শহুরে আগন্তুক

এসেছিল সে নিশুতির চাঁদ-জ্যোৎস্নায়
গহীন স্তব্ধতার গা বেয়ে বেয়ে,
জোয়ারে উছল-উতল হয়ে, দু’কুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে,
ভিজতে-ভিজতে ভেজাতে-ভেজাতে;
কাক-ভেজা-ভেজা হইনি তা-ও-নয়।

সেবারে
দ্বীপানুতে ইলিশের পিঠে চড়ে পার হয়েছি
খরস্রোতা নদী, অদম্য শরীরী সবল সুস্থতায় জেগেছি
অহোরাত্রির নিঘুম-ঘুম-নদীতে,
ভরে উঠেছিল নদ-নদী এমনকি শাখা-প্রশাখা
কানায় কানায় কল-কল-ছল-ছল সশব্দে।

আগন্তুক-বেশে পুরনো ছল ছলা/কলা ঝেড়ে ফেলে
বা নূতনের মত নূতন কোন ছল করে ছল ধরে,
বহুগামিতার কালশিটে লাল-দাগ কপালে পড়ে হলেও
এসো আবার, অন্য কোন রূপে ভিন্ন ভিন্ন সাজে/রূপে;

ঈশ্বরের দোহাই,
একবার হলেও এসো
ভিজতে/ভেজাতে শুধুই একবার, শেষবার
কলকলা জল-জোয়ারের মতো;
তেতো/মিষ্টি পেত্নীর মতো।

হিজল সন্ধ্যায় তোমার আলপথে আজ নূতন নাগর,
চৌহদ্দি পেড়িয়ে বারান্দায় জাঁকিয়ে বসেছে,
তবুও বৃষ্টির অবগুণ্ঠনে এক বার এসো;

মোট পড়েছেনঃ ৭৯৭জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২০টি মন্তব্য

  1. ও মা ! এসে ছিল তো ভিজতে ভিজতে ভেজাতে ভেজাতে কিন্ত পাত্তা তো দিছিলেন না তাইলে এখন ক্যারে এতো হাহাকারী ডাক ডাকতেছেন কবি মশাই !!! এই প্রথম আপনার একটা কবিতার সব গুলো শব্দের সাথে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি পড়ার সময়, বাব্বা কি সব ভয়ানক কঠিন কঠিন কবিতা যে লিখেন আপনি ! পড়তে গেলে বাংলা অভিধান খুঁজতে হয় । 🙂
    তথাপি আপনার সব কবিতার দারুণ ভক্ত হয়ে গিয়েছি আমি , চমৎকার অনুভূতি তৈরী হয় মিট্টি কি খুশবুর মত ।

    1. আপনার এ প্রশংসা নেয়ামত হিসেবে মেনে নেয়ার সক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দান করবেন
      এ আশাও রাখছি!

      শুনতে পাই মিট্টি কা খুশবু খুব দামী!! সইবে কীনা বুঝতে পারছি না।

  2. বাপরে! কি আকুতি।
    এবার যে তাকে আসতেই হবে।
    কলকলিয়য়ে, ছলছলিয়ে।
    মুগ্ধ ভীষণরকম। কবিতায় ভালো লাগা শতো শতো।
    তাই তো মাইক লাগানো, হারিকেন জালানো, জোরে বলে ওঠা, হ্যালো শুনছেন!!

      1. জানান দিচ্ছে ভোরের শিশির।
        ঔষধি গাছ সুপ্তিতে আরামে ঝিমোচ্ছে
        আপনার কবিতায় ভালো লাগা শতো শতো কোটির হিসেব, এটা বুঝে নিতে হবে গুরুজি।
        তা লেখা কি আজ লজ্জাবতি লতা? এতো কম কেনো আসা?
        অপেক্ষা অপেক্ষা।

  3. সে কি এসেছিলো?
    এই কবিতা লেখার প্রায় বিশদিন তো হয়ে গেলো।
    যদি এসে থাকে, তবে একধরণের মন্তব্য। আর না এলে অন্যরকম। আগে জেনে নেই উত্তরটা।

মন্তব্য করুন