জন্ম দাগ

অনাবশ্যক সংযতচিত্তে গুটি বসন্তের মতো আমি জেগে উঠেবো পৃথিবীর নির্জন তম গ্রামের মোড়লের মুখে। আমার জন্ম দাগ মুছতে স্নো, পাউডার মাখতে থাকবে মোড়ালের বিগত তিন প্রজন্মের আউশধানের মতো নরম রমনীরা। অনাগত মোড়ালের নাতবউয়ের সাথে প্রণয়ের দ্বায়ে  আমি রাজবন্দী। তাঁকেই আমি হদিস দেবো কার উদরে আছে আমার জন্ম দাগ। পৃথিবীর মোড়লদের  মুখে গুটি বসন্তের দাগ হয়ে [বিস্তারিত জন্ম দাগ]

ব্যাসার্ধ

এইখানে নাভিশ্বাসের শরীর জুড়ে গম ছিটালে জননীর বোধের বেলনের নিচে, বাবার মুখের ব্যাসার্ধ নিয়ে  আমি রুটি ফুল হয়ে ফুটে থাকি পৃথিবীর শেষ ক্ষুধার্ত দাঁতের অপেক্ষায়  । নীলাদ্রি বুকের উঞ্চতায় রুটি ছেঁকে দিলে, আমি হয়ে উঠি বিনিময়ের কড়ি। আমাকে খুচরো করে পকেটে তুলে নেয় টুকটুকে লাল বিপ্লব। আমার পঞ্চম উত্তর পুরুষ ভিনদেশীর ভ্রমন বৃত্তান্তে খোঁজে বনবিবির [বিস্তারিত ব্যাসার্ধ]

বহন করা ইতিহাস

    বেলকনির উদরস্থ কপোত তড়িৎ প্রস্থানে উড়ে গেলেই, গুলির শব্দ! ঝাঁঝাল শরৎ সন্ধ্যা, বিপরীতে ঝুলিয়ে রাখা মানুষের বারবিকিউ, ঠাওর কর নীহারিকা আমাদের চোখগুলো কাটা চামচ হয়ে যাচ্ছে বেমালুম  । ঠাওর কর আমরা ঠিক বিপরীতে বসে  গিলে খাচ্ছি পরস্পরের দিগন্ত রেখার প্রান্ত বিন্দু ।আর আমাদের নাভিগোলকের ঠিক উপরেই ওরা টেনে দিচ্ছে তারকাঁটা। নিরেট আঁধারের বিপরীতে [বিস্তারিত বহন করা ইতিহাস]

কোলাজ ২৭

  বেজোড় সংখ্যায় ভীষণ রকম স্থিতি নিয়ে স্বপ্নের তৃতীয় স্তরে  জেগে উঠি পৃথিবীর নির্জনতম গ্রামে। গুটিবসন্তের মতো আমার একান্ত গ্রামের শরীরে জেগে ওঠে ইব্রাহিমের জোয়ার উঠান। আমি ভিষণ তোরে সলতে উষ্কে দিলে পুড়ে  যায় পিতামহীর দক্ষিণ হস্ত । আমার বুকের ঠিক মাঝখানটায় লুকিয় যায় শীতল বাষ্পের ইছামতী। মাছেরা মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায় বাতাবি লেবুর বাগান [বিস্তারিত কোলাজ ২৭]

কোলাজ ২১

একটি কোলাজ   যাত্রা ২   আমার নাভিমূলে ফোটা রক্তজবা তোর জরায়ুর জায়নামাজে সন্ধ্যা পূজার প্রদীপ হয়ে জ্বলে।  বাম পাঁজরে স্তনাগ্রের ছোঁয়ায় সেরে ওঠে আমার নিদারুণ আসারতার অসুখ । তুই, আমি, আর পৃথিবীর, বহুকৌণিক ত্রিকোণমিতির মানচিত্রে  জেগে উঠুক পৃথিবীর সর্বকালের যুগলদের স্বভূমি। পৃথিবীর শেষ রক্তজবা টি রুটি হয়ে ফুটক নবায়নযোগ্য ইশতিহারে পেটের ক্ষুধাই তো আরাধ্য [বিস্তারিত কোলাজ ২১]

মিছিল

  আমরা কি, তান্ত্রিক সাপুরের বাক্সকে জিভচেটে বানিয়ে ফেলবো পৃথিবীর থেকে এক বিঘাত লম্বা কাকতাড়ুয়া?   আমাদের পূর্বপুরুষকে যে থালায় বিষ মাখিয়ে ভাত দিয়েছিলো মহাকালের চরে জেগে ওঠা নিদারুণ মাইক ফুলের মত রমনি ।   সেই থালায় শশাফুলের তীব্র থেকে তীব্রতর হলুদে আমি ভ্যানগোগের পাইচারি দেখতে পাচ্ছি বেমালুম।   আমরা আগিয়ে যাচ্ছি বামপাজরের দিগন্ত রেখা [বিস্তারিত মিছিল]

কোলাজ ২৩

    আমার সাড়া শরীর জুড়ে শেকড় গজাচ্ছে পৃথিবীর বেওয়ারিশ হাসনাহেনার গন্ধেমাতাল কবিরা , বোধিবৃক্ষের শেকড় বুকের অলিন্দে বসে খতিয়ান কোষছে নাভিগোলকের তাপমাত্রা । আমাকে নৈবদ্যের মালা পরাতে চাও? তবে পুষ্পাঞ্জলি নয় হে বধির মহাকাল আমার মাথার খুপরিতে ভাত ছিটিয়ে দাও,ভাত আমাকে ধরে ফেলুক  কপট গেরস্থের সাপ্তাহিক হাটবার। আমি গরম জিলাপি হয়ে উঠে পরতে চাই [বিস্তারিত কোলাজ ২৩]

তোর ভীষন জ্বর হোক

    তোর শরীর কবে আড়ষ্ট হবে হৈমন্তী জ্বরে ? তোর  উষ্ণ শ্বাসটা আলোকলতার মত আলিঙ্গন করে আমাকে জড়িয়ে নেবে  না হয় সোনালুর ডালে। তোর মানবীয় যতো ব্যথা মহাবিশ্বের  সমান ভর করে তুলে দে আমার কাঁধে। আমি ভেবে নেই যেন প্রাক্তন প্রণয়িনীর প্রত্যাখানের পর, পৃথিবীর প্রচলিত প্রনয় উপখ্যানের প্রতি যে ঘৃনায় আক্রোশ নিয়ে নীল অন্ধকারে [বিস্তারিত তোর ভীষন জ্বর হোক]

ইসতেহার

    নীহারিকা, আমার এপিটাফে লেখে দিও সঙ্গমের ইসতেহার। চুম্বনে মেপে নিবো  প্রতি বর্গ ইঞ্চি পিক্সেলের দৈর্ঘ্যপ্রস্থ। সহস্র কাল ধর কোষেরা ছাদনা তলায় কাক ভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাক, পূর্বপুরুষের রাসলীলার  অভিশাপে। আমার সমাধীর জায়গা নির্ধারণ নিয়ে  হোক ত্রয়োদশ জাতীয় সংশোধনী। তুষার শুভ্র পদ্ম পাপড়ি উপর প্রলয় নিত্য করায় এ আমার রাজদন্ড। অতি মাত্রায় সরল আলাপে [বিস্তারিত ইসতেহার]

ইন্টারপিটেশান অব রিয়েলিটি

১৮০ কিলোমিটার বেগে আমার দিকে ছুটে আসছিলো  ফয়সাল। লুসিবিউটি পার্লারের অতটুকু রাস্তা ওর জন্য নস্যি। সজোরে  আমার পাজর এফোঁড়ওফোঁড় করে চলে গেলো রেডিসনের দিকে। বৃদ্ধ শকুনের মত ওর গা থকে ঝড়ে পরছে পুঁজিবাদ বিরুদ্ধ বয়ানের পূর্ণবয়ান। ও এখন রঙচঙে পিৎজ্জা বিজ্ঞাপন বানায়। গোলপাহাড়ের মোড় পেরুতেই এক কমরেড বান্ধবি আমায় উঁচিয়ে ধরলো লাক্সের বিজ্ঞাপনের সুবিশাল বিলবোর্ডে [বিস্তারিত ইন্টারপিটেশান অব রিয়েলিটি]

বাসর

    চুল বেয়ে পালঙ্কে উঠে আসে নীল গোখরো। মহাকালের পঞ্চ চাষী লাঙ্গল চালিয়ে দূরত্ব মেপে নেয় তোমার আমার বর্ধিত ব্যাসার্ধ। সারারাত পাশাখেলে আমাকে ধরে ফেলে মনসার স্পর্ধা। দংশনে আর বিষ ওঠে কই ? যতটা বোধ দখলে নেয় নিউরন । বুকের ঠিক মাঝখানে গজিয়ে ওঠে হাসনাহেনা, বকুলের বেওয়ারিশ ডালপালা। প্রিয়তমা, ধাতুপ্রকৃতির আলপথে হেঁটে কি ? [বিস্তারিত বাসর]

সময়

সময়   রোহিঙ্গার মুখে আঁকা পৃথিবীর মানচিত্র টরেন্টোর বেগম পড়ার, বড় বেগমের ছেলে মদে ঠাণ্ডা মিসিয়ে কয় – “এলকোহল ইজ গুড ফর হেল্থ “।   পাঠ্যবইয়ে আমার কবিতা পড়ায় বলে গ্লাসে মদ ঢেলে নেয় সরকার পক্ষী কবি, আবৃতি আর ধোয়া গিলে খায় জানালার বিপরীতের রোদ।   পৃথিবী কেমন আছে কবি???   ” আমার দাদীর মুখে [বিস্তারিত সময়]

কাকমানুষ

কাকমানুষ   নাগরিক রোদে গলে কাক হলো নির্বাচনী পোস্টার সহস্র নৈঃশব্দিক মিছিলে, বোধের বধ্যভূমি ঘেসে কাকমানুষ।   অভিকেন্দ্রে স্পন্দমান পৌনঃপুনিক যাত্রায় ইন্দ্র,বরুন,মহাদেব, দূর্গা,কেউ কি বাদ পরেছে?? প্রশ্ন তুললো  ওদের বাহকেরা।   ঘনকৃষ্ণ জলের খেয়া নৌকা পার করে, মিছিলে দাঁড়িয়ে ঈদিপাস,লেয়াস,জোকাস্টা প্রেতযোনিদের বস মানিয়ে, একই লাইনে অরেস্টিস।   স্বর্গ, মর্ত্য কে ব্যক্তত্বারোপ করা আদি কাহিনীকার একটি [বিস্তারিত কাকমানুষ]

বৃষ্টির বিলাপ

    অন্তর আত্মার নীল কুঠির সেখানে আগুন  গলে মোম হয়, বৃষ্টির জল যেন কেরোসিনের সল্তেকে  উষ্কে দেয় । সাঁঝবাতি হাতে দাঁড়িয়ে ডাহুকী শৈশব। মাটি পুড়ে খাক  মেঘের বুকের উষ্ণতায়, হাসনাহেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় খসে পরা একটা বেদনাতুর জলহাস। তখন মাটির শরীর জড়ে যৌবনের ঘ্রান আর আমার শৈশব চুরি হয়ে যাওয়া, তামাটে রাত,অথবা ডানা [বিস্তারিত বৃষ্টির বিলাপ]

যাত্রা

  প্রবল জীবন তৃষ্ণার ব্যাসার্ধে জেগে উঠি আবার অন্তর্ঘাতী  নৈঃশব্দিক দুপুরে !! মাতৃগর্ভের নিরেট অন্ধকার যাপন শেষে প্রাগৈতিহাসিক আলোর প্রলুব্ধ আহ্বানে পৃথিবীর  জীব রূপে লটকে যাই বোধের চরকে। চৈত্রের তৃষ্ণাতুর মাটি চুষে খায় চুয়ে পরা রক্ত। অস্থিমজ্জার মিছিল গিয়ে থামে কপট নিউরনে গহন ক্ষতির সাঁকো নিদারুণ অসারতায় বুকে পিঠে জল ছুঁয়ে দেখে পাড়ের ভাবনায়।   [বিস্তারিত যাত্রা]