মামুলি হস্তক্ষেপ

 

শব্দ, যানজট আর ধুলোর এ শহর, ঢাকা;
আগন্তুক একজন, বেসামাল দিশেহারা,
ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত ত্যক্ত-বিরক্ত, শুষে নেয় পরমায়ু;
যন্ত্র দানব মহুর্মুহু ছুড়ে দেয় পোড়া গন্ধময় আগুন-হল্কা;

অতি নিকট দূরত্বে জম্পেশ-জমাট বইমেলা, বইয়ের মেলা,
বেশুমার ভিড়, বস্ত্র বালকদের আর বস্ত্র বালিকাদের,
সবাই এগুচ্ছে জোর কদমে; উন্মাতাল সোহাগ শিহরণে;
রাশভারী আলোকোজ্জ্বল প্যাভিলিয়নের পার্শ্ব-দেশে
কাঁদো কাঁদো চোখমুখে অনুর্বর দোকানি!

ধুলো-টানা ভারি বুকে গুট-গুট খুট-খুট করে
স্টল থেকে স্টলে তাজা বইয়ের গন্ধে প্রাণ-মন
জ্বলে-জেগে ওঠে, কষ্ট-কষ্ট আনন্দদের বিরল সুখে;

অকস্মাৎ প্রিয় লেখকের সাথে প্রথম আলাপচারিতা,
স্মৃতির শিখরে থেকে যাবে বহুদিন, বহু দূর অবধি।

মোট পড়েছেনঃ ৭৩৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৪টি মন্তব্য

  1. সবাই এগুচ্ছে জোর কদমে; উন্মাতাল সোহাগ শিহরণে;
    রাশভারী আলোকোজ্জ্বল প্যাভিলিয়নের পার্শ্ব-দেশে
    কাঁদো কাঁদো চোখমুখে অনুর্বর দোকানি!

    এতো এমন করে দেখে কেমনে কাহারো চোখ-
    চশমার কাঁচ মোটা হবে হয়ত।

    1. আমিও ভাবি এত কম দেখে-টেখে ক্যামনে কী!
      কাঁচ হোক মোটা থেকে আর ও মোটা,
      দেখা-দেখি চালু থাকুক আপন মনে।
      প্রথমে আপনাকে দেখে ভাল লাগল।

  2. আর কতই বা ধুল ময়লা ঝালবেন এখন সৃতি ই বা কি হবে তই স্বচ্ছ শব্দমালা ভালই এগুল কবি সাব। বেশ বেশ আনন্দ করলেন দুই একটা বই ছুড় মারলে পড়া হত। কিনার সামর্থ নাই। দান খয়্রাত কিছু করুন। সব আল্মিরায় রাখলে হবে!!!

  3. নাজমুল একটা ধন্যবাদ পেতেই পারে!

    শুনেছি ঢাকা আসতে হলে ভিসা লাগবে অচিরেই। আপনার ভিসা হবে কিনা কে জানে।
    আশা করি এই শহরের ধুলাবালি, শব্দ জঞ্জাল , যানজটরা যেনো আপনাকে মিস না কর!

    1. অবশ্যই ধন্যবাদ, দিচ্ছি এবং দেব,তাঁকে।
      তবে প্রি-ওয়ার্ক আড়ালেই থেকে যায়। চাইলেই লিখে ফেলা যায় না।
      পাল্টে ফেলার কাজ/চেষ্টা সহজ কোন বিষয় নয় বলেই জানি। দেখা যাক এই বাঁক বদল টিকিয়ে রাখতে পারি কী না!

      আহা, বলেন কী! গ্রাম্য বলে ভিসার আঁকশি লাগাবেন!
      ভালোবাসি প্রিয়দের ঢাকাকে, আমিও।

  4. “শব্দ, যানজট আর ধুলোর এ শহর, ঢাকা;
    আগন্তুক একজন, বেসামাল দিশেহারা, “

    তাই নিয়ে বেঁচে আছি বন্ধু
    হই না পথ হারা।
    ভালই হলো। শুভ কামনা।

  5. পাঠকের তৃপ্তির জন্য পাঠকে সহজ করেছেন লেখক। এতে পাঠক হৃদয় তৃপ্ত হয়েছে বটে কিন্তু লেখক হৃদয়ে শান্তি মিলেছে কি? হয়েছে কি লেখক হৃদয় তৃপ্ত?

    1. এত দিনের অভ্যস্ততা পালটে ফেলা কঠিন এক কাজ,
      সহজ ও কঠিন পুরো বিষয়টি অনেক দিন থেকেই মাথায় ছিল। আমার লেখা-লেখি অনেকের দ্বারা প্রভাবিত।
      তারা কেউ শক্ত শক্ত করে লেখেন কেউ অনেকটাই সহজ শব্দে লেখেন (ভাবনা যদিও সহজ না), তদ্ভব শব্দ কম ব্যবহার করে করে।
      আর আমি যখন এখানে লেখা নিয়ে আসি তখন পাঠক তো আমার হয়ে যায়।
      চেষ্টা করছি ভেতর থেকে, এবারে বাইরে নিয়ে আসলাম, আপনাদের সামনে/কাছে, দেখি-না কী হয়,
      আপনি/আপনারা আমার সাথেই আছেন/থাকবেন ও।
      ধন্যবাদ।

  6. অকস্মাৎ প্রিয় লেখকের সাথে প্রথম আলাপচারিতা,
    স্মৃতির শিখরে থেকে যাবে বহুদিন, বহু দূর অবধি..
    এমন রহস্যাবৃত করে রাখলে আপনার প্রিয়জন তো জনপ্রিয়তা পাবেনা মহারাজ। প্রিয়জন কে বিশ্বজয়ের পথে এগিয়ে দেন, আমরাও কৃতার্থ হই।

    1. তিনি ইতমধ্যেই বিশাল ডানা মেলে ফেলেছেন। আমি তাঁর নিবিড় পাঠক মাত্র।
      অকস্মাৎ দেখা হয়ে গেল, কথাও। কথা বলার প্রস্তুতি নিয়ে যাই-নি। শুধু অপরিচিত জনকে সাধারণ হিসেবে
      জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমার লেখা পড়েন?’ উত্তর দিয়েছি, ওটা নেই কেন, ওইটা কই? ওই অনুবাদ কবে পাব?
      ওইটার অনুবাদ চাই, …………………………… এই বৃদ্ধ গ্রাম্য পাঠক যে পাঠক তা সে ভাল করেই বুঝেছে। তা যে সে বুঝেছে
      সেটুকু বুঝিয়ে ও দিয়েছে।
      অন্য ভাবে বললে, এই রক্ত মাংসের লেখকের সাথে আমার সম্পর্ক সামান্য -ই। আমার সম্পর্ক লেখক-মানসের সাথে,
      পাঠক সেখানে তাঁর সাথে সাধ্যানুযায়ী সংযুক্ত/সম্পৃক্ত।
      তিনি, মাসরুর আরেফিন।

মন্তব্য করুন