নষ্ট টিসুর নির্বাক শরীর

বুকের ভেতর দগদগে ক্ষত আর নিঃসীম শূন্যতা,

কাঁধের ঝোলায় নির্লিপ্ত কর্মব্যস্ততা।

ভোঁতা অনুভূতির করাতে কাটা কষ্ট গুলো ঝরে পড়ে গাছের গুঁড়ির মতো।

নষ্ট টিসুর অব্যক্ত শরীর মন নিম সম তেতো!

মুখে স্মিত হাসা সেতো দায়িত্ব।

পাপড়িদের ও ঝরে যেতে হয়, ফুলেদের বৃন্তচ্যুত।

কিছু তারা খসে পড়ে, কিছু রয় অক্ষয় আলোকবর্ষ দূরে!

আমি মানুষ তাই বেঁচে থাকি ভালো থাকার ভান করে,

আমার ঝরে পড়া মানা,ভেতরে যদিও ঝাঁপটায় প্রাণ পাখিটার ডানা!

চোখে স্থবির মৃত সমুদ্রকে ধারণ করে দুঃখ গুলোকে ভাসিয়ে দেওয়ার নাম আভিজাত্য।

প্রকাশ পেলেই অনর্থ।

আমার হৃদপিণ্ডে রক্তক্ষরণ কালে ফিনকি দেখা যায় উৎসব আমেজের উল্লাসে!

আমার কষ্ট জয়ের গল্প শোনা যায় সোৎসাহে,কিন্তু কেউ জানেনা উপশম কিসে।

আমিও এখন এসব দেখে দেখে অভ্যস্থ অনায়াসে,

চমকে উঠিনা আচমকা আঘাতে!

অবাক হওয়ার ক্ষমতা নেই নষ্ট টিসুর নির্বাক শরীরে।

একটি মন্ত্র শিখেছি অভিজ্ঞতার বদৌলতে,

মানব জনম স্বার্থক হবে যদি পারি সর্বংসহা হতে।

 

#২০/০৮/২০২০ইং

মোট পড়েছেনঃ ১,১১৭জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৩টি মন্তব্য

  1. চিমটি কেটে দেখো! এখনো মরিনি….
    নিস্বাস নিয়ে যাচ্ছে বুকের করোটিতে আমার সকল সাফল্যের রোজনামচা।
    উনুনের হাড়িতে টগবগে ভাত
    আর ডালের উপচে পরা শৃঙ্খলতা আটকে দেই যখন তখন! আগুন আঁচে সেঁকে নেই দুচোখের ভেজা নুনের জল।
    নির্লিপ্ত ঠোঁটে আলগা রং ঠেসে দিয়ে
    সঙ সেজে দাঁড়াই ঘরের বাস্তকোনের আয়নার সামনে; ঐ তো ও ঠোঁটে হাসি লেগে আছে দেখা যায়।
    মেডেলটা পেতে আর বাঁধা কোথায়?

    1. এতো সুন্দর ফিডব্যাক কবিতা!
      আপু এটা আমার সোনেলার আঙিনায় পাওয়া সেরা প্রাপ্তির একটি।
      অনিঃশেষ ভালোবাসা এবং শুভেচ্ছা জানবেন প্রিয় আপু।

  2. আমার হৃদপিণ্ডে রক্তক্ষরণ কালে ফিনকি দেখা যায় উৎসব আমেজের উল্লাসে!****
    অসাধারণ প্রকাশ আপুনি।
    শুভ সকাল।

  3. অসাধারণ ভাবনার বহিঃপ্রকাশ। কষ্ট জয়ের গল্পগুলো হৃদয়ের রক্তক্ষরণ এ চাঁপা পড়ে। পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ প্রতিটি প্রাণী স্বাধীনতার সাধ পেতে চায়। বুকের শূণ্যতা আর ক্ষত কর্মব্যস্ততাকে করেছে নির্লিপ্ত। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে লড়াই করছি প্রতিনিয়ত নিয়ম অনিয়মের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে। শুভ কামনা রইলো

    1. দিদি ভাই গঠন মূলক মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ এবং অফুরান ভালবাসা রইলো।
      ভালো থাকুন নিরাপদ থাকুন শুভকামনা থাকলো।

  4. কষ্ট পেতে পেতে মানুষ একসময় পাথর হয়ে যায়। তখন আর কষ্টগুলোকে খুব কঠিন মনে হয় না। চমৎকার কবিতা লিখেছেন আপু ।

    শুভ কামনা সব সময়।

    1. আপনার সাথে সহমত পোষণ করছি ভাইয়া টিস্যু মরে গেলে সেই অংশে অনুভব থাকে না।
      না সুখের না দুঃখের। তবুও জীবন চলে জীবনের নিয়মে।
      পড়ে সুন্দর মন্তব্য করে অনুপ্রাণিত করার জন্যে ধন্যবাদ ভাইয়া।
      ভালো থাকুন শুভকামনা সর্বক্ষণ।

    1. অশেষ ধন্যবাদ আপু।
      অনুপ্রেরণা পেলাম। সত্যি জীবনের একটা পর্যায়ে নানা ঘাত প্রতিঘাতে এমনই মনে হয়।
      আমরা ফ্রেন্ড হতে পারি?
      রিকো দেওয়ার জন্য আইডি লিংক পাইনি।

    1. আপু মন্তব্য মানেই অনুপ্রেরণা।
      আর সেটা প্রিয় মানুষের কাছ থেকে পেলে তো কথাই নেই।
      আপনার সুপরামর্শ আমি নিশ্চয়ই চেষ্টা করবো।
      তবে তাৎক্ষনিক অনুভব লিখি বিধায় সীমাবদ্ধতা থাকে।
      আমি খসড়া লিখিনা।
      তৎক্ষনাৎ লিখি।
      শরতের শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা রইলো প্রিয় মুক্তা আপু।

  5. এখানে এই লেখায় মন্তব্য আর প্রতি মন্তব্যের পর কী লিখব তা খুঁজে পাচ্ছি না।
    তবে আপার লেখায় কিছু নিপুণ-শব্দ ব্যবহার লেখাটিকে আরও সুন্দর করেছে।
    লিখুন লিখুন, পড়ি আর পড়ি।

  6. সময়ের সাথে সাথে সয়ে গেছে সবটা।
    সময়ের প্রলেপে সেরে গেছে দগ্ধ দগ্ধে ঘা’টা
    হয়তো কিছু সময় বাদে মিশে যাবে ক্ষতচিহ্নটা
    শুধু সময়ের অপেক্ষা
    সময় সব যন্ত্রণার উপশম দিবে হয়তো

  7. হ্যাঁ আপু সুন্দর বলেছেন কখনো কখনো মানুষ পাথরের চেয়েও কঠিন হয় যায়। তখন কিছুতেই কিছু এসে যায় না।
    আমার প্রোফাইলে গিয়ে লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানবেন।

মন্তব্য করুন