গল্প লিখতে বসেছি আজ

খাটের উপর বসে আছি ল্যাপটপ এর সামনে । কি করি দেখার জন্য আশে পাশে ১ , ২ ,৩ দাড়ান একটু ভালো করে গুনে দেখি , ওরে বাবা ৫ জন !! কারো বয়সই ৭/৮ বছরের চেয়ে বেশি হবেনা তবে তার মধ্যে ২ জন আছে একদম পিচ্চি ,বয়স হবে বেশি হলে ৪ বছর , এই দুইজনের মুখের আধো আধো স্বরে বাংলা গালিও আপনার শুনতে ভালো লাগবে । এরা আমার পাশেই এই মুহূর্তে বিচরণ করছে কিন্তু কেউই জানেনা যে এদের কথাই মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এ টাইপ করা হচ্ছে ।

সবচেয়ে ছোট নিয়াজ কিছুক্ষন পর পর, , , , , ,

-মামা একটু কার্টুন দাও না ঐ ‘’হানি বানি’’ টা

=এইতো এক্ষুনি দিচ্ছি , লেখাটা শেষ করেই

-কতক্ষন লাগবে আর ?

=এই অল্প কিছুক্ষন তারপরেই দিবো

-ঠিক আছে মনে থাকে যেনো

এরপর আসলো নাজমুল ( নিয়াজের চেয়ে সামান্য একটু বড় হবে বয়সে )

-মামা তোমার ঐ শোকেজ এর ভিতরের প্লেন টা একটু বের করে দিবা ?

=না এখন বের করলে সবাইকে দিতে হবে, ঐটা পরে একা একা এসে খেলতে নিবা।

আচ্ছা মামা বলে আমাকে একটা চোখ মারলো (চোখ মারার মানে হল ব্যাপারটা আমাদের দুজনের মধ্যেই থাকবে)।

ইতিমধ্যেই এই কথা শুনে ফেলেছে মেহেদী, , , ,

-ওরে মামা এই কথা তাইলে !!! আমারে দিবা না প্লেন টা চালাইতে ?

আমি একটা চোখ মেরে বললাম, ‘’আস্তে বলো মামু তোমাকেও দিবো’’। (ও একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বললো ওকে মামা)

এই দিকে অন্য দুইজন সোফার কুশন গুলো সব নামিয়ে ঘরের মত কি যেন বানাচ্ছে, আমি জিগ্যেস করলাম কি বানাও এগুলো ? ওরা বলে ক্লাব ঘর মামা।

কিছুক্ষনের মধ্যেই আম্মু এসে ( আমার আম্মু ), ,

– হায়রে কপাল এগুলা কি করতেছো তোরা !! আমার সোফা শেষ আজকে , সাথে আমাকেও ধমক , ,

-তুই এগুলারে এখন বাসায় যেতে বল বাবু (বাসার সবাই আমাকে বাবু ডাকে)

=থাকনা আম্মু , তোমার নাতী হলে সেও তো এমন করবে, তখন তো আরও খুশি হবা

আম্মু মনে মনে কি যেন বিড় বিড় করছে তবে এইটা স্পষ্ট শুনলাম, ‘’খালি আছে বাসার মধ্যে পোলাপান নিয়া যত পাগলামি’’। আম্মুর প্রস্থান।

এদিকে নাজমুল তো কাজ সেরেছে । সোফার উপর দিয়ে একটা লাফ দিলো, এক লাফে ব্রডব্যান্ড এর তারের উপরে পরলো একদম রাউটার-টাউটার সহ ল্যাপটপ নিয়ে পরেছে ( এইবার আমি একটা ধমক দিলাম পর দেখি, আস্তে করে চলে যাচ্ছে নাজমুল, তারপর আবার ডাক দিলাম নাজমুলকে, নাজমুলের মুখটা দেখলাম একদম ছোট হয়ে গেছে, সে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে, আমি ওর দিকে তাকিয়ে একটা হাঁসি দিলাম পরে নাজমুল’ও লজ্জা লজ্জা মুখে নিচের দিকে তাকিয়ে হাসছে) আমার ল্যাপটপের ওয়াই ফাই আবার কাজ করেনা তাই তার দিয়ে সরাসরি ব্রডব্যান্ড কানেকশন নিয়ে ব্যবহার করতে হয়। যাইহোক যেহেতু এখন শুধু MS WORD এ লিখছি তাই ল্যাপটপ টা নিচ থেকে উঠিয়ে কানেকশন খুলে রাখলাম । এতক্ষনে নাজমুলের ঘটনার জন্য পরিবেশ টা একটু ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে । কিছুক্ষনের মধ্যে আবার নিয়াজ হাজির , , , ,

-মামা এখন দাও একটু কার্টুন, আর ভালো লাগেনা

=এইতো এক্ষুনি দিচ্ছি , আরেকটু, ,

একটু আগে মেহেদীকে তার আম্মু ডেকে নিয়ে গেলো একটা ঝাড়ি দিয়ে, ” রাত বাজে ১০ টা এখনও তুই বাইরে !!! আয় বাসায় আজকে। মেহেদী এক দৌড়, যাওয়ার আগে আমাকে বলে গেলো, শাফিন মামা মনে আছে তো প্লেন এর কথা ?

আমি বললাম হু মনে আছে তুমি ভাগো জলদি, – ওক্কে মামা বলে চলে গেলো মেহেদী।

 

যাইহোক এদের মধ্যে সবচেয়ে যে বয়সে বড় ওর নাম জিহাদ, জিহাদ এসে বসলো আমার পাশে। ল্যাপটপে কি লিখছি দেখা শুরু করলো। একটু লেখা পড়েই সাথে সাথে জেলামিন কে ডাক দিলো ( জেলামিন নাম শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই এটা তার বাবা-মায়ের দেয়া নাম, আমি বানিয়ে দেইনি, তারা তিন ভাই – রাজিব, আলামিন আর জেলামিন, জেলামিন সর্ব কনিষ্ঠ)

-জেলামিন এদিকে আয় তারাতারি দ্যাখ ‘’নাজমুল যে তার নিয়া পরে গেছে ঐ কথা লিখতেছে শাফিন মামা’’ ।

জেলামিন দৌড়ে এসেই আমাকে বলতেছে-

-শাফিন মামা আপনে এইগুলা ইন্টারনেটে ছাইরা দিবেন, তাইনা ? আমি বুঝছি।

=তুমি কচু বুঝছো ( সবাই হো হো করে হেসে দিলো, খুব মজা পেয়েছে আমি ‘’কচু বুঝছো বলাতে’’)

আবার ঘুরে ফিরে একটা টোষ্ট বিস্কুট খেতে খেতে নিয়াজ এসে হাজির , , ,

– শাফিন মামা তুমি মিথ্যা কথা বলতেছো, আমাকে কার্টুন দেখাবা না আমি বুঝতে পারছি, খালি ঘুরাও তুমি, আমি যাই তুমি লেখো ।

এরকম ইমোশনাল কথা শুনলে পাথরও তো গলে যাবে, নাহ এদের নিয়ে আর পারলাম না !!!!, যাই গিয়ে ব্রডব্যান্ডের লাইন লাগাই । একটু লিখতে পারলাম না আর আজকে। শুভ রাত্রি।

 

 

 

 

মোট পড়েছেনঃ ১,২৭০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৯টি মন্তব্য

  1. খুব মজা পেলাম ভাই আপনার লেখাটা পড়ে। এমন ভাইগ্না থাকলে লেখার বারোটাই বাজে। তবে এদের নিয়ে আমি খুব আনন্দ পাই ও করি। মাঝে মাঝে একটু বেশী করে ফেললে পিটুনীও দেই। ওহ হ্যা ল্যাপটপে এই একটি মজা খাটের উপর নিয়ে বসে লিখতে। আমি আপনার লেখায় মন্তব্য করছি খাটের উপর ল্যাপটপ নিয়েই।

    1. হা হা হা, হ্যাঁ ভাই আসলেই ল্যাপটপ খাটে নিয়ে ব্যাবহার করতে অনেক মজা। এরা সবই আমার প্রতিবেশী আমাকে মামা ডাকে আর আমার কাছেই এসে থাকে সবসময়। এরা পাশে থাকলে আমার কখনও একাকীত্ব অনুভব হয়না।অনেক ধন্যবাদ ভাই আপনার মন্তব্যের জন্য।

  2. গল্পচ্ছলে দারুন উপস্থাপন।
    তবে যাদের ল্যাপটপ নেই, তাদের খাটের পাশে উঁকিঝুঁকি বা ক্রমাগত লিখতে থাকা এবং
    মন্তব্যের উত্তর দেওয়া নিয়ে হায়-আফসোস করা ছাড়া আর কি-ই-বা করার আছে।
    শিশুদের সাথে সময় কাটানোর মত নিখুঁত/নির্ভেজাল আনন্দ আর কিছুতেই নেই, যদি তা কেউ নিতে পারে।

    1. লেখার কাজটা ল্যাপটপ এ করলে লেখা সংরক্ষন করে রেখে আবার পরে সময়মত সম্পাদনা করা সহজ। ফোন থেকেও অনেকে লেখালেখি করে তবে এটা একটু কষ্টসাধ্য , যেমন এখন আমি ফোন থেকে মন্তব্যের উত্তর দিচ্ছি।

  3. হা হা হা, অনেক ভালো লাগলো পড়ে। বাচ্চাদের সাথে থাকলে সব চিন্তা ভাবনা দূরে চলে যায়। আর বাচ্চারাও যাকে একবার মনে ধরে তার পিছু ছাড়ে না।

    1. আসলেই বাচ্চাদের মধ্যে কি এক অদ্ভুত ক্ষমতা !! মূহুর্তেই মানসিক চাপ দূর করে দিতে পারে । অসংখ্য ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

  4. হা হা হা, ছোটরা এমনি হয়। চাইলেও কিছু বলা যায়না। তাদের অবুঝ মনে খেলা করে নাম না জানা এমন অনেক কিছুই। জেলামিন নামটি পছন্দ হয়েছে ভাই।

    ছোটদের সাথে এমন খুনসুটি আমার নিজেরও পছন্দ। কথোপকথনরত লেখা গল্প ভালো লেগেছে। শুভকামনা রইলো।

  5. গল্প কিন্তু একটা ঠিকই পেলাম। মনে হলো সামনে বসে সব দেখেছি। আপনার প্রানবন্ত উপস্থাপনা মুগ্ধ করার মতো। পিচ্চিদের মনকাড়া হাসিই বলে দিচ্ছে আপনি তাদের কাছে কতটা জনপ্রিয়।

    জেলামিন ! এমন নাম হয় আগে কখনো শুনিনি!!

    আরও পড়ার প্রত্যাশায় রইলাম। শুভ কামনা 🌹🌹

    1. এই পিচ্চিরা আমাদের বাসাটা সবসময় মাতিয়ে রাখে । সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে ওদের একে অপরের নামে নালিশ করাটা । আমি আবার বিচারকের ভূমিকায় থেকে মজা নেই । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।

  6. লেখাটা পড়ে খুব মজা পেলাম। অনেক সাবলীল ভাবে লিখেছেন। ভালো লাগলো।এই পিচ্চিগুলোর কথা পড়ে আমার তিন ভাতিজার দুষ্টামীর কথা মনে পড়ে গেল।
    জেলামিন নামটা পছন্দ হয়েছে..😁

    1. জেলামিন নাম রাখা নিয়ে জেলামিনের বাবাকে প্রায়ই রসিকতা করে জিগ্যেস করা হয় যে, এটা আবার কেমন রাখলেন । অথচ জেলামিন সোনেলা ব্লগে এখন সুপারহিট 😍 । অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।

মন্তব্য করুন