আমি সব্যসাচী –**সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের উদ্দেশ্যে**

আমি-ই সব্যসাচী...
আমি-ই সব্যসাচী…

মৃত্যুর আগে মরবো না আমি, তুমি নিশ্চিন্তে থাকো হে পৃথিবী।
সবুজের মধ্যে বর্ষার জলে চোখ ভেঁজাবো;
তারপর,
ধূলো-বালির প্রতিবাদী নগরীতে বাতাসে এই নি:শ্বাসের স্পর্শ রেখে,
বুড়িগঙ্গার জলের আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখবো।
মৃত্যু তো চিরন্তন!
সেই সীমাহীন মৃত্যুকে সীমায় বেঁধে দেয়া হয়েছে বলে কান্না কেন?
সব্যসাচী মানে বোঝো? যে দু’হাতে একইভাবে সমান কাজ করতে পারে।
আমি সেই সব্যসাচী দু’হাতে মৃত্যুকে জড়িয়ে নিয়ে
একই সাথে দু’হাতেই মৃত্যুকে ফিরিয়ে দিতে জানি তাচ্ছিল্যের সাথে।
তাই মৃত্যুর সামনে মরবো না আমি,
জন্ম দিয়ে যাবো আরেক আমায় আর এ জন্মের স্মৃতি।

মৃত্যুর সামনে মরবো না আমি...
মৃত্যুর সামনে মরবো না আমি…

হ্যামিল্টন, কানাডা
২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ইং।

মোট পড়েছেনঃ ৯১৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৯টি মন্তব্য

    1. সব্যসাচী এই লেখকের যে কবিতা আমার আবেগকে প্রথম কাঁপায়, সেটা সকলেই জানেন আপনারা, “নূরলদীনের সারাজীবন।”

      “নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
      যখন আমারই দেশে এ আমার দেহ থেকে রক্ত ঝরে যায়
      ইতিহাসে, প্রতিটি পৃষ্ঠায়।
      ————”জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?”

      নিন শুনুন—— https://www.youtube.com/watch?v=CbjGvIGGfC4

      1. আমাদের সিলেট এম.সি কলেজের ফয়সল ভাইয়ার কন্ঠে অসাধারণ লেগেছিলো কবিতাটা।
        সব্যসাচী এই লেখকের লেখা মঞ্চনাটকও দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার।
        মানুষটা চলে গেলেন। 🙁

    1. মজিবর ভাই সৈয়দ শামসুল হক প্রিয় একজন লেখক আমার। কি সাহস থাকলে বলতে পারেন দেশের মাটিতেই জীবনের শেষ দিন কাটাতে চান!

    1. আনিছ ভাইয়া মৃত্যু চিরন্তন। কিন্তু যারা মৃত্যু নিয়ে বেশী ভাবে তাদের কথা আলাদা। আমি জীবন নিয়ে ভাবতে ভালোবাসি। তেমনি লেখক সৈয়দ শামসুল হক মৃত্যুকে কিভাবে তুচ্ছ জ্ঞান করে সাহসের সাথে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

  1. মৃত্যুর সামনে মরবো না আমি…

    কি উচ্চারণ!

    এমন উচ্চারণের পরপরই মনে হয়, শব্দ কি না পারে! তলোয়ারের শাণকেও তুচ্ছ মনে হয় শব্দের কাছে।

    প্রিয় লেখকদের অন্যতম সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক।

    অফটপিকঃ এই সব্যসাচীর আরেক সব্যসাচীকে নিয়ে দেয়া পোষ্ট দেখে আমরা আশান্বিত।

    1. অফটপিকে এসব কি লিখলেন? সেই যোগ্যতা এ পৃথিবীতে আর কারুরই নেই। সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক একজনই, উনার মতো আর কেউ নেই। আসবেও না। কিছু কিছু মানুষ থাকেন যাঁদের পায়ের নোখের যোগ্যও কেউ হতে পারেনা।

      আমি অবাক হই কিভাবে মৃত্যুকে তিনি জয় করেছেন। আর এমন মানুষের প্রতি আমার পূর্ণতর শ্রদ্ধা।

      তা কোথায় ছিলেন এতোদিন?
      এসেছেন যখন
      তাহলে এখন
      তাড়াতাড়ি লিখা দিন। 😀

      1. মওকা পেয়েই দেশ ঘুরে এলাম। আপনাদের লেখা পড়তে দিন। মন্তব্যের জবাব দেয়ার আলসেমিটা আগে কাটিয়ে উঠি নাহলে সবাই বলবে অসামাজিক মানুষ।

        ইলিশ মাছের রেসিপি চাই এবার।

  2. সৈয়দ সামসুল হকের বই প্রথম পড়ি কলেজ জিবনে। পছন্দের লেখক।
    অনেক ভাল লিখেছো আপু।
    অফটপিক-ছোট মেয়ে এসেঁছে মাএ ৮ দিনের জন্য ভীষন ব্যাস্ততায় দিন কাটছে। প্রিয় সোনেলায় আসতে পারছিনা , কমেন্ট করতে পারছি না ঠীক মত। ভাল থেকো ভালবাসা জেনো নীলা আপু।

    1. মিষ্টি আপু সন্তানের উপর আর কিছু নেই। মেয়েকে সময় দাও।
      আমরা তো সবাই আছি-ই। আর সোনেলাও।
      ভালো থেকো। মা আর মেয়ের আনন্দ হাসির জোয়ারে ভাসুক। 🙂

    1. আমি সহজে মরছি না। কতোবার যে মৃত্যু থেকে ফিরে এসেছি।
      মরার আগে একটা স্বপ্ন আছে পৃথিবীর সুন্দর কিছু জায়গা ঘুরে বেড়ানোর। তারপরে ভাবছি মৃত্যুর কথা ভাববো। 😀

      লিখা দিন তো তাড়াতাড়ি।

  3. নীলা আপু, সব্যসাচী এই লেখকের বাড়ি কুড়িগ্রামে। এখন আমি যেখানে আছি। কিছুদিনআগে ঘুরে গেছেন।
    সত্যি, মৃত্যুর মুখে থাকার কষ্ট আর কিছুতে আছে কিনা জানি না। জানি না একোন অনুভূতি।
    সময়ের পোষ্ট।
    ভাল থেকো আপু।

    1. মৌনতা আপু হুম আমি জানি। কি দারুণ তুমি দেখেছো উনাকে?
      ইস আমার আর দেখা হলোনা। এ জীবনে আর তো হবেওনা।

      মানুষটা আজ একেবারেই ছবির মতো স্থির হয়ে গেলেন। 🙁

মন্তব্য করুন