মাধবীমঞ্জরী

কাক ডাকা ভোরে কুসুমকলি কুড়িবার তরে,
যে বংশী বাঁজে আজ নিভৃত কাননে বটবৃক্ষ ছায়াতলে।
তোমারি চিত্তে লাগিছে যে প্রেমের দুল,
রন্ধ্রে বারি তাহার চিত্তে অনুগামী বকুল।

বন্ধু তোমার প্রিয় লতার একটি মুকুলে,
কুড়িয়ে রাখিও মোরে তোমারি বন্দনার স্তুতিতুলে।

মম তব হৃদয় পানে আকুল প্রাণে যে গুঞ্জরি গায়,
চন্দনে ঘিরিত ললাট চোখপানে নাহি দেখিতে পায়।
সবুজ শ্যামলে মেখেছ যারে গ্রন্থি আঁচলে,
সে যে দিবাকরে বর্ণচ্ছটা আলোকোজ্জ্বলে।

স্পর্শতার আহ্বানে খুঁজেছ যারে ভালোবাসার বন্ধনে,
দুচোখ ভরে চেয়ে দেখেছে কি সে তোমার আঁখি পানে।
বন্ধু ‘দিবস রজনীর বন্ধনে নিজেকে হারিয়েছ অষ্টপ্রহর।
ষোড়শী পাবার আশায় প্রহরের পর প্রহর।

অভিসারের শেষে কুঞ্জেকুঞ্জে ফুটেছে যত মাধবীমঞ্জরী।
যাজ্ঞসেনী ছড়িয়েছে আলোক বর্ষণে যত পুষ্প মঞ্জরী।
পত্ররন্ধ্রের গায়ে দিয়েছে যে প্রলেপের আঁচ,
নিভৃত কাননে কুসুমকোমলে সে যে বনলতা আজ।

ভোরের শিশিরে শিশিরে আছে যত পুষ্প মঞ্জুরী,
অপলকের আবছা আলোয় দেখেছ যারে দিবস রজনী সে তো তোমার অন্তর্যামী প্রেমময়ী।

মাধবীমঞ্জরী সাজিয়েছে তাহার নামের চন্দ্রবন্ধনী,
অভিসারের শেষে মনমাঝে বাঁজে প্রেমের মূরতি বংশী।

মোট পড়েছেনঃ ৯২৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৮টি মন্তব্য

  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এর রক্তকরবী যেদিন পড়েছিলাম অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়েছিলো, কিছু বোঝা / না-বোঝার দোলাচালে থাকলে যেমন লাগে, ঐরকম। আজ মাধবীমঞ্জরী পড়ে কেন জানি সে রকম লাগছে! হতে পারে লেখায় ব্যবহৃত ভাষার প্রয়োগ বা মাধবী শব্দটার সাথে ঐকান্তিক সম্পর্ক।

    মাধবীমঞ্জরীর সাজ ভালো লেগেছে, প্রেমের বংশীবাদকের প্রতি শুভ কামনা রইলো 🌹🌹

  2. প্রেমের আকুল আবেদন, শব্দের ব্যবহার , কবিতার মমত্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
    দাদা মন্তব্য করার মতো মেধা আমার নাই।
    শুধু পড়ি ভালো লাগে তাই।
    শুভ কামনা দাদা।

মন্তব্য করুন