বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন কিছু কবি আছেন, যাদের শব্দে শুধু গল্প নয় সময়, জীবন আর নিঃশব্দ বেদনার দীর্ঘ প্রতিধ্বনি বাজে। জীবনানন্দ দাশ সেই বিরল নামগুলোর একটি।

১৯০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, বরিশালে জন্ম নেওয়া এই কবি ছিলেন নীরব অথচ অগ্নিময় এক সত্তা। তাঁর চোখে শহরের ভিড় নয়, বরং দেখা মিলতো শালিকের ডানা, ধানের গন্ধ, গোধূলির আলো, আর হারানো দিনের ব্যথা।

প্রেম তাঁর জীবনে এসেছিল শান্ত নদীর মত, আবার চলে গিয়েছিল হঠাৎ জোয়ার শেষে স্রোত থেমে যাওয়ার মতো। প্রেমে যেমন তিনি পেরেছিলেন সুখের স্বাদ, তেমনি বিরহে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন চিরন্তন কাব্যের অনুপ্রেরণা। হয়তো এই কারণেই তাঁর কবিতায় আমরা পাই অপেক্ষা, হারানো মুখ, দূরের প্রান্তর আর মৃত্যুর প্রতি এক অদ্ভুত টান।

জীবনানন্দের কবিতা কঠিন, কারণ তাঁর শব্দ বেছে নেওয়া ছিল অন্য রকম। তিনি চেয়েছিলেন পাঠক শুধু পড়ুক না, থেমে থেমে অনুভব করুক; শব্দের ভিতর লুকানো চিত্র, গন্ধ, স্পর্শ টের পাক। তাঁর ভাষা যেন ইতিহাস, প্রকৃতি আর অন্তর্গত মনস্তত্ত্বের এক গোপন মিশ্রণ।

বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির—প্রতিটি কাব্যগ্রন্থ বাংলা কবিতার ধ্রুপদী আসনে চিরকাল থাকবে। তাঁর কবিতার লাইনগুলো যেন সময়ের ওপরে খোদাই করা যা কালের ধুলোতেও মুছে যাবে না।

তাঁর জীবন শেষ হয়েছিল হঠাৎ ১৯৫৪ সালে কলকাতায় এক সড়ক দুর্ঘটনায়। কিন্তু তাঁর শব্দ, তাঁর নীরবতা, তাঁর নিঃশ্বাসের মতো ধীর কবিতারা আজও আমাদের ভেতরে বেঁচে আছে।

জীবনানন্দ দাশ আমাদের শিখিয়ে গেছেন, নীরবতাও কখনও কখনও সবচেয়ে গভীর কবিতা হতে পারে।

৬৯১জন ৩১৩জন

একটি মন্তব্য

মন্তব্য করুন