বর্ণিল – বিবর্ণ সময়

 

প্রবাহমান দুঃস্বপ্নের স্রোত
বেদনাহত আঁখি পল্লব
বহুদিন ধরে আমার ভেতরে।
একসময় তোমার বিষণ্ণ দু’চোখে
আলোময় বিনিদ্র তারার উজ্জ্বলতা ছিল ভরে।
চাওনি,তবু দ্বিধাহীন ভাবে চলে গেলে
তোমার জন্য পথ চেয়ে নিশিদিন অপেক্ষায়।
অধরা পুষ্প সৌরভ ছড়ায়না উজ্জ্বলতায়।
কথা ছিল সরোবরের স্বচ্ছ জলে
বাহারী পালের সাম্পান ভাসাবে।
সবুজ গহীন অরণ্যে নিয়ে যাবে।
স্বর্গের নিস্তব্ধতা যেখানে ডানা মেলে উড়ে।
সদ্য গজিয়ে ওঠা কিশোরীর ঝোঁপে
হীরন্ময় বিকেল কাটাবে
গোধূলী বেলায় নদীচরে।
ফেরারী বাতাসে উর্বশী কাশফুল হয়ে
সারাদিন মেতে থাকবে নির্জনতায়।
মিষ্টি বিকেলের স্বপ্নীল সেইক্ষণে
সবুজাভ লাবন্য ছড়িয়ে স্বচ্ছ জলে ভেসে যাবে আনমনে।
একটি নদী ছিল।
যে নদীটির শুকিয়েছে জল।
দুই তীরে ছিল তার সোনাঝরা দিন।
সেই স্রোতস্বিনী পিছনে ফেলে
শহর, বন্দর হয়েছে।
অবশেষে সেই ঠিকানা ই রয়েছে।
দু’চোখে আলো জ্বেলে অভিযোগ অনুযোগ
তবু পাশাপাশি ছিলাম বহমান।
আমায় ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে গেলে
ফেরারী বাতাস যেমন পালায় সুদূরে…
যখন যেখানে ইচ্ছে উড়ে!
দূর্ভাগ্য কতটা প্রলম্বিত হলে,
কতটা রক্ত নহরে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে দুঃখের সাগরে।
ম্রিয়মান হয়ে যায় সতেজ পুষ্পেরা,
পাখিরা নীড়ে ফেরা ভুলে যায়।
তবুও মহান স্রষ্টাকে শ্রদ্ধা জানাই
বয়ে চলা তরীর এ ধরায়।
হয়তো আবার ফিরবে থাকি অপেক্ষায়।
স্বর্গের পাখী হয়ে সোনালী ডানা মেলে
ছন্দ তুলে আসবে উড়ে
আমার পুরানো ঠিকানায়।
উৎসর্গঃ– ডাঃ কাজী সুপ্রিয় হিল্লোল।

মোট পড়েছেনঃ ১,০০১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩২টি মন্তব্য

    1. ফয়জুল মহী,
      আন্তরিক ধন্যবাদ ওকৃতজ্ঞতা। ভাল লেগেছে জেনে আমারও ভাল লাগলো। মহী দোয়া করো, কাপুনি দিয়ে জ্বর এসেছে। ভাল থেকো।শুভ কামনা রইলো।

    1. ছাওরাছ হেলাল ভাইয়া,
      সহমত পোষণ করছি। আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। দোয়া করবেন,কাপুনি দিয়ে জ্বর এসেছে,আবার হয়তো সোনেলা থেকে দূরে থাকতে হবে। ভাল থাকুন,অফুরান শুভ কামনা রইলো।

  1. মনের বাসনা গুলো পূরণ হোক, প্রিয়জন ফিরে আসুক ভালোবাসার ঝাঁপি নিয়ে অপেক্ষার প্রহর এর অবসান ঘটিয়ে। শুভ কামনা রইলো অহর্নিশি

  2. সুপর্না ফাল্গুনী আপু,
    আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। দোয়া করবেন,কাপুনি দিয়ে জ্বর এসেছে। ভাল থাকুন,শুভ কামনা রইলো।

      1. সুপর্না ফাল্গুনী আপু,
        আন্তরিক ভালোবাসা রইলো।
        জ্বি,ডাক্তারের উপদেশ অনুযায়ী চলবো।ভাল থাকুন,কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।শুভ কামনা সব সময়।

    1. ইঞ্জা ভাইয়া,
      আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
      চোখের সমস্যা দেখা দিয়েছে। একটু সময় নিচ্ছি। তা ছাড়া লেখার কপি আছে কিনা সেটাও চেক করছি। প্রকাশ হয়েছে নাকি হয়নি তাও চেক করছি।অন্য সব লেখা দিব। সোনেলা হলো আমার ব্যাংক। মজুত থাকবে।
      অনেক শুভ কামনা রইলো ভাল থাকুন।

    2. ইঞ্জা ভাইয়া,
      আন্তরিক ধন্যবাদ সহ সালাম। ফিরে এলাম,তবে পুরোপুরি সুস্থ হইনি, হয়তো এভাবেই বাকি জীবন কাটাতে হবে।আর আম্মা তো চলেই গেলেন না ফেরার দেশে। একটু ভাল থাকার চেষ্টা মাত্র।

  3. “ফেরারী বাতাসে উর্বশী কাশফুল হয়ে
    সারাদিন মেতে থাকবে নির্জনতায়।
    মিষ্টি বিকেলের স্বপ্নীল সেইক্ষণে
    সবুজাভ লাবন্য ছড়িয়ে স্বচ্ছ জলে ভেসে যাবে আনমনে।“
    উর্বশী আপু কাশফুল হয়ে
    আকাশে উড়ুক শ্বেত শুভ্রতায়
    এই কামনায়। ভাল থাকবেন।

    1. রোকসানা খন্দকার রুকু আপু,
      আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
      সঠিক বল্বছেন।আর আশা আছে বলেই আগামীর পথ চলতে সুবিধা হয়। ভাল থাকুন, শুভ কামনা সব সময়।

    1. বন্যা লিপি আপু,
      আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
      আল্লাহ পাক ই জানেন কবে দ্রুত সুস্থতা লাভ করবো।একটি ঠিক হতে না হতে আর একটি দেখা দেয়। অনেক দিন বেশ ভাল ছিলাম। এখন টানা অসুস্থতার মাঝেই কম বেশী থাকি।বাকি ছিল চোখ তাও চশমা পড়তে হবে। দোয়া করবেন আপু। জীবনে প্রথম চশঅমা পড়বো।

  4. “দূর্ভাগ্য কতটা প্রলম্বিত হলে,
    কতটা রক্ত নহরে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে দুঃখের সাগরে।
    ম্রিয়মান হয়ে যায় সতেজ পুষ্পেরা,
    পাখিরা নীড়ে ফেরা ভুলে যায়।”
    পুরো কবিতাটিই সুন্দর লিখেছেন।
    শরীরের যত্ন নিন। আমার বাসায় ও সবার জ্বর।
    ফী আমানিল্লাহ।

মন্তব্য করুন