মানুষকে কুকুর বললে, কুকুরের প্রতি অবিচার করা হয়।
অনেক ভাল থাকবেন।
ওরাও বিকৃত রুচির পুরুষ নামক জানোয়ার।
সমাজ সংস্কৃতি আজ অধঃপতনে চলে যাচ্ছে।
সেই তো দেখলাম, আমি বাকরুদ্ধ তাদের এই আচরণে
এরা মানসিক বিকারগস্ত। কিন্তু কথা হলো ওটাই, সবাই মনে মনে ঘৃণা করবে, কোনও প্রতিবাদ করবে না। কেউ করলেও তার পক্ষ নেবে না। সবাই ঝামেলা এড়িয়েই চলতে চাই। আর এভাবেই বেড়েছে ওই মানুষরূপী পশুগুলোর দৌরাত্ম।
একদম দিদি
জ্বী এরাও এক একটা ধর্ষক। নিকৃষ্ট মানসিকতা মানুষ। ধর্ষক যতোটা মজা পায় ধর্ষণের এরা ততোটায় মজা উপভোগ করে খবরে। ছিঃ এক একটা আস্ত পিচাশ
আমি হতবাক এমন কান্ড দেখে
দেখতে হুবহু মানুষের মতোই, কিন্তু আসলেই একেকটা মানুষরূপী জানোয়ার,,
-ভারত, বাংলাদেশের মানুষ সবচেয়ে বেশী লাঞ্ছিত লোকালবাসে,
দুই বাংলার বাংলা ভাষী মানুষের আচরণে মনে হয়েছে বাঙালীরা বুঝি একটু বেশীই ইডিয়ট টাইপের বাক্যে পটু!
😥😥😥
এরা মানুষ কিন্তু মনুষ্যহীন। এরাই শুধু নারি ধর্ষক নয় দেশ ও সমাজ ধর্ষক।
সহমত আপনার সাথে
এরই মাকজে আমাদের ভাল থাকার চেস্টা করে যেতে হবে। কিছুই করার নাই। এই সব মাইন্ড চেঞ্জ করা খুব কস্টসাধ্য।
কি রকম জঘন্য মানসিকতার মানুষ এগুলো। রীতিমত অবাক-ই হলাম এই ধরণের অসভ্যতায়। এরা আসলে মহিলা যাত্রীদের শোনানোর জন্যেই এইসব বলছিলো। নিন্দা জানাই। আর আপনার সাহসের জন্যে শ্রদ্ধা। ভালো থাকবেন।
আমি নিজেও খুব অবাক হয়েছি তাদের এই আচরণে,
যাইহোক আপনি ও ভালো থাকবেন
বিকৃত রুচীর মানুষ গুলো
পশুর ছেয়ে ও অধম
প্রতিবাদে দেয় না সাড়া
তারাও নরাধম
আপনার সাথে সহমত
ভালো থাকবেন
সব কিছুই মনের উপর নির্ভর করে তবে প্রকাশ্যে এমন বাক্যালাপ বিবেকহীন মানুষদের। চমৎকার লিখেছেন। সবার মন মানষিকতায় স্বচ্ছতা আসুক এটাই কাম্য।
এমন কাজে মন সায় দেয় কিভাবে??
সায় দেয়াতো প্রশ্নই আসে না বরং কয়েকটা কিল ঘুষি দিতে পারলে মনের কষ্টটা হালকা হয়। ধন্যবাদ আপু ।গোপালের সাথে আমার একটি আড্ডা পোষ্টে আপনার নাম ম্যানসন করা হয়েছে,দেখেছেন?
শারিরীক অসুস্থতার কারণে অনেকদিন ব্লগে আসতে পারিনি, এখন দেখে মন্তব্য করবো নিশ্চয়ই, ধন্যবাদ, আমাকে মনে রাখার জন্য
দিদি আপনার সাথে একমত পোষণ করছি
❤️
হতাশা জনক ঘটনা। ভাবতে অবাক লাগে এরাও কারো বাবা, ভাই, বন্ধু।
হ্যাঁ আপু,