অণুগল্প #বেলা শেষে

মনু মিয়া উপহারের ব্যাগ হাতে গলির পথ ধরে হেটে যাচ্ছে। একসময় এখান দিয়ে অনেক নৌকা চলতে দেখেছেন। পাশের নালা তখন বড় খাল ছিল।সেখান দিয়ে পরিস্কার পানির স্রোত চলে যেত বুড়িগঙ্গা নদীতে। যৌবনের টগবগে সময় এখানেই কেটে গেছে।জরিনা পাশের ঢোলকলমির জঙ্গলে হাতে হাত রেখে ভালবাসার গান শোনাতো রোজ।
আজ পঞ্চান্নটি বছর পার হয়ে যায়।আজ ভালবাসার জরিনার মেয়ের বিয়ে।সে এসেছে অতিথি হিসেবে। আজ মনু মিয়ার এতো বড় মেয়ে নয়তো ছেলে থাকতো।কাজের তাগিদে মনু বিদেশে পাড়ি জমায়। জরিনার বিয়ে হয়ে যায়।
বিদেশে থেকে জরিনার বিয়ের সংবাদে মনু মিয়ার হৃদয় ভেঙ্গে যায়।ভালবাসার মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে সে বিয়েই করেনি।
অনেক বছর পর দেশে ফিরে আসে। তার স্বপ্নের পৃথিবীর মতো আশেপাশের সবকিছুই পরিবর্তন এসেছে। যেন নতুন কোন দেশে চলে এসেছে। হঠাৎ একদিন বাজারে কেউ তার নাম ধরে ডাক দেন।
– মনু ভাই,কেমন আছেন?
– ভালো আছি,আপনি কেমন আছেন?
মনুর হারিয়ে যাওয়া সেই জরিনা,যাকে চেনার জন্য শুধু চোখ নয় মনের ভেতর থেকে চেহারা ভেসে উঠে। মনু কিছুক্ষণ তার দিকে চেয়ে থাকে।নিজের অজান্তেই কয়েক ফোটা পানি চোখ বেয়ে চলে আসে।
– মনু ভাই, অনেক দিন পর দেখা।আগামী শুক্রবার আমার মেয়ের বিয়ে। আপনি ফ্যামিলি নিয়ে চলে আসবেন। সামনের গলিতে আমার বাসা।
মনু মিয়া এটুকুই বলতে পারলো,আসবো।

আজ জরিনার মেয়ের বিয়ে। মনু মিয়া উপহার নিয়ে যাচ্ছে সেখানে,ভালবাসার ডাকে।

মোট পড়েছেনঃ ৮৬৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৫টি মন্তব্য

  1. ভাই আপনি তো আমার মানুষ, আপনাকে আমার বদলে আনলো কে?

    এনিওয়ে, স্বাগতম প্রিয় ভাই, সোনেলায় নিজের মন প্রাণ ঢেলে লিখুন, এখন বিশ্ব পড়বে আপনার লেখা। 😊

    1. আপনার লেখার জবাব নেই ভাই, আপনি খুব গুণী লেখক তা আমি জানি, অনুরোধ করবো আপনি আরো বড় লেখা দিন ব্লগে, যত বড়ই হোক ব্লগে দিতে পারবেন, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা অবিরত। 😊

  2. প্রিয় ব্লগার, আপনি আপনার প্রফাইল এ ক্লিক করে আপনার নামটি বাংলায় লিখুন এবং একটি প্রফাইলে একটি ছবি দিন। সোনেলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

  3. সোনেলার উঠোনে স্বাগতম আপনাকে।
    জীবন থেমে থাকেনা, তারপরেও কোনো কোনো মনু মিয়ার জীবন এভাবেই থেমে যায়,

    ভালো লেগেছে অনুগল্প।
    নিয়মিত লেখুন।

মন্তব্য করুন