অনলাইন ক্লাস

মিঠু ভাই সহ একই পাড়ায় থাকি আমরা। সে আগে ওয়েল্ডিং এর কাজ করতো, করোনাকালে কাজ নাই তাই রিক্সা চালায়।

তার মেয়েটা ক্লাস নাইনে পড়ে আর বড় ছেলে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক কলেজে। পড়ুয়া বাচ্চারা অনেকের মত অনলাইনে ক্লাস করতে পারছেনা কেন জানেন? কারন তাদের একটা এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নেই।

শুরুর দিকে কিছুদিন পাশের বাসার একজনের মোবাইলে ইন্টারনেট প্যাক কিনে দিয়ে দিয়ে ছেলেমেয়েরা দু’জনেই অনলাইন ক্লাস করছিলো। কিন্তু অর্থাভাবে মিঠু ভাই নিত্যদিন কুলিয়ে উঠতে পারেনা। তাছাড়া যার মোবাইল তারও ব্যক্তিগত কাজ থাকে নিজের মোবাইলে।

মিঠু ভাইয়ের রিক্সায় যেতে যেতে এসব শুনে খারাপ লাগছিলো। অনলাইন ক্লাস করার সামর্থ্য আসলেই সবার নেই। সাধ ও সাধ্যের মেলবন্ধন সে সুদূরপরাহত!

মোট পড়েছেনঃ ১,৩০২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩২টি মন্তব্য

  1. এই অবস্থাটাই সরকার বা নীতি নির্ধারকরা বুঝতে চান না তারা যেন এক প্রকার জোর করেই অনলাইন ক্লাশ চালু করতে চাইইছেন।অনেকের সামর্থের বা অনেক পরিবারের কউ নেট চালাতে জানেন না এটাও একটবড় সমস্যা।

    1. রুট লেবেলের সমস্যা নির্ধারণ করা এবং সমাধান করে তবে ডিসিশন নেয়া উচিত তাদের। কেন যে এরকমটা করেন তারাই ভালো জানেন।

      ভালো থাকুন ভাই।

  2. মিঠু ভাইয়ের সন্তানের মত বাংলাদেশের বেশীরভাগ সন্তানদের এন্ড্রয়েড ফোন নেই ফলে তাদের অনলাইন ক্লাস হচ্ছে না। আর যারা অনলাইন ক্লাস করছে তারা সবাই কিন্তু মোবাইল থাকা স্বত্বেও করছে না।আসলে স্কুল কলেজ খোলা ছাড়া কোনভাবেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।

  3. অনলাইনে ক্লাশ অসচ্ছল মানুষদের জন্য আসলেই একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেদিন প্রসঙ্গটা আমি তুলেছিলাম। আলাপ হচ্ছিল দুই জন মধ্যবয়সী ভদ্রলোকের সাথে। তারা অনলাইন ক্লাশের খুব প্রশংসা করছিলেন। আমার প্রশ্ন ছিল দেশের 100 জন ছাত্রেরতো স্মার্ট ফোন নেই, যাদের নেই তাদের কি অবস্থা হবে? কিন্তু তারা প্রশ্নটা এড়িয়ে গেল। সবদিকে এখন অন লাইন ক্লাশের প্রশংসা। আমি বিশ্বাস করি এই সিস্টেমটি ভাল তুলনায় মন্দই বেশী ডেকে আনবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা।

  4. গল্পাকারে সমসাময়িক সমস্যা টাই তুলে ধরলেন ভাইয়া। এটা আমাদের অনেক বাবা-মা বা অভিভাবকের জন্য ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’। সবকিছুতেই বাড়তি খরচ, যেখানে আয় রোজগার বন্ধ বা কমে গেছে সেখানে এসব বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেরের উপর আরেক সের। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভ কামনা অহর্নিশি

  5. অনলাইন ক্লাস চালু করার আগে এটাও মাথা রাখা উচিত ছিল অসচ্ছল পরিবারের ছেলে মেয়েরা কীভাবে ক্লাস করবে? দুবেলা আধপেটে খেয়ে যারা লেখাপড়া করে তারা কী করে অনলাইন ক্লাস করবে? মহান রাব্বুল আলামীন সবার সহান হোন

  6. নিম্নবিত্ত মানুষরা মোবাইল কিনতেই সারা, আর প্রতি মাসে নেট খরচ যেন তাদের কাছে শাখের করাতের মতো, সত্যি সরকারের উচিত অনলাইনের বদলে অন্য কিছু চিন্তা করা।

    1. রুট লেবেলের সমস্যা নির্ধারণ করা এবং সমাধান করে তবে ডিসিশন নেয়া উচিত তাদের। কেন যে এরকমটা করেন তারাই ভালো জানেন।

      ভালো থাকুন ভাই।

  7. আমাদের ক্লাসের হয়রানির শেষ নাই। কিন্তু স্টুডেন্টরা দেখেনা। শহরের স্টুডেন্টদের কোন আগ্রহ নেই। অযথা হলেও কিছু করার নেই। করোনার দ্বিতীয় ধাপে বিশ্বের অনেক দেশের স্কুল কলেজগুলো আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই টেষ্ট নেয়া হবে এডমিশন টেষ্ট হবে। আল্লাহ সহায় হোক।
    শুভ কামনা ভাই।

  8. দেশে প্রতিকার চাওয়া ব্যাক্তি নায়। যারা ন্যায়নিতিবান তারা ও.এস.ডি. হয় আবার কেউ ধর্মীয় কথা বললে রাজাকার হয়। কারো ইন্টার মিডিয়েটে পড়ার সময় এক আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে শিবির করত। বাবা বাধ্য করে ছাত্র লীগ করার। সেই ছেলে শিবির নেতা হলেও রাজাকারের পোলা হইত।

    আবার এখন রাজাক্রের পোলা এম পি হচ্ছে কিন্তু টাকা আছে। মাপ পাইছে। মুখে কুলুপ দেওয়ায় ভাল।

  9. অনলাইন ক্লাস করানোর সিদ্ধান্ত যখন শুনি, তখনই আমার মনে হয়েছিল, আমাদের দেশে কী করে তা সম্ভব? ইন্টারনেট সেবার সুবিধা নেয়ার সামর্থ্য আমাদের দেশের কত ভাগ মানুষের আছে? যারা পাচ্ছে তারা ক্লাস করলে, বাকিরা কি করবে?
    বিকল্প চিন্তা করা উচিত ছিল।

    1. রুট লেবেলের সমস্যা নির্ধারণ করা এবং সমাধান করে তবে ডিসিশন নেয়া উচিত তাদের। কেন যে এরকমটা করেন তারাই ভালো জানেন।

      ভালো থাকুন আপু।

  10. তোমার অনুগল্পের সঙ্গে একমত। আমি আমার আশে পাশে এমন তিনজন ছাত্রীকে মোবাইল ফোন কিনে দিয়েছি। সাথে প্রতিমাসে দুই জিবি করে ডাটা দিচ্ছি। আমরা যদি সবাই এমন করে সমাজে অর্থ কষ্টের মানুষদের মেধাবী সন্তানদের জন্য করতে পারি তবে ফুল গুলি ঝরে পড়বে না। নইলে দেখা যাবে একমাত্র অর্থাভাবের জন্য ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত নষ্ট হবে।

  11. দুঃখজনক ব্যাপার হলো এই বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এখনো তেমন কিছু করছে না। শুধু শিক্ষার্থীদের কথা বলি কেন, অনেক শিক্ষকদেরও অনলাইনে ক্লাস করানোর সামর্থ নেই। বিমাতা সুলভ আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে শিক্ষাক্ষেত্রে অথচ দেখেও যেন কেউ দেখতে পাচ্ছে না।

    লেখাটি অণুগল্পের মতো লাগছে না। অণুগল্পের থীম ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে হয়।
    ভালো থাকুন ভাই। শুভ কামনা 🌹🌹

    1. সেসব সমস্যার কথা বললেন নীতিনির্ধারকদের উচিত সেগুলো নিয়ে ভাবা। অথচ হুট করে একটা ডিসিশন চাপিয়ে দেয় তারা।

      অনুগল্প লিখতে আমি ঠিক পারদর্শী নই আপু। যারা ব্লগে অনুগল্প লিখছেন তাদের সবার কাছ থেকে শিখছি। একদিন আমিও পারবো ইনশাআল্লাহ।

      ভালো থাকুন আপু।

  12. দেশ তো ডিজিটাল হচ্ছে।বহির্বিশ্বের কাছে তো স্থান পাচ্ছে।খতিয়ে দেখছেন কতজন ভাইয়া? বিশাল সমস্যা এটি।
    গাইতে গাইতে গায়েন,লিখতে লিখতে বড় লেখক হবেন।শুভ কামনা সব সময়।

মন্তব্য করুন