শীত বরণের প্রস্তুতি : লেপ বানিয়েছেন তো?
>> শীতে উষ্ণতা ছড়াতে লেপের কদরই আলাদা। আশ্বিনের শেষে কার্তিকের আগমনে সারা দেশে চলছে শীতকে বরণের প্রস্তুতি।
শীতের প্রস্তুতি বলতে গরম কাপড় সহ রাতে গায়ে দেবার লেপ বা কম্বল প্রস্তুত রাখা বিশেষ উল্লেখ করার মত একটি বিষয়। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে আশ্বিনের গা শিন শিন করা ভাব প্রকৃতিতে এখনো না এলেও কার্তিকের শুরুতেই শুরু হয়ে গেছে শীতে ব্যবহার্য লেপ বানানো।
কি গ্রামে কি শহরে সকল পরিবারে চলে শীতের বিশেষ এই প্রস্তুতি।গ্রামে বা শহরের গৃহ বধূরা এই সময় তাদের পরিবারের জন্য নতুন লেপ তৈরিতে লেগে পড়ে। এ সময় তারা প্রতিবেশী মহিলাদের সহায়তায় লেপ সেলাই এ ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া লেপ-তোষকের দোকানে এখন চলে লেপ বানানোর ধুম। লেপ বানানোর কারিগররা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন লেপ সেলাই করতে। তাদের অর্ডার মত অথবা এমনি বিক্রয়ের জন্য লেপ সেলাই করে আগাম প্রস্তুত থাকে তারা। বিভিন্ন স্থানে লেপ-তোষকের কারিগররা এখন তাই ব্যস্ত লেপ বানানোর কাজে। শীতের হাত থেকে বাঁচতে আবহমানকাল থেকে চলে আসা লেপ তৈরি করা হচ্ছে।
>> উপকরণ: লেপ তৈরিতে সাধারণত যে সব উপকরণ ব্যবহার হয় টার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হল—
১। লাল মার্কিন সুতী কাপড়/ থান কাপড়/ লাল শালু
২। তুলা
৩। সাদা মিডিয়াম মোটা ঝিল সুতা
৪। বড় এবং মাঝারি সুই
প্রথমে লাল কাপড় কে মেশিনে তিনদিকে সেলাই করে এক মুখ খোলা রাখা হয়। এই খোলা মুখ দিয়ে পরিমাণ মত তুলা ভরিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তুলাকে সমান করা হয়। এতে লেপের সব যায়গায় তুলা ঠিক মত পৌঁছে। এর পর যদি আর তুলা ভরা না লাগে তবে ঐ মুখটি সুই সুতা দিয়ে সেলাই করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর দুই তিন জন মিলে সুই এ লম্বা সুতা লাগিয়ে লেপের এই পাশ হয়ে অপর পাশ পর্যন্ত সেলাই করে দেওয়া হয়। কেও কেও গোল করে সেলাই করে। এটি নিজের পছন্দ মত যে, যে ভাবে ভাল বাসে সে ভাবে করে।
এই ভাবে তৈরি হয়ে গেল একটা লেপ। এর পর আপনার পছন্দ মত সাদা বা যে কালার পছন্দ সে কালারের সুতী মার্কিন কাপড়/ থান কাপড় মাফ মত নিয়ে দর্জি বা টেইলারস কে দিয়ে এর সুন্দর একটা কভার সেলাই করে নিতে হবে। গ্রামে মহিলারা নিজেরাই এই কভার সেলাই করে নেই সুই সুতা দিয়া।
>>কাঁচামাল ও মজুরি মিলিয়ে একেকটি লেপের খরচ পড়ে প্রায় ৮০০ থেকে ২২০০ টাকা।এই টাকা নির্ভর করে কত কেজি তুলার লেপ আপনি বানাবেন।
একটি লেপ বানাতে সর্ব নিন্মে ৪ কেজি তুলা লাগে। তবে বর্তমানে তুলার বাজার চড়া হওয়ায় লেপের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
>> তুলা: লেপের তুলা নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ ভাল তুলা না হলে লেপে গরম হয় না। গায়ে দিয়ে আরাম পাওয়া যায় না। লেপ বানানোর জন্য সবচেয়ে ভাল তুলা হল কার্পাস তুলা। এই তুলার লেপ হয় বেশ গরম। এছাড়া বিভিন্ন রকম তুলা আছে বাজারে। যে কোন তুলা দিয়ে বানানো যায় লেপ। যেমন—
১। সাদা তুলা
২। কালো তুলা
৩। কার্পাস তুলা
৪। শিমুল তুলা
>> তবে শিমুল তুলার বালিশ ভাল হয়। এ তুলা দিয়ে সাধারণত বানানো হয় বালিশ।
১০টি মন্তব্য
শিশির কনা
এখনো বানাইনি । শীত চলে আসলো নাকি ? 🙂
জি.মাওলা
হা ভাই আল বলে
খসড়া
লেপের যুগ তো শেষ। এখন চলে কম্বল। তবে মফস্বলে যারা থাকে তারা হাড়ে হাড়ে টের পায় কম্বল কেমন ঠান্ডা সামলায়। 🙂
জি.মাওলা
@@নীলকন্ঠ জয় বলেছেনঃ লেপের মজা কম্বলে আছে নাকি??? ফ্যাশান দেখাতে গিয়ে ঠান্ডা লাগানোর কোন মানে নেই। লেপই আমার প্রিয়।
নীহারিকা
সত্যি লেপের মজা কম্বলে নেই। তবে অবাক হলাম দেখে যে গ্রামের মহিলারা অনেকে লেপ বানান এটা পড়ে। আমি মনে করতাম লেপ শুধু দোকানেই বানায়। শীতের শুরুতে লেখাটা ভালই লাগলো।
জি.মাওলা
ভাই আমার আম্মা এখনো তাঁর হবু বউ দের জন্য লেপ , তোষক বানিয়ে বানিয়ে রাখে । আরা ৫ ভাই। বড় ২ ভাই মাত্র বিয়ে করেছে। আমার উপরে এখনো ২ জন।
জিসান শা ইকরাম
বানাইনি ভাই ।
লেপের বানানো কৌশল ডিটেইলস দিলেন
নিজেই বানিয়ে ফেলুম নাকি চিন্তা করছি 🙂
জি.মাওলা
হা হা…………………………………… লজ্জা দিয়েন না ভাই
নীলকন্ঠ জয়
লেপের মজা কম্বলে আছে নাকি??? ফ্যাশান দেখাতে গিয়ে ঠান্ডা লাগানোর কোন মানে নেই। লেপই আমার প্রিয়। এবার তবে একটা বানিয়ে ফেলবো নিজেই। 😛
জি.মাওলা
নীলকন্ঠ জয় শেষ কথাই না হেসে পারলাম না। হা হা
প্রথম কথায় এক মত — লেপের মজা কম্বলে আছে নাকি??? ফ্যাশান দেখাতে গিয়ে ঠান্ডা লাগানোর কোন মানে নেই।
লেপ আমারও প্রিয়