মানবের দুটি হাত।

  উত্তাল সমুদ্রে লুকিয়ে থাকা শামুকের মতো আমিও লুকিয়ে গেলাম। সকাল,সন্ধ্যা, রাত কোন কিছুই টের পাইনা আর। না কোন ঘাত,না প্রতিঘাত। পৃথিবীতে সবচেয়ে ক্ষতিকর জেনেছি – মানবের দুটি হাত।   খোলসের ভেতর এক শ্বাসে পাড়ি দেবো জীবন, হঠাৎ যখন মৃত্যু ফেরেস্তা এসে দাঁড়াবে দুয়ারে, প্রসন্ন চিত্তে আমার লজ্জিত দু’টো হাত বাড়িয়ে বলবো তাকে, আমাকে গ্রহণ [বিস্তারিত মানবের দুটি হাত।]

শুভবুদ্ধির কামনায়

ঈদ দেখে আসলাম! কিন্তু ঈদের গায়ে ছুঁইতে পারলাম না- আফসোস গলা খানিক হাঁটু পর্যন্ত; অথচ তীব্র বৃষ্টিতে ভিজলাম- কিন্তু মন চক্ষু এতখানি ভিজল না ঈদের মতো রাস্তা, ঘাট আর চলে না শুধু আনন্দময় অম্লান করল রক্তাক্ত কিছু উঠন দেখে- দেখে- তবু ঈদ -ঈদ- ঈদ মোবারক! দেহ মন ভরে যাক শুভবুদ্ধির কামনায়। ২৫বৈশাখ ১৪২৯, ৮ মে [বিস্তারিত শুভবুদ্ধির কামনায়]

একটা পত্র দিও, তরুবালা!

কখনও আমাকে ফেলে এ ধরণী রুদ্ধ করলে দ্বার, জানলে একটা পত্র দিও তরুবালা, তুমি শুধু আর! চাইবো না স্পর্শন কিছু ধরলেও আকাঙ্খা পিছু খুঁজবো না বর্ণিল স্বপ্ন অন্তরে চষলে সে এসে প্রীতির পাহাড়। আমারই বন্দের ধারে চাঁদনী নিশি ঢাললে প্রলোভন, রাখবো না আফসোস দেখে করলে মেঘ সেও আলাপন! রামধনুর স্নিগ্ধ তুলি সাজালে জ্বলন্ত চুলী শুনবো [বিস্তারিত একটা পত্র দিও, তরুবালা!]

মিছে গল্পের বানী

কেউ মনে রাখেনা কেউ মনে রাখবে না, সময়ের প্রদাহে বয়ে যাবে ক্ষণিক স্মৃতি, এরপর হারিয়ে যাবে স্মৃতির অতলে। কুঞ্জ কানন, পাখির কলতান, ছন্দ সুরের মালা গাঁথা। কেউ মনে রাখেনা কেউ মনে রাখবে না শোনায় শুধু সান্ত্বনার বানী।

ধ্রুবতারা

কেমন করে জেনেছ প্রিয় আমি যে অ-নামিকা? তাই বুঝি মধুর স্বরে ডাক! জেনে রেখো; আমি এক বন্দিনী, চারিপাশে ঘেরাটোপ কুহেলিকা। জেনে বুঝে কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সহজে তা যায় না ছোঁয়া! চোখ ফেরানো ও দায়, এ যে সর্বনেশে মায়া! তোমার সনে মনে মনে করব বৃষ্টিস্নান! না হয় খরতাপে পুড়ে ছাই হোক এ জনম। মেঘের পাহাড় বাড়ে বুকের [বিস্তারিত ধ্রুবতারা]

হলুদ প্রচ্ছদ।

তুমি হলে একটা কবিতার বই। যার প্রচ্ছদ গাঁদা ফুলের মতো হলুদ। তোমার সূচীপত্র  পড়তে পড়তেই আমার কেটেছিলো গত জন্ম। তারপর…  দীর্ঘ বিরতি, রিফিউজি মন।  ঘূর্ণি বায়ুতে সাঁতরে পাড়ি দিলাম একটা জীবন,  গ্রহের গতিপথ বদলালো, আমরাও বদলালাম। কিন্তু, গত জন্মের হলুদ ফুলের প্রচ্ছদে প্রস্ফুটিত কবিতার বইটি এখনো মনে জেগে আছে। এ জন্মে কবিতাগুলো পড়তে চাই, তোমাকে [বিস্তারিত হলুদ প্রচ্ছদ।]

চাই

  কোন হৈ চৈ নাই শান্ত,  নিবিড় ভালবাসা চাই রবীন্দ্র সুরে, বেলকনিতে বসে বৃষ্টির অঝরে,  হারাতে  চাই মুখো মুখি চায়ের চুমুতে  । জোছনা বিছানো আঙিণায় তোমার কোলে মাথা পেতে চাঁদের বুড়ির গল্পের আসরে দুজনার কল্পনায় ভাসতে চাই । বালুচরের  কাঁশ ফুলের স্নিগ্ধতায় হিমেল হাওয়ার দোল দিয়ে তোমার অবাধ্য চুলের ঘ্রাণে হৃদয়াঙ্গমের পরশ চাই । সকাল, [বিস্তারিত চাই]

হারিয়ে যেতে চাই

হারিয়ে যেতে চাই    হারিয়ে যেতে চাই এই পৃথিবী থেকে সুদূর নীহারিকায়। কোনো পাহাড়িয়া বাঁশির সুর, কিংবা কলস্বরা নদীর আবাহন ফেরাতে পারবে না আমায়। প্রেমিকার মদির দৃষ্টি কিংবা তাঁর বাহুপাশ টানবে না আর। অপার বৈরাগ্য দিও মহাকাল আরো দূরে ,অপার আলোকবর্ষ দূরে নিভে যেতে চাই অনন্ত শূন্যপথে। নীল এই পৃথিবী নিয়ত স্বার্থের দোলায় যুঝ্যমান। এখানে পোষাবে না [বিস্তারিত হারিয়ে যেতে চাই]

কাব্য নয় গল্প!

বলবো ভাই এ গল্প সেধেই কাব্য রেখে ফেলে, ওই পাড়ার এক পাগলী আছে নেই কোন তার ছেলে। বর ছিলো আশ দুঃখ সুখের আজ সে চাঁদের বাসি, মা গেছে তার অনেক আগে বয়স হলেই আশি। ভিক্ষে করেই দিন কাটে তার জপে বিধির নাম, ভাবেই না কেউ শুনলো না সুর দিলো ক্ষণিক দাম। তিন বেলা ভাত পায় [বিস্তারিত কাব্য নয় গল্প!]

ইচ্ছার নোঙ্গর

ধূসর ইচ্ছার কোন বাপ মাও নাই, তাই ইচ্ছা সাজাই অনেক কিছুই; জলের সাথে ইচ্ছার গভীর সম্পর্ক কেউ জানুক আর নাই বা জানুক- পরশ কমল বয়ে যায় ইচ্ছার জল; মন থাকুক আর নাই বা থাকুক- বুকতে জলের খেলা, ঢেউ ভাঙে ইচ্ছা অথচ ফুরায় না রঙের হাড়ির কিচ্ছা! ওরা গল্প শুনাই,ফড়িংর নাচ দেখাই- কখন মাটিতে ফেলি ইচ্ছার [বিস্তারিত ইচ্ছার নোঙ্গর]

অবনত

খুব ছোট মানুষের প্রাণ, জেনেও পাঁজরে জাগে শত অভিমান। যেতে হবে চলে, বুঝেও এ কথা ধ্যানে রাখে কি সকলে! অথচ না মেনে তকদির, ভাবে যে আঁধারে বসে ’আমি মহাবীর!’ ছাগ হলে চোর, যম ভেবে সেও খুঁজে বিধি নামে জোর। মানুষেরই শুধু এই ভ্রম, বাকী যা অবলা জীব ঠিকই চিনে দম। জেনে বয়ে ক্ষত, তবু কি [বিস্তারিত অবনত]

ফিঙে পাখির মতো

জনসমুদ্রে কবি বলে কথা! তবু মনের যাতনা কবিতা বুঝেই না; লাশের পর দুই এক জন ঠোঁট নড়াবে, ফিস ফিস করে কথা বলবে এই হলো মানব সভ্যতার হাল চাল- মরার আগে কেউ প্রণয় দেখায় না! শুধু মরিচের মাঠ চোখে দেখে অথচ সোনালি ধানের মতো কেউ ভাবল না কি হবে কবিত্ব, ফিঙের পাখির মতো; উড়াউড়ি করলেই হবে-দেখে [বিস্তারিত ফিঙে পাখির মতো]

হাওয়া নড়বড় করে

হাওয়া নড়বড় করে রে মানুষ হাওয়া নড়বড় করে- আকাশ থেকে তারা ছুটে রে মানুষ আকাশ থেকে তারা ছুটে- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না রে মানুষ একলা জেগে রই রে মানুষ; মাটির সাথে সাজানো মেঘ বাড়ির মায়া শূন্যেই হাওয়া বৃষ্টি ছুট কায়া- ঘাস ফুল ঘাস ফড়িং দেরে চঞ্চল উড়া এখন কি আর সভ্য মানুষের হয় না [বিস্তারিত হাওয়া নড়বড় করে]

আমার নবীর শান

আমার নবীর মুখ, স্বপ্নের মাঝে দেখেছে যেজন সেও ভুলেছে যা দুখ। যে পেয়েছে কিছু হৃদে পুষে তার অমিয় বাণীর সুধা, তুচ্ছ করে সে স্বার্থের মায়া শিকায় তুলেছে ক্ষুধা। চুপিসারে যদি করতে চেয়েছে সদাচারে কেউ ক্ষত, স্বর্গের ঘ্রাণ দিনে দিনে পেয়ে হয়েছে যে অনুগত। জেনে বুঝে আজ গাফেল যে যারা দম্ভের ধারে ভাই, চেয়েও অমন বোকা [বিস্তারিত আমার নবীর শান]

মরিচীকা

খুঁজে ফিরি কি খুঁজে ফিরি? কাকে খুঁজে ফিরি ? কোথায় খুঁজে ফিরি? কেন খুঁজে ফিরি? শুধালাম মনকে জান কি তুমি? সে বলিল হায়, কি করে বলি আমি তা। আমি তোমার ছায়ার পিছে পিছে ঘুরে, পথ হারিয়েছে সেই কবে। অন্ধের মতো সাদা ছড়ি ভেবে পথ চলেছি তোমারই সাথে। এতদিন পরে কি কথা শুনালে! তবে কি আমিও [বিস্তারিত মরিচীকা]