একটি ফটো তোলার ইতিহাস


রাস্তার পাশে একটা ধ্বংস প্রায় মাটির ঘর। তাতে আবার কাঠের ভাংগা দরজা। কোন এক সকালে ওদের কান্না শুনে কৌতুহল হল গিয়ে দেখি ওদের মা এসেছে ওদের খাওয়াতে। কে আগে খাবে তাই নিয়ে মারামারি।সারাদিন ঐ ঘরটার ভেতরেই থাকে ওরা। মায়ের সাড়া পেলে বেরিয়ে আসে।

এর প্রায় মাস খানেক পর আমি ঐ রাস্তা ধরে আবার হেটে যাচ্ছিলাম দেখি ওরা অনেক টা বড় হয়েছে।
মা কে ছারাই ঘর থেকে বের হওয়া শুরু করেছে। আমাকে দেখেই দে ছুট একে বারে ঘরের দরজার কাছে। আমি খুব ছোট বেলায় শুনেছিলাম, মুখ দিয়ে হালকা শীস ( মুলত আফসোস করে আমারা মুখে যে শব্দ করি) বাজালে নাকি কুকুরের বাচ্চারা আপনাকে ভয় পাবে না ও আপনার কাছে আসবে। আমি তাই করলাম। কাজে দিলো ছোটবেলার শোনা কথা।

বেশ কিছুক্ষণ অনেক কাছ থেকে দেখলাম ওদের। তারপর হঠাৎ মনে পরলো ওদের একটা ছবি তুললে তেমন কোন ক্ষতি হবে না। ওরা ও একদিন বড় হয়ে যাবে। হয়তো ভুলে যাবে কোন একদিন এক সাথে খেলার কথা, হয়তো ভুলে যাবে আমার সামনে মডেল হয়ে এমন করে পোজ দেওয়ার কথা। একে অপরের সাথে যুদ্ধ করবে খাবার নিয়ে কারন তাদের বেঁচে থাকতে হবে।

কিন্তু আমার কাছে এই ছবির জন্য ওরা মডেল হয়ে থাকবে আজীবন।

মোট পড়েছেনঃ ৮৩৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৬টি মন্তব্য

  1. কুকুর ছানাদের নিয়ে এমন করে ভেবেছো, একদিন ওরা বড় হয়ে যাবে, হয়তো ভুলে যাবে কোন একদিন এক সাথে খেলার কথা। তুমি এত্তো কিউট একটা মেয়ে, তোমার মডেলগুলোও কিউট। ভাঙ্গা দরজাটা ছবিতে অন্য মাত্রা এনেছে। চলুক ছবি তোলা এবং ছবি তোলার ইতিহাস।

  2. ওস্তাদে দেখি ফটো তোলা আর এর বর্ননাতেও ওস্তাদ হয়ে গিয়েছেন।মডেল হিসেবে এরা তো বেশ শান্ত 🙂 কি সুন্দর করে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে।
    মাটির ঘড়ে দরজা আটকায় কিভাবে? ভালো পোষ্ট ওস্তাদ (y)

  3. মাটির ঘড়,ভাংগা দরজা,কুকুর সব কিছু মিলিয়ে দুটো সুন্দর ছবি।
    বর্ননায় ছবি দুটোকে বুঝতে ভালোভাবেই সাহায্য করেছে।

    এমন পোষ্ট আরো চাই।

মন্তব্য করুন