করোনার সময়ে…..

দাদা হয়েছি গতকাল। হসপিটালে ওটির সামনে বসে থেকে খুব গরম লাগছিলো। তাই জিএফসি স্ট্যান্ড ফ্যানটা হাই স্পীডে চালিয়ে সামনে বসেছিলাম। নাতনীর মুখ দেখে হসপিটাল থেকে বের হওয়ার পরই অনুভব করলাম গলাটা বেশ ভালোই ব্যাথা করছে। একটু আধটু হাচি কাঁশিও আসছে,করোনার এই সময়ে লক্ষণটা ভালো নয়। ভাবলাম একটা কড়া লাল চা খেয়ে গলা ব্যাথাটা কমিয়ে নেই। পরিচিত দোকানী রাত এগারটায় আমাকে কখনো ওর দোকানে দেখেনি। চায়ের কথা বলার পর দেখলাম অন্যদের অর্ডারে বানানো চায়ের কাপটাই আমাকে দিয়া দিল। চায়ের তীব্র গরম গলার ভেতর লাগলে হয়তো ব্যাথাটা কিছু কমবে এই ভেবে তীব্র গরম চা মুখে চালান করে দিলাম। জিহ্বাটা পুড়ে একটা ডাবল ব্যাথায় পড়ে গেলাম।

বাকী চা টুকু আস্তে আস্তে পান করছি, আর যাতে জিহ্বাটা আরো পুড়ে না যায়। পাশের ভাংগারি দোকানের ছেলেটা চায়ের দোকানে এসে চা রুটির অর্ডার করে আমার সামনের টুলটায় বসল। অন্য একজনকে জিজ্ঞেস করলো কাল থেকে নাকি সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে? সে বললো অবশ্যই বন্ধ করবে, টিভির খবর দেখিসনি? দেখলাম ছেলেটার মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেল। হয়তো তার ইনকাম বন্ধ হয়ে গেলে উপোস করার শংকা এসে মনে ভর করেছে। আমারও মনটা খারাপ হলো, কিন্তু এখানে যে আমাদের কারো হাত নেই।

মোট পড়েছেনঃ ১,২৫৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩০টি মন্তব্য

    1. ধন্যবাদ মমি ভাই, করোনা নিয়ে খুবই শংকায় আছি। আমাদের মতো ছোট খাট ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যত কি হবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। আমার বড় ছেলের ঘরের নাতনীটা কখন আসবে, করোনার মাঝে কোথায় ডাক্তার পাবো এমন শংকায় ছিলাম। এখন মনে কিছুটা শান্তি পাচ্ছি।

  1. আমার মনে সারাবিশ্বের এরকম ক্লান্তিলগ্নে এ যেন এক শান্তির দূত হয়ে আমাদের মাঝে দেখা দিয়েছে। নতুন অতিথি দীর্ঘ জীবন কামনায়, ওঁং শান্তি ওঁং শান্তি!

  2. অভিনন্দন ।এই দুঃসময়ে নাতির মুখটা দেখে মনটা ভরে গেল। দীর্ঘজীবী হও। আপনি নিজের খেয়াল রাখবেন। শুভ কামনা রইলো আপনাদের সবার জন্য

  3. এ সময়ে এমন সময়ে বেশি কিছু বলছি না, বলবো না (পরে) এমন-ও না।
    পাওনায় লিখে রাখলাম।
    শিশু-জীবন সুন্দর সাবলীল হোক তা কামনায় রাখি।

    মেঘ কেটে যাবেই।

  4. প্রথমেই দাদা সাহেবকে অভিনন্দন, নতুন অতিথিকে অনেক অনেক আদর আর ভালোবাসা দিলাম :)। দোয়া করি বড় হয়ে উজ্বল মানুষ হোক।

    টানা দশদিনের অবসরের কথা শুনে অনেক মানুষ যেমন খুশি তেমনি গৃহবন্দীত্ব মেনে নিয়ে অনেকেরই মন বিষন্ন হয়ে গেছে। কিন্তু নিত্ত খেটে খাওয়া মানুষের ভেতরে জমে যাচ্ছে আর্তনাদ। তাদের হাত-পা একদিন অবসরে থাকার মানে হলো নিজের পেট সহ ঘরের চুলাটিকেও অবসরে রাখা। সেখানে দশ দিন, তাও সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট নয়। এরপরে কি হবে কেউ জানি না 🙁

    আল্লাহ তার বান্দাদের সহায় হোন। আমরা তারই মুখাপেক্ষী।

    শুভ কামনা 🌹🌹

    1. নিত্য খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য সরকার কিছু একটা করার ঘোষণা দিয়াছে, কিন্তু সেটা কতোটা সবাই পাবে দেখার বিষয়…….শুভেচ্ছা জানবেন আপু।

  5. আপনি দাদা মানে আমিও দাদা। এই মন বিষন্নের সময়ে এমন একটি খবরে মন ভালো হলো ভাই। আপনাকে এবং ছেলেকে অভিনন্দন।

    নাতির জন্য অনেক দোয়া রইলো। সকলেই ভালো থাকবেন।

    আল্লাহ সহায়।

  6. অভিনন্দন
    নবজাতকের জন্য রইল অনেক দোয়া ও শুভকামনা
    বিশ্বব্যাপী মরণঘাতী মহামারী থেকে রক্ষা পাক।

    গত কয়েক দিন গলা ব্যথায় আমিও ভুগছি। সুস্থতা কামনা করছি।

  7. নাতী/নাতনীর জন্য অনেক দোয়া,

    সময়ের প্রেক্ষাপটে মানুষের চিন্তা চেতনা যেমন হয়,
    চমৎকার ভাবে লিখেছেন।

    আল্লাহ সবাইকে রক্ষা করবেন, তিনিই পরম দয়ালু।

মন্তব্য করুন