রিফাত হত্যা, মাদকবিরোধী অভিযান, রোহিঙ্গা, উপবন এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা

১) ব্যক্তিগত সুত্রে জানি, বরগুনার সাংসদ এলাকার দুইদিনের বাচ্চাকেও চেনেন। কিন্তূ একাত্তর টিভিতে তিনি 180 এঙ্গেলে পল্টি খেলেন। আগেই জানতাম, উনি রিয়েল পলিটিশিয়ান।
*মন্তব্যঃ ওয়েল ডান।

২) পরকীয়া পৃথিবীর প্রাচীনতম মানবীয় স্বভাব। এমন কোন সভ্যতার ইতিহাস নাই কিংবা মাইথোলজী নাই যেখানে “পরকীয়া”র অস্তিত্ব পাওয়া যায়না। “মুল্যবোধ” বিবেচনায় এটা অন্যায় হলেও এই অন্যায়ের পক্ষে বিপক্ষে হাজারো অকাট্য যুক্তি দাঁড় করানো যায়। আবেগ কিংবা মস্তিষ্কের কেমেস্ট্রি যুক্তিকে সমর্থন দিলেও অন্যায় ন্যায় হয়ে যায়না। শরৎচন্দ্রের প্রায় প্রতিটি উপন্যাসে এ উদাহরণ পাওয়া যায়।
*মন্তব্যঃ পরকীয়া ছিল, আছে, থাকবে। জায়েজ বা নাজায়েজ তা নির্ধারণ করবে বিবেক, মুল্যবোধ কিংবা গঠনমুলক শিক্ষা যেখানে পারিবারিক শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

৩)নির্বাচনের আগে মাদকবিরোধী অভিযানে একরাম ক্রসে গেলে বিষয়টি বলিষ্ঠভাবে সমর্থন করেছিলাম। আজ আমি অনুতপ্ত। যদি জানতাম এই অভিযান অত্যন্ত সিলেক্টিভ তাহলে সেসময় এসব সিলেক্টিভনেসকে ধিক্কার জানিয়ে ক্ষীণকন্ঠে হলেও প্রতিবাদ করতাম। আমার নিরেট মাথা আমাকে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে।
*মন্তব্যঃ “মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স” বস্তুত একটি “মিথ”।

৪) মমতাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ১৬ কোটি জনগনকে খাওয়াতে পারলে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাও খাওয়াতে পারবো। বিনয়ের সাথে বলতে চাই, রোহিঙ্গাদের তিনি খাওয়াচ্ছেন আর রোহিঙ্গারা আমাদের সন্তানদের খাওয়াচ্ছে মাদক। রোহিঙ্গারা পাহাড়ের বনাঞ্চলও খাচ্ছে। আর আমরা খাচ্ছি রেডিয়েশন। তাদের খাওয়ানোর দায়িত্ব যখন বাংলাদেশ নিয়েছে তখন তারা খাবে না কেন? এরা যে জাতিগতভাবে “বেঈমান” তা কি ইতিহাসে লিখা হয় নাই? বাংলাদেশ মিয়ানমার সিমান্ত পুরো সুরক্ষিত মাদকদ্রব্য চালানের জন্য। যেখানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু দুর্নীতিপরায়ণ সদস্যের পরোক্ষ মদদ সম্পর্কে জনগণ নিশ্চিত। আমার মাদকাসক্ত সন্তান মাদকাসক্ত হয়ে কাউকে এমনকি আমাকেই খুন করে ফেললে তার দায় কার???
আমার?
মাদকব্যবসায়ীদের?
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর?
স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের?
রাস্ট্রের?
নীতি নির্ধারকদের?
*মন্তব্যঃ আমারই। কারন আমি নিজেই চরিত্রহীন, পরকীয়া সর্বস্ব নারী যে সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দেয় নাই।

৫) কুলাউড়ায় “উপবন” দুর্ঘটনায় সরকারি ভাবে ৪ জন নিহত হয়েছে, আহতের সংখ্যা ঠিক মনে নাই। সেই ‘৯৮ থেকে শুরু করে “উপবন” ট্রেনে চড়ে অসংখ্যবার শ্রীমঙ্গলে গেছি, ফিরেছি। দুর্ঘটনা পরবর্তী সচিত্র প্রতিবেদন দেখে শিউরে উঠেছি। ঝুঁকিপুর্ণ কালভার্ট ক’টা তার পরিসংখ্যান ভুলে গেছি। আজকাল ভুলে যাবার অসুখটা যে আদতে আশির্বাদ তা বুঝতে পারছি।
*মন্তব্যঃ উন্নয়নের বাংলাদেশে ভুলে যাওয়া রোগ ঈশ্বরের আশির্বাদ।

সিলেক্টিভ মানবতা, সিলেক্টিভ বিচার, সিলেক্টিভ শাস্তি, সিলেক্টিভ অভিযান, সিলেক্টিভ উন্নয়নে আবেগআপ্লুত হওয়া যায় নিঃসন্দেহে কিন্তূ সে আবেগ কখনও না কখনও মস্তিষ্কের কেমেস্ট্রির ঠিক উল্টো পথে চলে।

মোট পড়েছেনঃ ৮৩৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৯টি মন্তব্য

  1. সোনেলায় আপনাকে স্বাগতম আপু।
    আমাদের দেশে বর্তমানে ঘটে চলা অনেক বড় কিছু ঘটনা/ দুর্ঘটনা নিয়ে ছোট ছোট সবগুলো অংশই খুব উপস্থাপন করলেন। মন্তব্যে কি দিবো ভাবছি, কারন আপনার প্রতিটি প্রশ্নের নিচে নিজেই মন্তব্য দিয়েছেন।
    মাঝে মাঝে ভুলে যাওয়া রোগটাকে আসলেই ঈশ্বরের আশির্বাদ মনে হয়।

    নিয়মিত লিখুন, আপনার কাছ থেকে আরও অনেক পোস্ট পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম। ভালো থাকুন, শুভ কামনা 🌹🌹

    1. প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে আমি ভীষণ অনিয়মিত তাই উত্তর দেয়া হয় নাই।
      আমি মন্তব্য করেছি তাতে কি হয়েছে, আপনিও করুন। হয়তো তাতে আরও নতুন কিছু বেরিয়ে আসবে।
      অনেক ধন্যবাদ।

  2. ১. টিভির সামনে এসে তার ও একটু অভিনয় করতে ইচ্ছা হয়েছে।
    ২. পরকিয়া বিষয়এ আমার অনেক বাজে অভিজ্ঞতা আছে তবে ঠিক কথা হলো পরকিয়া পরকাল পর্যন্ত থাকবে।
    ৩. আমার অনেক পরিচিত একজনকে ক্রস ফায়ারে খুন করা হয়েছিল যদিও সে সন্ত্রাসী ছিল কিন্তু লোকমুখে তাকে মারার ঘটনাটি আজও ভুলতে পারি না। তখন খুবই ছোট ছিলাম। এর পর থেকে আমি এসব ঘটনা বিশ্বাস করি না। শুধু টাকা খেয়ে এরা আমার নিকট আত্বীয়কে ২ দিন আটকে রেখে অনেক নির্যাতন করেছে। ধিক্কার এদের।
    ৪. রোহিংগারা আর তাদের সীমার মধ্যে নেই, মাদক, ছিনতাই সহ বিভিন্ন বাজে কর্মকাণ্ডে জড়িত তারা। কঠোর ভাবে দমন না করলে বিপদ বাড়ার আশংকা আছে। কিছুদিন আগেও দেখলাম কক্সবাজারে কিছু বাচ্চা ঘোরাফেরা করছে দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলে জানানো রোহিঙ্গা দিয়ে কক্সবাজার মোটামুটি ভরা। প্রশাসন চুপ হয়ে আছে।
    ৫. দুই বছর আগেও এই সেতু বাশ দিয়ে মেরামতের একটি প্রতিবেদন দেখেছিলাম। কিন্তু সেটার কোন কিছুই রেলমন্ত্রীর যায় আসে না। আল্লাহ সব যাত্রীদের হেফাজত করুন।
    সোনেলায় স্বাগতম।
    অনেক সুন্দর একটি পোস্ট। ধন্যবাদ।

  3. সময়ের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।
    বেশি কিছু বলছি না,
    যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলে তাড়াহুড়ো আর ভীড় করে ট্রেনে উঠলে নাকি ট্রেন দূর্ঘটনায় পড়ে।
    সেখানে বলার কিচ্ছু নেই।

  4. গোঁজামিল সবখানে।।প্রসাশন নীরব আধুনিক যুগেও।
    পদত্যাগ প্রথা চালু হলেই বা কি, যাহা লাউ তাহাই কদু।।বিবেক বন্দি টাকার কাছে।।

  5. প্রথমে আপনাকে সোনেলায় স্বাগতম।অত্যান্ত মুল্যবান সমসাময়িক কিছু বিষয়ে আপনি আলোকপাত করেছে যা পুরোটাই বাস্তব এবং সমর্থন করার মত।মাদক পরকিয়া রোহিঙ্গা উপবন সবিই সিলেক্টটিভ এটার সাথে আমি পুরো একমত।আর সিলেক্টটিভ না হবার কারনও নেই কারন যে দেশে শক্তিশালী বিরোধীদল নেই সেই দেশের শাসন ব্যাবস্থা স্বৈরাচারী মনোভাব বা ক্ষমতার অপব্যাবহার থাকবেই।আমাদের এখানে এক জন নেতাকে প্রশাসন হুমকি দিয়ে বলেছিলো- গত নির্বাচনেতো আপনারা ভোটে পাস করেননি পাস করিয়েছি আমরা সুতরাং আমরা যে ভাবে বলব দেশ সেই ভাবেই চলবে।এই হল দেশের অবস্থা!
    চমৎকার একটি আর্টিকেল সেয়ার করার জন্য আপনাকে আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি।লিখতে থাকুন প্রিয় এ সোনেলায়।

  6. সোনেলার উঠোনে স্বাগতম আপনাকে,
    অপ্রিয় হলেও সত্য সবই, এই কঠিন বাস্তবতা, পরকিয়া এখন যেমন সামাজিক ব্যাধি, তেমনি ধর্ষণও সামাজিক ব্যাধি, আপনার প্রতিটি কথার সাথে সম্পূর্ণ একমত।
    ধন্যবাদ আপনাকে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখার জন্য।

  7. সোনেলার উঠোনে স্বাগতম আপনাকে।

    প্রতিটি বিষয়ের পরে আপনি নিজের যে মতামত ব্যাক্ত করেছেন, তা এখন প্রতিটি বিবেকবান মানুষেরই মতামত।
    কোথাও কোন আলো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।

    শুভ কামনা আপনার জন্য।

  8. যে চারটি বিষয় নিয়ে আলোকপাত করলেন, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে এই প্রশ্নগুলি আমার মনেও এসেছে। কিন্তু জবাব চাইবো কার কাছে? সদুত্তর দেবার মতন যোগ্য কে আছে?

    সোনেলার প্রথম লেখাটিই দারুন ভাবে মনে দাগ কেটে গেলো। লিখুন আপু আপনার মতন করে। স্বাগতম।

  9. প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি দেরিতে উত্তর দেবার জন্য। আসলে আমি খুব অনিয়মিত। চেস্টা করবো নিয়মিত হবার জন্য।
    সবাইকে ধন্যবাদ।

      1. আমাদের আসলে সবার কাছ থেকেই শেখার বা জানবার আছে। কিইবা শিখলাম বা জানলাম এ জীবনে। এমন এক‌টি প্ল্যাটফর্মে হয়তো সে ঘাটতি কিছুটা পূরণ হবে।
        জগতের সবার মঙ্গল হোক।
        সুন্দর ও স্বস্তির হোক প্রিয় মাতৃভূমি।

মন্তব্য করুন