গেঁয়ো মেয়ে

সেই হতভাগী গেঁয়ো মেয়ে
যার সকাল খোয়া গেছে মহাকালের আগে।
তাই প্রেমের ভাগশেষ কবিতায় জাগে!
গোধূলির আলোমাখা বিকেল বিবর্ণমুখ!
সূর্য নামে পাটে অমীমাংসিত অনুরাগে!

সেই হতভাগী গেঁয়ো মেয়ে
ছিলো হয়তো চঞ্চলা কৈশোর সারল্যে ভরা!
আজকে সে অভিজ্ঞতায় জীর্ণ আটপৌড়া!
চোখদুটো আর অকারণ ব্যথায় ছলছল করেনা!
আবার হর্ষ – বিষাদে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলেনা!

সেই হতভাগী গেঁয়ো মেয়ে
গাছে ছড়া, মাছ ধরা,গোল্লাছুট খেলা মনে আর পড়েনা!
সেই কোমলপ্রাণে জায়গা পেয়েছে ডালনা – বাটনা।
হরিণির মতো দুরন্তপনায় মন আর নাচে না!
কোকিলের কুহুতানে আকুল হিয়া ব্যাকুল হয়না!

সেই হতভাগী গেঁয়ো মেয়ে
আজ অবসর কাটে জানালার গ্রীলে আকাশ দেখে,
পুকুর পাড়ের খোলা মাঠে,, ক্ষেতের আলের ডাকে,
মরচেপড়া স্মৃতি স্মরণিকা কাঁদে অপারগতার দুঃখে!
সন্ধ্যাতারা অদৃশ্য প্রায়, নিয়ন আলোর বাঁকে।

মোট পড়েছেনঃ ১,৮৬৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৯টি মন্তব্য

  1. করুণ প্রকাশ — ” সেই হতভাগী গেঁয়ো মেয়ে

    যার সকাল খোয়া গেছে মহাকালের আগে।

    তাই প্রেমের ভাগশেষ কবিতায় জাগে!”,। দারুণ লেখা। শুভ কামনা।

    1. আমার আপত্তি আছে…. ছবিটা বোঝাতে ব্যাবহার করা হয়েছে, আলতা রাঙা, কাচের চুড়ি পরা, সবুজ শাড়িতে এলো চুলে যে মেয়েটা একদা দাপিয়ে বেড়াতো খালের নৌকো বা পুকুর পারে কলসিভরার ছুঁতোয়,
      এ সেই মেয়েটার প্রতিকী। যখন সে নিরাসার চোখে জানালার গরাদে চোখ রেখে হাতছাড়া হয়ে যাওয়া আকাশ দেখে আটপৌরে গৃহকোনের ভেতর, সে ছবিটা এখানে দেয়া হয়নি। সেটা দিলে কি উচিত বিচার হতো? আমার মনে হয় না।
      দেয়া ছবিটাতে বরং বুঝে নিতে পারি, হতভাগী মেয়েটার পরবর্তী রুপ!
      ধৃষ্ঠতা মার্জনীয়।

      1. আপু আপনি একদম ঠিক ধরেছেন। আমি এটাই বোঝাতে চেয়েছি। আমরা যারা শৈশব কৈশোর গ্রামে কাটিয়েছি, হয়তো বৈবাহিক কিংবা কর্মসূত্রে শহরে বাস করি। দুরন্ত কৈশোর কিভাবে হঠাৎ উদাস করে তোলে স্মৃতিকাতরতায়।
        সেই অর্থেে মেয়েটিকে হতভাগী বলেছি।

    2. ভাইয়া আমি কবিতার নাম অনুযায়ী ছবি দিয়েছি।
      তবে আপনার মূল্যবান মন্তব্য পরবর্তী পোস্ট করার সময় আমি নিশ্চয়ই মাথায় রাখবো।
      গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

      1. আসলে ভুল বা ঠিক সেটির নির্ণায়ক থেকে অমন বলিনি।
        শিরোনাম এর সাথে ছবি খুব ই সঠিক ,
        তবে লেখার শেষে এসে গেঁয়ো মেয়েটির বর্তমানের যে ছবি মনে আসে সেটি এমন না,
        এটি ই বলেছি। অন্য কিছু না।

  2. হেলাল ভাইয়ের সাথে আমিও একমত, কবিতার বিষয়বস্তুর সাথে ছবিটা মিললো না। কবিতা অসাধারণ লিখেছেন। একদা চঞ্চলা, গেছো মেয়েটি আজ বন্দী হয়েছে জীবনের অভিজ্ঞতার জীর্ণ আটপৌরে বন্ধনে। স্মৃতি বিজড়িত হয়ে অনুভব করা যায় অতীতকে কিন্তু তাকে আর আলিঙ্গন করা যায় না। শুভ কামনা রইলো

    1. আপু আপনাদের অভিমত শতভাগ ঠিক।
      আমি আসলে নামের সাথে মিল রেখে ছবি দিয়েছি।
      অগ্রজ হিসেবে সবসময় ভুল ত্রুটিগুলো তুলে ধরে লেখার মানোন্নয়নে সহযোগিতা করবেন আশা রাখছি।
      আন্তরিক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা রইলো আপু।

  3. এমনিই তো হয় গেঁয়ো চঞ্চলা,হরিনী উচ্ছল কিশোরী মেয়েরা! তারপর দুম করে আকাশটা নাই হয়ে যায় চেনা জগত থেকে। এক লাফে গিয়ে বন্দী হয়ে পরে আটপৌরে জানলার গরাদের ওপাশে। ভাগ্য কার আর কবে কতদিন কোনো গাঁয়ের মেয়েকে চঞ্চলা হরিনী থাকতে দেয় বা দিয়েছে?
    শুধুই স্মৃতী খুঁজে ফেরা। আর ফেরা হয়না পুরোনো মাঠে, নদীর কুলে, পুকুর পাড়ে, বকুল তলায়!
    ভালো লিখেছেন।
    শুভ কামনা।

  4. নারী এ সমাজে সবসমই অবহেলিত। আমাদের জীবন ব্যবস্থা নারীদের তাদের নিজেদের সমস্ত শখ আহ্লাদ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছি নিজেদের স্বার্থে। নারীকে ভোগ্যপণ্য করেছি, নারীকে সংসারের চৌকিদার বানিয়ে অধিপতিরা পায়ের উপর পা তুলে নাচায় আর তামশা দেখে।

    নারীদের শিশুবাৎসল মনকে বোঝার চেষ্টা কেউই করিনা।

    চমৎকার লিখেছেন আপু। শুভকামনা জানবেন।

    1. খুব সুন্দর বিশ্লেষণ করেছেন।
      আমি এটাই বোঝাতে চেয়েছি।
      অনেক ধন্যবাদ মন্তব্য করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য।
      শুভকামনা রইলো।

  5. সেই হতভাগী গেঁয়ো মেয়ে
    আজ অবসর কাটে জানালার গ্রীলে আকাশ দেখে,
    পুকুর পাড়ের খোলা মাঠে,, ক্ষেতের আলের ডাকে,
    মরচেপড়া স্মৃতি স্মরণিকা কাঁদে অপারগতার দুঃখে!
    সন্ধ্যাতারা অদৃশ্য প্রায়, নিয়ন আলোর বাঁকে।
    ———–এই একটি স্তবকই পরিপূর্ণ কবিতা।

    1. আপনার ভালো লাগার মধ্য দিয়ে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস স্বার্থক হয়েছে।
      আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানবেন সুহৃদ।

মন্তব্য করুন