ভৌতিক অপেক্ষা

পশ্চিম গগনের রক্তিম আভাকে বিদায় জানিয়ে
অতৃপ্ত প্রেতাত্মার কালো শাড়ীর আঁচলে চেপে,
গুটি গুটি পায়ে অতীতের বারান্দায় নেমে এলো;
অমাবশ্যার অন্ধকার।

হুড়কো আটা বাতায়নের পাশে ডেকে গেল এক ভৌতিক পাখি,
শশ্মানের অভিশপ্ত পিশাচেরা নৃত্য জুড়ে দিলো
শয়ন কক্ষের আসবাবে,
গাছের ডালে পত্র কন্টক মুকুলে ফুলে-ফলে;
কর্নকুহরে আঙুল ঠেকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে পড়ে থাকি,
কবর তুল্য শয্যায়;
তোমার প্রতীক্ষায়।

বিভৎস ভূতুরে আর্তনাদ-হাঁটা চলা,
লোমকূপের প্রতিটি গোড়ায় বিঁধিয়ে দেয় সূঁচ,
দুঃস্বপ্নের মৌলিক উপাদান প্রবেশ করে- অস্হি মজ্জা, শিরায়-শিরায়;
মায়াবতী অপ্সরী বক্ষের চর্মে তৃষ্ণার্ত জিভ বসিয়ে উল্লাস প্রকাশের ভঙ্গিতে,
ঝাকাতে থাকে ভয়ে জমে যাওয়া আমার বরফ শীতল দেহ!

মসজিদের আযান আর মন্দিরের শঙ্খধ্বনি না শোনা পর্যন্ত,
অসহনীয় যন্ত্রনার রাত্রী পার করি;
সাহসের মশাল জ্বালিয়ে,
তুমি রক্ষা কবজ হয়ে ফিরবে বলে।

মোট পড়েছেনঃ ১,২৯৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৯টি মন্তব্য

  1. বিদগ্ধ যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ।
    যে যায় সে তো ফিরে আসে না
    তবে কেনো তারা পথ চেয়ে থেকে
    মিথ্যে সান্ত্বনায় নিজেকে ভুলিয়ে রাখা

    প্রত্যেকটি লাইন অনবদ্য। শব্দ চয়নও দুর্দান্ত

  2. হুড়কো আটা বাতায়নের পাশে ডেকে গেল এক ভৌতিক পাখি,
    শশ্মানের অভিশপ্ত পিশাচেরা নৃত্য জুড়ে দিলো
    শয়ন কক্ষের আসবাবে,
    গাছের ডালে পত্র কন্টক মুকুলে ফুলে-ফলে;
    কর্নকুহরে আঙুল ঠেকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে পড়ে থাকি,
    কবর তুল্য শয্যায়;
    তোমার প্রতীক্ষায়।

    ……………..ওকে ছাড়াতো দেখছি তাহলে জীবনটা সত্যই অচল, কবিতা বরাবরই আমার কাছে কঠিন লাগে নুর হোসেন ভাই।

  3. অপেক্ষার ফাঁক গলে মায়াবতী অপ্সরীর সহবত মন্দ কী!
    অভিজ্ঞতাটুকু পরে কাজে দেবে।
    অপেক্ষার বুকে আজ মায়াবতীর হানা!

  4. হুড়কো আটা বাতায়নের পাশে ডেকে গেল এক ভৌতিক পাখি,
    শশ্মানের অভিশপ্ত পিশাচেরা নৃত্য জুড়ে দিলো
    শয়ন কক্ষের আসবাবে,
    গাছের ডালে পত্র কন্টক মুকুলে ফুলে-ফলে;
    কর্নকুহরে আঙুল ঠেকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে পড়ে থাকি,
    কবর তুল্য শয্যায়;
    তোমার প্রতীক্ষায়।
    প্রত্যেকটি লাইন অনবদ্য। শব্দ চয়নও দুর্দান্ত।

    শুভ সকাল দাদা।

  5. নিস্তব্দ নিথর রাত্রিতে যখন শুনশান নীরবতা নেমে আসে আমারো মাঝেমধ্যে ভয় করে সে অন্ধকার। নিশুতি রাতে শুনতে পাই কারা যেন কথা বলছে, অনুভব করি এ অস্পৃশ্যতা। রাতের আঁধার পেড়িয়ে যখন পাখির ডাক শুনি ধীরেধীরে কেটে যায় এই নিস্তব্ধ নিঃসঙ্গতা।

  6. মসজিদের আযান আর মন্দিরের শঙ্খধ্বনি না শোনা পর্যন্ত,
    অসহনীয় যন্ত্রনার রাত্রী পার করি;
    সাহসের মশাল জ্বালিয়ে,
    তুমি রক্ষা কবজ হয়ে ফিরবে বলে।

    বাক্যগুলো একদম জীবনের সাথে মিলে যায়।আসলে তাই গভীর রাত্রীর কোন বিভীষিকাময় অন্ধকারে তখনি ভয় কাটে যখন মসজিদে ভোরের আযান শুনি।চমৎকার।

মন্তব্য করুন