দণ্ড

গোধূলি ২৫ জুন ২০১৬, শনিবার, ০৪:৩৮:২৮অপরাহ্ন গল্প ২৬ মন্তব্য
601734_595596033796737_904181061_nnb mn
দীপা বেডসুইচটা অন করে দিল। নিলয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, “ঘুমোচ্ছেন না কেন? খালি এপাশ ওপাশ করছেন। ঘুমুন তো। নাকি ডরমিকাম (ঘুমের ওষুধ) নিয়ে আসবো?”
“কিছু লাগবে না” বলল নিলয়।
লাইটটা অফ করে শুয়ে পড়লো দীপা। পিছন থেকেই জড়িয়ে ধরল নিলয়কে। বলল, “টেনশন হচ্ছে?” নিলয় কোন উত্তর দিল না। দীপা আবার বলল, “সব ঠিকমতো হবে”
নিলয় এবার ঘুরে দীপাকে নিজের বুকের কাছে টেনে নিল। বলল, “বাইরে ঝড় হচ্ছে, শুনতে পাচ্ছো?”
“গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ঝড় হচ্ছে আপনার মনে”
“তোমার মনে আছে, ২০০১এর দিকে যখন তোমার আমার পোস্টিং ছিল দেশের দুইপ্রান্তে। প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিউটি শেষে দু’জন দু’জনার কাছে যাওয়ার জন্য ছুটতাম। তুমি দূর থেকে যখন আমাকে দেখতে একটা হাসি দিতে। আশেপাশে লোকজন না থাকলে স্যুটকেস মাটিতে ফেলে দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরতে আর ক্ষণিকবাদেই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে। রাতে ঘুমানোর সময় আমাকে জড়িয়ে ধরতে আর বলতে ‘আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন’”
“হুম। মনে আছে। আর আমার সব রোমান্সে পানি ঢেলে দিয়ে বলতেন, ‘এই গরমে এতো জড়াজড়ি ভাল লাগে না। এই ছাড়ো তো’।”
“আর তুমি রাগ করে ছেড়ে দেয়ামাত্র আমি তো আবার জড়িয়েও ধরতাম”
“বিয়ে-প্রেমে প্রথম প্রথম অনেক উত্তেজনা থাকে। পরে মিইয়ে যায়”
“এখন উত্তেজনা নেই বুঝি?”
“সামনে ছেচল্লিশে পা দেবেন। আবার উত্তেজনা। কিছু কিছু বুড়ো ব্যাটাদের উত্তেজনা থাকে আজীবন। আর সেটাই হল ভীমরতি”
“আমি কি বুড়া ব্যাটা?”
“তো আপনি কি? খোকা?”
“না। কচি বুড়ো”
দীপা হাসতে লাগলো। অন্ধকারেই মাথা তুলে তাকালো নিলয়ের দিকে। বলল, “আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন”।
নিলয় বলতে লাগলো, “দীপা, তোমার মনে আছে যে বিয়ে দু’মাস যেতেই আমি তোমাকে বলেছিলাম, ‘ঐ ব্যাংকারকে বিয়ে করলেই পারতে। সোনা দিয়ে মুড়িয়ে রাখতো তোমায়। তোমার আফসোস হয় না?’ তখন তুমি হঠাৎ করেই আমাকে-”
“সব মনে আছে। তারপর বলেছিলাম, ‘An eye for an eye. আপনার মুখ বন্ধ করার জন্য এর থেকে মোক্ষম অস্ত্র নেই। গান শোনেন নি, ‘You say it best when you say nothing at all’?”
“কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে তোমার সব বান্ধবীদের মধ্যে সবচেয়ে সাদামাটা পোশাকে থাকতে তুমি। তোমার বান্ধবীরা যারা পুলিশ, উকিল, ব্যাংকার, ইঞ্জিনিয়ার বিয়ে করেছে, সবাই ভারী ভারী জুয়েলারী পড়ত। আমার ভেতরটা হু হু করে উঠত। মনে হতো, কি পেলে আমাকে বিয়ে করে? তুমি বুঝতে পেরে আমার মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বলেছিলে, ‘আপনাকে পেয়েছি, আমার গহনা, আমার এফ.সি.পি.এস পার্ট ওয়ান গহনা। গহনার কাজ কি? শো-অফ। আপনি আমার শো-অফ’।”
“এত্ত ভাল একটা বউ থাকলে লোকজন কত্ত সোহাগ করে”
“আমি কম করি সোহাগ?”
“এহ। সোহাগ বোঝেন আপনি? আমার পার্ট ওয়ান পরীক্ষার আগে কি করেছিলেন- মনে নাই?”
“সোহাগ করেছিলাম। আর কি করবো?”
“আপনার কি উচিত ছিল না এক কাপ চা বা কফি বানিয়ে দেয়া? তা-না”
“তুমি টেনশন করছিলে। আমি তোমার টেনশন রিলিফ করেছি”
“বদ-ব্যাটা। টেনশন রিলিফের আর কোন উপায় নেই নাকি?”
নিলয় কিছুক্ষণ হাসল। কিছুক্ষণ পর বলল, “জানো, সবচেয়ে কষ্ট কবে দিয়েছো আমাকে? যেদিন আমাকে কাপুরুষ বলেছিলে”
দীপা ঘুমিয়ে যাওয়ার ভান করল। নিলয় বলে উঠল, “এই দীপা, দীপা, ঘুমিয়ে পড়েছ?” তারপর হাত বুলোতে লাগলো দীপার মাথায়।
নাহিদ ফলো-আপ দিয়ে এসে পেপার হাতে নিল। এমন সময় ফোন বেজে উঠল। নীলার নাম স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে।
“হ্যালো”
“হুম, বলো”
“ব্যস্ত তুমি?”
“না। আচ্ছা শোনো, যে ডঃ দীপান্বিতার কথা পেপারে ছাপা হচ্ছে ইদানিং, উনি কি তোমার দীপা ম্যাম না?”
“হুম। খুবই ভাল মানুষ। পেপার-পত্রিকা তো কত কিছুই ছাপে”
“কিছুদিন আগের পেপারগুলোর হেডলাইনও খুব নোংরা ছিল। ‘ডাক্তারের অবহেলায় জনদরদী নেতা হারালেন পৌরুষ’, ‘একি কাণ্ড করলেন ডাঃ দীপা!’, ‘ভুল অপারেশনে আল-রাফি সাহেব হারালেন সব’, ‘ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে হারালেন পুরুষাঙ্গ ডাক্তারের ছুড়িতে’ হাবিজাবি…”
“আরে, ভুয়া। দীপা ম্যাডাম আমার দেখা ভাল মানুষদের মধ্যে একজন। উনি সার্জন হিসেবেও প্রশংসার দাবি রাখেন। ওটিতে ওপেন করার পর অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে অনেক অ্যাকসিডেন্ট হতেই পারে। অনেক রিস্কি জানা সত্ত্বেও পেশেন্টকে বাঁচানোর জন্য সার্জনরা ডিসিশন নেয়, ক্যারিয়ারের ঝুঁকি নেয়। মানুষের শরীর তো আর ডিসাইন্ড ডিভাইস না যে হলুদ তারের জায়গায় হলুদ তার আর লাল তারের জায়গায় লাল তার থাকবে। এক একজনের শরীরের ভেতরটা এক এক রকম, রিপোর্টাররা সেটা বোঝে? ম্যাডামের পক্ষে Gross Negligence সম্ভব না। উনি ভীষণ অনেস্ট ও রেস্পন্সিবল মানুষ”
“উনি হাইড্রোসিলির পেশেন্টের টেস্টিস ফেলে দিলেন- ব্যাপারটা কেমন অদ্ভুত না?” [হাইড্রোসিলি হল শুক্রাশয়ের এমন একটি রোগ যেখানে অন্ডকোষের চারপাশে তরল জমা হয়ে স্ফীতাকার ধারণ করে]
গল্পের বাকী অংশ পড়তে চলে আসুন বইমেলায়, সংগ্রহ করুন “অনুভূতি গেছে অভিসারে”।
970284_574162022606805_859294059_n
নাহিদ ও নীলার অন্য গল্প “হাসি”
                                           “অপেক্ষা”
নাহিদের গল্প “মনসূত্র”
৯২০জন ৯১৮জন
0 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ