ফিরে ফিরে আসা

জিসান শা ইকরাম ৩০ মার্চ ২০১৬, বুধবার, ০১:০৬:৩৮পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি, ছবিব্লগ ৪২ মন্তব্য

সময়ের হিসেবে একদম ফেলনা নয়। পাক্কা ছয় বছর পরে একত্র হয়েছিল তিন বন্ধুর বন্ধু।
২০১০ এর মার্চ এর পর ২০১৬ এর মার্চ। অতিক্রান্ত সময়ে ধানসিঁড়ির বহমান জলে কত পলি এসে ক্লান্ত হয়ে থমকে গিয়েছে, ভালোবেসে বা অনাদরে। ক্ষীণতর হয়েছে ধানসিঁড়ি, রাগ অনুরাগ অভিমান ছাপিয়ে বুকের গহীনে……… বন্ধু ভালো আছো তো ?

24356_113237435359165_863073_n [640x480] মার্চ ২০১০ ধানসিঁড়ি নদীর সেই সময়ের সোনালী মুহূর্তকে আজকের এই লেখার ফাস্ট ব্রাকেট হিসেবেই ধরে নেয়া যায়। সাদাকালোর এই ছবি কি কখনো সাদা কালো হিসেবে দেখেছে আমাদের চোখ?
বৃক্ষ হতে চাওয়া সবুজকে ধারন করা হৃদয়ে আছে তারুণ্যের গান।

সবুজের মাঝে মিশে থাকার আন্তরিক তাড়নাই টেনে নিয়ে যায় দূর্গাসাগর  এ। টলটলে জল আর সবুজের অপরূপার আহ্বানে সমর্পণ।
12380146_794791493959264_870149605_nবিশাল সিমেন্টের প্রশস্ত ঘাটলা, দীঘির মাঝে একটি সুন্দর দ্বীপ, যেখানে শীতকালে অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে। পাখিদের অভয়ারণ্য এই এলাকা।

সুন্দরী দূর্গাসাগর যেন যাদু করেছে, তার দিক থেকে দৃষ্টি অন্য কোনদিকে নেয়া যাবে না। জলের আচলে গাছের কারুকাজ, শাড়ির পারে সবুজ গাছ।
12921155_794791547292592_1301399362_nধ্যানমগ্ন কবি কি কোন কবিতার কথা ভাবছেন এখন? কি দেখছেন উনি গাছ নাকি ছায়া?কথিত আছে, এই প্রশস্ত ঘাটলায় একসময় সোনার থালা বাটি ভেসে আসতো দীঘির পানি হতে।
লাল ব্যাগ কাঁধে সাদা টি-সার্ট গায় দেয়া ভাই থামেন থামেন, সোনার থালা বাটি আমি আগেই নিয়ে গিয়েছি,
সব সোনা এখন আমার মোবাইলে 🙂

সৌন্দর্যেরও একটি সীমা থাকে। অসীম সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ ধাঁধিয়ে যায়।
IMG_20160326_160542 [640x480] জল যখন আয়না। নিজেরই মাঝে নিজেকে উপলব্ধি। জলের মাঝে মুগ্ধতা।

IMG_20160326_160659 [640x480]ইচ্ছে করে ভেসে থাকি এই টলটলে স্থির জলে, হাঁস হয়ে যাই……

IMG_20160326_160800 [640x480]দুজন কবি বন্ধু সাথে থাকার পরেও এমন দৃশ্য দেখেও কোন কাব্য আসেনা আমার মাঝে,
এই ব্যর্থতা কবি দুজনের, আমার না 🙂

ইচ্ছে ছিল এখানেই থাকি আরো অনেক অনেকক্ষণ। সময়ের তাগাদা সময় দীনতার। প্রকৃতি থেকে এবার মানুষের তৈরী সৌন্দর্যের দিকে ধাবিত তিনজন।
26058754301_86952d3ac5বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ্ কমপ্লেক্স , দক্ষিন বাংলার একটি সুন্দর দর্শনীয় স্থান।
আমার দেখা বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদ এটি। “গুঠিয়া মসজিদ” নামে পরিচিত। সুদৃশ্য নকশাকরা মিনার এবং অত্যন্ত নিখুঁত কারুকাজ করা দৃষ্টি নন্দন মসজিদটির সৌন্দর্য বর্ণনা করা কঠিন। মসজিদ ব্যাতিত এখানে আছে একটি মাদ্রাসা, একটি সুন্দর পুকুর, লেক, সুপরিসর কার পার্কিং, প্রচুর গাছপালা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, আমার নাকি ফটো তোলার ফ্রেমিং ভালো। তার কাছে আমার বিনীত প্রশ্ন- ফ্রেমিং কাহাকে বলে? তাহাই তো জানি না, ফটো তোলা তো দূর কা বাত।
12899734_794791403959273_2122076560_nমসজিদের পুকুরে আছে সুন্দর একটি ঘাটলা। দুপাশে দুটো কাঠ বাদাম গাছ। প্রচন্ড রোদে এখানেই বিশ্রাম, ফাও হিসেবে দু একটি ফটো। আমাদের সবার দৃষ্টি মসজিদেরই দিকে, বিলিভ ইট অর নট 🙂

শান্ত স্বচ্ছ জলের মতই আমাদের মন, আয়নায় দেখি আমরা নিজেদেরকেই।
12919261_794791453959268_175179659_nসোনেলায় ছায়া পর্ব চলছে এখন। বাক্যহীন জলের ছায়া কাব্য এটিই।

বিদায় নিতে অনিচ্ছুক সূর্যকে রেখে দিচ্ছেন মোবাইলের মাঝে এক ছবি শিকারী

IMG_1963 [640x480]শিকারিকে শিকার করার মজাই আলাদা 🙂

রাতের আঁধারে মসজিদের এই সৌন্দর্যকে প্রকাশ করার ভাষা আমি জানিনা। এই দুটো ছবির ক্যাপশন আপনারা দিন।
IMG_20160326_183626 [640x480] নীল অন্ধকারে সাধক খূঁজে বেড়ায় কোন পিপাসা!!
সোনালী আলোর ক্ষুধা জড়ানো আক্ষেপ টেনে আনে
বাস্তবিক ভালোবাসা মাতাল মায়ায়—–
ক্যাপশন ক্রেডিট- শুন্য শুন্যালয়
IMG_20160326_183447 [640x480]
আবার আসিব ফিরে………
IMG_20160326_175340 [640x480]lমার্চ ২০১৬, ফার্স্ট ব্রাকেট ক্লোজ -{@  (3

১৬৯৬জন ১৬৯২জন
0 Shares

৪২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ