প্রিয় অনিমেষ!

অনেক দিন কিছু লেখা হয়না তোমাকে। আসলে কষ্ট মাপার যন্ত্র থাকলে বোঝা যেত ঠিক কত মাত্রার কম্পনে হৃদয়ের ক্ষরণ কালিতে ঝরে। একটা নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম না করলে একটা শব্দ ও লিখতে পারিনা। মাঝে মাঝে মনে হয় কষ্ট পেতে বোধহয় আমার সুপ্ত ইচ্ছে হয়। দাগ থেকে দারুণ কিছু হওয়ার মত। ধুর, ধান ভানতে শিবের গীত হয়ে যাচ্ছে।

একটা কথা জানতে ইচ্ছে করছে খুব।

আচ্ছা অনি,

তোমার একটা কবিতা ছিল “দুপুর তোমার পর্তুলিকা” শিরোনাম। তুমি লুকিয়ে কাকে দেখ বলতো, কবিতা না পর্তুলিকা?

দুটোই তোমার খুব প্রিয়, আমি জানি। তারপর ও মনের খচখচ এলোমেলো ভাবায়। প্রয়োজন আর প্রিয়জনের সংজ্ঞা দ্বিধায় ঘুরপাক খায়। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হতে পারেনা! একটু মান অভিমানের অছিলায় একটু বেশি মনোযোগ, একটু বেশি সময়, একটু বেশি ভালোবাসা পাবার। লোভ হতেই পারে তাইনা! দিনশেষে মানুষ আমিও। অভিযোগ করি যদি আরো দূরে সরে যাও।অভিযোগের আড়ালে যে গভীর আবেগ থাকে তা চাপা পড়ে যায় গ্রহনযোগ্যতার অভাবে। এমন নিরামিষ সেবনে আমি অভ্যস্ত ছিলামই।তুমিই স্বপ্ন দেখালে বাঁচার মত বাঁচতে, এক জীবনে আপন একটা বুকের খোঁজ তুমিই দিয়েছিলে। আমায় যদি সবসময় চুপচাপ গিলে ফেলতে হয় সব, হোক কাঁটা, হোক দুঃখ সুখ! তবে তুমি আমি আর কাছাকাছি হতে পারলাম কই।

আমাদের কথায় সুর, কথায় গান, কথায় ঘর সংসার।আমরা জ্বরে আক্রান্ত হলে কথা আমাদের সেবার অন্তর্ভুক্ত,আমরা মাথাধরা সারিয়ে তুলি কথার ঝাঁপি খুলে।আমরা চোখের জল মুছি কথার রুমালে। যদি কথা বলায় সীমারেখা টেনে দাও তবে নিরবতা হোক আমার প্রস্থানের নিভৃত উপায়।

অনি আমার অনি! তুমি জানো, ভালোবাসা কখনো কখনো কতটা রুক্ষ হয়, কতটা আঘাত হানে হৃদয়ে?  ভালোবাসায় কেউ ভাগ বসালে কতটা অসহায় লাগে সে অভিজ্ঞতা সম্প্রতি লাভ করেছ। সহনশীলতা বাড়াতে হবে এটুকু জানি বলেই এখনো বেঁচে আছি। তোমার সবকিছুকে ভালোবাসব তোমার মত করে এরকম বলে দিয়েছি মনকে।বুকের জ্বলুনিতে যদি আলসার হয় তাও তার গোয়ার্তুমি আমি মেনে নিবোনা। রবিঠাকুর বোধহয় ঠিকই বলেছেন, “ভালোবাসা কারে কয়,সেকি কেবলই যাতনাময়!”।

ভালো থেকো অনিমেষ।

ভুল বুঝোনা।

তোমার মোনালিসা।

জড় জীবনে আর কতটুকু….

৫৫৬জন ৫২৮জন

একটি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

মাসের সেরা ব্লগার

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য