শিশু শিক্ষার আধুনিকায়ন ও কিন্ডারগার্টেন

মাইকে আওয়াজ আসছে—” টুইংকেল টুইংকেল ” কিংবা ” আতা গাছে তোতা পাখি”! আমার বাড়ির তিনদিকে রাস্তা। তাই ঘুরে ফিরে ঐ আওয়াজ কানে আসছে। বলছি, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কথা। নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি মাস জুড়ে চলে নতুন শ্রেণীতে ভর্তি কার্যক্রম। সচেতন ও পকেটভারি অভিভাবকদের নজর থাকে শহরের নামীদামী স্কুলের দিকে। কিন্তু যুগোপযোগী ও মান সম্মত স্কুল পাওয়া কষ্টকর। আবার বিভিন্ন ঝামেলার কারণে বাসার পাশের স্কুলে ভর্তি করিয়ে চাপমুক্ত থাকতে চাই।

মাইকিং এর পাশাপাশি থাকে পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট। শিক্ষার পরিবেশ এখন ব্যবসায়িক। শিক্ষার মানের থেকে প্রচারণার দিকে নজর বেশি। আধুনিক শিক্ষার নাম করে কিন্ডারগার্টেন এখন ভবনে বন্দি।

আজকের আলোচিত কিন্ডারগার্টেন শব্দটি জার্মান শিশু শিক্ষানুরাগি ফ্রেডরিক ফ্রোবল কর্তৃক সৃষ্ট। কিন্ডারগার্টেন শব্দটি জার্মান।  যার অর্থ বাগান। বাড়ি থেকে বিদ্যালয়,  খেলা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের ধারণাকে কেন্দ্র করেই এ শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এছাড়া, স্কুল এবং প্রতিদিনকার জীবনযাপনে সফলতা আনার জন্য শিশুদের মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করানো, শিশুদের নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, গল্প বলা, গণনা, এইসব বিষয়ে দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি করাই কিন্ডারগার্টেনের অন্যতম কাজ।

এখন কিন্ডারগার্টেন এর হালচাল, এমন কোন গলি নাই যে এই কিন্ডারগার্টেনপর তকমা ঝুলানো নাই। এক কথায় ব্যাঙের ছাতার ছড়াছড়ি।

কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন অভ বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের মতে, সারাদেশব্যপী কিন্ডারগার্টেন আছে ৭০ হাজার। তার মধ্যে এদের সদস্য মাত্র ২৬ হাজার। নীতিমালা না মেনে ছোট ছোট ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠদান চলছে। দেখা গেছে পাঁচতলা ভবনের ৩য় তলাটি কিন্ডারগার্টেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর নীতিমালা এবং নিবন্ধন বিধিমালা ২০১১ তে প্রণয়ন করে। কিন্তু এরপরেও নিবন্ধনের আওতায় আসেনি কিন্ডারগার্টেনগুলো।

কিন্ডারগার্টেনের কাজ শিশুকে ক্লাসে প্রথম করা নয়; তাকে সহজভাবে মানুষ হয়ে মানুষের সাথে মেলামেশা ও অন্যসব দিক হতে এগিয়ে নেয়া। এবং এটা মেনে নিয়ে সুন্দর পরিবেশ ও সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে কিন্ডারগার্টেন পরিচালনা করা।

আশা করি, জাতি গঠনের অন্যতম এই প্রতিষ্ঠান তথা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকার ও সুধীমহল মনোযোগী হবে।

মোট পড়েছেনঃ ১,২৫৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৬টি মন্তব্য

  1. ধন্যবাদ আপু। অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরলেন। খুব ভালো লাগলো ‌ । ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে এসব কিন্ডারগার্টেন। শুভ কামনা রইলো

  2. আপু লিখাটি খুবি ভালো লাগলো,এই কিন্ডারগার্টেন গুলো শুধু বাচ্চার শিশু মনকে খুন করছে এমন কিন্তু নয়,কতো গুলো অসুস্থ প্রতিযোগিতা মূলক “মা” তৈরির অন্যতম কারন।

  3. যতদিন শিক্ষা ব্যবস্থা কে নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনা না হবে
    ততদিন এ অভাব্য কর্মটি চালু থাকবে। পরীক্ষা দানবের কথা আর না-ই বলি।

    1. একদম ঠিক বলেছেন। পরীক্ষা কোথাও ৯টা, আবার ক্লাস টেস্ট। জাপান, সুইডেন এই দেশগুলোতে ১৮ বছরের আগে পরীক্ষা নেই।

  4. এর আরেক নাম আমি দিয়ে দিচ্ছি! তা হলো, “ফ্যাশনগার্টেন”। কারণ, এসব গার্ডেনে যেসব শিশুদের ভর্তি করানো হয়, ওঁরা সবাই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি চোষা ছোট শিশু। সেসব শিশুদের মা-বাবা মনের আনন্দে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করে দেয়। দেয় এইজন্য যে, শিশুর মা প্রতিদিন সেজেগুজে ছেলে অথবা মেয়ের স্কুলব্যাগ বহন করে কিন্ডার কিন্ডারগার্টেনে নাচতে নাচতে যাবে আর আসবে। তাই এই কিন্ডারগার্টেন এখন এদেশে একরকম ফ্যাশনগার্টেনে রূপ নিয়েছে।
    সমসাময়িক লেখা/পোস্টের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

  5. সুন্দর লিখেছেন। সমাজ ব্যবস্থা এখন সবক্ষেত্রেই টাকার প্রতিযোগিতা। লাভজনক উৎসের সন্ধান দেওয়াই এখন মুখ্য শিক্ষা।

  6. এসব কিন্ডারগার্টেন এ পড়া বাচ্চাদের মায়েরা প্রতিনিয়ত করে চলেছেন এক অসুস্থ প্রতিযোগীতা। একে অন্যের সমালোচনা, ঈর্ষা আর নিত্য নতুন শাড়ি গয়নার প্রদর্শনী যেন।
    চমৎকার পোস্টের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

  7. আমাদের দেশে কিন্ডারগার্টেনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে ব্যবসা। এর মূল ভাব- শিশুদের মনের বিকাশ তা আর বজায় নেই।
    মুলত আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় তদারকির ব্যবস্থা নেই, নামমাত্র তদারকি হয়, তাও ইন্সপেক্টরগন টাকায় বিকিয়ে যায়।

    কবে যে একটি সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থা পাবো আমরা?

    অনেক ভালো একটি পোষ্ট।
    এমন লেখা আরো চাই।
    শুভ কামনা।

  8. গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যুর অবতারনা করেছেন।কিন্ডারগার্টেনের ধারনা আসলেই কোমলমতি শিশুদের মন ও মনের বিকাশ সাধনের জন্য এসেছিল জার্মান থেকে,কিন্ত আমাদের দেশের যত্রতত্র নামে বেনামে গড়ে উঠা কিন্ডারগার্টেন শিশুদের প্রকৃতভাবে ধারন করতে পারছে কিনা সেটাই ভাবনা উদ্দীপক।
    ভালো লাগল পড়ে।

মন্তব্য করুন