নির্জন দুপুরে

  জানি কোথাও কেউ নেই, ছিলোনা কোনোদিন, আসবে বলেও আশা জাগায়নি মনের গোপন, তবুও রাত্রিজাগা, অপেক্ষায় ভালোলাগা, এ কোন অযথা  দহনে পোড়ে মন! না আছে বিশেষ দিন, ক্ষন, সন, যা আছে তা কেবল যাপিত যাপন কিংবা তথাকথিত জীবন। অবেলায় বরণ করা বারণ লিখেছিল পুরাণ সর্বাঙ্গে চোরাবালির আবরণ, অতলান্তে স্রোতের অথৈ প্লাবন! এ যে কুহক! সর্বনেশে [বিস্তারিত নির্জন দুপুরে]

ঘাসফুলটি কিংবা মৃগ কস্তূরী

পাহাড়ে যার আদি নিবাস__ সে তো মাথা উঁচিয়ে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রয়; সমতল তার অকুল পাথার। দেবদারুর সাথে ঘাস ফুলের প্রেম হয়না ওরা বরাবরই একলা নির্বিকার! পাহাড়ের নিস্তব্ধতা আর দেবদারুর নিঃসঙ্গতা তার আত্মমর্যাদা /আত্ম অহংকার। ছায়া বিথীর ঘেরাটোপে হারানো পথিক চিরকাল মনে মনে পোষে সংসার বিবাগী সংঘাত।   পাশেই মহুয়ার বনে__ অনাহূত প্রশ্ন বানে ঝুলে মরে [বিস্তারিত ঘাসফুলটি কিংবা মৃগ কস্তূরী]

নিরন্ন পথিক

তোমাকে আশ্রয় করে জন্মেছিলো যে কাব্যের ছত্রাক, আমিই তার জননী ‘পরজিবী অকবি ‘। তোমার সাথে সাথে আমি এবং আমার আত্মজা অকবিতা বিলুপ্ত প্রায় । আজ বুঝতে পারছি, আমিই সেই নিরন্ন শব্দহীন পথিক। আমার নিজের কোন বর্ণমালাই নেই, শব্দতো অবান্তর, আর কাব্যিক চরণ “আকাশ কুসুম কল্পনা”। তাই তো শৈশব, কৈশোর এবং  তারুণ্য অরণ্যে রোদন করেছে অহেতুক [বিস্তারিত নিরন্ন পথিক]

উন্নাসিক

বহুদিন  আকাশ দেখা হয়নি গাঙচিলেরা ও এদিকে ডানা মেলে উড়েনি বহুদিন জানালার কার্ণিশে ঘুমুতো যে জালালি পায়রাগুলি ধান খুঁটে খেতে গিয়ে তারা ও আর ফেরেনি। ঋতু বদলে আজ নাকি  হেমন্ত  এসেছে দূর পাহাড়ের বুকে; কিংবা আমার নাগালের বাইরের ঘাসের ডগায়, লোকমুখে শুনেছি শুধু টের পাইনি। উত্তুরে হাওয়ায় কার আগমনী বার্তা ভেসে বেড়ায় কোন আবহ সঙ্গীত [বিস্তারিত উন্নাসিক]

এক ঘরকুনো চড়ুই

বনমালী তুমি ভয় পেয়ো না, কারুর হার যদি হয় কারুর জয়ের সূচনা, সহস্রবার সয়ে যাবে শব্দ বাণের শূল, শুনবেনা কেউ যাতনার মূর্চ্ছনা! এ-ই তো জীবন কেউ দেনা কেউ পাওনা।   লৌহ প্রস্তরীভূত প্রহরীর এ জীবন আমৃত্যু কেউ ছুঁতে পারবেনা । প্রাণের দাওয়ায় ছটফটিয়ে মরে ঘরকুনো চড়ুই তবুও তার বাহির-পানে যাওয়া মানা। সে যে আজানুলম্বিত স্বভাবের [বিস্তারিত এক ঘরকুনো চড়ুই]

আমি কেমন আছি

ছাত্র জীবনে বহু চিঠি লিখেছি ,পাড়া প্রতিবেশীদের  ফরমায়েশি চিঠি। এক বড়মা ছিলেন, দুবাইয়ে ছেলেকে চিঠি লিখাতেন আমাকে দিয়ে। লিখা শেষে পড়ে শোনালে আমাকে অনেক দোয়া করতেন। এক বড় বোন ছিলো, শশুর বাড়ি থেকে আসতেন, আমাদের বাড়িতে দুদিন থেকে আমাকে দিয়ে প্রবাসী স্বামীকে চিঠি লিখাতেন। সেই চিঠি পড়ে মানুষটার নাকি রাগ পড়ে যেত। আমি মোটামুটি ইন্ট্রোভার্ট [বিস্তারিত আমি কেমন আছি]

ওরে একটু দাঁড়া

  কবিতা! শুনতে পাচ্ছিস? এমন করে ডেকে সারা হচ্ছি! ট্রেনের বগির সাথে পাল্লা দিয়ে শব্দগুলো পালাচ্ছে, আমি অসহায় চোখে তাকিয়ে আছি! চিরচেনা মাঠ-ঘাট,সরষে ক্ষেত, গরুর পাল, কৃষকের নাঙ্গল। হারানো শৈশব-কৈশোর__ সাথে অশোকের ঝুলে দোল! চোখদুটো হাত বাড়িয়ে ছোঁয়ার তরে ব্যাকুল! কবিতা! জানিসতো তুই দুরপাল্লার পথে ছায়া সঙ্গী। নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গেছি আমরা__ যাকে বলে অঙ্গাঅঙ্গি। জীবন [বিস্তারিত ওরে একটু দাঁড়া]

অলীক

তুমি যদি আমার হতে, যখন বাহির থেকে আসতে, কবি নির্মলেন্দু গুণের নায়িকার মতো শুধু ঘরের দরজা নয় মনের দরজাও খুলে দিতাম। ঘর্মাক্ত ক্লান্ত তোমায় গরম জলে স্নানের আদেশ দিতাম। ততক্ষণে এক কাপ লেবু চা তৈরি করে অপেক্ষা করতাম। তারপর তোমার কর্মক্লান্ত দিনের সাফল্যের কথা শুনতাম। তুমি যদি আমার হতে, সকালে তোমার কাজে যাওয়ার আগ মুহূর্তে [বিস্তারিত অলীক]

ইচ্ছের সীমানা

  অক্ষত দেহে ইচ্ছের শব বয়ে বেড়াতে না পারলে কেউ কেউ কোমায় চলে যায়! আবার বিকলাঙ্গ শরীরে ও “স্টিফেন হকিং” ইতিহাস গড়ে দিয়ে যায়। ইচ্ছেকে তাই যাচ্ছে তা-ই করতে দেওয়া যায়না, ইচ্ছে বাঁচুক আত্মসম্মান নিয়ে, ইচ্ছে গড়ুক স্বপ্নের ইমারত। ইচ্ছেতে থাকুক বিবেকের আদালত, ইচ্ছেগুলো ক্রাচবিহীন চলতে শিখুক। ইচ্ছেরা স্বাধিকার ছেড়ে মানবতার পথে হাঁটুক, ইচ্ছেরা দুঃস্থ [বিস্তারিত ইচ্ছের সীমানা]

যা হারিয়েছি তার প্রতিলিপি হয়না

  দশ বছর আগে জীবনে প্রথম মৃত্যুর সাথে পরিচিত হয়েছিলাম আব্বার শীতল কপাল স্পর্শ করে। তখন আকুল হয়ে কাঁদলে মাথায় একটি স্নেহের হাত অভয় দিয়ে বলতো “আমিতো আছি “। সেই হাতটিও হিমশীতল হয়ে গিয়েছিলো গত ১৩ই জানুয়ারি। না মাথায় আর কোন স্নেহের স্পর্শ পাইনি। আমার মা এবং বাচ্চাদের নিয়ে পার্কে হাঁটতে গিয়েছিলাম বিকেলে, কিছুটা হেঁটেই [বিস্তারিত যা হারিয়েছি তার প্রতিলিপি হয়না]

ছায়া

টেরাকোটা চোখের চোরাকাঁটা চাহনিতে খুন হওয়া সেই আদিবাসী কন্যার রক্তাক্ত লাশটি খুঁজে পাওয়া যায়নি এখনও। সাহেব তুমি খুশি তো! কে তুমি হে ? আমি ছায়া, ভয় নেই! কেউ কিচ্ছু জানবেনা, তুমিই সেই সুচতুর প্রেমিক! যে কিনা সন্তর্পণে চিলেকোঠায় লুকিয়ে রেখেছো তাকে অযত্নে! পচন ধরবেনা জানি, প্রেমের হিমাগারে সংরক্ষিত সে এখন বিভোর অনুভবের মরণ ঘুমে। অপরদিকে [বিস্তারিত ছায়া]

ওরা নারী দিবস জানেনা

  আহা!আমার কাজের মেয়েটার বাহারি নাম ‘কোহিনূর ‘। বয়স কত হবে?আমার সমবয়সী প্রায়। হলে কি হবে, ভাবেসাবে পাক্কা মুরব্বি। সেই কোন ছোটবেলায় বিয়ে করে সংসারী হয়েছে। মূল বয়সের দুই তৃতীয়াংশ বিয়ের বয়স। এরইমধ্যে ছেলের বিয়ে দিয়েছে। তো মূল প্রসঙ্গে আসি। মেয়েটা মস্ত ফাঁকিবাজ। দু’দিন কাজে আসে তো দু’দিন আসেনা। একদিন খুব করে বকা দিলাম, রোজ [বিস্তারিত ওরা নারী দিবস জানেনা]

রোকসানা খন্দকার রুকুর কবিতার রিভিউ

কবিতা রিভিউ যৌথ কাব্যগ্রন্থ __নির্ঝর শব্দের ঢেউ সম্পাদনায়__আরজু মুক্তা প্রকাশক__আবদুল্লাহ আল তানিম প্রকাশনায়__ইচ্ছে স্বপ্ন প্রকাশনী কবিতা __( ১) ফিরব আবার (২) তবুুও চাই কবি __রোকসানা খন্দকার রুকু প্রকাশকাল __ডিসেম্বর ২০২০   কবি “রোকসানা খন্দকার রুকু ” একাধারে একজন কবি, গল্পকার এবং প্রগতিশীল লেখক। প্রেমময় কাব্যে তিনি যেমন পারদর্শী তেমনি হাস্য রসাত্নক লেখনীতে সমসাময়িক তুলে ধরেন [বিস্তারিত রোকসানা খন্দকার রুকুর কবিতার রিভিউ]

দুঃখ বিলাস

একবার বোধ করি; খুব খরার কবলে পড়েছিলাম। চৌচির বুকের জমিনটা কাঁদত, ক্ষুধার জ্বালায়! হঠাৎ দুর্ভিক্ষে যতোটা না;তারচেয়ে বেশি ছিল, হাভাতের কাঙ্গালপনা। একদিন, বেরিয়ে পড়লাম; বিরান পথে নদীর ধার ঘেঁষে, শুনেছি, নদীর কিনারা ধরে এগুলে,  উর্বর জনবসতি মিলবে, ঠিক পেয়ে গেলাম। আশ্চর্যের বিষয় হল ঐ গাঁয়ে একজনই মানুষ ছিল, বেচারা সব শুনে, আমায় খুব যত্ন আত্তি [বিস্তারিত দুঃখ বিলাস]

শুধু সাল সংখ্যা নয় চাই নতুন শুরু

আজ ও জননীর বুকে কতশত পথশিশুর পাণ্ডব দেহ অনাবৃত, ক্ষুধার্ত ! কত শত কপর্দকহীন ভিখিরি রাজপথে ঘুমায়! দিন যায় মাস ফুরায়, বছরের পর বছর কালান্তরের সাক্ষী হয়, তাতে সেই শিশুটির কী আসে যায়? যার মুখে একফোঁটা দুধ জোটেনি কস্মিনকালে! হতে পারে পেট পুরে খাওয়া হয়নি আজকের দিনে ও। আজ ও বৃহন্নলার রাষ্ট্র স্বীকৃত ভিক্ষাবৃত্তির দৃশ্য [বিস্তারিত শুধু সাল সংখ্যা নয় চাই নতুন শুরু]