নিশি রাত

ভাবছি এবার রাতের কাছেই যাব, যে রাতে আমাকে নিশি পেয়েছিল, গা ছম্‌ছমে ঘর্মাক্ত রুদ্ধশ্বাস রাত, বিষণ্ণ অচৈতন্যের লণ্ডভণ্ড অনিঃশেষ নিশি পাওয়া রাত। না, নয়ানজুলি রাত নয়।

নিঃশব্দ কাকজ্যোৎস্নায় নীলরঙা হাসি হেসে ডেকেছিল অস্থির স্তব্ধতার মূর্তিমতী রাত, ভিজে অন্ধকারের খোলা চুল ছড়িয়ে। বিকেলের পাতা-ঝরা অরণ্যে মসৃণ সোনা পায়ে শুঁকনো পাতা ভাঙ্গার মৃদু শব্দ তুলে যেতে যেতে পলকহীন গাঢ় চোখে ফিরে তাকিয়ে লাল জবা সরু ঠোঁটে ফিসফিস করে কাছে আসতে বলেছিল খুনসুটির লোভ দেখিয়ে।

আধারের ঝিলিকে ঝলসে যাওয়া চোখে আধারের ঝর্নাটিকে মুঠোয় পুড়ে আধারের পল-অনুপলে লিখে রাখি যন্ত্রণার স্বপ্ন যাত্রার ইতি কথা।
আধারের বুকে বনজ্যোৎস্নার ছলকানো গন্ধ শুঁকে ঘুমিয়ে পড়ি, জেগেও উঠি ছটফটিয়ে।

থমকে দাঁড়িয়ে
মিথ্যুক হীরক-দ্যুতির চুপচাপ আলো খুঁজিই না এখন আধারের যৌবনে।

মোট পড়েছেনঃ ২,৪০৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৫৫টি মন্তব্য

    1. অস্থির উচ্চকিত হয়ে পড়লে হবে না । মনকে মনের জায়গায় রেখে পড়তে হবে ।

      না ,ভয়ের কিছু নেই । সুন্দর জায়গাও আছে এখানে । আমি এখনই বলে দিতে চাই না । পড়ুন তাই চাই ।
      চাইলে আপনি পরে আবার পড়ে দেখবেন ।

      1. অসুন্দর বলিনি কিন্তু, সুন্দরের বর্ণনাতেই কেমন একটা ভয় আছে। আমার কাছে মায়াবিনীর মতো লেগেছে তার কাছে ডাকা, তার অন্ধকারের চুল ছড়ানো, তার হাঁটা শোব কিছুই।

        1. আমি জানি আপনি মন দিয়েই পড়েন । তার পরেও বলছি । আপনাকে চঞ্চল মনে হচ্ছিল ।
          সুন্দর অসুন্দরের প্রশ্ন নয় । প্রশ্ন নয় ভাল কিংবা মন্দের ।
          এক ধরনের মায়াবিনী আবহাওয়া তৈরি করা হয়েছে । আবার সূক্ষ্ম ভালোবাসার বাতাস ছড়ানো হয়েছে ।

          আপনি ঠিক ধরেছেন ।

        2. আপনি ঠিকই বলেছেন ভাইয়া, ছিলাম মনে হয়।

          পল-অনুপলে যে স্বপ্নযাত্রার ইতিকথা লিখতে চেয়েছেন, এটা আসলে তার পিছু সেই যাত্রার কথা বলতে চেয়েছেন, এটা আমার বোঝার ভুল ছিলো।

          শেষ লাইনটায় একটা প্রশ্ন ।

          খুঁজিই না বলতে কি, আর খোঁজেন না? নাকি খুঁজে দেখতে চান?

    1. নিশি পেলেই এমন রূপ দেখা সম্ভব। তাছাড়া অন্ধকারেরও আলো অবশ্যই আচ্ছে।
      পড়ার জন্য ধন্যবাদ । আমরাও যে একটু পড়তে চাই।

  1. আধারের বুকে বনজ্যোৎস্নার ছলকানো গন্ধ শুঁকে ঘুমিয়ে পড়ি,জেগেও উঠি ছটফটিয়ে।’’—— অসম্ভব সুন্দর লাইনটা

    পুরো কবিতাটি দুইবার পড়লাম। ব্যতিক্রমী একটি কবিতা যা আমার মনকে শীতল করে দিয়েছে —

    কবিকে আন্তরিক ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি কবিতা উপহার দেয়ার জন্য ————

     

    1. আমি আনন্দিত আপনি আপনারা নিয়মিত পড়ছেন মন দিয়ে ্তা দেখে ।
      সত্যি সত্যি কবিতা হচ্ছে কীনা এ সন্দেহ নিয়েই লিখি ।

      আপনাকেও ধন্যবাদ পড়ার জন্য কিন্তু পড়তে দিচ্ছেন না দেখে  অধন্যবাদ ।
      চাকরিটা এবারে ছেড়ে দিন ।

    1. সে যে কী তা এখন ও পুরো জানা হয়নি,তবে সে এক নিশি পাওয়া রাত সেটুকু ই বুঝতে পেরেছি ।
      উর্বষী বা মেনোকা নয় তা নিশ্চিত ।

  2. নিঃশব্দ কাকজ্যোৎস্নায় নীলরঙা হাসি হেসে ডেকেছিল অস্থির স্তব্ধতার মূর্তিমতী রাত,ভিজে অন্ধকারের খোলা চুল ছড়িয়ে। বিকেলের পাতা-ঝরা অরণ্যে মসৃণ সোনা পায়ে শুকনো পাতা ভাঙ্গার মৃদু শব্দ তুলে যেতে যেতে পলকহীন গাঢ় চোখে ফিরে তাকিয়ে লাল জবা সরু ঠোঁটে ফিসফিস করে কাছে আসতে বলেছিল খুনসুটির লোভ দেখিয়ে। -{@

    খুব দারুন হয়েছে লিখাটা। -{@

  3. বর্ননাতে এমন একটা মায়া ভাব আছে আপনার সেই নিশিকে দেখতে পাচ্ছি আমি। মিথ্যুক হিরক দুত্যির চুপচাপ আলো অনেক সুন্দর উপমা। এমন ভাব জমে থাক আপনার আর সেই নিশি রাতের সাথে।

    1. তা ভাব একটু হয়েছে কিন্তু এই ভাব কতক্ষণ টিকিয়ে রাখতে পারি কে জানে ।
      যা হাসাহাসি শুরু হয়েছে তাতে ভাই গয় পাচ্ছি, ভরসা পাচ্ছি না ।

  4. বাহ্‌ বাহ্‌ । অবশেষে নিশি রাত ! কেউ কাৎ হয়েছে দেখতে মন্দ লাগছে না । হতে পারে তা সাময়িক।তবুও ।
    বহুৎ কাঁদিয়েছেন। এবারে  চাঁদু (সরি)! শুধু ঘুঘু নয় ফাঁদ ও দেখতে হতে পারে । হি হি ।

  5. “নিঃশব্দ কাকজ্যোৎস্নায় নীলরঙা হাসি হেসে ডেকেছিল অস্থির স্তব্ধতার মূর্তিমতী রাত,ভিজে অন্ধকারের খোলা চুল ছড়িয়ে। বিকেলের পাতা-ঝরা অরণ্যে মসৃণ সোনা পায়ে শুকনো পাতা ভাঙ্গার মৃদু শব্দ তুলে যেতে যেতে পলকহীন গাঢ় চোখে ফিরে তাকিয়ে লাল জবা সরু ঠোঁটে ফিসফিস করে কাছে আসতে বলেছিল খুনসুটির লোভ দেখিয়ে।”

    কী দারুণ স্বীকারোক্তি ! আমারই তো ভাব জমাতে ইচ্ছে করে । আমি এক মহা মায়াবিনী কে দেখতে পাচ্ছি ।
    দেখতে পাচ্ছি নাকের দড়িটিকেও।হো হো ।

  6. এই সৌরতারা ছাওয়া অন্ধকার রাত্রি
    বিছানায় সুক্ষ্মজাল মশারির
    আমার ম্লান স্বপ্নহীন চোখে .. দুরন্ত স্বপ্ন
    – এমত অস্থির উল্লাসে জেগে থাকা ছিলোনা কখনো এর আগে

    1. না না ,কিছুই আপনি মিস করেননি। খুবই কম লিখি আমি ।
      হ্যা ,রাত নিয়ে কিছুটা টানা হেচড়া চলছে।

      আপনার ওদিক কেমন যাচ্ছে ? আপডেট দিচ্ছেন না অনেকদিন ।

  7. অসাধারন!

    “থমকে দাঁড়িয়ে
    মিথ্যুক হীরক-দ্যুতির চুপচাপ আলো খুঁজিই না এখন আধারের যৌবনে।”

    অসম্ভব ভালো লাগল।

     

  8. মায়াবীনি নীল রাত!
    সাধে কি আর বলি শুন্য আপু আর আপনি দুজনেই অসাধারণ লেখেন।
    মন্তব্য না পড়লে বোঝার ক্ষমতা ছিলোনা। কয়েকবার পড়েছি মন্তব্য না দেখে। শুধু এই কথাটিই মাথায় এলো, “মায়াবীনি নীল রাত!”——-মনে হয় এ নিয়েই লেখা। তারপর মন্তব্যে গেলাম, অবশেষে কিছু বুঝিতে সক্ষম হইলাম।

    প্রণাম জানাই কবিভাই। 🙂

মন্তব্য করুন