নগরবধূ ‘আম্রপালী’

 

তোমার সৌন্দর্যের ধারে কুপোকাত কত শত বনিক, নাবিক, রাজাধিরাজ।
তোমার এক অঙ্গুলীয় ইশারায় নাচে প্রজাতন্ত্র বৈশালী থেকে দক্ষিণের মগধ-
তুমি পারোনি তোমার অঢেল রূপকে পর্দার আড়ালে ঢেকে রাখতে।
পিতৃ পরিচয়হীন তোমাকে আম্রতলে পেয়ে ‘আম্রপালী’ নাম  দিলে,
শাসক মনুদেবের কামাগ্নির রোষানলে পরিণয় যামিনীতে মৃত্যু হলো প্রণয়প্রার্থী পুষ্পকুমারের;
তারই ভোগের লালসায় ‘নগরবধূ’ হলে রাষ্ট্রীয় বিধানে।
নৃত্যগুণ আর চৌষট্টি কলার পটিয়সী নগ্ন-পায়ে নূপুরের ঝংকারে উত্তাল হয় নগরবধূ;
স্বর্গের উর্বশী, রম্ভা ও ম্লান হয়ে যেতো তার রূপের মদিরা আর নয়নবহ্নির উদগ্র কামনায়।

বিম্বিসারের কর্ণগোচরে তোমারি প্রশংসা- চিত্তে সন্তরি ঢেউ উত্তলে উঠে,
তোমাকে পাওয়ার নেশায় যুদ্ধের দামামা বেজেছিল বৈশালীতে।
যাকে তুমিও মনে -প্রাণে চেয়েছো সে-ই আজ তোমারি  পাণিপ্রার্থী;
তবুও তুমি চাওনি রক্তপাত, হানাহানি নিজ রাজ্যের- তাকে পাওয়ার উচ্ছ্বাসে।
পিতা-পুত্রের প্রেমের হেতু রাজা হলো বন্দী নিজ অপত্যে।
যুদ্ধাহত প্রেমিক-পুত্রকে সেবা দিয়ে পাঠিয়ে দিলে নিজ রাজ্যে সসম্মানে।
এতোই রূপের কারিশমা -অকামুক সন্ন্যাসী শ্রমণ ও সেই জালে হলেন কুপোকাত।
কামনা-বাসনার উর্দ্ধে থাকা শত শত পুরুষ ও তোমার রূপে ডুবে মরেছে;
তুমি ছিলে না কারো একার, ‘নগরবধূ’ হতে গিয়ে পারোনি হতে কারো একান্ত আপনজন।
গৌতম বুদ্ধের মোক্ষ্যের মন্ত্রে দীক্ষিতা হয়ে ‘নগরবধূ’ থেকে হলে ‘অরহান্ত’।

ছবি- গুগল

মোট পড়েছেনঃ ১,৩৪০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩১টি মন্তব্য

  1. এই রুপ। সব করে সব পারে।
    রাজাই চালাই রাজ্য, রানী চালাই রাজাকে।
    এই রুপেই ট্রয়নগরি কতবার আক্রমণ হয়েছে। এই রুপের জন্য কত রাজা বা রাজপুত করেছে রাজাউপাধি ত্যাগ। বা করেছে রাজ্য ত্যাগ।
    রুপের এতোয় ক্ষমতা।
    সুন্দর উপস্থাপন আপু।

    1. অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া। মাথায় থাকলো ইতিহাস তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করবো। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন শুভকামনা অবিরাম। শুভ সকাল

  2. আম্রপালির জীবনকথা চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে কবিতায়। তার জীবনী পড়েছিলাম, অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর পুরাণ কাহিনী। গল্প আকারে লিখবেন আশাকরি।

    শুভকামনা রইলো আপু।

  3. “বিম্বিসারের কর্ণগোচরে তোমারি প্রশংসা- চিত্তে
    সন্তরি ঢেউ উত্তলে উঠে,
    তোমাকে পাওয়ার নেশায় যুদ্ধের দামামা
    বেজেছিল বৈশালীতে।”
    রাজা বিম্বিসার রাজ্যে আম্রপালি নামে কেউ ছিল কিনা জানা নাই। আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতায়।
    যা লিখলেন সুন্দর বারতায়।
    শুভ কামনা দিদি।

    1. দাদা আম্রপালী ছিলেন বৈশালীর আর বিম্বিসার ছিলেন মগধ এর রাজধানী গিরিব্রজের। তিনি প্রতীজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন তার পরলোকগত পিতার অপূর্ণ কাজকে পূর্ণতা দিবেন , মগধ সাম্রাজ্য কে গড়ে তুলবেন।তাই তিনি কোন সুন্দরীর প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে লক্ষ্য ভ্রষ্ট হতে চাননি কিন্তু আম্রপালীর রূপে গুণে মুগ্ধ হয়ে তাকে নিজের করতে চেয়েছিলেন তাতে করে বৈশালীকে সহজেই নিজের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। ধন্যবাদ দাদ। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন শুভকামনা রইলো আপনার জন্য

  4. গৌতম বুদ্ধের মোক্ষ্যের মন্ত্রে দীক্ষিতা হয়ে ‘নগরবধূ’ থেকে হলে “অরহান্ত”।
    অরহান্ত বুঝলাম না দিদি।
    এত অসাধারণ লেখেন। বুঝতে কষ্ট হয়। তারপরও পড়তে ভালো লাগে।
    শুভ কামনা।

    1. আপু আমি ও জানি না তবে মনে হয় ভিক্ষু দের সাথে শব্দটি জড়িত। যেহেতু মন্ত্র পাঠ এ দীক্ষিত হন ওদের ই ওটা অংশ বা নাম হবে। অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা রইলো। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভ কামনা অবিরাম

  5. ইতিহাসের একটি জনপ্রিয় ও বর্ণময় চরিত্র আম্রপালী।বৈশালীর নগরবধূ। বুদ্ধ স্নেহধন্যা। প্রশংসাযোগ্য লেখনী। কেবল একটি শব্দের প্রয়োগ ভাবাচ্ছে। ‘ কারিশমা ‘ শব্দটি এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সঠিক বা মানানসই হয়েছে কি!
    এ আমার সমালোচনা নয়, পাঠক মনের প্রশ্ন! শুভেচ্ছা নিরন্তর…

    1. দিদি প্রথমেই অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। এখানে কারিশমা শব্দটি সৌন্দর্যের বা রুপের স্বাভাবিকতা , আনন্দদায়ক অর্থে বা উপযোগী অর্থেও বলা যায় সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।যে রুপ দিয়ে সে সব পুরুষকে বশ করেছে সেটা তো সবার কাছেই স্বাভাবিক হয়ে গেছিলো যে তার রুপ দিয়ে যে কেউ তার কাছে কাবু হয়ে যেত। আপনার কাছে কেন এমন লাগলো যে ইতিহাসের সাথে মানানসই নয় এই শব্দটি বুঝলাম না! যদিও শ্রমণ তার দিকে কুনজর দেয়নি সেটা আম্রপালী নিজেই নাকি স্বীকার করেছিলো তাই সে বুদ্ধের মোক্ষ্যের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিলেন কিন্তু সেতো তাকে অবজ্ঞা ও করেনি। ভালো থাকবেন সবসময় শুভ কামনা রইলো।

      1. শ্রমণ তার দিকে কুনজর দিয়েছে, এমন কথা আমি বলিনিও বোধহয়… আর আমি আমার প্রশ্নটা বোঝাতে পারলাম না, এ কেবল আমার অক্ষমতা… ভালো থাকবেন… শুভেচ্ছা নিরন্তর…

      2. না দিদি আমি ইতিহাসটা বললাম আপনার কথা বলিনিতো। আমার লেখা লাইনটা আরেকবার ভালো করে পড়লেই বুঝতে পারবেন আমি কি বুঝাতে চেয়েছি। ধন্যবাদ দিদি। ভুল বুঝবেন না প্লিজ

  6. আম্রপালি সমন্ধে কিছুদিন আগে একটা আর্টিকেল পড়েছি। সেটা এতো চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুললেন কবিতায়। একেবারেই অতুলনীয়।
    ধন্যবাদ আপনাকে।

    1. আপু আপনাকেও ধন্যবাদ। যেটুকু জেনেছি নেটে তা খুবই সামান্য সেটুকু দিয়েই আমার এই ছোট্ট চেষ্টা। ভালো লাগলো জেনে খুশি হলাম। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন শুভকামনা অবিরাম

  7. দিদিভাই,
    আপনার কবিতাগুলি যখনই পড়ি তখন নিত্যদিন নতুন নতুন শব্দের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। যা মাঝে মাঝে আমার লেখায় প্রকাশ করার সুযোগটা পাই।
    একেই বলে জাত কবি।
    শুভ কামনা রইলো।

    1. আপনার কথায় সত্যি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলাম যে আমার শব্দ গুলো আপনার লেখায় কাজে লাগছে । আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন শুভকামনা রইলো

  8. আম্রপালির কাহিনীটা অনলাইনে পড়েছিলাম। তার কাব্যরূপে আপনার বর্নণা সত্যিই বেশ মানানসই হয়েছে আপু…….শুভ কামনা জানিয়ে গেলাম।

    1. অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া অনেক দিন পর আপনার মন্তব্য পেলাম। ইতিহাস টাকে ছোট্ট করে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। ভালো লেগেছে জেনে চেষ্টাটা সার্থক মনে হলো। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন শুভকামনা রইলো আপনার জন্য

  9. ইতিহাসের দারুন ইন্টারপিটেশান আছে এই লেখুনিতে। দারুন বর্নানা ধর্মী অন্তমিলের দক্ষ কারিগর আপনি।শুভ কামনা রইল।

    1. আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য পেয়ে। নিরন্তর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো

  10. কবিতায় ইতিহাস। অনেক সুন্দর লাগলো দিদি। বিশেষ করে ঐতিহাসিক শব্দের ব্যবহার সাথে বিগত দিনের হারানো ঐন্দ্রজালিক বিচ্ছূরণ। খুব সুন্দর।

মন্তব্য করুন