রাত্রি

রাত, এখনও কাঁদছো! মোছ চোখ।
এসো, আরও কাছে এসো,এসো এই বুকে।
রূপোর ঝিনুকে তুলে ওম ওঠা দুধ খাইয়ে দেব
দেব কপালে কাজল টিপ;
গন্ধ মাখা এলো চুলে জোড়া বিনুনি করে দেব
লাল ফিতের ফুল জড়িয়ে,
কথা দিচ্ছি ঝুমঝুমি এনে দেব দু দু’টো ।
চলো, নিকানো উঠোনে খেলি দুজনে এক্কা দোক্কা , সত্যি বা মিথ্যে-মিথ্যি চড়ুইভাতি।
চলনা ,দু ‘জনে চুপি চুপি কাশবনে কালো ফড়িংয়ের পিছু নিয়ে ধরে ফেলি দু’একটা।
লেজে ছোট্ট সুতো বেধে ওড়াই, কিছুক্ষণ।
আবারও বলছি–
শেষ কর এ কান্না আমার বুকে মুখ লুকিয়ে।

তোমার মুখর সান্নিধ্যের অপরূপ ঘ্রাণ
দেয়ালে লুটায় অবহেলে,
অযথা কেনই বা মাথাকুটে মড়া অস্থিরতার অবগাহনে?
এ ঝিমঝিম ওষধি স্বপ্ন না দেখলে হয়না ?

কেঁদোনা বলছি, ক্ষণিকের এই সরাইখানায়
ভীরুতার হিম নিয়ে কেন যাও পাথুরে দেয়ালে মাথাকুটতে !

মোট পড়েছেনঃ ৬২৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৫৬টি মন্তব্য

  1. এমন প্রলোভনে রাত কি না এসে পারবে? কান্না ভুলে এমন আহ্বানে সাড়া দিক রাত। এমন সত্যি কিংবা মিথ্যে-মিথ্যি চড়ুইভাতি ফেলে কে যেতে চায় ঝিমঝিম ওষধি স্বপ্নে ডুবতে।
    এমন ভাবে ডেকে সব যে নিজের করে নিয়ে নিতে চাইছেন? কি হবে এবেলা আমাদের?

    1. কোথায় আর নিজের করে নেয়া হল ? আমিতো শুধু বেমক্কা দেয়াল যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিতে চেয়েছি মাত্র ।
      আপনি তো ভোরকে নিজের করেই নিয়েছেন । রংয়ে ফিরিয়ে নিতে বাকি শুধু ।

      1. নেয়ার বাকি আছে বুঝি? রাতের যন্ত্রণা দেখছেন, তাকে আদর করে কাছে ডাকছেন, আবার এক্কা দোক্কার লোভ ও দেখাচ্ছেন। ভাবছি কেমন করে এমন ভাবে লিখছেন। পুরোটা ঢেলে না দিলে সম্ভব নয় তা বুঝতে পারছি।
        ভোর আমার একার নয় তো আর। সবাইকে নিয়ে দেখি ভোরের রঙ।

        1. যাক , আপনার অনুমতি নিয়ে আবার না ভোরের দিকে কাঁপা কাঁপা চোখ তুলে তাকাব !
          আপনি তো এর থেকেও ভাল ইচ্ছে করলেই লিখতে পারেন , লেখেন ও ।
          ভোর তার রঙ কখন ফিরে পাচ্ছে তাই বলুন এবারে ।

        2. যেভাবে রাতের মাঝেও আলো দেখেন, দেখতে পারবো কখনও?
          আমি কিন্তু অনুমতি নেবনা, লিখতে চাইলে দুম করে রাত নিয়ে বসবো।
          ভোরের জন্য রঙ খুঁজছি। আমি কি আর চাইলেই পাই বুনো দির মতো?

  2. রাত আমার খুবই প্রিয় সময়। নিঝুম চুপচাপ, অখণ্ড নিরবতা। আপনার কাব্যখানায় অনেক অনেক ভাললাগা। আপনার জন্য শুভকামনা নিরন্তর।

  3. চলো, নিকানো উঠোনে খেলি দুজনে এক্কা দোক্কা , সত্যি বা মিথ্যে-মিথ্যি চড়ুইভাতি।
    চলনা ,দু ‘জনে চুপি চুপি কাশবনে কালো ফড়িংয়ের পিছু নিয়ে ধরে ফেলি দু’একটা।
    লেজে ছোট্ট সুতো বেধে ওড়াই, কিছুক্ষণ।

    খুব ভাল লাগ্ল

  4. কালো ফড়িংয়ের লেজে ছোট্ট সুতো বেধে ওড়াবো কিন্তু আমি। এটি রাতকে দেয়া যাবেনা। এমন আহবান রাত উপেক্ষা করতে পারবেনা।

        1. এখানে তাতে সমস্যা কী ? আমরা তো আমরাই ।
          আপডেট ……………………………
          ঝুমঝুমি লাল ফিতে নিয়ে হাসি হাসি মুখে ঘুমিয়ে পড়লেও আমার কেন জানি মনে হচ্ছে মুখপুড়ি রাত চোখ পাহারার বেড়া এড়িয়ে ঐ দেয়ালে মাথা কুটতে যেতে পারে।
          যন্ত্রণার এক শেষ ।
          আপনার খবর তো পাচ্ছি না ।

  5. আপনার লেখায় মন্তব্য করা আমার জন্য বেশ কঠিন ।
    রাত্রিকে রাতের মত করে আর পাব বলে ম্নে হচ্ছে না ।
    প্রশংসা করার শব্দ খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে যাচ্ছে ।

    1. রাত তার ভালোবাসায় সাড়া পাচ্ছে না দেখে কান্নাকাটি করছে ।
      জ্যোৎস্নায় অবশ্যই হাসে । জীবন হাসি-কান্নার ।
      ভালো থাকবেন আপনি ।

  6. এমন কবিতা পেলে রাত মনে হয় না কান্না থামাবে…।বরং আরো বেশি আদুরে আহ্লাদি হয়ে রোজ রোজ আবদার জুড়ে দেবে -লাল ফিতে,ঝুমঝুমি,এক্কা দোক্কা কিংবা কাশবনে দু একটা কালো ফড়িং এর…।
    দারুন লিখেছেন… (y)

    1. সেটা আপনি ঠিকই বলেছেন । স্নেহ মমতার সময় হিসেব করে তো দিতে পারি না ।
      যদিও আমি অন্য ভয়ে আছি ।
      আপনাকে পাচ্ছি না ঠিক ভাবে । লেখা দিচ্ছেন না কেন ?
      প্রশংসা পেলে মন্দ লাগে না ।

মন্তব্য করুন