R
২৫ মার্চ,১৯৭১ এর কালরাত্রিতে যেসব অকুতোভয় বাঙালি বুকের কয়েকটি পাঁজর আর একটি করে লাল টুকটুকে হৃদপিন্ড নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম পশুদের বিরুদ্ধে,তাদের সেই ছেলেমানুষি দুঃসাহসকে উৎসর্গ করছি এই সিরিজটি

যুদ্ধাপরাধ ১৯৭১ সিরিজে এইসব অপরাধের একটি ছোট বিশ্লেষণ দাঁড় করানো হবে।উপরের প্রত্যেকটি অপরাধের বিপরীতে কয়েকটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হবে।তুলে ধরা হবে হত্যা-নির্যাতন-নৃশংসতার একটি খন্ড চিত্র।মনে রাখা প্রয়োজন – এখানে তুলে আনা হবে অল্প কয়েকটি ঘটনা,গণহত্যার সার্বিক প্রেক্ষাপটের তুলনায় সেগুলো আক্ষরিক অর্থেই তেমন কিছু নয়,নৃশংসতার দিক দিয়ে এগুলোর চেয়েও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।এটা শুধু এই বীভৎস গণহত্যাকে এক পলকে দেখার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র।শিরোনামে শুধু ‘ যুদ্ধাপরাধ ‘ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে,এর একমাত্র কারণ শিরোনামের স্ফীতিরোধ,এই সিরিজে উপরের প্রত্যেকটি অপরাধ সম্পর্কেই আলোচনা করা হবে।

মূল আলোচনায় ঢুকবার আগে কয়েকটি ব্যাপার পরিস্কার করে নেয়া উচিৎ।হয়তো বেশিরভাগ পাঠকেরই জানা।তবুও অনেকের বিভ্রান্তি মোচনে হয়তো সহায়ক হতে পারে।প্রথমত,একাত্তরের গণহত্যা আদৌ হয়েছে কি হয় নি এ নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক আছে।সাম্প্রতিক কালে শর্মিলা বসু সহ আরো কয়েকজন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে রিয়ালিস্ট দৃষ্টিতে দেখতে গিয়ে এই গণহত্যাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন,বরং বাঙালিদের দ্বারাই ব্যাপক হারে হত্যা,ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন।তরুণ প্রজন্মের অনেক বিভ্রান্ত সদস্যও এই প্রচারণা গুলো বিশ্বাস করে বসে দুঃখজনকভাবে।এদের বক্তব্য হলো,একাত্তরে সার্বিকভাবে ধর্ষণ,লুটপাট,পরিকল্পিত ভাবে সিভিলিয়ান হত্যা – এই জাতীয় ঘটনা গুলো ঘটেনি,দুয়েকটি ‘স্বাভাবিক’ ব্যতিক্রম ছাড়া।এখানে অল্প দুয়েকটি প্রমান উপস্থাপন করছি যা এইসব প্রচারণার বিরুদ্ধে জবাব দিতে গিয়ে কার্যকরী অস্ত্র হতে পারে।গণহত্যার অন্যতম নায়ক,শীর্ষ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী এ এ খান নিয়াজির একটি মেমো পাওয়া যায় তারই লেখা বিট্রেয়াল অফ ইস্ট পাকিস্তান বইয়ে।এই মেমোতে নিয়াজি স্বীকার করেছে পাকিস্তানি সৈন্যরা উপরের অপরাধগুলোতে জড়িত ছিল।সাত অনুচ্ছেদের এই মেমোটিকে সংক্ষিপ্ত করে তিন অনুচ্ছেদে এনে সর্বস্তরের অফিসারদের মধ্যে বিলি করা হয় ১৬ এপ্রিল ১৯৭১।এই মেমোর প্রথম অনুচ্ছেদ দেখুন

Numerous reports of troops indulging in loot,arson and rape have been reported. Even officers have been suspected of indulging in such degrading activities.

মজার ব্যাপার হল,এই মেমোর সাত অনুচ্ছেদের কপিতে পাকিস্তানি সৈনিকদের দ্বারাই পাকিস্তানি মহিলাদের ধর্ষিত হবার বিবরণ রয়েছে।অথচ শর্মিলা,কুতুবুদ্দিন আজিজ তাদের লেখায় বাঙালিদের হাতে ব্যাপক হারে পাকিস্তানি মহিলা ধর্ষণের পুরোপুরি বানোয়াট বিবরণ হাজির করেন।অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায় হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্টেও,পাওয়া যায় ২০৫ ব্রিগেডের জেনারেল ( অব ) তাজাম্মাল হোসেন মালিকের বক্তব্যে

I learned through many other officer that during the earlier operations against the Muktibahinis thousands of innocent people were killed.In one of my defensive position at Santahar,large numbers of people were massacred.General Tikka khan and lieutenant General Jahanzeb Arbab had earned reputation of being Butchers of East Pakistan.So were many Brigadiers and Generals.Mukti Bahinis too,may also have done so in retaliation but it was very negligible as compared to to the atrocities committed by the West Pakistani troops against the East Pakistan.

*প্রিতমের লেখা থেকে সংগ্রহীত

৩৯২জন ৩৯২জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ