অবরুদ্ধকালের পদ্য

অবরুদ্ধকালের পদ্য || এক

মানুষেরই হবে জয়

করোনার ছোবলে, ধরাশায়ী আজ বিশ্ব
এর মাঝে কত জন, হয়ে গেছে নিঃস্ব;
কত প্রাণ ঝরে গেল, এই মহামারিতে
সকলেই বন্দী, লকডাউনের বাড়িতে।

লকডাউন থেকেও, নেই যে নিস্তার
করোনা করে যায়, তার থাবা বিস্তার;
চারিদিকে হাহাকার, ভয় আর শঙ্কা
করোনা বাজায় আরো, যুদ্ধের ঢঙ্কা।

জানা নেই এ রণে, জয় হবে শেষে কার
মানুষের জয় হবে, নাকি হবে করোনার;
দিন শেষে নিশ্চয়, মানুষেরই হবে জয়
করোনার ভাইরাসের হবে হবে পরাজয়।

হয়তো একদিন, কাটবে প্রদোষকাল
উজ্জ্বল আলোয়, ভরে ওঠবে সকাল;
আবার আকাশে, দেখবো ভরা চাঁদ
কেটে যাবে মনের, যত ভয় যত বিষাদ।

অবরুদ্ধকালের পদ্য || দুই

ভুলে যাই তারিখ বারের নাম

করোনাকালে, খাই আর শুধু ঘুমাই
ঘুম থেকে ওঠে, আবার খেতে চাই
এই করে করে, দিন করি গুজরান
অবরুদ্ধ কালের, কবে হবে অবসান?

এভাবে জানিনা, কতদিন চলবে আর
খাবার কিনতে, অভাব হবে যে টাকার
ফুরিয়ে গেলে ঘরের, কেনা চাল-ডাল
কীভাবে কাটবে বাকি, অবরুদ্ধ কাল।

ত্রাণও পাবো না, আমি যে মধ্যবিত্ত
না খেয়েও রাখতে, হবে প্রফুল্ল চিত্ত
সন্মানের ভয়ে, পাততে পারবোনা হাত
উপোষ করেই, কাটাতে হবে দিন-রাত।

এরমাঝেও দেখি, করোনার ভয়াল মুখ
ধেয়ে আসে সে, আগ্রাসী কী যে রূপ;
ভুলে যেতে বসেছি, তারিখ বারের নাম
এই গ্রহনকালে, কমছে জীবনের দাম।

গোদের ওপর বিষফোড়াদের মতো
কাল বৈশাখীর তান্ডবে ক্ষত-বিক্ষত
দেশের মানুষ আজ, বড়ই অসহায়
মহাপ্রভু ছাড়া, কে আর হবে সহায়।

১৯ এপ্রিল ২০২০

অবরুদ্ধকালের পদ্য || তিন

আবার হাসবে মানুষ

ঘুম থেকে জেগেই হতাশার কালোমেঘে
ঢেকে যায় মন, ছেয়ে যায় হৃদয়ের অলিন্দ নিলয়;
হঠাৎ ঝাপটে ধরে মনের বেরাম, ডিমেনশিয়া
রোগীর মতো মুহূর্তেই ভুলে যাই অতীত স্মৃতি।

মুছে যায় মনের যাবতীয় রং, দুচোখ ভাসে শুধু কষ্টের কালোমেঘ, সকালের চেনা রোদ
মনে হয় কত অচেনা, নিস্প্রভ, দ্যুতি হীন
অদৃশ্য অপয়া কুয়াশার মতো, এমনই
ভাগ্যলিপি আমাদের প্রতিদিনের ভোর।

জানালায় তাকালে দেখি-মাঠের পাকা ধান
পড়ে আছে অবহেলায়, কৃষকের চোখের
জলে নেমে আসে অকাল বন্যা, তার মাঝে
করোনার মৃত্যুর মিছিল, এগিয়ে আসে
জিকির তোলে, যমের অরুচি নেই, শেয়ালের
অরুচি দেখে শকুনও নামে না পথে, সে ও
ছোঁয় না মরা, উদাস বসে থাকে মগডালে।

প্রতিদিন স্বপ্ন দেখি ওঠে গেছে লকডাউন
মানুষের পদভারে মুখরিত লোকালয়, স্রোতের
অনুকূলে পানশী নাও ছুটে যায় দূরের কোনো
হাটে অথবা গঞ্জের গোদামের ঘাটে, বাস, ট্রাক
ট্রেন লঞ্চ নেমে এসেছে যার যার পথে
পথও ফিরে পেয়েছে তার পুরনো যৌবন।

বড় আশায় বুক বেধে আছে মানুষ
আসবে আবার সমুজ্জ্বল আহ্নিককাল, ফিরে আসবে হাসিময়, প্রেমময় দিন, কেটে যাবে করোনাকালের কঠিন আঁধার;
মানুষ আর প্রকৃতির নিসর্গপ্রেমে আবার
ফুলে ফুলে ভরে ওঠবে আমাদের পৃথিবী।

তাই ভোরের সূর্যের কাছে, বিষণ্ন প্রকৃতির কাছে
প্রণতি জানাই পৃথিবী অসুস্থ ভীষণ, ভোগছে
অদৃশ্য জ্বরে, আক্রান্ত আজ নিযুত মানুষ,
প্রাণভরে নিতে পারছে না সে বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস
মানুষের বিপন্নকালে কে দেবে আশ্বাস একটু সাহস বল, মনের প্রশান্তি, হে প্রভু তুমি ছাড়া
কেউ দিতে পারে দুস্থ মানুষকে পরিত্রাণ।

মোট পড়েছেনঃ ৬৯৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৯টি মন্তব্য

  1. “জানা নেই এ রণে, জয় হবে শেষে কার
    মানুষের জয় হবে, নাকি হবে করোনার;
    দিন শেষে নিশ্চয়, মানুষেরই হবে জয়
    করোনার ভাইরাসের হবে হবে পরাজয়।”

    মানুষের জয় হবে
    সেটা জানি নিশ্চয়
    মনোবল রাখি অটুট
    দুর করে সব ভয়।
    খুব ভালো লাগলো সব কবিতা গুলো।
    ভাল থাকবেন । শুভ কামনা।

  2. ভাইরাস নিপাত যাবেই, মানবের দৃঢ়তার জয় হবেই। মধ্যবিত্তরা মরবে বেশী লাজ লজ্জায়।সেই সকালটা কবে আসবে যেদিন জানবো আমরা মুক্ত এই মহিমারী থেকে , বুক ভরে প্রকৃতির খোলা হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে পারবো? ধন্যবাদ ভাইয়া। অনেক ভালো হয়েছে কবিতা। ভালো থাকবেন সবসময় শুভ কামনা রইলো

  3. মনের প্রশান্তি, হে প্রভু তুমি ছাড়া
    কেউ দিতে পারে দুস্থ মানুষকে পরিত্রাণ।
    .
    সৃষ্টিকর্তা সকলকে রক্ষা করুক।
    ভালো কাব্যকথন দাদা।
    শুভকামনা অনেক…

  4. মানুষের জয় হতেই হবে।
    দিন তারিখ ভুলে যাই আমিও, মনে রেখে কি হবে?
    আবার আলো আসবেই।

    ভালো লেগেছে তিনটি পদ্যই।
    শুভ কামনা ভাই।

  5. একদিন আসবেই জয়
    আর তা মানুষের ই
    মরণঘাতী মহামারী করোনা মানবেই পরাজয়

    তিনটি পদ্যই দুর্দান্ত হয়েছে
    ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন

মন্তব্য করুন