ভেঁজা ভেঁজা স্বপ্ন

ভেঁজা স্বপ্ন...
ভেঁজা স্বপ্ন…

জ্যামিতিক ঢেউয়ের মতো সামুদ্রিক শয্যায় ঘুম, ঘুমোচ্ছে ক্লান্ত পারিযায়ী পাখীর মতো।
নীল আকাশে তার ডানা এলোপাথাড়ি ভাবে পৃথিবীর মানচিত্র পাড়ি দিয়ে
শীতের রাত্রির গায়ে ভেঁজা ভেঁজা স্বপ্নে বিভোর।
আবার কোনো একদিন বসন্ত চলে এলেই সে কি চলে যাবে!?
চিবুকে হাত রেখে, চশমার আড়ালে ডুবে যাওয়া কোনো এক কালের দীঘল-কালো চোখের প্রশ্ন,
“চলে যাবে বুঝি!”
হেমন্তের শিশির ভেঁজা ঘাসের নীল ফুল দেখার পর কিভাবে চলে যায় তারা সকলে?
অনেক ঘুমের পর, উঁচু-নীচু পথ পাড়ি দিয়ে ফেনায়িত মহাসাগরের জলে
ছায়ায় ছায়ায় ঢেকে যাবে ওই নীল আকাশ।
“তখন কি পৃথিবীর রঙ আরোও গাঢ় হবে? মেঘের মতো, ঘন সবুজ অরণ্যের মতো?”–
বোকা বোকা আহ্লাদী ঠোঁটের উচ্চারণে দীর্ঘ প্রশ্ন সজ্জিত হয় রাতের উঠোনে।
আলোর আবেগ টানে শীতের রাতের হৃদয়,
জানে সকলেই কম কিংবা বেশী।
কাঁপে ধক ধক ধক ধক……
হৃদয়ের গান কেউ কি শোনে? কিংবা শুনেছে ওই আকাশ আর বৃষ্টি ছাড়া?
কবে যে কে, কখন ভালোবেসেছিলো কাকে! হৃদয়, নাকি জানে মস্তিষ্কের নিউরণ? ভাবতে গেলেই সন্ধ্যা নেমে আসে।
কিশোরী সন্ধ্যা প্রকৃতির গায়ে লেপ্টে থাকে, আর ঠিক তখুনিই
সূর্য তার শেষ চিহ্নস্বরূপ তুলির কি নিখাঁদ টানে বিশাল চিত্রকর্ম আঁকে ওই আকাশের বুকে।

হ্যামিল্টন, কানাডা
১৯ অক্টোবর, ২০১৫ ইং।

**পুজো চলে এলো। সবাইকে পুজোর হিম হিম শুভেচ্ছা, আর নীল নীল ভালোবাসা।
ওহ হ্যা লেখাটি আসলে শীতের আগমন নিয়েই লেখা। এখানকার পাখীদের সংখ্যা কমে গেছে। হয়তো জীবন বাঁচাতে চলে গেছে আমাদেরই দেশে। কিন্তু ওরা বাঁচবে তো? দীর্ঘপথ পাড়ি দেয়া চাট্টিখানি কথা নয় কিন্তু। ওদেরকে বাঁচিয়ে রাখুন সবাই মিলে। খাদ্য হতে যায়নি, বাঁচার জন্যে গেছে। সৌন্দর্য ছড়াতে গেছে ওরা। আবারও পুজোর শুভেচ্ছা। ভালো থাকুন সকলে।

পুজোর আকাশ...
পুজোর আকাশ…
মোট পড়েছেনঃ ১,০৯৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৬৮টি মন্তব্য

  1. আসলে পরিযায়ীরা চলে যায় বাঁচার তাগিদে,
    চলে যায় ফিরে আসবে বলে।
    পাড়ি দেয় সাত সমুদ্দুর জানা অজানায়,
    ফিরে আসবে বলে, ফিরেই আসে।
    আপনাকেও শারদীয় শুভেচ্ছা।

    1. ফিরে আসতে চেয়েও কেউ কেউ আর ফিরে আসেনা।
      যা মন্তব্য দিলেন গো ভাইয়া মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গেছে। কেন পারিনা কঠিন লেখা লিখতে? কেনুউউউউউ?
      যেভাবে আমি মাথা ^:^ এভাবে চুলকাই, সেভাবে আপনি কেন না? একদিন আমারও দিন আসবে বলে দিলুম কিন্তু। হুম!

  2. ভেঁজা স্বপ্নের কথা এই প্রথম শুনলাম
    স্বপ্নের ঠাণ্ডা না লাগে আবার
    কবিরা যে কত কিছু ভাবে!
    কেন যে কবি হইলাম না 🙁

    পুজোর শুভেচ্ছা তোমাকেও -{@

    1. নানা স্বপ্নের ঠান্ডা লেগে পুরো জমে গেছে। জ্যাকেট পড়ে, রোদে দাঁড়িয়েও কাজ হচ্ছেনা। আর ভালো ডাক্তারও নেই, ভালো ঔষধ কোথায় পাই? 😀

      কুবি হইতে মুন চায় আমারও 🙁

  3. তোমাকেও অনেক শুভেচ্ছা আপু। পাখিরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও বেঁচে থাকে এটা প্রকৃতির নিয়ম। আর আমাদের হাতে তাদের মৃত্যু হয় এটা আমাদের নিয়মের ভাঙন।
    তবে এবার নিশ্চিন্ত থাক কারণ পাখি রক্ষায় এইবার রয়েছে আমাদের মহান দুজন ব্যক্তিত্ব জিসান ভাই আর হেলাল ভাই। উনারা জান দিয়ে হলেও পক্ষিকুল কে রক্ষা করবেন 🙂

    1. অরুনি আপু পাখী রক্ষা করবেন ঠিকই, কিন্তু লেখা দিয়ে মাথার চুল কমানোর কাজও ছাড়বেন না দুজনে। আজকাল দুজনেই যা লেখা শুরু করেছেন মাথা আউলা হয়ে গেছে পুরোপুরি। 😀 :D)
      কেমন আছো তুমি? -{@

      1. এই দুজন টা আবার কে রে ? একজন আমি আরেকজন টা কে বল আগে?
        উফফ তুমি নিজে টেনে টেনে চুল গুলো ছিঁড়ছ আর আমাদের দোষ দিচ্ছ| :@

  4. জ্যামিতিক ঢেউ! ;? উপমাটি আমার কাছে এই প্রথম।
    এলোমেলো ক’টি লাইন তাহলে এই ঢেউকে নিয়ে-

    নীলাঞ্জনা, তুমি কি জানো নীল আকাশ আর মেঘলা আকাশের মাঝে দূরত্ব কতখানি!
    জ্যামিতিক ঢেউয়ের দূরত্বে এই নীল আকাশ আর মেঘলা আকাশ,
    আকাশের সোনেলা হাসির সাথে শরতের মেঘ যখন তোমার হাসিমুখের দাঁত ছুয়ে কখনো মলিন হয়ে যায়
    ঠিক তখনি জ্যামিতিক দূরত্বের বাঁধ ভেঙ্গে মেঘলা আকাশের আগমণ নীলাঞ্জনাতে…

    আপনার “শীতের রাত্রির গায়ে ভেঁজা ভেঁজা স্বপ্নে বিভোর” এই লাইনটি বহুমাত্রার। যে কোন সাবজেক্ট নিয়ে এই লাইন দিয়ে কবিতা লিখে রাখা যাবে নিশ্চিত।

    আপনার লেখায় সবচাইতে যা বেশী ভাল লাগে তা হচ্ছে নীল আকাশের উপস্থিতি।

    এই পরিযায়ী গান তোমার জন্য দিদিঃ https://youtu.be/5NQhuAikd0k

    পূজোর শুভেচ্ছা দিদি।

    পূজো নিয়ে ছবি সহ পোস্ট চাই। দেখি আপনার চোখে আপনার পূজো এই সোনেলাতে আমরাও! -{@

    1. কেমন আছেন তিরির বন্ধু অহম? 😀
      তা এভাবে এতো চাহিদা করলে পালাবো কিন্তু। একবার তিরি-অহমের পোষ্টের কথা বলেন, এখন পুজোর। পুজোরটা লেখা শুরু করেছি। কিন্তু সমস্যা হলো কেমন জানি ক্লাশ টু/থ্রী’র রচনার মতো লেখা হয়ে যাচ্ছিলো। দিলাম সব মুঁছে। তবুও আসিবেক। প্রুপেশনাল হইতে পারিলে দুই হস্তে লিখিতাম। :D)

    1. হৃদয়কে সাবধানে রাখুন ভাইয়ু। উহা বড়োই উজবুক টাইপের হইয়া থাকে। ভাবিতেও পারিবেন না কখন কোন বিপদে ফালাইয়া উহা নাচিতে থাকিবে।
      ভালো রাখুন নিজেকে -{@

    1. সবুজ অরণ্যের হলোটা কি? শীতের পাখী তো দেখি তুমি-ই হয়ে গেছো। উহু ঠিক না। কিশোরী সন্ধ্যা দেখতে চাইলে রোজ উপস্থিত থাকতে হবে।
      বুঝেছো? 😀 -{@

  5. আপু আপনি কি মুগ্ধতা ছড়াতে সোনার কাঠি রুপোর কাঠি নিয়ে লিখতে বসেন? ;?
    এমন করে কি করে বলেন…যেন আমিই এইকথা গুলোই শুনতে চেয়চছিলাম।
    এমন করে কি বলেন?যে কথা আকাশ আর বৃষ্টি ছাড়া আর তো কারো জানার কথা না!! ;?
    পুজোর শুভেচ্ছা আপু।
    ভাল থাকবেন।কোনো অতিথি পাখির সাথে যদি ভুল করেও দেখা হয়ে যায় আকাশে জানবো সে আপনার খুব কাছ থেকে এসেছে…তার কাছে কিছু শুভ কামনা দিয়ে দিব। দেখা হলে যেন আপনাকে দিয়ে দেয়…। 🙂

    1. এ আবার অনেক ভালোবেসে বলা। আমি তো মুগ্ধতা নিয়ে ভাবি আহা কেন পারিনা মৌরিনের মতো লিখতে? কবে পারবো অমন লেখা? কবে কবে কবে?

      ইস পাখী যদি আমার সামনে এসে দাঁড়ায় ঠিক বুঝে নেবো আপনি ওকে ছুঁয়ে দিয়েছেন। -{@

  6. পুজোর শুভেচ্ছা দিদি -{@ -{@
    সূর্য তার শেষ চিহ্নস্বরূপ তুলির কি নিখাঁদ টানে বিশাল চিত্রকর্ম আঁকে ওই আকাশের বুকে। (y)

  7. নীলাপু তোমার এই কবিতাটা কিন্তু কঠিন হয়েছে। শীতের আগমন নিয়ে লিখেছ না বলে দিলে বুঝতাম না সেভাবে। এবার বলো আর কি নিয়ে লিখেছ?
    জ্যামিতিক ঢেউয়ের মতো সামুদ্রিক শয্যায় ঘুম, ঘুমোচ্ছে ক্লান্ত পারিযায়ী পাখীর মতো। কার কথা বলেছ? শীত? উহু।
    চলে যাবে বুঝি !! না যাবোনা। নীল ফুলে শিশির দেখে বাঁচার জন্য হলেও যাবোনা।
    লাল শাড়ি তে নীল ফুল কবে দেখবো, বাজবে যখন পূজোর বাদ্য?

    1. শুন্য আপু তুমি বলছো কঠিন হয়েছে? 😮 সত্যি? আহা কি মজা! \|/ পেরেছি আমি কঠিন লিখতে। জীবনে কতো শখ-ইচ্ছা ছিলো কঠিন লেখার। আহ! পারিলাম। 😀

      আপু তবে কঠিন থাকলো কই? তুমি তো বুঝেই গেছো শীত ঘুমোচ্ছেনা। আমি আমাকেই ঘুম পাড়াচ্ছিলাম। শুয়ে শুয়ে লিখছিলাম কিন্তু।

      এই মেয়ে পুজো শেষ। শুভ বিজয়া। লাল শাড়ী পড়া মেয়েটিকে দেখোনি? ফেসবুকে ছিলো তো দেখেছিলাম।

      শোনো লেখা দাও প্লিজ। এমন করো কেন? অনেক আদর প্লিজ লেখা দাও। -{@ (3

      1. নিজেকেই নিজে কবিতা লিখে ঘুম পাড়ানো? 😮 ভেঁজা ভেঁজা না, কবিতা তোমাকে ভাঁজা ভাঁজা করে ফেলেছে। ভাগ্যিস, নইলে অন্য কারো পাল্লায় পড়লে তোমারেই হারাতে হতো। ওহে কবিতা, এই পাগলী ছাগলী কে সকল কুনজর থেকে বাঁচিয়ে রাখো।
        আলোর আবেগ টানে শীতের রাতের হৃদয়, আর গরম কালে বুঝি দূর দূর করে? এবার বরফ জড়িয়ে নেবার সময় এসে গেলো। নীলাঞ্জনা এবার ডুববে।

  8. নীলা’দি, আমাদের এই হোতকা মোটকা হেডমাস্টার শুন্যাপু মন্তব্যে যা ক্রিয়েটিভিটি দেখাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে উনি ইচ্ছে করেই পোস্ট দিচ্ছেন না :@

      1. আমি বুঝিইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইই লেখা দাওওওওওওওওওওওওওও
        শুন্য আপু গো উম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মাআআআআআ -{@ (3

        1. আপু তোমার একটি লেখার জন্য সবাই অপেক্ষায় থাকে। আজকের এই পোষ্টটা না দিলে সত্যি আমি অনেক কষ্ট পেতাম।
          আপু ক্ষমা করো ছবির ক্যাপশনটা দিতে পারলাম না।
          কারণ সেই ক্ষমতা আমার নেই গো।
          ভালোবাসি কিনা জানিনা, তবে মিস করি তোমায়। রোজ এসো প্লিজ। লাভ ইয়্যু টু। -{@ (3

        2. তোমার এই মন্তব্য আমি আগে দেখিনি, দেখলেও দেখতাম না জানো তুমি।
          আমি চুরি করতে জানি, ডাকাতিও। চাইতেও জানি। কোনটা করাবে?
          ক্ষমা করবোনা যাও, ঋনী থাকো। কষ্ট দিয়ে ক্ষমা চাইলেই পাওয়া যায়না, বুঝেছ?

        3. স্যরি। এই যে কান ধরলাম, কার কান আবার জানতে চেওনা, কহিতে অক্ষম :p
          তবে তোমার জন্যে

          দুপুর-বিকেল-সন্ধ্যা-রাত
          গড়িয়ে গিয়ে আসবে প্রভাত
          ওই আলোতে চেয়ে দেখো
          এই যে আমি পাশে থেকো
          কাব্যকথা নয় এ নয়
          এ যে নীলের হৃদ-বিনিময় -{@ (3

  9. আর তায় বসে থাকি আপনাদের তরে।
    স্বপ্ন ভেজা হক আর শুকনায় হোক।
    কান্না
    চোখ ভিজুক আর শুকনায় থাকুক
    কান্না কান্নাই।

মন্তব্য করুন