পড়ন্ত বিকেলে দুয়ারে বসে আনমনে কতো কিছুই ভাবছি। অনেকটা ঘোরের মধ্যেই ছিলাম। কখনো যেনো দাদি এসে পাশে বসেছে খেয়াল করিনি। কয়েকবার নাকি ডেকেছে আমাকে শুনতে পাইনি। শেষে বিরক্ত হয়ে গা ঠেলা দিয়ে বললো ঐ ছুড়িটা কখন থেকে ডাকছি শুনতে পাসনা। বুঝলাম বেচারী বেশ বিরক্ত।
আমিও বেশ বিরক্তি নিয়ে বললাম
-ধুর ছাতা! কী হয়েছে এতো চিৎকার চেঁচামেচি কেনো?
আমার বিরক্তির তোয়াক্কা না করে বললো
-কী হয়েছে জানি?
দাদীর চোখে মুখে বিস্ময়! আমি গুরুত্ব না দিয়েই বললাম কী হলো আবার
-কুরআন শরিফে চুল পাওয়া গেছে।
-তো! চুল পাওয়া যেতেই পারে। এতে এতো আশ্চর্যের কী হলো?
-আরে ওটা এমনি এমনি চুল নয়।
-এমনি এমনি নয় মানে!
-ওটা গায়েবি চুল! কুরআন শরিফ থেকে বের হয়েছে।ঐ চুল ধোয়া পানি খেলে করোনা হবে না।
মুহূর্তে সমস্ত বিরক্তি উবে গেল। এবার সিরিয়াসলি জিজ্ঞেস করলাম
-কী?
-হয় হয় । সবাই চুল ধোয়া পানি খাচ্ছে আর বলছে কী স্বাদ!
-তারপর
তারপর আর কি বলে চুপ করে গেলো। একটু পর বললো
-জানিস আমি অনেক বড় ভুল করেছি
এবার দাদীর চোখে মুখে বিস্ময় নয় অপরাধ বোধের ছাপ।
-আমার এতো দিনের আমল সব বিফলে গেলো।
বুঝলাম আসল ব্যাপার। তবুও জানতে চাইলাম কেনো?
-সবার কথা শুনে মুই ও ঐ পানি খাইচু। কিন্তু একটু স্বাদ টাদ কিছুই নয়।
-সবাই বললো বলে খেয়ে নিলে! তা আমল সব মাটি হলো এই বোধদয় কী করে হলো?
বললো কেউ একজন বলেছে এই কুসংস্কারে বিশ্বাস করে ভুল করেছে।
সত্যিই তাই এই কুসংস্কারে বিশ্বাস করে মস্ত বড় ভুল করেছে। কুরআন শরিফ এ চুল পাওয়া অলৌকিক কোনো ঘটনা নয়। কুরআন শরিফ পাঠের সময় যে কারো মাথা থেকে একটা দু’টো চুল পড়তেই পারে। আর ভণ্ড অসাধুর দল সেটা নিয়ে কুসংস্কার ছড়িয়ে মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার করতে তৎপর।
বেচারী দাদী আমার পুরাই থ।
মানুষ অসহায় হলে আর এই বয়সে এমন কুসংস্কার কে মানতে বাধ্য হয়। ধন্যবাদ আপু। লেখাটা ভালো লেগেছে। ভালো থাকুন শুভ কামনা রইলো
আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন দিদি
ভালো থাকবেন সবসময়
উপভোগ্য পড়া। আল্লাহ সবাইকে সহী সালামতে রাখো।
আমীন
আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন
ভালো থাকবেন সবসময়
চা টু থানকুনি টু কাঠাল পাতার জয় জয়কারে সামান্য একটু যোগ হলো মাত্র।
আরও আছে ভাইয়া।
পরের পর্বে লিখবো
আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন
ভালো থাকবেন সবসময়
এই কুসসস্কারকে পুঁজি করেই ভন্ডরা
ব্যাবসা করে যায়।
আর মানুষ হয় প্রতারিত।
ভাল লিখলেন। শুভ কামনা।
একদম ঠিক বলেছেন দাদা
আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন
ভালো থাকবেন সবসময়
দুর্বল চিত্তের অধিকারিগণ খুব সহজেই প্রভাবিত হয়ে পরে। ভাওতাবাজি এ দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয়। দাদি’র বোধদয় এক অসাধারন অনুভূতির উপস্থাপন।
চমৎকার বলেছেন আপু
কৃতজ্ঞতা সহ আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন
ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সাবধানে থাকবেন
আমরা ধর্মান্ধ, গুজবে বিশ্বাস করি বেশি। আর একারনেই কিছু মানুষ এসবের সূযোগ নেয়।
ভালো থাকবেন আপু।
একদম সঠিক বলেছেন ভাইয়া
আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন
ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সাবধানে থাকবেন
গুজবে আকৃষ্ট হয় এমন সহজ সরল মানুষগুলোই। তবে দাদী যে সত্য-মিথ্যার ফারাকটুকু অনুধাবন করতে পেরেছেন, এটা ভালো লাগলো।
ভালো লিখেছেন।
ভালো থাকবেন সবসময়।
আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন আপু। ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন সাবধানে থাকবেন সবসময় 😍
গুজব আর কুসংস্কার একই সাথে চলে।
আর আমরা তা বিশ্বাসও করে ফেলি।
কবে যে আমরা এসব থেকে মুক্ত হবো!
শুভ কামনা।
হয়তো কখনোই মুক্ত হতে পারবো না ভাইয়া।
আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন
ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়
ছোট বেলায় একবার দেখছিলাম এরকম। মধ্যরাতে সবাই ঘুম থেকে ওঠে কোরআন শরীফের চুল খুঁজে পাবার কথা এখনো মনে আছে। সভ্যতা আগায়, এগোনোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় মানুষকে ঘিরে আরো কিছু নুতুন কুসংস্কার।
একদম সঠিক বলেছেন
আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন
ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়
গায়েবী চুলধোয়া পানি!!!
চমৎকার লিখেছেন।
আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন ভাইয়া
ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়