আমি?

আমি। কে আমি? দেখে ঠেকে ঘেটে ঘুটে দুএকটি লাইন শিখে ফেলেছি। ন্যাকা মেকি কান্না আবেগ শিখেছি কিভাবে জোড়া দিতে হয় শুরুতে কিংবা শেষে। কেউ পড়ে বলবে হয়তো, আহারে মেয়েটা বড়ই দুঃখী। আমি তখন নিজেকেই নিজের বাহ্বা দেব। ঝুলিতে জমা করবো উচ্চ নাম।
কোনদিন হয়তো লিখবো পল্লীর সে মেয়েটির কথা যার গায়ে ট্যাগ বেশ্যা। কেঁদে কেঁটে বলেছিল আপু তুমি আমাকে তোমার সাথে নিয়ে চলো, তোমার সব কাজ আমি করে দেব, তোমার পায়ের কাছ থেকে নড়বোই না দেখো। কাঁদবো হয়তো আড়ালে, আহারে ময়না পারিনি তোকে নরক থেকে উদ্ধার করতে, এ সভ্য সমাজের নরক আরো ভয়াবহ বলতে পারিনি তাকে। ওদিকে বিদ্রুপ হাঁসিতে জীবন যাপন পর্যুদস্ত করে দেব হোস্টেলের সে মেয়েটির, কাকে যেন ভালোবেসে বা কোন ভুলে বাথরুমে সন্তান প্রসব করেছিল যে। আমাদের এই অচেনাতেই ‘আমি’, তবু প্রশ্ন প্রশ্ন। হায়, কেন নিজেকে এতো কম প্রশ্ন করি আমরা?
আমি? ধোঁয়া ধোঁয়া আজন্মের স্মৃতি কারো? রাতের পর রাত জেগে জুওলোজি বা বোটানির ছবি এঁকে দেয়া কারো ভীষন ভালো বন্ধু? অনাধুনিক খেয়াল? কারো উন্মত্ত রক্তাক্ত ঘেটে খাওয়া বর্তমান? ঘৃনা? অসহ্যের সিকুয়্যাল? দিনে দিনে সুন্দর হয়ে যাওয়া, গানের মধ্যে না বলতে পারা কিছু?
………………………আমি অস্তিত্ব কারো, কোথাও নিজেকে খুঁজে না পাওয়ার পর শেষ গলি ঘুপচির আস্তানা যেখানে খুঁজে পাই। আমি? অন্ধের যেমন লাঠিটাই বিশ্বাস। ২০ সেপ্টেম্বর, আশির্বাদ দাও, আরো একবার চলতে চাই, ক্লান্তি নয়, অভিশাপ নয়। ব্যাগপ্যাক কাঁধে অই হিমালয় পর্যন্ত চলা। পা টিপে আসছে কেউ। কে? আয়োজন? দূরে কোথাও বাজছে কি বাঁশি? রবি বাবুর গান?

মোট পড়েছেনঃ ১,০০৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৮৮টি মন্তব্য

  1. আমরা ওসমাজের
    একেক জন একেক রকমের
    মানুষ।
    নাম হয়ত ভিন্ন হই। এই যা।
    আমরা পারিনা কিছুই আবার করি কিছু।
    আমরা অনেক ন্সময় ঈশ্বরের থেকে সমাজকে বা মানুষকে বেশি ভয় করি!!!

    1. ওরে মেয়ে, স্পর্শ আর ভালোবাসা শিখিয়ে তোমার মাথা গোল্লায় গেছে। ও কেউনা ভেতরেই থাকা একজন। সে আমিও হতে পারি কিংবা আরেকজন।
      তুমিও দেখি লক্ষন চিনে ফেলেছ, বলতো আমি কে?

        1. মায়া আপু, শুন্য ইন্দ্রিয়ের ঘটনা জানো? আমি একবার ফেসবুক ডিএক্টিভেট করেছিলাম, তাজ ভাবলো আমি তাকে ডিলিট করেছি। মনের দুঃখে কান্নাকাটি করে, আমাকে খোঁজে (এইগুলা আমার বানানো অবশ্য), এরপর একদিন শুন্য ইন্দ্রিয় নামের একজন তাকে রিকু পাঠালো নাচতে নাচতে তাকে আমি ভেবে এক্সপ্ট করে নিলো। এরপর এলো সেই ভয়াল দিন। পোলা টা জানি কেমন কেমন মেসেজ দেয়। তাজ ভাবে, শুন্য আপু এমন মেসেজ দেয় কেনে রে? রঙ… নাকি? পরে দেখে অইটা শুন্য ইন্দ্রিয়, শুন্য শুন্যালয় না 😀
          এরপরের কাহিনী আমরা জানিনা। হ্যাঁ রে তাজ শুন্য ইন্দ্রিয় কেমন আছে? 😀

        2. হা হা হা বলে কি শুন্য ইন্দ্রিয় নিয়ে এতকিছু ঘটে গেছে। বেচারি তাজ শুন্যের খোঁজে প্রায় পূর্ণ হয়েই যাচ্ছিল।
          ও তাজ বলনা একটু শুন্য ভাইয়া তোমারে কি কি গল্প শোনাত? :p

  2. নিজকে আমরা আসলে চিনতেই পারিনা তেমন
    এটাই হয়ত মানবের স্বাভাবিক গুন
    চিনতে পারলে মহামানব হয়ে যেতাম সবাই
    কিন্তু মহামানবের সংখ্যা খুবই কম।

    আপনি তো লেখায় সত্যি মিথ্যে জুড়ে দিয়ে কিছু একটা দাঁড় করাতে পারেন
    আমি তো তাও পারিনা।

    গানটি আমার খুবই প্রিয়।

    1. মহামানব না হলেও নিজেকে সবারই কিছুটা চিনতে পারা উচিৎ, হতে পারে কারো দেখিয়ে দেয়া পথ ধরে।
      আপনি মিথ্যে জুড়ে দিতে পারেন না, এটাই আপনার গুন।
      গানটি আমারো প্রিয়।

        1. নিজকে আড়াল করতে সবাই জানে, আপনিও জানেন। এটা defense mechanism. সেটা কষ্ট হতে পারে। লেখাতে চতুরতা না আনাকে আমি আপনার মনের স্বচ্ছতা মনে করি। আপনি এমন বলেই তো আমার পছন্দের। 🙂

  3. আপনি কে? এর কত শত উত্তর আপনি নিতে চান বলুন?
    যেমন দুচারটা বলি । আপনি সোনেলার শুন্য,আপনি নওগাঁর শুন্য,আপনি ভোরের শুন্য,আপনি ছুটিপুরের না থাক এটা থাক। সব বাদ দিলাম আপনি তো আমার শুন্য আপু। 🙂

    1. তুই তো সব বুঝে গেলি, আমিই বুঝতে পারলাম না, তবে নিজেকে বোঝার জন্য তোদের সবার পথ চেয়ে থাকি।
      তুই আমার পিচ্চি ভূত, বড় লেখিকা তাজ আপু। (3

        1. হুম হতে পারে, সত্যি বলতে আমার নিজেকেই কিছু অচেনা লাগে মাঝে মাঝে। তাছাড়া নিজের ভালো-মন্দের জাস্টিফাই অন্যরা ভালো করতে পারে বলে আমার মনে হয়। অন্যরা অবশ্য এমনটা নাও ভাবতে পারে।

  4. নিজেকে যিনি চিনতে পারেন তার কাছে অতৃপ্ত হাজারো প্রশ্ন দেখা দিবে…এটাই স্বাভাবিক দিদি।নিজেকে বার বার পীড়া দিবে ঐ সব সমাধানে সামর্থহীন অতীত। -{@ আপনার লেখাটি বেশ অর্থবহ।

    1. আরে না কিসের অর্থবহ। আবজাব কিসব লিখি, নিজেরই পরে অপছন্দ হয়। 🙂
      তবুও ধন্যবাদ দিচ্ছি ভাইয়া। ভালো থাকবেন।

  5. আমি ? আমি একজন অক্ষম মানবসত্বা । আমি পারিনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে, পারি না অসহায়কে দেখাতে নতুন ভোরের সোনালী রোদে নাহাতে ।

  6. আমি কে ? এমন চিরন্তন অথচ কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি দার করিয়ে সাহসের পরিচয়
    দিয়েছেন যা সবায় পারেনা, কিন্তু আপনি পেরেছেন।
    আশির্বাদ নিয়ে আপনার প্রত্যাশানুযায়ী অনেকদূর আপনারা যাবেন তাই ই চাই।
    যাত্রা অব্যাহত থাকুক।

    1. বন্ধু স্বজন আছে চারপাশ জুড়ে। যখন যা চেয়েছি, পেয়েছি। তাই থেমে থাকবেনা এই যাত্রা, আশির্বাদ তো রয়েছেই। প্রশ্ন কঠিনের চাইতে উত্তর ঢের কঠিন, সাহস কিনা জানিনা, তবে নিজেকে অনেক শক্তিশালী ভাবছি।
      ২৪ ঘন্টা পার হয়ে গেছে সেই কখন ভাউ, লেখা দিন এবার।

  7. লেখায় একজন দার্শনিককে দেখা যাচ্ছে,যার নাম শুন্য শুন্যালয়।পা টিপে আসছে কেউ?এতদিন কৈ ছিলেন তিনি?আমার জন্য কেউ আসেনা 🙁

    1. আহারে সজু ডার্লিং, আপনার জন্যেও আসবে অপেক্ষা করুন। একবারে সব এসে পড়বে, তখন সামলাতে হিমসিম খাবে 🙂
      প্রানের মানুষ ছিল প্রানে 🙂

  8. কে আমি? প্রশ্নের উত্তর কি তুমি দিতে পারো?
    “আমি” এক অস্তিত্ত্বহীন অস্তিত্ত্ব কারো।
    জীবাত্মা এবং সত্ত্বার মিলিত রূপ
    হাসছো? আপত্তি নেই, করো বিদ্রূপ।

    ঘর এবং বাইরে একই মানুষের রং-রূপ-চরিত্রের কতোই না বদল। “আমি” মনেরও ভেতরের ভেতরে ঠাঁই নেয়া আরেক “আমি।” ধরা যায়না, চেনা যায়না, বোঝা যায়না। আমরা তাকে অন্ধকারেই রাখি, এমনকি এই পরিচিত “আমি”র সাথেও পরিচয় করিয়ে দেইনা।

    তোমার লেখায় জীবনের ঘ্রাণ পাই শুন্য আপু। -{@ (3
    লেখাটা এলো দিলাম, আউল-ফাউল লেখা। 🙂

    1. আমি তোমার লেখায় ঘ্রান নয়, জীবনকে চেটেপুটে নেবার স্বাদ পাই।
      অস্তিত্বহীন অস্তিত্ব, বেশ বলেছো কিন্তু তবে কি শেষে মায়া আপুই রইলো, আমার মাঝে আমিও নেই।
      আমি কে ধরার প্রচেষ্টা নিয়েছি আপু, মাথা তাই আউলা ঝাউলা 🙂
      শুরু করলাম তবে,
      কেউ আছে বসে পথ চেয়ে
      আজ নয়, কাল নয় তবে কবে কোথায় দেখা হবে?
      দেখা ছাড়াও হয় দেখা
      আমার ভেতর না হয় হোক
      তাই বলে নীলা নীলই রবে?

      1. আপু এটা কিন্তু ঠিক না। :@
        কতো কষ্ট করে মন্তব্য করলাম, আর তুমি এসে আমার লেখাকে চেটেপুটে খাচ্ছো ;(
        ওমাগো ;( ;( আমি কিভাবে মন্তব্য করবো গো মা।
        এতো সুন্দর করে লেখে আর আমার বারোটা বাজে মন্তব্য নিয়ে 🙁

        নীলা আর নীল রইবে কিভাবে? নীলার নীল তো নিয়ে চলে গেছে ওই আকাশ-নীল। 🙁

        তবুও জানি দেখা হবে, আপু ঈদের শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা -{@ (3
        https://www.youtube.com/watch?v=opfXMFt9su8

        1. দেখা হবে বন্ধু কারনে বা অকারণে 🙂
          না খেলে তোমার লেখার ভাইটামিন কিভাবে ছড়াবে বলো! হৃষ্টপুষ্ট শরীরে শব্দ ইমিউনিটির বড় অভাব। আমি আবারো ক্ষুধার্ত, কই তুমি?
          ঈদে মজাই হয় এখানে। কমিউনিটির অনেক গেস্ট আসে, যাইও। তবে রান্নার ধকল টা যে অসহ্য। 🙁

        1. গান শোন তবে, কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা মনে মনে। আমার মন খারাপ হলেই এই গান শুনি। 🙂
          তুমি আসো রবিবারে, আর সেদিন থেকেই আমার অফ শুরু হয়। কেন এমন যাওয়া আসা, স্রোতে ভাসা 🙁

  9. আপনার মাথাতো বেশ ভাল লোড নিতে পারে দেখছি!
    আমি গান পাগল তা জেনেই গেছেন। গানটা আমার খুব পছন্দের। আমি আবার গানে ভাসি পুরান সময়ে। আপনার এ গান আমাকে নিয়ে গেল ১৯৯৪-৯৫ এর দিকে বগুড়ায়। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। আমি আর আমার এক বন্ধু কবর খুঁড়ছি একটা কুকুরকে কবর দেব তাই। অনেক আদরের কুকুর ছিল তা। আমরা দু’জন ছাড়া বাসায় আর কেউ নেই। ঘরে ইন্দ্রানী সেন গেয়েই চলেছে। মজা না?

    1. তবে আমার কাছে আপনি হচ্ছেনঃ বেশ নাদুস নুদুসস হেড টীচার। চোখে গোল ফ্রেমের ভারী না হলেও হাল্কা একটা চশ্মা। হাতে ক’গাছা চুড়ি বা ব্রেসলেট আর খোঁপা করে চুল বাঁধা যিনি সারাক্ষণ সামনের দিকে চেয়ে থাকেন যাতে

      কেউ দিচ্ছে না তো ফাঁকি!
      কাজ কি শুধু আমিই করি?
      ধরা গেলেই দেবো ঝাড়ি,
      আচ্ছা, কেউ দিচ্ছে না তো ফাঁকি?

      :D) 😀 :D)

      1. 😀 আপনি ক্যাম্নে ধরলেন? 😀
        আসলেই এতো কাজ কি একা একা করা যায়। যত্তোসব ফাঁকিবাজের দল! কোথায় কোথায় গরুর মাংশ খায় আর বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়। :@

    1. আমি ভালো আছিতো রে আপু। এখানের আবহাওয়া সবসময়ই এমন চলে।
      এভাবে খোঁজখবর রাখিস আপু। যদি কোনদিন উত্তর আর না পাস?

      1. আপু আমি উত্তর পাবো না তা তো হতে পারে না। হয়তো দুদিন চার দিন পরে উত্তর পাবো। সেই কদিনই তো অস্থির লাগে। উত্তর/ খোজ পাবো না তা কখনও ভেবে দেখি নি। জানি না এমন হলে কি করবো? ভেবে দেখতেও চাই না। আপনি সব সময় ভালো থাকুন প্রিয় আপু। (3

  10. আমি ????

    উত্তম পুরুষে লেখা তে লেখার মান , লেখার গাম্ভীর্য ,লেখার গভীরতা , লেখার সারল্যতা

    ফুটে উঠেছে দীপ্তি শিখার মত ।।

    বরাবরের মতই শুভ কামনা

    1. অথচ এই হযবরল লেখা শেষ পর্যন্ত দেব কিনা এইটাই ভেবেছিলাম। ভালো লেগেছে বলে খুশিই হয়েছি ভাইয়া। অনেক ধন্যবাদ জানবেন।

  11. নিজকে আমরা কতটুকুই বা জানি?আমার মাঝে অন্য কোন আমি ঘুমিয়ে আছে হয়ত,যাকে আমি জানি আমাকে ভুলে গিয়ে কখন সে ভিতরের আমি অনিদ্দৃষ্ট গন্তব্যে যাত্রা করে কে জানে?তবে ফিরে আসাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।সেপ্টেম্বর আপনার কাছে বিশেষ কোন মাস মনে হচ্ছে।আমার কাছেও সেপ্টেম্বর একটি বিশেষ মাস আপু,যে কারনে আজ আমাকে দেখতে পাচ্ছেন।ভালো থাকুন আপনি।

    1. অনির্দিষ্ট গন্তব্যে যাত্রা করা উচিৎ নয়, পথ যখন ভুল। হ্যাঁ সেপ্টেম্বর আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন। আপনার লেখায় পড়েছি ভাইয়া। দেখতে চাই আপনাকে সবসময়ই সোনেলাতে। ভালো আছেন তো আপনি? আমি ভালোই আছি।

    1. লেখার কোন অংশ নিয়ে নিলে এত আনন্দ হয় জানা ছিলনা। খুশি হয়েছি স্বপ্ন। চাইলে পুরো লেখাই নিয়ে নিতে পারেন। কোনদিন যে এমন লেখা লিখবো !! ভালো থাকবেন।

মন্তব্য করুন