এখন অনেক রাত

  জানি, একদিন আমার ও বয়স বাড়বে; নুয়ে পড়বে যন্ত্রনা ও! চল্লিশ পেরিয়ে পঞ্চাশ ছোঁবে;পঞ্চাশ পেরিয়ে ষাটের কোঠায়__ বার্ধক্য যেখানে সংবর্ধনা দেবে! সেদিন কি তুমি সেথায় দাঁড়িয়ে রবে! সব বাধার পাঁচিল ভেঙে আমার হাতটি ধরবে? আবোল তাবোল ভাবনায় নেই যতি ছেদ! নির্ঘুম চোখে ভবিতব্যের ধারাপাত; এখন অনেক রাত। রাতের গায়ে জাঁকালো শীত; শীতের আমেজ মেখে [বিস্তারিত এখন অনেক রাত]

চিরন্তন

বেলা অন্তে… যখন সূর্য নামে পাটে, ঘুটঘুটে অন্ধকারে, শস্য ক্ষেতের মাঠে, আমি নিঃসঙ্গ ঘাসফড়িং, অবুঝ পতঙ্গ! তুমি অগ্নিস্ফুর্লিঙ্গ! প্রকৃতি আলস্যে জোছনা মাখা, তোমার চোখাচোখি সখা! অন্তরালে ওঁৎপাতা, সলতে জ্বলা অগ্নিশিখা! আমি কি আর জানি? লেলিহান বহ্নিতে পতন! আমার দুর্নিবার আকর্ষণ! অন্তরালে ওঁৎপাতা, নিশ্চিত ভস্মীভূত মরণ! আকর্ষণ মরণের মাঝের অনুক্ষণ, আমার মিলন সুখের স্বপন, হোক বারবার [বিস্তারিত চিরন্তন]

হতচ্ছাড়া ‘যদি’

  যদি ইচ্ছের চোরাবালিতে না ডুবতাম, যদি ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে ঘর না ছাড়তাম, যদি চাঁদনী পসরে পথ না হারাতাম, যদি অভয়ারণ্যে তোমাকে না খুঁজতাম, যদি খেয়ালি মনে শেকল বাঁধতে পারতাম, যদি নিরালায় দুটো  শব্দের ফাঁদে না পড়তাম, যদি ভল্লুকের আঁচড়ে ক্ষত বিক্ষত না হতাম, যদি চক্ষু নদীর গতিপথ বদলাতে পারতাম, যদি মাঝের বাধার পাহাড় ডিঙ্গাতে [বিস্তারিত হতচ্ছাড়া ‘যদি’]

নিশি প্রলাপ

ঘুম আসছেনা, মনে পড়ছে ফেলে আসা বহতা নদী তীর, যেথায় বাজতো চেনা সুর সুমধুর! সূর্যটা চুমে যেতো তটীনির ওষ্ঠোদয়, রক্ত মাংসের যোযন দূরত্বে ও কি নিবিড় আলিঙ্গন সেতো বলে বোঝানোর নয়! চেয়ে থেকে অপলকে ঝরতো কথার ফুলঝুরি, বাধ ভাঙা শিহরণের ঢেউ আছড়ে পড়তো সারি সারি! চোখ দুটো আজও আছে, আছে দৃষ্টিতে শিলা পাথরের নুড়ি। চর [বিস্তারিত নিশি প্রলাপ]

আমি নারী

নারী আমি নারী। আমি কারুর মেয়ে, কারুর বোন, কারুর স্ত্রী, কারুর মা। এক অঙ্গে আমি কত রুপ ধারণ করি। আমি বহুরুপী! আদতে আমি নারী। আমি কষ্ট লুকিয়ে হাসি। আমায় যে নিয়ত শোষণ করে, আমি তাকেও ভালোবাসি। দিনাতিপাতে দেখভাল, রোগশয্যায় শশ্রূষা আমিই  করি। আমি নারী। বাবা,ভাই,স্বামী এবং ছেলে  আমার অলিখিত অভিভাবক। পালাক্রমে কেবল হয় হাতবদল। আমি [বিস্তারিত আমি নারী]

গৃহবধূ যখন লেখক

নিরব অভিমানে কলম ছেড়েছিলাম! নিন্দুক সমালোচকের মুখে কুলুপ আঁটুক,লিখবোনা আর  মন খারাপের গান। চাইলেই কি করা যায়  কপট সুখে অবগাহন! আমি তো বিড়াল তপস্বী নই! তাই চুপচাপ ডায়েরির পাতায় প্রতিবাদী অক্ষর সাজাই। কখনো বা দিনলিপি তুলে ধরি সাহিত্যের পাতায়। যা লিখি তা আমার হাঁড়ির খবর নয়, তবে কারুর তো নিশ্চয়ই। যদি বলি আমাদের কথা,কিংবা সকলের [বিস্তারিত গৃহবধূ যখন লেখক]

বিকেল ফুরোবার আগে এসো

কোন্ কালে কূল ভেঙেছিলো মনে নেই,এখনো আমি অকূলের সহযাত্রী তোমার বুকে বসতি পেলে, অকূলে ভাসাতামনা আমার ধরিত্রী। তোমার চোখে আয়না খুঁজে পেলে, নোনা দরিয়ায় ছায়ার সাথে লুকোচুরি খেলতামনা অহোরাত্রী। তোমার বুকে কি চর জাগেনি? কেউ না জানুক আমি তো জানি, জেগেছিলো বৈ কি! কাঁটাতারে ঝুলিয়েছ ভালোবাসা! শিকড়ে পা আটকেছে, গাছটি ছিলো মেহগনি। সময়ের হিংস্রতা খুবলে [বিস্তারিত বিকেল ফুরোবার আগে এসো]

আমিত্বের খোঁজে

  দু’বেলা রাজভোগ খেয়ে, উঁচু বাসভবনে শৌখিন পাতাবাহারী আবাসে, অভিজাত কাপড়ে মুড়ে, বেশ আয়েশে দিনযাপন করতেই পারি। মাঝে কিন্তুটা কোথায়! কেন আমি সুখী হয়ে উঠতে পারিনা? কিসে আমাকে তাড়া করে ফেরে, কি সেই বেদনাবোধ! যা আমি নিজের কাছে স্বীকার করতে পারিনা। সেকি চাহিদার আতিসহ্য? তা নয়তো কী? আমি নিজেকে শাসন করতে চাই! দু’হাতে লাঘামহীন ইচ্ছেকে [বিস্তারিত আমিত্বের খোঁজে]

নীল শব্দ

  শব্দের কি রঙ হয়? হয়তো হয়, হয়তো নয়, রঙ না হলে প্রতিবিম্ব নিশ্চয়ই হয়। শ’ফোঁটা অশ্রুর দামে কেনা কাব্যলিপির প্রতিটি শব্দের অন্তরে লুকায়িত নীলত্ব। আদ্র বেদনা বাষ্পীভূত হয়ে নিখিল  কালো মেঘে ছেয়ে গেলে, সফেদ বৃষ্টির ফোঁটা ঝরে ঝরে যখন ক্লান্ত! তখন কবিতার আকাশে ঝকঝকে নীল শব্দ ছুঁতে চায়  দিগন্ত! বিরহ বাঁশরীর সুরে প্রিয়তমর ডাকে [বিস্তারিত নীল শব্দ]

ওরে বিহঙ্গ বিহঙ্গী

  তরুশাখে পত্র পল্লবের ফাঁকে __ ওরা আজ মুখোমুখি বিহঙ্গ বিহঙ্গী! উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে নীলিমা আড়িপাতা আকাশটা সাক্ষী। স্বর্গীয় দৃশ্য অবলোকনে প্রশান্ত তৃষিত আঁখি। পৃথিবীর কদর্য সম্পর্কের সাথে পরিচিত নয় ওরা, ওরা ভালোবেসে আকন্ঠ পান করে প্রেম সুরা। কিসের তরে জড়ো হয়েছিস ওরে বিহঙ্গ তোরা দুটিতে! বড় স্বাধ জাগে মনে কি কথা কইবি যদি পাই জানতে! [বিস্তারিত ওরে বিহঙ্গ বিহঙ্গী]

আমার প্রেম

  এই কি সেই  প্রেম! যারে আমি নিজের হাতে….. না, না আমি খুন করিনি!মূলত পারিনি। বলতে পারো কেউ? বুকের পিঞ্জরে কার পদধ্বনি শুনি! খাঁচার খিল খুলতে কার আকুলিবিকুলি! পোষা ময়না ও তো ছেড়ে যায় নাকি? সাধে কি আর বন্দি করেছিনু তোরে প্রাণপাখি! তুই কি জানিস না? কার তরে বুকের ভেতর উথলে ওঠে ঢেউ! সেই ঢেউ [বিস্তারিত আমার প্রেম]

সমুদ্র বিলাস

  একদা মন পাড়ার পাড় ভাঙার শব্দ শুনেছিলো হৃদয়! ভাঙতে ভাঙতে মস্ত কূপ। ভেবেছিলাম বেশতো কূপের জলে কাটিয়ে তুলবো, সমস্ত খরা দুঃখ জরা। না ভাঙন আর থামেনি একটি মুহূর্তের জন্য, সেই থেকে কেবল ভাঙছে….. রাশি রাশি জল জমে সেথায় এখন ফেনিল সমুদ্র! দীর্ঘ সোনালী সৈকত, সাদা বেলাভূমি। এতো সাদা যে চোখ ঝলসে যায়! অপর প্রান্তে [বিস্তারিত সমুদ্র বিলাস]

এলেবেলে কথোপকথন

*জীবন আর আমার কথোপকথন __ জীবন: পুষ্প পাপড়ির গালিচা নয় পথ, আছে কণ্টক আছে অগ্নিতপ্ত লাভা। হেঁটে যেতে হবে হাঁটের দিকে সওদা শেষে গুনতে হবে মুনাফা। আমি: ঈশ্বর দিয়েছেন অন্ধকার, বলেছেন পথ খুঁজে নিস আলোর। জীবন: তাই তো হেঁটে চলেছি আলোর সন্ধানে আনমনে, আমি: কে ওখানে? এই যে আমি আলো! এখানে। জীবন: হাতড়াতে হাতড়াতে খুঁজে [বিস্তারিত এলেবেলে কথোপকথন]

ইচ্ছে পোড়া ছাই

  আমি ফিরে পেতে চাই হারানো উৎফুল্ল দিন, ফিরে দেখতে চাই চরকা কাটা রঙিন ঘুড়ির উড়ান। আমি আকাশের নীল গায়ে মাখতে চাই, আমি আঁকা বাঁকা মেঠো পথ ধরে বিনুনি দোলাতে চাই। আমি পুকুর জলে আনমনে ডিল ছুঁড়তে চাই, কদম পাড়ার ব্যর্থতায় বারবার বিষন্ন হতে  চাই। আমি কুমড়া ফুলের বড়া বানিয়ে বনভোজনে মাততে চাই। আমি খেয়ালি [বিস্তারিত ইচ্ছে পোড়া ছাই]

হেমন্ত

  আহা! হেমন্ত ডেকে নেবে কিগো নবান্নের উঠোনে, সোনালি ধানের শীষের ঘ্রাণে! শিরশির হিমবাহে উত্তরের সমীরণে, আড়মোড়া ভেঙে আলোড়ন তুলে সন্তর্পণে, বরিষণের ছুটির লগ্নে হেমন্ত দোলা দিল মনের ঈশান কোণে। প্রতীক্ষা সহেনা প্রাণে মাঠঘাট শুকাবে কোন ক্ষণে, ক্ষণে ক্ষণে বেজে উঠে মনে, এই বুঝি ঘাস ফড়িং মোরে ডাকছে একমনে। আলপথ ধরে ছুটে চলে রাখাল বালক [বিস্তারিত হেমন্ত]