পর্ব ১: স্টেশনের ছায়া
রাত দশটা বেজে পঁচিশ। ঢাকার কমলাপুর স্টেশন প্রায় ফাঁকা। একটা মাত্র ট্রেন ছাড়বে শেষ ট্রেন, চট্টগ্রামগামী। হালকা বৃষ্টি পড়ছে, প্ল্যাটফর্মে একটা অদ্ভুত নিস্তব্ধতা।
রাহাত, একজন গোয়েন্দা, ট্রেনটায় উঠলেন। তার হাতে একটা পুরনো ছবি। একজন মধ্যবয়সী লোক, চোখে পুরু চশমা, গালভর্তি দাড়ি। লোকটার নাম সালেহ চৌধুরী। ১৫ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন। সবাই ভেবেছিলো তিনি মারা গেছেন, কিন্তু তিন দিন আগে একটি অজ্ঞাত উৎস থেকে একটি চিঠি আসে
“আমি বেঁচে আছি। শেষ ট্রেনে উঠবেন। সব উত্তর পেয়ে যাবেন।
রাহাত ছবি হাতে যাত্রীদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে যাচ্ছেন। ট্রেন ছাড়লো। ভেতরে মাত্র ছয়জন যাত্রী। হঠাৎ, ট্রেনের আলো হালকা ঝাপসা হয়ে এল।
একজন বৃদ্ধ ধীরে ধীরে উঠে এসে বলল, আপনি রাহাত সাহেব?
রাহাত চমকে উঠে তাকালেন। মানুষটা অবিকল সালেহ চৌধুরীর মত, শুধু একটু বেশি বয়স্ক।
আপনি সালেহ সাহেব?
‘হ্যাঁ। কিন্তু আমার আসল পরিচয় জানলে আপনি ভয় পেতে পারেন!
রাহাতের গলা শুকিয়ে গেল। আপনি ১৫ বছর কোথায় ছিলেন?
“আমি লুকিয়ে ছিলাম। আমার একটা আবিষ্কার ছিল একটা যন্ত্র যা সময়কে বাঁকাতে পারে। সরকার চেয়েছিল সেটা। আমি দিইনি। আমাকে খুন করতে চেয়েছিল। আমি ট্রেনেই পালিয়েছিলাম। সেই ট্রেনেই আমি আটকা পড়েছি।
“মানে?”
“এই ট্রেনটা স্বাভাবিক না। এটা একবার চললে, সময়ের মাঝে হারিয়ে যায়। কিছু বিশেষ দিনে, কিছু বিশেষ সময়ে, এটা আবার ফিরে আসে। আজকের রাতটা তার একটি।
হঠাৎ ট্রেনের আলো নিভে গেল। জানালার বাইরে সব অন্ধকার, কুয়াশা, আর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। হঠাৎ করেই প্ল্যাটফর্মের মত কিছু একটা দেখা গেল—কিন্তু সেটা কমলাপুর নয়। বরং, সেটা ১৯৯২ সালের মত দেখতে।
রাহাত চিৎকার করে উঠলো, “আমরা কোথায় যাচ্ছি?
সালেহ চুপচাপ বললেন, “যেখানে সময় থেমে আছে। আপনি এখন শুধু একজন গোয়েন্দা নন, আপনি সাক্ষী হতে চলেছেন এমন এক সত্যের, যা সময়ই গোপন রেখেছে।
ট্রেনটা থামল। দরজা খুলে গেল।
সামনে লেখা—কমলাপুর স্টেশন
সাল ১৯৯২।
পরবর্তী পর্বে কী আসছে?
রহস্য কি আরও গভীর হবে?
রাহাত কি ভবিষ্যৎ বদলাতে পারবে?
সালেহ কি সত্যিই সময়ের ফাঁদে আটকে ছিলেন, নাকি সবই একটা খেলা?
পড়ুন ‘শেষ ট্রেনের যাত্রী পর্ব ২: অতীতের ছায়া
আসছে…..
২টি মন্তব্য
মনির হোসেন মমি
অপেক্ষায় রইলাম।টাইম মেশিনের বহু সিনেমা দেখেছি।আপনার শুরুটাও বেশ রোমাঞ্চকর।চলুক।
হালিমা আক্তার
অপেক্ষায় আছি পরবর্তী পর্বের জন্য। সত্যি সময়কে ধরে রাখার কোন মেশিন যদি পাওয়া যেত।