মায়ের শিক্ষা হালিম নজরুল এই গরমের দিনেও দুপুরবেলা কম্বলমুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে লাবন্য। গত ক’দিন স্কুলেও যায়নি। তাই খোঁজ নিতে ছুটে এসেছে প্রিয় বান্ধবী প্রাপ্তি। বাড়িতে ঢুকতেই খুশিতে নেচে উঠলো তিতলি। হি হি করে হাসতে হাসতে বলে উঠলো “ভাল আচো ? ভাল আচো ?” তিতলি লাবন্যর পোষা ময়না। সে অল্প অল্প কথা বলতে পারে। প্রাপ্তিকে [বিস্তারিত মায়ের শিক্ষা]
ক্যাটাগরি ছোটগল্প
২০১৬। ঢাকা থেকে রাজশাহীর বিমানে সিটে বসার সময় খেয়াল করলাম জানালার দিকে বসা চশমা পরা শ্যামা বর্নের মেয়েটিকে একটু চেনা চেনা লাগছে। খুব অল্প সময় লাগে রাজশাহী যেতে ..৪০ মিনিটের মত । ৩০ মিনিট পর পাইলট ঘোষনা করলেন landing gear প্রবলেম করায় safe landing করার জন্য আমরা ঢাকার দিকে ফিরে যাচ্ছি । সবার ভেতরে আতংক [বিস্তারিত এনগেজমেন্ট রিং]
হ্যালো -মিস্টার শাওন বলছেন ? বলছি,আপনি কে? আমি বৃষ্টি ,আমাকে ঠিক চিনবেন না আপনি ।আমি আপনার চাচাতো বোন শিউলি আপুর খুব পরিচিত। বুঝতে পেরেছি ,আমাকে কি দরকার বলুনতো। আপু বলেছে ভাইটা ঢাকায় থাকে পরিচিত হতে পারো! কোথায় থাকেন আপনি? আমরা মিরপুর পল্লবীতে থাকি। ঠিক আছে বৃষ্টি আপনার নাম্বারটা সেভ করে রাখলাম পরে কথা হবে -আল্লাহ [বিস্তারিত বৃষ্টি হয়ে আমি,তোমার উঠোনে নামি]
সময় টা ২০০০সাল,বিংশ শতাব্দীর পদচারনায় মুখরিত পৃথিবী বাসী। এ রকম সময়ে এসেও একজন নারীর মতামত প্রকাশের সুযোগ নেই এমন টা ভেবে অঝোঁরে চোখের পানি ফেলে চলছে ডাক্তারী পড়ুয়া ২ বর্ষের ছাত্রী ফারিহা। ফারিহা ছোটবেলা থেকেই দারুন মেধাবী সে সাথে বুদ্ধমতি ও বটে,,,প্রানচঞ্চল স্বভাবের ফারিহা জীবনের কোন পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয় নি, বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজের [বিস্তারিত অপরাজিতার পরাজয়]
ভাদ্র মাস। মাথার উপরে তপ্ত লাল সূর্য। সূর্যের তেজ ক্ষণে ক্ষণে যেন বাড়ছে। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে দরদর করে ঘামছে মাজেদ মিয়া। ঘাড়ের উপর দু’জায়গায় ছেড়া এক জীর্ণ গামছা। গামছা দিয়ে মুখ মুছে নিলো সে। আর সেই সাথে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। নদীর নাম তুলসী গঙ্গা। নদীর ধারে সবুজে ছাওয়া ছোট গ্রাম। সেই গ্রামেই মাজেদের জন্ম। [বিস্তারিত পারাপার]
হঠাৎই খুশিতে নেচে উঠলো অনিকের মন।দারুণ ঝকঝকে চকচকে নোটদুটো কন্ডাকটর ফেরত দিতেই আমার দিকে লোভাতুর হাত বাড়িয়ে দিল অনিক। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আমার বুঝতে বাকি রইল না যে ওটা নিতে চাচ্ছে। আমি কিছু না বলে ওর সামনে হাতটা নাড়িয়ে দিলাম। একবার আমার দিকে আর একবার নোটদুটোর দিকে তাকিয়ে নোটদুটো বুক পকেটে পুরে নিল। যাচ্ছিলাম [বিস্তারিত জীবন নামের গল্প]
ফিনিক ঝরা জোসনা দেখা আর সেই সাথে খোলা মাঠে বা নির্জন রাস্তায় একাকী হাঁটার একটা রোমান্টিকতা আছে। জোসনা বিলাস না হয়ে জোসনায় অবগাহন হবে। ইচ্ছেটাকে প্রাধান্য দিতে আয়তুল কুরসি পড়ে হাঁটা শুরু করলাম। শর্টকাট রাস্তা কিন্তু যেতে হবে কবরস্থানের পাশ দিয়ে। জোসনায় গাছপালা সাদা হয়ে থাকে। রূপালী আলোর বন্যা। “আজ জোসনা রাতে সবাই গেছে বনে” [বিস্তারিত বিবেকের কারাগার]
রমিজ পাগলা বেশকিছু দিন হয়ে গেল স্কুলে আসে না রমিজ। আগে কখনো এভাবে অনুপস্থিত থাকেনি সে। এবার রোজা, ঈদ, ও দুর্গাপূজা পর পর হওয়ায় স্কুলে লম্বা ছুটি ছিল।তাই এই দীর্ঘ সময়ে কেউ কারো খোঁজও নিতে পারেনি।রমিজ কখনো স্কুল ফাঁকি দেয় না। একবার যখন ওর জলবসন্ত হয়েছিল তখন শুধু কয়েকদিন স্কুলে আসতে পারেনি। কিন্তু তার পর [বিস্তারিত রমিজ পাগলা]
আশ্বিনের বৃষ্টিগুলো কুয়াশার মতো। ঝিরঝির শব্দে মন মাতাল করে। সাদা কাশবন আরও ঝকঝকে হয়। কাজ শেষে বের হয়ে দেখি, বৃষ্টি। ব্যাগে ছাতাও নেই। একটু জোরে পা চালিয়ে মোড়ে যেতে পারলেও; দোকানে চা খেতে খেতে রিকশা খোঁজাও যাবে। চাচা, চা দেন। সাথে সিঙ্গারাও। মা, আজ এতো দেরি যে! বৃষ্টিও যেভাবে নামছে। কাজ শেষ হতে দেরি হয়েছে। [বিস্তারিত শবানুগমন]
চাঁদমুখখানি কাতরের আবডালে ঝুলে ঝুলে চুপসে শুকিয়ে বিবর্ণমুখী। দেহে প্রাণ থাকলেও আত্মাটুকু নড়বড়ে নড়বড়ে অবস্থা। বিবাহের প্রথম রাত। বাসর রাত। বিসর্জনের রাত। তিলে তিলে সঞ্চিত করা দেহসজ্জা দেহস্থ পটভূমি উজাড় করে দেওয়ার রাত। কিন্তু প্যাঁচ লেগেছে অন্য সুতোর গিট্টুতে। যে গিট্টুর বাধঁন সহজেই ছেঁড়া যায় না। সহজেই নতুন করে রূপ-যৌবন দেওয়া যায় না। পিরিয়ড [বিস্তারিত এইসব নষ্টদিন]
আজ অপুর বিয়ে তার সব বন্ধু বান্ধব মোটরসাইকেলের সামনে মশাল জ্বালিয়ে ঘুরছে পুরোটা শহর, দেখতে অনেকটা পাহারাদারের মত, কিংবা শহুরে নেতা। সবগুলো মানুষ যখন ঘুমিয়ে পরবে তখন ই জেগে উঠে এরা, হু হু হাহা কিংবা হৈ হৈ শব্দে মাতিয়ে রাখে গোটা শহরটাকে, ঘুমন্ত শহর জাগ্রত হয়ে উঠে। আশাহতরা ফিরে পায় তাদের আশা। প্রথম সাড়িতে থাকে [বিস্তারিত আজ অপুর বিয়ে]
বাড়িতে রাগারাগি করে একটু আগেই বেরিয়ে এসেছে অপু, আর কখনো ঘরে ফিরবেনা কিংবা এ মুখ কাউকে না দেখানোর একটা শপথ সে মনে মনে স্থীর করে ফেলেছে। করাটাই তো স্বাভাবিক। স্নাতক শেষ করেছে তিন বছর হল, পরিচিত সবাইকে বিরক্ত করে ফেলেছে সে একটা চাকরীর জন্য, সবাই যেন তাকে আস্বাস ই দিয়ে গেছে, চাকরী কেউ দিতে পারেনি। [বিস্তারিত জীবন যেখানে থমকে গেছে]
জানুয়ারি মাসের সকাল। কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দু’চোখ ভরা জন্ম-কাজল লেগে থাকা এক তরুণীর সঙ্গে বসে আছি। এর আগে সবুজ শাড়ি আর লাল চুড়িতে অনেক ইন্দ্রাণীকে দেখলেও, মার্চ আর ডিসেম্বর ছাড়া দেশপ্রেম দেখি নি। সকালবেলা নিজস্ব সময়। এ সময় নিজের মত থাকতে ভালো লাগে। সাড়ে ছয়টার দিকে দিয়ে যাওয়া দৈনিক পত্রিকাটি ভাঁজ খুলে উদ্বোধন করতে হয়। [বিস্তারিত জীবনানন্দের চোখ]