দায় থেকেই যায়

আমার কোন দায় নেই,
পাখিডাকা-ভোর কাকডাকা-জ্যোৎস্না
নির্ঘুমের রাত গোনা;
নির্ঘাত বিভ্রান্ত হচ্ছে হুশ
সরোষে ছুঁড়তেও পারে জুতো,
খড়ম পায়ে বরাবর হেঁটে যায়
নির্ঘুমের খটখটে রাত;

বখে-যাওয়া বাচাল-রাতের আঁতলামো
শুধুই দাঁত-চেপে সহ্য করে যাওয়া,
মূক-কে-বাচাল, বাচাল-কে-মূক
সবই ঈশ্বর-লীলা,
হোক-না তা হাত-ছোঁয়া দূরত্ব!
রূপালী কাঁটায় বেঁধা রাতগুলো
আকাশের মতই অচেনা, এখনো,

মোট পড়েছেনঃ ১,২৪৭জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৪টি মন্তব্য

  1. আজকাল কি রাতঘুম নির্ঘূমতায় যাচ্ছে? তবে একাকী নিঃসঙ্গতা যদি এমন কবিতা লেখাতে পারে, তাহলে নির্ঘূম রাত ভালো আমাদের পাঠকদের জন্য।

    কবিতা জব্বর হইছে। বোঝা-না-বোঝার অস্পষ্টতার ভেতর থাকার মধ্যেও দেখি বেশ আনন্দ পাওয়া যায়! 😀

    1. জব্বর হলেই তুমুল আনন্দ,
      রাত-ঘুম-নির্ঘুমতার সাথে লেখালেখির কোন যোগ নেই, এ নিতান্ত ল্যাহা মাত্র!!
      আপনাদের জন্যই-তো লিখি (হি-হি!!), সবই বিধাতার কৃপা!!

  2. রাত খরম পায়ে খটখট করে হাঁটে? বাপ্রে বাপ কিসব কথাবার্তা। হুশ বিভ্রান্ত হলে যা হয় আর কী!
    আমার কোন দায় নেই তবে দায় থেকেই যায়। অদেখা অচেনা এই রাতগুলো ভীষণ শব্দ করে ইদানিং, ঝড়ের মতো চিৎকার ভাসে,
    বখাটে বলবেন না মোটেও, বাঁচাল বলেই এখনো থামেনি কথা। কবির মতো এমন লিখতে পারলে রাতজাগার প্র‍্যাকটিস শুরু করতাম, কিন্তু গ্যারান্টি দেবে কে?

    1. আপনি কবির-কবি,
      রাত জাগতে হয়-না আপনার লিখতে, সামান্য লেখার ইচ্ছে হলেই কাফি!!
      দেখুন রাতের দিকে চোখ ফেলবেন-না, আচুক্কা ভোর-ফোর-ই ভাল আপনার,
      দেখুন ভালু না ল্যাক্তে পারলে হুশের বিভ্রান্ততা আসে, আসতেই পারে।

      অনেকদিন লেখালেখি করেন-না!!
      শুরু করে দিন।

  3. বখে-যাওয়া বাচাল-রাতের আঁতলামো
    শুধুই দাঁত-চেপে সহ্য করে যাওয়া,
    মূক-কে-বাচাল, বাচাল-কে-মূক
    সবই ঈশ্বর-লীলা, (y)

  4. কুবিরাজ, কিছু কিছু ব্যাপার আমরা জানি কখনই ঠিক হবার নয়, তারপর ও আশায় থাকি । কারন মন যে মানে না।
    যা মানতে বাধ্য বা না মেনে উপায় নেই তা নিয়ে আজকাল কথা বলাই ছেডে দিয়েছি।

  5. আমি প্রায়শই কবিতার মন্তব্যে (বিশেষ করিয়া এই কবির কবিতায়) “কিছুই বুঝিলাম না” লিখিয়া নিজেকে আতেল ভাবিয়া তৃপ্ত হইতাম। আমার এই তৃপ্ত যে কত হাস্যকর তাহা আজই আবিষ্কার করিলাম কবিগুরু এক বানীতে।

    “কবিতা শুনিয়া কেহ যখন বলে, ‘বুঝিলাম না’, তখন বিষম মুশকিলে পড়িতে হয়। কেহ যদি ফুলের গন্ধ শুঁকিয়া বলে, ‘কিছু বুঝিলাম না’, তাহাকে এই কথা বলিতে হয়, ইহাতে বুঝিবার কিছু নাই, এ যে কেবল গন্ধ।” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    কবিগুরু যদি আমার দেখা পাইতেন (!), না জানি এই বাণী লইয়া কিই না মুশকিলে পরিতেন। কারন আমার যে কবিতা বুঝিবার মেধা নাই।

    1. এবারে আর একটু উদ্ধৃতি দেই,

      রবীন্দ্রনাথের লেখা থেকে

      “কিছু-একটা বুঝাইবার জন্য কেহ তো কবিতা লেখে না। হৃদয়ের
      অনুভূতি কবিতার ভিতর দিয়া আকার ধারণ করিতে চেষ্টা করে এইজন্য কবিতা শুনিয়া কেহ যখন বলে “বুঝিলাম না’ তখন বিষম মুশকিলে পড়িতে হয়। কেহ যদি ফুলের গন্ধ শুঁকিয়া বলে “কিছু বুঝিলাম না’ তাহাকে এই কথা বলিতে হয়, ইহাতে বুঝিবার কিছু নাই,এ যে কেবল গন্ধ। উত্তর শুনি, “সে তো জানি, কিন্তু খামকা গন্ধই বা কেন, ইহার মানেটা কী।’ হয় ইহার জবাব বন্ধ করিতে হয়, নয় খুব একটা ঘোরালো করিয়া বলিতে হয়, প্রকৃতির ভিতরকার আনন্দ এমনি করিয়া গন্ধ হইয়া প্রকাশ পায়। কিন্তু মুশকিল এই যে, মানুষকে যে কথা দিয়া কবিতা লিখিতে হয় সে কথার যে মানে আছে। এইজন্যই তো ছন্দোবদ্ধ
      প্রভৃতি নানা উপায়ে কথা কহিবার স্বাভাবিক পদ্ধতি উলটপালট করিয়া দিয়া কবিকে অনেক কৌশল করিতে হইয়াছে, যাহাতে কথার ভাবটা বড়ো হইয়া কথার অর্থটাকে যথাসম্ভব ঢাকিয়া ফেলিতে পারে। এই ভাবটা তত্ত্বও নহে, বিজ্ঞানও নহে, কোনোপ্রকারের কাজের জিনিষ নহে, তাহা চোখের জল ও মুখের হাসির মতো অন্তরের চেহারা মাত্র। তাহার সঙ্গে তত্ত্বজ্ঞান, বিজ্ঞান কিংবা আর কোনো বুদ্ধিসাধ্য জিনিষ মিলাইয়া দিতে পার তো দাও কিন্তু সেটা গৌণ। খেয়ানৌকায় পার হইবার সময় যদি মাছ ধরিয়া লইতে পার তো সে তোমার বাহাদুরি কিন্তু তাই বলিয়া খেয়ানৌকা জেলেডিঙি নয়– খেয়ানৌকায় মাছ রপ্তানি হইতেছে না বলিয়া পাটুনিকে গালি দিলে অবিচার করা হয়।

      – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (জীবন স্মৃতি)

      1. “কিছু-একটা বুঝাইবার জন্য কেহ তো কবিতা লেখে না। হৃদয়ের অনুভূতি কবিতার ভিতর দিয়া আকার ধারণ করিতে চেষ্টা করে…।। আমার আর কিছুই বলিবার নাই। এখন হইতে কবিতায় “কিছুই বুঝিলাম না” শ্লোক রোহিত করা হইলো।
        তাহার পরিবর্তে “এই কবিতায় আপনার হৃদয়ের অনুভূতি প্রকাশ পাইয়াছে যাহা আমি গলদ ধারন করিয়া ধন্য হইলাম”
        হায় কবিগুরু, কি করিয়া গেলেন আর কিইবা রাখিয়া গেলেন যাহা কোন দিনই মোর উদ্দার হইবে না।

মন্তব্য করুন