লেট ট্রেন

প্রতিদিন ট্রেনটা চলে যায় সমান্তরাল রেললাইন ধরে
তেত্রিশ বছরের পুরোনো ঘড়িটার কাটা তিনটিও একইভাবে দৌড়াতে থাকে
টুংটাং ঘন্টা বাজিয়ে চলে
শুধু ট্রেনটাই সময়ের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে হেরে যায় কখনো সখনো
গন্তব্যে পোঁছবার অপেক্ষায় থাকে যাত্রীরা
ওদিকে স্টেশনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকে আনন্দ এবং শোক
কী করে জানি যোগ-বিয়োগের যুদ্ধে বিয়োগের সংখ্যা বাড়ে
তবুও জয়ী হয় আনন্দেরাই,
নীরব কান্নাগুলো বুকের ভেতর জমাট বেঁধে থাকে সে আছড়ে পড়তে চায়;
শোক ধুয়ে যায় চোখের জলে।

সিংড়াউলি, শমশেরনগর
১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ইং।

মোট পড়েছেনঃ ১,১৬৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৬টি মন্তব্য

    1. বিষাদের লেখাগুলো শেষ হবে কিনা কে জানে!
      ছবিটা লিখিয়ে নিলো এই লেখাটা। কখনো সময় করে সিলেট থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত রেলগাড়ী ভ্রমণ করে দেখবেন, অসাধারণ দৃশ্য চোখে পড়বে।

  1. “কি করে জানি যোগ-বিয়োগের যুদ্ধে, বিয়োগের সংখ্যা বাড়ে “বিয়োগের সংখ্যায় ভরে ওঠে আনন্দভারা, বিয়োগে বিয়োগেই হন্যে হয়ে আনন্দধাম খুঁজে বেড়ানো।

  2. স্টেশনে গেলেই এই যে নানান মানুষের ভিড়, সবাই যে যার শোক, আনন্দে মগ্ন। আসলে বিয়োগের সংখ্যা বাড়লেও তারা শক্তিশালী নয়, তাই ও নিয়ে না ভাবাই ভালো।
    ট্রেন, ট্রেনলাইন, ঘড়ির কাঁটা সব মিলিয়ে অনবদ্য এক লেখা, তোমার স্বভাবসিদ্ধ। শোক মিলিয়ে যাক ট্রেনের ব্যস্ত গতিতে..

  3. ট্রেন লাইন, ট্রেন ষ্টেশন, ষ্টেশনের মানুষ- এসবে আমি সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ হই।
    বিদেশে গেলে ট্রেন ষ্টেশনে যাবোই যাবো আমি।

    লেখাটায় তোকে খুঁজে পেলাম নাতনী।
    ভাল থাকিস সারাক্ষণ।

  4. একটি দীঘল রাত আর
    ঝুলবারান্দারর মাঝে,
    কুয়াশার মতো ঢুকে গেছে
    বিয়োগের শূন্যতা।

    দূরের প্লাটফর্ম এখনো জেগে আছে,
    ঘরমুখো নীল চোখেরা
    ক্ষণেক্ষণে বিস্ফোরিত হয় মায়ার সন্ধানে।

    ডুমুরের ডালে বসে ছিল যে শালিক
    সেও উড়ে গেছে বিনীত সাইরেনে
    জ্যোৎস্নার মায়ায় ফেলে গেছে ছায়া।

    আপনার লেখার প্রশংসা করা যায় না। প্রশংসা করতেও সেই দক্ষতা থাকতে হয়। আমার নাই, তাই পারি না।
    আপনার লেখার তুলনা আপনি নিজেই।

    1. এমন কবিতা কেন পারিনা লিখতে? বিনীত সাইরেন, জ্যোৎস্নার মায়া, শালিক, নীল চোখ, ঝুলবারান্দা, নীল চোখ, বিয়োগের শূন্যতা শব্দগুলো খুবই সাধার। কিন্তু প্রয়োগ করা হয়েছে কী গভীর আবেগে!

      পেরেছেন মন্তব্য করতে এবং খুব ভালোভাবেই করেছেন। এবং আমার লেখাকে আপনি অনেক উঁচুমাত্রায় তুলে নিয়ে গেছেন।

    1. ছবিটা চলন্ত ট্রেনে বসে তুলেছি, যখন মোড় ঘুরছিলো। ট্রেনে উঠলে আমি বাইরের দিকেই চেয়ে দেখতে দেখতে যাই। কতো সুন্দর আমাদের দেশটা তখন বোঝা যায়।

      অনেক ভালো থাকুন।

      1. চলন্ত ট্রেনে মোবাইলটা পড়ে গেলে কি হত!! অবশ্য অতটুকু রিস্ক না নিলে এমন সুন্দর লেখা আর ছবি কোনটাই পেতাম না।
        ধন্যবাদ আপু।

      2. মাঝেমধ্যে সৌন্দর্য ধরে রাখতে গেলে এমন রিস্ক নিতেই হয় ভাইয়া। এখন পর্যন্ত ভাগ্য ভালো মোবাইল পড়েনি। যেনো না পড়ে। তাহলে সাড়ে সর্বনাশ!

মন্তব্য করুন