গুচ্ছ ছড়া

১ ||

খাচ্ছে জাতি বাঁশ ।।

শিক্ষামন্ত্রী মহাগুরু তার কথাই খাঁটি

সৃজনশীলে কত ছাত্রের

জীবন হলো মাটি।

 

তাও বেড়ছে জিপিএ-ফাইভ বাড়ছে এ-প্লাস

পাঠদানে হয় হেলাফেলা

হয় না কোথাও ক্লাস।

 

আজ জারি এক পরিপত্র কালকে ওটা বাদ

নানান রকম নীতির ঠেলায়

শিক্ষা যে বরবাদ।

 

এখন শুনি পিএসসি নাই দুহাজার  সাল থেকে

শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণায়

ওঠছে কেহ বেঁকে।

 

তাইলে কেন এই পরীক্ষায় হলো সময় মাটি

কেউ বোঝি নেই কথা বলার

তার কথাই খাঁটি!

 

লক্ষ-কোটি অর্থগচ্ছা নয়টা বছর নষ্ট

কেউ বুঝলেন না ছাত্রদের মন

বাড়ছে কেবল কষ্ট।

 

ক্লাস টু’তেও হচ্ছে এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস

শিক্ষার কি যে বেহালদশা

খাচ্ছে জাতি বাঁশ।

 

২||

শীতের দৈত্য করে নৃত্য (ছড়া)।।

 

মাঘের আগে বাঘ পালালো

পৌষের মাসের শীতে

মাখলে গা ও হয়না গরম

খাঁটি গাওয়া ঘি’তে।

 

শীতের দৈত্য করে নৃত্য

সারা বাংলা জুড়ে

সূর্য মশাই ঘুমিয়ে কাটায়

গরম কাঁথা মুড়ে।

 

ঠান্ডাবাতাস কাঁপন ধরায়

পথচলা যে দায়

তাই না দেখে শৈত্যদানব

আনন্দে দোল খায়।

 

বরফজলে ধরছে জেলে মাছ

কৃষকেরা দেয় জমিতে চাষ

শীতের ভয়কে তুচ্ছ করে

কাটায় শীতের মাস।

 

শর্দি-কাঁশি ঠান্ডাজ্বরে

ভোগছে বৃদ্ধ-শিশু

নাকের শর্দি মুছে মুছে

শেষ করে সব টিসু।

 

যাদের নেই গরম কাপড়

নেই লেপ কম্বল

মজা করে শীতের দৈত্য

ছিটায় ঠান্ডা জল।

 

শীতের দৈত্য তোমার প্রাণে

নেই কী দয়া-মায়া

সরিয়ে নাও বাংলা থেকে

তোমার বিরূপ ছায়া।

 

৩ ||

ছড়াকাব্য- ঘুম []

 

ঘুমপড়ানী মাসি পিসি

ঘুম যে গেল কই

সারারাত ঘুম আসে না

একলা জেগে রই।

 

সবাই ঘুমায় আমি শুধু

একলা জেগে থাকি

জেগে জেগে বিছানাতে

নীল বেদনা আঁকি।

 

রাত্রিও যে ঘুমিয়ে গেছে

জাগবে আবার ভোরে

কার কারণে গভীর রাতে

মন যে শুধু পোড়ে।

 

কেন আমার ঘুম আসে না

কে নিল ঘুম কেড়ে

আঁধার রাতে ভয়ের দানব

আসে ভীষণ তেড়ে।

 

ঘুম ছাড়া এ-রাতের প্রহর

ছড়ায় যে উৎত্রাস

একলা ঘরে একা একা

কেমনে করি বাস।

 

ঘুমের মাসি  এসো তুমি

মাথায় বুলাও হাত

দুচোখতে নামিয়ে দাও

গভীর ঘুমের রাত।

 

তুমি যদি দূরে থাকো

পাঠাও পিসি মাকে

রাত্রিজুড়ে আমায় যেন

ঘুম পাড়িয়ে রাখে।

 

৪||

করে দিও ক্ষমা ।।

 

চ্যাটিং চ্যাটিং চ্যাটিং

লাফিয়ে বাড়ছে রেটিং

দিবা-রাত্রি সারাবেলা

চ্যাটিং নির্যাতন

এবার তারে বিদায় দেবো

দেবো নির্বাসন।

 

আর সহে না প্রাণে

কেউ শোনে না কানে

চ্যাটিং কত বিরম্বনা

কাজ-কর্ম বরবাদ

চ্যাটিংহেড বন্ধ করবো

করুক আর্তনাদ।

 

হাজার পাঁচেক বন্ধু আছে

কেহ ধারে কেহ কাছে

সবায় চায় চ্যাটিং

আমি অধম বড় নাকাল

জবাব না দিলে সবাই

রাগ করে দেয় ফাল।

 

বন্ধুরাসব রাগ কর না

আমার সাথে ভাব ধর না

করলে কর ব্লক

চ্যাটিং এ নেই কাজ

জবাব দিতে না পারলে

নিজেরই লাগে লাজ।

 

কষ্ট থাকুক বুকে

সবাই থাকো সুখে

নালায়েক এই বন্ধুকে

করে দিও ক্ষমা

মনের মাঝে কেহ যেন

দুখ্ রেখ না জমা।

মোট পড়েছেনঃ ৯৯১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২০টি মন্তব্য

  1. পরিক্ষার ব্যাপারে প্রথম বাঁশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, কাজি ফিরজ রশিদের উত্তরে যখন পি এম বলল পরিক্ষা দিলে সাহস বাড়ে। তাই বলার মত সাহস কেউ রাখেনি। ের বিপক্ষে!!!!!!!!!!!!!!!!!
    আমরা দল কানা জাতি দলের বাহিরে নাই কোন নিতি আদর্শ বুঝি।

  2. এখন শুনি পিএসসি নাই দুহাজার সাল থেকে
    শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণায়
    ওঠছে কেহ বেঁকে।

    শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা আর মেনে নিতে পারছি না দাদা পারছি না,
    আমার ছোট নাতিনের কপালে পি.এস.সি-এর সার্টিফিকেট আর বুঝি জুটলো না।

    1. কেউ তো প্রতিবাদ করে না। কাউকে না কাউকে তো প্রতিবাদ করা উচিৎ। ছড়ার মাধ্যমে আমিই একটু প্রতিবাদ করলাম।
      ভাল থাকবেন। ধন্যবাদ!

  3. জিপিএ সিস্টেম আমাদের দেশে আর উন্নতবিশ্বের লেখাপড়ার স্টাইল এক নয়। এর জন্যই এত গ্যাঁড়াকলে পড়তে হচ্ছে আমাদের।

    হিম হিম শীতে অবস্থা টাইট ভাইজান। আপনিও সতর্ক থাকুন। নানান অসুখবিসুখ হচ্ছে। সহায়সম্বলহীন মানুষদের পাশে সবারই দাঁড়ানো উচিত।

    মায়ের তুলনা তিনি নিজেই। যার মা নেই কেবল তিনিই জানেন এ মর্মবেদনা। জগতের সকল মায়েরা ভালো থাকুন এটাই কাম্য।

    চ্যাটিং বিরক্তিকর জিনিস। আমি মেসেঞ্জার আনইন্সটল করে দিয়েছিলাম কিন্তু কাজের জন্য লাগে যে! তাই আবার ফেরা। তবে সবার মেসেজ সীন করার সময় হয়না ভাই।

    প্রতিটি কবিতাই অনেক ভালোলাগলো।

মন্তব্য করুন