মূল লেখায় যান

রাজনৈতিক ইতিহাস আর খেলা….

নওশিন মিশুএকান্ত অনুভূতি, মুক্তিযুদ্ধ৫২টি মন্তব্য


## “মার্চে মিরপুরের একটি বাড়ি থেকে পরিবারের সবাইকে ধরে আনা হয় এবং কাপড় খুলতে বলা হয়। তারা এতে রাজি না হলে বাবা ও ছেলেকে আদেশ করা হয় যথাক্রমে মেয়ে এবং মাকে ধর্ষণ করতে। এতেও রাজি না হলে প্রথমে বাবা এবং ছেলে কে টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হয় এবং মা মেয়ে দুজনকে দুজনের চুলের সাথে বেঁধে উলঙ্গ অবস্থায় টানতে টানতে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।”
——— মোঃ নুরুল ইসলাম, বাটিয়ামারা কুমারখালি।

## “যুদ্ধ শেষে ক্যাম্প থেকে কয়েকটি কাঁচের জার উদ্ধার করা হয়,যার মধ্যে ফরমালিনে সংরক্ষিত ছিল মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন অংশ। অংশগুলো কাটা হয়ে ছিল খুব নিখুঁতভাবে।”
– ——-ডাঃ বিকাশ চক্রবর্তী, খুলনা।

## “যুদ্ধের পর পর ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারী, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে উদ্বাস্তুর মতো ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে বেশ কিছু নারীকে। তাদের পোশাক এবং চলাফেরা থেকে আমরা অনেকেই নিশ্চিত জানতাম ওরা যুদ্ধের শিকার এবং ওদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।”
——— মালেকা খান, যুদ্ধের পর পুনর্বাসন সংস্থায় ধর্ষিতাদের নিবন্ধীকরণে যুক্ত সমাজকর্মী।

## “আমাদের সংস্থায় আসা ধর্ষিত নারীদের প্রায় সবারই ছিল ক্ষত-বিক্ষত যৌনাঙ্গ। বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ছিড়ে ফেলা রক্তাক্ত যোনিপথ, দাঁত দিয়ে ছিড়ে ফেলা স্তন, বেয়োনেট দিয়ে কেটে ফেলা স্তন-উরু এবং পশ্চাৎদেশে ছুরির আঘাত নিয়ে নারীরা পুনর্বাসন কেন্দ্রে আসতো।”
——–মালেকা খান, যুদ্ধের পর পুনর্বাসন সংস্থায় ধর্ষিতাদের নিবন্ধীকরণে যুক্ত সমাজকর্মী।

## “কোনো কোনো মেয়েকে পাকসেনারা এক রাতে ৮০ বারও ধর্ষণ করেছে।”
——— সুসান ব্রাউনি মিলার (এগেইনেস্ট আওয়ার উইল: ম্যান, উইম্যান এন্ড রেপঃ ৮৩)

## “এক একটি গণধর্ষণে ৮/১০ থেকে শুরু করে ১০০ জন পাকসেনাও অংশ নিয়েছে।”
——- ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির গ্রন্থ “যুদ্ধ ও নারী”

## “আমি তোমায় সন্তান দিতে পারব। উত্তম বীজ, উত্তম ফসল। তোমার সন্তান খাঁটি মুসলমান হবে, খোদার ওপর ঈমান রাখবে, আন্তরিক পাকিস্তানী হবে, চাওনা সেই সন্তান? আমরা সেই সন্তান তোমাদের দেব, তোমাকে দেব, তোমার বোনকে দেব, তোমার মাকে দেব, যারা হিন্দু নয়, বিশ্বাসঘাতক নয়, অবাধ্য নয়, আন্দোলন করে না, শ্লোগান দেয় না, কমিউনিস্ট হয় না। জাতির এই খেদমত আমরা করতে এসেছি। তোমাদের রক্ত শুদ্ধ করে দিয়ে যাব, তোমাদের গর্ভে খাঁটি পাকিস্তানী রেখে যাব, ইসলামের নিশানা উড়িয়ে যাব। তোমরা কৃতজ্ঞ থাকবে, তোমরা আমাদের পথের দিকে তাকিয়ে থাকবে, তোমরা আমাদের সুললিত গান শোনাবে… ”
——— নিষিদ্ধ লোবান, সৈয়দ শামসুল হক….

উৎসর্গ :: সেইসব বেজন্মা বাংলাদেশীদের যারা “খেলা ও রাজনীতিকে” এক করে দেখে না….

মোট পড়েছেনঃ ১১৫৭জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৫২টি মন্তব্য

  1. লোমহর্ষকর অনুভূতি উৎস্বর্গের ব্যাপারে শুধু এই টুকুই বলব যারাই পাকিদের সাপোর্ট করেন একটু ভেবে দেখবেন যারা মা বোনদের ইজ্জত নিয়ে খেলেছিল তাদের খেলায় সাপোর্ট দেয়া কতটা যুক্তিযুক্ত।এমন পাষান্ড শত্রুর কোন ক্ষমা বা সহানুভূতি থাকতে পারে না অন্তত আমার বেলায় তা হবে না।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর এবং যুগৎসই একটি বিষয় উপস্হাপন করার জন্য। -{@

  2. আমার মায়ের পরিবার আওয়ামীপন্থী, বাবার বিএনপি। আমি বড় হয়েছি বিতর্ক শুনতে শুনতে। ইতিহাস এইদেশে ভয়ানক বিভ্রান্তিকর। একটা দেশ একটা স্বপ্নের মত। কত দুঃস্বপ্ন পেরিয়ে এই সময়টা পাওয়া গেছে সেটা আমাদের চেয়ে আগের প্রজন্ম ভালো জানে।

    প্রতিটি যুদ্ধের ইতিহাস ভয়নকরভাবে একই রকম। রেপ অফ নাঞ্জিং, রেপ বাই দ্যা মোংগলস, পাকিস্তানিস ইন ৭১; অথবা বিশ্বযুদ্ধের কন্সান্ট্রেসন ক্যাম্প গুলোতে। অথবা সবশেষে বসনিয়া অথবা রুয়ান্ডায়।

    বীরাংগনাদের নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম, পারিনি, নির্যাতনের বর্ননা আমার ভালো লাগেনা। যদিও অনেক নির্যাতন নিজেই দেখেছি।

    তাই আমি সবসময় এ ধরনের পোস্ট এড়িয়ে যাই। এটা দুর্বলতা, দেশে কিছু দুর্বল মানুষও থাকতেই পারে।

    1. কত দুঃস্বপ্ন পেরিয়ে এই সময়টা পাওয়া গেছে সেটা আমাদের চেয়ে আগের প্রজন্ম ভালো জানে। আর আমাদের প্রজন্মকে অনুভব করতে হবে তাদের সেই আত্মত্যাগ যার জন্য আমরা একটি স্বপ্নের মত দেশ পেয়েছি।

      ধন্যবাদ, ভাল থাকবেন… 🙂

  3. হেট পাকিস্তান, হেট পাকিস্তানি খেলা। করি, করবোই। যারা এমন বলছে বুঝে শুনে, চোখে দেখে, ঘৃনা তাদেরও, তবে তাদের মা-কে গালি দিতে পারছিনা, কোনভাবেই না। ব্যর্থতার দায় আমাদের কম নয়, ধর্মের বীজ আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

    1. মানুষ মৌলিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয় পরিবার থেকেই। তাই আমার মনে হয় কোন বাবা-মা এর দায় এড়াতে পারেন না। আমি আপনার সাথে একমত পোষন করে বলছি, বাংলাদেশে জন্ম হওয়া কোন পাকিস্থানিদের জন্য আমার Decency ঠিক কাজ করেনা। অবশ্য আমি সেটা চাইও না।

      ভাল থাকবেন, ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য …. 🙂

  4. মিশু আপু,
    কি বলব ভাষাতে বলতেও পারিনা ঘৃণা হয়।
    আমি ক্লাস ৭ শ্রেনীতে পড়ি এই সময় প্রতিবেশি একজনের সাথে মিশে জামাতের ভোট এর জন্য আব্বাকে বলি।
    বাবার উত্তর,” আমার বাড়ী ঘর কে পুড়িয়েছে আমি জানি আর এখন কে কি রাজনীতি করছে তাও জানি। বাবার কথা তুমি যা করবা কর আমাকে জামাতকে ভোট দিতে বল না।” আর কনদিন ঐপথ মাড়ায়নি।
    তবে বেশ কিছু বই ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে অনুমেয় যে ধরমের রাজনীতি নোংরা হলেও জয়ী হয়। কেন জানিনা। তবে ধর্মের নিকট সবাই দুর্বল। হইতবা এই জন্যে।
    আর কি মন্তব্য করব আপনার লেখার উপর তা জানিনা।
    তবে আমাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হক।

    1. জেনে ভাল লাগলো যে আপনি জামাতের বিষাক্ত পথে কখনো হাঁটেননি। আপনার বাবা যেমন আপনাকে রক্ষা করেছেন ঐ ভুল পথ থেকে, আপনিও নিশ্চয়ই পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করবেন বিষাক্ত থাবা থেকে। এই প্রত্যাশা রইলো আপনার প্রতি …. 🙂

  5. পাকিদের রেখে যাওয়া নষ্ট প্রজন্মটাই এখন বিষ ছড়াচ্ছে। চক্রবৃদ্ধিহারে এদের সংখ্যা বাড়ছে।
    আর নিরবতা নয়, সরব না হলে একদিন আমাদেরই নিশ্চিহ্ন হতে হবে।

    আমাদের নিরবতা ওদের হাতে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অর্জিত পতাকা (আমাদের অহংকার) তুলে দিয়েছিলো। দম্ভে ওরা আমাদেরই মুক্তিযোদ্ধা, যে জীবন বাজি রেখে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলো, তাঁর পিঠে লাথি উঠিয়েছিলো।
    আবার সুযোগ পেলে ওরা আর কি কি করতে পারে, একবার ভাবুন তো!!!

  6. এসব মনে হলে গায়ে আগুন জ্বলে উঠে। আর যেই সব নর পশুরা এদের সহযোগিতা করেছে তাদের সাথে এই দেশের কিছু মানুষ করে রাজনীতিও। ধিক জানানো ছাড়া এই সব মানুষদের অন্য কিছু বলতেও ঘৃনা বোধ করি।

  7. আপু, এইতো এইভাবেই একটু একটু করে আমাদের শেকড়ের সন্ধানগুলো আমরা বের করবো। সবাইকে জানাবো। আমরা সবাইকে বুঝিয়ে দেবো, অনেক ত্যাগে অর্জিত এই স্বাধীনতা।কারো দানে পাওয়া না। কিপ ইট আপ আপু… 🙂

  8. বীরাঙ্গনাদের কষ্টের অপমানের কাহিনী শুনলে এখনো শিউরে উঠি।
    আমাদের মাতাদের সাথে যারা এমন করেছে, তাদের প্রতি শুধু ঘৃণাই থাকবে,অন্যকিছু না।
    যারা পাকিদের খেলা দেখতে যায়, যারা রাজনীতি আর খেলাকে এক করে দেখে না, তারাই আসলে জুলফিকার আলী ভুট্টোর বলা ‘সুয়ার কা বাচ্চা ‘ [ https://www.youtube.com/watch?v=Vai1OfiWPbM ] ।

    পাকিরা আমাদের দেশের মানুষকে এখনো কতটা ঘৃনা করে,তা বিদেশে অবস্থানরত বাংগালীরা জানে।
    কিছুদিন আগে মালালা আমাদের দেশের ক্রীকেট দল সম্পর্কে বাজে টুইট করেছিলো টুইটারে। ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে তা সে প্রত্যাহার করে।

    1. মালালা বাচ্চা ১টা মেয়ে, যার জন্ম ৭১’এর বহু বছর পরে। অথচ সে কি অসীম ঘৃনা পুষে রেখেছে বাঙ্গালীদের জন্য, আর বাঙ্গালীরা ওদের জন্য একবুক প্রেম …. !!! ছিঃ ….

      ধন্যবাদ তথ্যবহুল মন্তব্যের জন্য ….

  9. “আমি তোমায় সন্তান দিতে পারব। উত্তম বীজ, উত্তম ফসল। তোমার সন্তান খাঁটি মুসলমান হবে, খোদার ওপর ঈমান রাখবে, আন্তরিক পাকিস্তানী হবে, চাওনা সেই সন্তান? আমরা সেই সন্তান তোমাদের দেব, তোমাকে দেব, তোমার বোনকে দেব, তোমার মাকে দেব, যারা হিন্দু নয়, বিশ্বাসঘাতক নয়, অবাধ্য নয়, আন্দোলন করে না, শ্লোগান দেয় না, কমিউনিস্ট হয় না। জাতির এই খেদমত আমরা করতে এসেছি। তোমাদের রক্ত শুদ্ধ করে দিয়ে যাব, তোমাদের গর্ভে খাঁটি পাকিস্তানী রেখে যাব, ইসলামের নিশানা উড়িয়ে যাব। তোমরা কৃতজ্ঞ থাকবে, তোমরা আমাদের পথের দিকে তাকিয়ে থাকবে, তোমরা আমাদের সুললিত গান শোনাবে… ”
    ——— নিষিদ্ধ লোবান, সৈয়দ শামসুল হক….

    উৎসর্গ :: সেইসব বেজন্মা বাংলাদেশীদের যারা “খেলা ও রাজনীতিকে” এক করে দেখে না….

    টেক মাই করডিয়াল স্যালুট ম্যাম 🙂

  10. যুদ্ধের সময় আমাদের মা বোনদের উপর যে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে তারপরও যেই জারজ পাকিস্তানিরা এখনো খেলার মাঠে এমন প্লেকার্ড হাতে যায় তাদের কথা মনে হলে মাথায় রক্ত চেপে যায়। ভাবতেও অবাক লাগে তারা আজ পর্যন্ত এই দেশে আছে কিভাবে।

  11. ইতিহাসের এই পাতাগুলোতে ধুলো পড়েছিল, ওরা ভেবেছিল, জং ধরা মরিচাপড়া ইতিহাসের পাতা থেকে সত্যটুকু মুছে ফেলা যাবে সহজেই। কিন্তু কিছু সত্যান্বেষী যে সেই ক্ষয়ে যাওয়া পাতাগুলো থেকে আবার নতুন নতুন ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করতে চাইবে, তা তারা ভুলেই গিয়েছিল।

    এই ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে পথে প্রান্তরে, গ্রাম মহল্লায়, পাড়ায় পাড়ায়। স্বাধীনতার বীজ ছড়িয়ে দিতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে, মগজ থেকে নিউরনে, মেধা থেকে শিরদাঁড়ায়। আজকের বেপথু বেভুল মানুষগুলোকে আবার নতুন করে শেখাতে হবে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়, নতুন নতুন লেখকদেরকে হাতে তুলে দিতে হবে বজ্র-কলম, অন্ধকারের আকাশ ফুড়ে এরাই দেশকে দেখাবে নতুন পথের দিশা, এদের হাতেই রচিত হবে দেশদ্রোহীদের কবর।

    আপনার লেখা পড়ে মনে হল, আছে, এখনও কেউ আছে যারা শক্তহাতে সেই সকল দেশদ্রোহীদের মুখোশ উন্মোচন না করে, তাদের যথাযথ শাস্তি না দিয়ে, একাত্তরের ঋণ শোধ না করে ঘরে ফিরবে না।

    অভিনন্দন নিন।

  12. ঘৃনায় গা রি রি করে উঠছে,মুখ ভর্তি হয়ে যাচ্ছে থু থু,হাত হয়ে যাচ্ছে মুষ্ঠিবদ্ধ।
    মানুষ ছিল না পাকিস্তানিগুলো… ছিল পিশাচ আর হায়েনা।ওদের আমি আমার সমস্ত অস্তিত্ব এক করে বলতে চাই, “কুকুরের দল,তোদের শুধু ধিক্কার আর ঘৃনা”।

  13. প থেকে শুরু করে সবকিছুতেই ধিক্কার। খেলা গান মানুষ সবকিছুকেই এক করে আমি দেখবই। ঘ্রিণা করবই।
    আর আমাদের যুদ্ধ রাজনৈতিক ছিল না তাই আমাদের সবকিছুর সাথেই এই যুদ্ধ মিশে থাকবেই। খেলাতেও।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।