এই যে জমানা

একঃ ভয়ঙ্কর প্রেম

ভালোবাসা উপচে এসে বলে,
“তোমার কাছে যাবো।
ফুচকা আর বাদাম ভাজা একসঙ্গে খাবো।”
এমন দশা ভালোবাসায় জানতাম যদি আগে
কিছুতেই অমন লাড্ডু খেয়ে
মাথার বারোটা বাজিয়ে
ছুটতাম না, ভাগতাম না, পালিয়ে যেতাম আগে।

দুইঃ নবজাতক

ইঁচড়েপাকা যায় কি দেখা এই জমানায়!
জন্ম নিয়েই সেলফি তোলে, ঠোঁট দুটো ব্যাঁকায়
বড়ো বড়ো চোখ মেলে পোজ দিয়ে তাকায়
ইঁচড়েপাকা যায় না পাওয়া এই জমানায়।

তিনঃ আদর্শলিপি

“বড়ো যদি হতে চাও, ছোট হও তবে’
এ লাইন শুনেছি সাড়ে তিনযুগ আগে
একগালে চড় দিলে আরেকগাল দিতে
বলেছিলো কে জানি, ভুলে যাইনি মোটে
“কথায় না বড়ো হয়ে কাজে বড়ো” হতে,
সেসব কথা এখন চলেনা যে মোটে।

চারঃ এই জমানায়

লায়লী-মজনু যুগ গ্যাছে সেই যে সেই কবে!
এখন আগেই ছোঁয়াছুঁয়ি, পরিচয়টা পরে
চিঠি চালাচালি হতো বইয়ের ই ভাঁজে
এখন কী আর সে দিন আছে
ভিডিও কলের যুগে!!!

পাঁচঃ বাঙালিয়ানা

এতোকিছুর বদল হলো
কেবল,
রবিবাবুর বাঙালীরা বদলায়নি আজোও
বাঙালিয়ানা ছেড়ে বলে,
“চলো লেটস গো!”

হ্যামিল্টন, কানাডা
৭ এপ্রিল, ২০১৯ ইং।

মোট পড়েছেনঃ ১,৩২৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৪৮টি মন্তব্য

      1. নীলা আপু আপনি অন্তত শুন্য আপুর কথায় কান দিয়েন না। সবাই এক্ সময় টুকটাক এই দলে ভিড়ে। তাই বলে জিজ্ঞাসা করতে নেই কে কোনটা! 😐

      1. গরু ছাগল ছুটে পিছে
        পায় কেবল ঘাস,
        এ জমানার প্রেম সে’তো
        নিজ গলায় ফাঁস!

        এ পিড়িতি কোন পিড়িতি
        রোজ খেতে হয় ছ্যাকা,
        তারচে ভালো, ঢের ভালো
        দূরে দূরে থাকা।

      2. আমি বাপু প্রেম করেছি
        কোনো এক কালে
        মাছের মতো ধরা খেলাম
        জেলেদের জালে।

        তাইতো বলি,
        প্রেমের নামে ছাগল পোষা
        সেটাই তবে ভালো
        বিক্রি করে টাকা পেয়ে
        ঘরে আনা যায় আলো।

      3. জেলের জালে ধরা শুনি
        ক’জন খেতে পারে
        প্রেমের ভারে বহুজনে
        ঘাড় ব্যাথাতেই মরে।

        বাহ বাহ বাহ, বেশ বলেছেন
        এই জমানার প্রেমিকযুগল
        নীলাপুর কথা শুনো
        প্রেমের ফাদে পড়ে বাপু
        খেয়ো না তুলাধুনো।

  1. সবচেয়ে সুন্দর শেষেরটা, বক্রোক্তি না আসলে, শ্লেষের অপূর্ব ব্যবহার পাঠকমন তৃপ্ত করে। শ্লেষাত্মক লেখা আমাকে টানে বেশি।

    এই জামানায়টাও সুন্দর হয়েছে। সবগুলোই সুন্দর আসলে। খোঁচা দিয়া দিয়া ছন্দ মেলালেন হা হা।

    লেখা একটু বেশি বেশি লিখেন।

    1. খোঁচা দেবার মতো সুঁই কিংবা আলপিন খুঁজে পেলাম না। তাই তো এমন পথ ধরেছি।

      লেখা লিখতে শিক্ষক দরকার। আপনাকে শিক্ষকের আসনে পেলে বেশি বেশি ই লিখতে পারবো।

  2. মাইরালাইছো নীলাপু। আমিতো একটা পেরেম করবো ভাবতাছিলাম, লাড্ডুও খাবো চিন্তা নিতাছিলাম, তুমি বাঁচায় দিলা। দুইন্যা পাল্টায় যাবে, ফুঁচকা, বাদাম ভাজা বার্গার হবে, লাইলী-মজনুরাও ভিডিও কল করবে তবে আমরা বাংগালী, তা কুনদিন ভুলুম না। ভুলতে দেবোও না। তুমি এলে, সাথে বুড়োকে আনবে না তা কি হয়?
    সবগুলাই জমে ক্ষীর হয়ে গেছে। সাব্বাশ।

    1. শুন্য আপু প্রেম না করতে কে বলেছে! “জীবে প্রেম করে যেই জন…” ওই পথে হাঁটো।
      বুড়োকে ছাড়া আমি তো একেবারেই শূন্য।
      ক্ষীর পছন্দ করো খেতে? তাহলে এসো আমরা দুজন একসাথেই মুটি হই।

    1. ভিডু কল দিবেন ক্যাম্নে? রাস্তা তো সব বন্ধ করে রেখেছি।
      অভিধানের দেখলেন কি?
      কঞ্জুসের মতো মন্তব্য করলে আর লিখমুই না কইলাম।

  3. বাঙ্গালী কি আসলেই আর বাঙ্গালীত্ব ধরে রেখেছে??
    ছোটো হতে শিখিছেলাম কবে যেনো। তাই তো ছোটো হতে হতে একেবারে নুয়ে পড়ছি যেনো এ জামানায়।
    তুমি লেখায় ফিরেছো দেখে বেশ লাগছে আপু।
    নীলনদ তার স্বমহিমায় জেগে থাকে।

    1. শান্তসুন্দরী আপু আমার কোথাও যাইনি। চেষ্টা করছি নিজেকে ফিরে পেতে। কিন্তু কাউকে বোঝাবার মতো অবস্থা নেই আমার। এই শূন্যতা কিছুতেই কাটছেনা।
      অনেক ভালো থেকো আপু।

  4. কলি-কাইল্যা পোলাপান
    মায়রে কয় আগুন আন,
    খামু আমি সিগারেট
    বেজায় ভরা পেট।
    দুই: বেশী ভালো লাগছে। চমৎকার লিখছেন আপু।

  5. লেখায় কত বিষয় তুলে ধরেছেন সবগুলো বিষয় বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।সেলফি,আদর্শলিপি,লাইলি মজনু চমৎকার সব উদাহরণ।

    1. মনির ভাই যা মাথায় আসে, তাই ই লিখে ফেলি। কিছু না ভেবে। আর এসব আপনাদের ভালো লেগে যায়। খুশী যে হইনা, তা কিন্তু নয়!

      অনেক ভালো থাকবেন।

    1. পহেলা বৈশাখ নিয়ে লিখতে পারবো কিনা জানিনা। দেখি চেষ্টা করবো।
      এতো প্রেরণা পাই যে কী বলে ধন্যবাদ জানাবো, ভাষা নেই।

      কৃতজ্ঞতা! এভাবেই পাশে থাকুন।
      অশেষ ধন্যবাদ।

    1. ভিডিও কল থেকে বিরত থাকি। আমার প্রতিদিনকার একমাত্র ভিডিও কল আমার মামনির সাথে। আর বাকী সব নমঃ নমস্য।
      ফোন থেকে সততই সাবধান।

      আপু কেমন আছেন?

মন্তব্য করুন