মন খারাপের উঠোন

 

মন খারাপের উঠোন।

চলমান যান্ত্রিকতার যুগে দৈনন্দিন  কাজগুলো আমরা করে থাকি ঠিক ই।জীবনের গতিকে নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি হিসাবে।যে যত সঠিকভাবে  নিয়ন্ত্রণ  করতে পারবে,সে ততই  সফলভাবে  জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।তবে এর মাঝেও যে কখনো ওঠা নামা  হয়না  তা কিন্তু নয়।আর হয় বলেই আমাদের “মন ” ও একটু বিচলিত হয়।।

 

আমাদের কোন কারণে মন খারাপ হলে আমরা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজি। কাছের মানুষ কিংবা অন্য কারো সাথে গল্প করে মন ভালো করার চেষ্টা করি। সেটায় আসলে মন ভালো হয় না। বরং মনটা অন্যদিকে ডাইভার্ট হয় মাত্র। সেটাও অবশ্য খারাপ না।

 

এমনিভাবে মন খারাপের সময়টাতে কোন একজন বা বহুজন মানুষ বারবার এমন আশ্রয় দিলে, তার  বা তাদের উপর একটা নির্ভরশীলতা তৈরি হয়ে যায়। মন খারাপ হলেই ইচ্ছে হয় মানুষটার  বা মানুষগুলোর কাছে ছুটে যেতে। তারা সবাই  একটা ভরসার জায়গা হয়ে যায়। তখন ভাবতে ভালো লাগে যে আমার এলোমেলো কথাগুলো শেয়ার করার একটা  বা অল্প কিছু মানুষ অন্তত  আছে।

 

কিন্তু সেই মানুষটাই যখন চলে যায়___ বা অন্যরা  বিরক্ত হয়, তখন নিজেকে ছন্নছাড়া আশ্রয়হীন যাযাবর মনে হয়। তীব্র ঝড়ে, কড়া রোদে কিংবা কনকনে শীতে দৌড়ে গিয়ে যে দরজায় কড়া নাড়তাম, সেই দরজা এখন চিরতরে বন্ধ। এই বিশাল পৃথিবীতে আমার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। ভাবলেই কেমন যেন একটা নিঃসীম শূন্যতা গ্রাস করে ফেলে নিজেকে।

 

একটা সময় মনে হতে পারে সবার হারানোর ভয়।অন্যসব কাছের মানুষগুলোর  জন্য ভীষণ  মায়া জন্মায়।

 

আমার মন খারাপের সময়টাতে যে  বা যারা পাশে থাকে, যে বা যারা  আমার সবরকম গল্প শোনে, আমার মন ভালো করার চেষ্টা করে, তাকে  বা তাদেরকে আমি ভয় পাই। তার  বা তাদের প্রতি জন্মানো মায়াকে আমি প্রচণ্ড রকমের  ভয় পাই। ভয়টা অবশ্যই তাকে  বা  তাদের কে হারানোর।

 

যদিও ধীরে ধীরে মন খারাপটুকু সহনীয় হয়ে যায়। কিন্তু মন খারাপের গল্প বলার শেষ মানুষটাও চলে গেলে তা সয়ে নেয়া অনেক কঠিন কষ্টদায়ক।।

“তাই সবাই মন খারাপ যাতে না হয়,ভালোবাসা দিয়ে সব কিছু করি জয়।”

সকলের মংগল কামনায়—– জয় হোক ভালোবাসায়।

ফিরে না আসুক মন খারাপের উঠোন।।

ভাল থাকার মিছিলের জয়গান।।

মোট পড়েছেনঃ ৭৭২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৩টি মন্তব্য

  1. জীবনতো মেশিন নয় যে চলতে থাকবে। জীবনে চাই সজীবতা । জানালায় বসে গরম চা হাতে নিয়ে বৃষ্টি টিপটিপ শব্দের সাথে গান শুনো ‘আমার পরাণও যা চায়——-

      1. ঊর্বশি @আমি আগেই আঁচ করতে পেরেছি যে, মহী ভাই আপনার পরিচিত বেশ। এবং আপনার পোষ্টেই সে এভাবে কেবল বেশি বাক্য ব্যায়ে মন্তব্য করেন।
        শুভস্য……

    1. ফয়জুল মহী,
      তোমার মন খারাপ হলে তুমি বুঝি রবীন্দ্রসংগীত শুনে থাকো? ভাল উপদেশ দিয়েছো,প্রয়োজনে আগামীতে মেনে
      চলবো। আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ভাল থেকো, শুভ কামনা

  2. মানুষ সহজাত আবেগপ্রবন। সহজাত জীবনে মন খারাপ একটা স্বাভাবিক নিয়তির মত। কেউ সামলে নিতে জানে। কেউ কেউ মনের আশ্রয় খোঁজে মন খারাপের বিলিবন্টন করতে। কখনো হিতে বিপরীতও হয়ে যায় আশ্রয় খোঁজা মানুষের কাছ থেকে যখন আরো বেশি মন খারাপের কারন ঘটে যায়।
    মন খারাপ হলে মন ভালো করার উপায় তখন অজান্তেই হারিয়ে যায়। কাছের কেউ হতেই পারে মন খারাপের সঙ্গী। আবার সেই কাছের কেউটা সবসময় নাও দিতে পারে সময়।
    আমার মন খারাপ হলে আমি নিজেই নিজেকে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করি। আর….. কাউকে নির্ভর করাটাই ভয়ের…. হারাবার ভয়। পাওয়া যায়না তো এমন নির্ভরতার কাছের কোনো বন্ধু বা স্বজন! পাওয়া গেলেও….. থাকোনা বাপু… দূরেই থাকো যেমন আছো। মন খারাপের সঙ্গী কাউকে করতে নেই!

    সুন্দর এক বিষয় নিয়ে লিখেছেন।
    শুভ কামনা।

    1. বন্যা লিপি আপু,
      প্রথমেই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, এত সুন্দর গঠনমূলক পরিপাটি করে মন্তব্য করার জন্য।শুধু মন্তব্যই নয় সাথে দোয়ার ভান্ডার। খুব ভাল লেগেছে আপনার প্রতিটি কথা। আন্তরিক ধন্যবাদ সহ শুভ কামন।

  3. আজ তোমার মন খারাপ মেয়ে- বাপ্পা দার গান টা খুঁজে পেলাম আপনার লেখায়। মন খারাপের মতো খারাপ কিছু আর নেই, তখন সবকিছু অসহ্য হয়ে উঠে। বন্ধুবান্ধব, আত্নীয়স্বজন কাউকেই ভালো লাগে না মাঝে মাঝে। সবাই আপনার মন ভালো করতে পারবে না তাই গান শোনা, মজার মজার ভিডিও দেখাটাই শ্রেয়। হারানোর ভয় কষ্টের তাই বেশি আপন ভেবে কাউকে সব শেয়ার করাটা বোকামি , হিতে বিপরীত হতে পারে। ভালো লাগলো আপু।

    1. সুপর্না ফাল্গুনী আপু,
      আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সুন্দর মন্তব্যের জন্য। ভাল লেগেছে আপনার প্রতিটি লাইনের লেখা। ভাল থাকবেন শুভ কামনা সব সময়।

  4. বন্য্যা লিপি আপু,
    আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
    আপনার চিন্তা ধারা একদম সঠিক।
    ফয়জুল মহী, সঠিকভাবে সবাইকে সঠিক মন্তব্য
    মন্তব্য করবে বলে আশা রাখি।
    সকলের জন্য অফুরান শুভ কামনা।।

মন্তব্য করুন