প্রিয়তমা সোনেলায় ৫০ তম চিঠি !

 

এ মোর স্বপ্নের রানী, কতদিন হয় না দেখা তোমার পানে। মনে হয় কত যুগ হলো পার আমার এ ভাঙা পায়ে হোঁচট খাওয়া মনে। অথচ এই আমি নিরন্তর তোমার বুকে রঙ ছড়িয়ে খেলেছি হোলি ৫০ তম এ চিঠি খানি লিখব বলে। তীরে এসে কুলে ভিড়ব বলে অনাহুত ঝড় ঝাপ্টা পিছু টানে মোরে।

ভালোই তো ছিলাম প্রতিসপ্তাহে একটি করে লিখতাম চিঠি আকাশের ঠিকানায় য় ফেইস বুকের কল্যাণে। বন্ধুর আবদার মিটাতে গিয়ে তোমার বুকে সাঁতার কাটি দিবানিশি আমারি অজ্ঞতার ভুলে। অনভিজ্ঞতার কারনে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে হুমড়ী খেয়ে ভেঙেছি পা, নাক ও মুখ। তোমার বুকে কত অভিজ্ঞ লোক সাঁতার কাটে আমি ও এই সৌভাগ্যবানদের একজন হতে চেয়েছি।

সবাই আমার প্রেরণার উৎস ছিল। তাদের আবদার মেটাতে গিয়ে কাজে দিয়েছি ফাঁকি। তবুও দিইনি কান্তি। তোমার অভিজ্ঞ গুনীদের অনুসরণ করতে গিয়ে কে কিভাবে লিখে কিভাবে মন্তব্য করে অথবা প্রতিউত্তর দেখার ছলে দিনে বার বার করেছি বিচরণ তাদের নাট্যশালায়। অথবা বাসার নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় বার বার আঙুল নিয়েছি নিষিদ্ধ জায়গায় নিজের অজান্তে বা ভুলে। যাতে সহসা তোমার দেখা মেলে।

এই একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধে মিডিয়া ট্রায়াল হলো। তাও সহজ সরল মনে জানতে চাইলাম। রিলোড বা রিফ্রেশ মানে দুইটি সিম্বল কোথায় থাকে ? এই অজ্ঞতার অমার্জনীয় ভুলে লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়।

মানুষ যখন বিপদে পরে খড় কুটা নিয়ে বাঁচতে চায়। আমি ও বাঁচতে চেয়েছি তোমাকে নিয়ে। টেলিভিশন আর মিডিয়ার শব যাত্রা বাদ দিয়ে এই করোনা কালে। তোমার কাছে আশ্রয় চেয়েছি কারণে অকারণে গৃহবন্দী হলাম বলে। সে যদি হয় অপরাধ ক্ষমা করে দিও প্রিয়তমা। অনেকের কাছে আজ আমি এক অপান্তেয় নিষিদ্ধ আর ভবঘুরে।

প্রিয়তমা, বই আর কাগজ পড়া ছিল নেশা দুরন্ত ছেলেবেলায়। সংবাদ , বাংলার বাণী আর একতা ছিল প্রিয় প্রত্রিকা। মানুষ যখন প্রত্রিকা বন্ধ করে করোনাকালে আমি এখনো পড়ে যাই নিরন্তর। জনকন্ঠ আমার নিত্যসঙ্গী, আমার প্রেম , পারি না বাদ দিতে। আমি লিখতে পারি, টাইপ করতে পারি না, বুড়ো আঙুলে লিখে যাই মোবাইলে রিদমিকে কিনা হয়নি জানা। প্রুফ রিডিং এর জন্য ছোট মেয়ের পিছনে ধর্ণা দিই। এর পরও সবার লেখায় দিনে ২/৩ বার করে গিয়েছি। পড়েছি বারবার। আর নিজের লেখা প্রিয়তে নিতে গিয়ে গুগলে গেলেই আসত তোমার কাছে লেখা আমার প্রেম পত্র খানি।

তোমার পাশে থাকার জন্য মন্তব্য করেছি ২০৮১ বার প্রতিউত্তর পেয়েছি ১৩৯৪ বার। অর্থাৎ ৬৮৭ জন গুনী স্বজনের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছি।আমি মনে করেছিলাম এটাই তোমাকে ভালবাসার মাপকাঠি।
জানি না তোমার মন পাওয়া যদি ব্যর্থ হই তবে ক্ষমা করে দিও।

পরিশেষে শরৎবাবুর ভাষায় বলি
“বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলে দেয়।
প্রিয় গানের কলি দিয়ে ইতি টানি।
হয়তো কাছে নাহি পাব তবু ও
তোমায় আমি দূর থেকে ভালবেসে যাব।
হয়তো দেখা নাহি পাব তবুও তোমায় আমি
সময় আর সুযোগ বুঝে উঁকি দিয়ে যা-ব।
কাজের ফাঁকে ব্যস্ত সময় ঠেলে।

প্রিয়তমা, তুমি দীর্ঘজীবি হও !
সবাই ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

আমার প্রোফাইলটা ফিচার করতে চেয়ছিলাম। জানি না বলে দেয়া হয় নি। তাই কপি পেষ্ট করলাম।
* নিবন্ধন করেছেনঃ ৫ মাস ১৪ দিন আগে
* পোস্ট লিখেছেনঃ ৪৯টি
* মন্তব্য করেছেনঃ ২০৮১টি
* মন্তব্য পেয়েছেনঃ ১৩৯৪টি
প্রিয় পোস্টঃ ৫৫টি

মোট পড়েছেনঃ ১,১০০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৯টি মন্তব্য

  1. প্রিয়তম/প্রিয়তমার প্রতি রাগ-অভিমান-আক্ষেপ-ভালোবাসার এক অপূর্ব স্মাহার।একেই হয়ত বলে প্রকৃত ভাল্পবাসা।
    পঞ্চাশ ক্যামনে কখন হলো! শ’ হতে দের করতে চাচ্ছি না।
    কতশত আবেগ-ভালোবাসার বিচ্ছুরণ, দেখে ভাল লাগে।
    শুভেচ্ছা আপনাকেই।
    আপনাকে ব্লগে দেখতে না পেয়ে চিন্তা করতে ছিলাম, কোথায় কোন ব্যাস্ততায় আতকে আছে কে জানে।
    ভাল থাকবেন অবশ্যই।

    1. কিভাবে কৃতজ্ঞতা জানাব আপনাকে
      শুরু থেকে যেভাবে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন
      প্রতিটি লেখার প্রথম কাতারে যেভাবে পজেটিভ ভাবে
      উৎসাহ আর সাড়া দিয়ে গেলেন
      ধন্যবাদ দিলে কম হয়ে যায়।
      ব্যস্ততা, সেতো বিগত দুইমাসের খেসারত।
      ভাল থাকবেন সবসময়। শুভ কামনা।

  2. দাদা দ্রুত সেঞ্চুরি র জন্য অগ্রীম শুভেচ্ছা রইলো। পঞ্চাশ সে-তো অনেক কম । কি লিখলেন দাদা! অসম্ভব সুন্দর ভালো লেগেছে। এতো দিন পাইনি তবে এই সেই কারণ? নিরন্তর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো

  3. “বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলে দেয়।
    প্রিয় গানের কলি দিয়ে ইতি টানি।
    হয়তো কাছে নাহি পাব তবু ও
    তোমায় আমি দূর থেকে ভালবেসে যাব।
    হয়তো দেখা নাহি পাব তবুও তোমায় আমি
    সময় আর সুযোগ বুঝে উঁকি দিয়ে যা-ব।
    কাজের ফাঁকে ব্যস্ত সময় ঠেলে।
    দাদা শরৎবাবুর ভাষায় না আপনার ভাষায় শুনতে পারলে আরো ভাল লাগতো। সুন্দর হয়েছে দাদাভাই।

  4. সোনেলাকে দেয়া চিঠিটা পড়ে ইমোশনাল হয়ে গেলাম। জানিনা এই চিঠি পেয়ে স্বয়ং সোনেলা কি ভাবছে। তবে আমি নিশ্চিত, এই চিঠি পেয়ে সোনেলার দুচোখ ভিজে গেছে আনন্দাশ্রুতে।

    দাদা, আপনি যে ভুল গুলোর জন্য অনুতাপ করেছেন এটা সোনেলা কখনো ধর্তব্যের মাঝেই আনেনি। সোনেলার প্রতিটি ব্লগারের লেখা ব্লগারদের কাছে যেমন প্রিয় আর আদরের, তেমনি সোনেলার কাছে এগুলো অমুল্য রত্নের মতো। সে তার ব্লগারদের ভালোবাসে, তাদের কষ্টে-যতনে গড়া সৃষ্টি লেখা গুলো ধারণ করে রাখে নিজের ভেতর। আপনি আপনার লেখা যতবার পড়ে আনন্দিত হয়েছেন, সোনেলাও খুশি হয়েছে আপনাকে আনন্দিত হতে দেখে। তাই ওসব নিয়ে আর মন খারাপ রাখবেন না। অজান্তে করা ভুল গুলো অনেক সময় নির্মল মনের সততার পরিচয় দেয়।

    মন্তব্যে তারতম্য থাকবেই দাদা। পাওয়ার চাইতে বেশি দেয়ার মাঝেই একজন সফল ব্লগারের সেরা গুণ প্রতক্ষ্য করা যায়। যারা লেখক হতে চায়, তারা শুধু লিখেই খুশি থাকেন। কিন্তু যিনি ব্লগার হতে চায়, তার পড়ার ব্যাপ্তি দিনে দিনে বাড়িয়ে দেন। তার পড়ার চিহ্ন রাখেন অপরের লেখায় নিজের মতামত দিয়ে।
    এখন আপনিই বেছে নিন আপনি আমাদের সোনেলা পরিবারের কি হতে চান। যেটাই বেছে নিবেন সোনেলা থাকবে আপনার সাথে 🙂 🙂

    ভালো থাকুন দাদা,
    শুভ কামনা রইলো 🌹🌹

    1. ও মাই গড, মন্তব্য নিয়ে আর একটা লেখা উপহার দেয়া যেত। ৫০তম লেখা টার আনন্দ ছিল উত্তেজনা ছিল। ২ মাসের অলস জীবন। ঈদ পুর্ব কাজের ব্যস্ততা লিখতে হলো দেরী। অবশেষে পেরেছি।
      “আনন্দ লোকে , মঙলা লোকে বিরাজ সত্য সুন্দর। “
      ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

  5. আয় হায়!! ৫০ তম লেখা হয়ে গেলো?? মনে হলো এইতো সেদিন!! করোনা কালে সোনেলায় আপনাকে নতুনরুপে চিনেছি জেনেছি। আপনাকে পেয়ে সোনেলা গর্বিত অবশ্যই।

    নিজের মতই থাকুন সবসময়। ৫০ তম লেখায় অভিনন্দন জানাচ্ছি দাদা। সোনেলায় আপনার পথচলা দীর্ঘতর হোক এটাই প্রার্থনা।

    1. ধন্যবাদ ভাইজান ,
      আপনারা পাশে ছিলেন বলেই হয়তো সম্ভব হলো।
      করোনা কালে বিভৎস্ প্রচারণা থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে মনোবল শক্ত রাখতে চেষ্টা করেছি। অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
      ভাল থাকবেন ভাইজান। শুভ কামনা।

  6. অর্ধশত পোষ্টের জন্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন দাদা। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই মাইলফলক স্পর্ষ করলেন।

    আপনি শুধু লিখছেনই না, অন্যদের লেখায় মন্তব্য দিয়ে তাদেরকেও লেখায় উৎসাহিত করছেন। একজন পারফেক্ট ব্লগারের এটিই গুন। সোনেলা আপনার মত ব্লগার পেয়ে ধন্য।

    শুভ কামনা অনেক অনেক।

    1. ধন্যবাদ ভাইজান ,
      আপনারা পাশে ছিলেন বলেই হয়তো সম্ভব হলো।
      না হলে এতো লেখাই হতো না।
      পড়ার মাঝে একটা আলাদা মজা আছে।
      আর নিজের মতামত জানানো একটা সৌজন্যতা বোধ একটু রপ্ত করেছি। সবাই কষ্ট করে লেখে।
      ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

মন্তব্য করুন