উত্তরপুরুষ

একদল গরু দৌড়াচ্ছে একটি গোয়ালের দিকে।
অনেকগুলো গাধা অপেক্ষমান সেখানে,
সাথে কিছু অনুগত আতংকিত হরিণ।
গরুগুলো দেখতে খুব নিরীহ,হৃষ্টপুষ্ট।
পেছনে ক্ষুধার্ত শৃগালের পাল—
হাসফাস ছুটছে তৃপ্তির আস্বাদে।
কি আশ্চর্য!ওরাও শিকারীর সম্মুখে অপেক্ষমান!
পেছনে দৃশ্যমান আরও কিছু শিকারী ও শিকার,
কিছু মাংশাসী বাঘ,হায়েনা,শকুন,……………….।
একটা বেয়াদব বানর চিৎকার করে বলে উঠলো—
আমিই এই লীলাদৃশ্যের প্রকৃত দর্শক,
আমিই হলপ করে বলতে পারি—
ওই কক্ষটাই দেবালয় ছিল একদিন।
ঈশ্বর ওখানেই থাকতেন,জাগতেন-ঘুমোতেন।
আর যেগুলো একে অপরকে খাদ্য বানিয়ে—
ছুটে যাচ্ছে ওই গৃহটির দিকে—
আমি নিশ্চিত-ওগুলো সব মানুষ ছিল একদিন।
বিশ্বাস করুন,ডারউইন সাক্ষী–
ওগুলো আমাদের পরবর্তী কোন এক প্রজন্ম;
ওগুলো ঈশ্বরসৃষ্ট মানুষই ছিল একদিন।

***——————————————***

মোট পড়েছেনঃ ৬৭৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৯টি মন্তব্য

  1. বর্তমানে মানুষের মাঝে যেভাবে পশুত্ব ও পাশবিকতা দেখা যাচ্ছে, হয়তো আগামীতে বিলুপ্ত হয়ে যাবে মানবিক সব গুনাবলি। তখন পশুরাও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নিজদের এভাবে আলাদা করে নিবে।

    ভালো লাগলো লেখাটি।
    শুভ কামনা 🌹🌹

  2. একটা বেয়াদব বানর চিৎকার করে বলে উঠলো—
    আমিই এই লীলাদৃশ্যের প্রকৃত দর্শক,
    আমিই হলপ করে বলতে পারি—
    ওই কক্ষটাই দেবালয় ছিল একদিন।

    দূর্দান্ত ভাবে মানুষরূপী হিংস্র পশুদের আপনার ক্ষুরধার লিখণী তুলে ধরলেন ভাই, সাবাস, সাবাস, সাব্বাস।

  3. এখানেই মানুষের ব্যর্থতা। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব হয়েও আমরা নিজেদেরকে চরম অমানবিক পরিচয়ে পরিচিত করেছি। আবার আমরাই অন্যকে পশু বলে গালিগালাজ করি। খুব ভালো লিখেছেন। ভালো থাকবেন সবসময়

  4. “একটা বেয়াদব বানর চিৎকার করে বলে উঠলো—
    আমিই এই লীলাদৃশ্যের প্রকৃত দর্শক,
    আমিই হলপ করে বলতে পারি—
    ওই কক্ষটাই দেবালয় ছিল একদিন।”

    বাস্তবতা তুলে এনেছেন কবিতার মাঝে
    মানুষ আর পশুত্বের মধ্যে আজ তফাৎ বুঝা দায়
    কে কখন কাকে ফাঁসায় কাকে গিলে খায়।
    শুভ কামনা।

মন্তব্য করুন