চাওয়াদের না-চাওয়া

এই-যে ক্রমাগত না-হতে থাকা থেকে থেকে, না-ই হয়ে যাওয়া
বালখিল্যতার আনন্দ-বিষাদে মন্দ লাগে-না, আনন্দ না-আনন্দদের আতিশয্যে
গুলিয়ে ফেলে গুলতে গুলতে ঢক করে গিলে ফেলা; তা-ও মন্দ নয়,
আমরা যাব অরণ্য-গভীরে, কোন এক জানা-না-জানার বনে
নিশীথে বা মধ্য-দ্বিপ্রহরে ঘর্মাক্ত কলেবরে, ঘোড় সওয়ারির বেশ ধরে,
নগ্ন পায়ে-ও, হাঁটা-না-হাঁটার ভাব নিয়ে খেলতে খেলতে,
ক্রমাগত আড়াল নিতে থাকবো, প্রকাণ্ড কোন গাছ-কোঠরে,
এখানে-ই গাছেদের সাথে ঠায় দাঁড়িয়ে মিলিয়ে যাব, মিলেমিশে।

হয়ত কোন-এক-দিন
বজ্রের হ্রেষা ধ্বনিতে চৌচির হয়ে লুটিয়ে পড়বে
প্রকাণ্ড গাছটি, গাছ-কোঠর থেকে বের হয়ে আসবে
আজানুলম্বিত এক প্রস্তর মুর্তি, মার্বেল পাথরের ধাঁচে,
চোখ-চাওয়া হাসি নিয়ে;
তিরতির করে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে
বয়ে যাওয়া সময়-স্রোতের বিপরীতে!!

 

মোট পড়েছেনঃ ৫৫১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৪টি মন্তব্য

  1. প্রথম মন্তব্যকারী হিসেবে থাকার জন্য আপাতত লিখছি।
    “এই-যে ক্রমাগত না-হতে থাকা থেকে থেকে, না-ই হয়ে যাওয়া”—–শুধু এই একটি লাইন-ই আমাকে মনে করিয়ে দিলো, “out of sight, out of mind.” আপাতত এটুকুই। আবার পরে আসছি।

      1. চাওয়া আবার না-পাওয়া এবং না-চাওয়া থেকে পাওয়া, সমান্তরাল জীবন।
        সত্যি বলতে কি অনুভব করতে পারছি, কিন্তু বলে বোঝাতে পারছিনা। ওই পারা-না-পারা এবং বোঝা-না-বোঝা,
        এই আর কি;
        আপনি কমা(,)তে আর আমি সেমিকোলনে(;)। 😀

      2. কমা-কুমার থেকে সেমিকোলন অন্নেক সুন্দর!!
        আমতা তো আমরাই,
        ব্লা-না-বলাগুলো-ও বুঝতে নিতেই পারি!!
        অনুভবের আওতায় এলেই হপে!!

  2. ক্রমাগত না- হতে থেকে না-ই হয়ে যাওয়া…. না না না-ই হইনিতো এইযে এসে পড়েছি । :p
    অরণ্যের গভীরে যেতে টেতে পারবো না ,, বাঘ ভাল্লুক থাকতে পারে। তারচেয়ে
    ক্রমাগত আড়াল নিয়ে লুকোচুরি খেলা অনেক ভালু। 😀
    যাক বাবা এন্টেনা ছাডাই কুবিরাজ্র কুবিতা বুঝে ফেলছি। \|/
    ফাঁকি দিচ্ছেন কিন্তু । বেশী বেশী লেখা দেন।

    1. আর কুন চিন্তা নেই,আপনি এসে পড়েছেন!! আপনি নাই হতেই পারেন্না!!
      আড়াল, আড়াল ভালু খেলা, তবে বনজঙ্গল একটু হলে লাগে,
      বাঘ-বুঘ কুন ব্যাপার না,
      অবশ্যই আপনি বুঝতে পেরেছেন/পারবেন-ও।
      লেখা দিমুতো, আপনি নাই-নাই, তাই লেখাও নাই-নাই!!

  3. ভাইয়া সব কিছুই “না” হলে হ্যা হবে কবে?? ;?
    তবে নগ্ন পায়ে হাঁটা না হাঁটার ভাব নিয়ে খেলতে খেলতে যাওয়া এটা পছন্দ হইছে কিন্তু।

    1. কিছু কিছু ‘না’ আসলেই হ্যাঁ হয়-না, হবে-ও না, তবুও আমরা এই হ্যা বা না বৃত্ত
      কিছুতেই অতিক্রম করতে পারি পারি পারি-না,

      আপনাকে কিচ্ছুতেই পিচ্চি বলা যাছে না, বলা ঠিক-না!!
      তাই বলে পাক্কু-ও বলে বলে বলছি-না।

  4. নগ্ন পায়ে হাটা না হাটা ভাব নিয়ে খেলতে খেলতে যাওয়া, বজ্র হ্রেষা ধ্বনিতে বড় গাছটা চৌচিড় হয়ে লুটিয়ে পড়ে আজানুলম্বিত মূর্তি চোখ চাওয়া হাসি নিয়ে বেড়িয়ে আসা —– অনবদ্য।

  5. না হতে থাকা থেকে একেবারে নাই হয়ে যাওয়া কিংবা আনন্দ না-আনন্দের প্রশ্ন যেখানে…

    আমাদের এভাবেই চলে যাওয়া, খেলিতে খেলিতে হাসিতে হাসিতে ক্রমাগত অস্তমিত সূর্য্যের মত।

  6. সংসারের নিয়মটাই এমন, ধীরে ধীরে অধীর পায়ে আড়ালে লুকায়। এ বড় অদ্ভুত নিয়তি তবে প্রক্রিয়াটা বেশ জটিল এই ভবঘুরে সংসারের। হাহাকার হাহাকার রোমাঞ্চকর হাহাকার! ঠিক যেন লাশকাটা ঘরের রোমাঞ্চকর অনুভূতি।
    চোখ-চাওয়া হাসি নিয়ে;
    তিরতির করে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে
    বয়ে যাওয়া সময়-স্রোতের বিপরীতে!!

      1. প্রহেলিকা ফাঁকিবাজ হতেই পারে না। লেখাপড়া ভুইলা গ্যালে কি হের দোষ নাকি! গ্যাপগুপ দেয়া বন্ধ করেন। গ্যাপট্যাপ দিলে অরণ্যের গভীরে আর যেতে হবে না হে কবি

      2. ভুইল্লা যাওনেরতাই লিখে দেন, কী কী ভুলে গেছেন সেটি উল্লেখ করে দিলেই হবে,
        নাহ্‌, কুনই গ্যাপ দেইনি, আপনি পড়ার সময় পান-না তাই দিচ্ছি না!!

  7. একি অন্যায়! পড়েছিতো। মন্তব্য কই আমার? কতোকিছু বলে গেলাম, লিখে গেলাম সেসব নাই হতে হতে না ই হয়ে গেলো। তবে সময় স্রোতের বিপরীতেও তারা হয়তো আর বেঁচে ফিরবেনা। মানুষের মতো কথারাও কী প্রস্তর হয়ে যেতে পারে? লুকাতে পারে গাছের আড়ালে?
    নাহ এমন লেখা ভারী অন্যায়। এটা বেশি ভালো, না পরেরটা, একটা হলেই হলো। 🙁

    1. না-হয়ে যাওয়া মন্তব্য হয়ত পাথর হবে বলে লুকিয়েছে কোন অরণ্য অভ্যন্তরে!!
      বজ্রের অপেক্ষা আমাদের করতেই হচ্ছে!! করি-তা।
      মন্তব্যের উত্তর দেয়া খুব-ই কঠিন!!
      তা ঠিক বলেছেন, ভাই, হলেই হলো!!

মন্তব্য করুন