বেলা অবেলার শীতার্ত আলিঙ্গন

শীতার্ত ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন আচ্ছাদনের এপাশ-ওপাশে
ধুম্রজালিকায় মোহাচ্ছন্ন নিগূঢ় মূর্ছনায়,
বিরস বদনে জুবুথুবু বসে থাকা বিরহী কাক
আর এলোকেশী নাগরী আজ উভয়েই হয়েছে উন্মাতাল।

উদ্বেলিত শঙ্খমালা শক্তপোক্ত জড়তার শৃঙ্খলভেঙে
কামনাদীপ্ত অনলের ধারায় প্রবাহমান নদী,
দিবারাত্রির হিমহিম ঠান্ডা বরফগলে
খরস্রোতারুপে ধরাদেয় রাগ-অনুরাগের মিলনোৎসবে।

ভাতঘুমের আলস্যে কিংবা বিকেল-সন্ধের আর্দ্রতায়
বেণুবনে লুকোচুরির আড়ালে; পায়েপায়ের ঠোকাঠুকিতে,
ঈষদুষ্ণ তাপানূকুলতায় বিরহী সে কাক
অগ্নুৎপাতের অনলে ফাঁদপাতে কুহকের ধূম্রজাল।

একরাশ লজ্জাবতী ওমের গারোগহীনে
জড়জঠরস্থ নিউরনের অনুরণিত দ্বীপশিখারা,
প্রোজ্জ্বলিত ভালোবাসার নির্লিপ্ত জঠরে
বিভাজিত হয়ে খেলাকরে সহস্রবর্ষের ঐকান্তিকতায়।

বিরহাতুর হিসেবনিকেশের টালিখাতার পাঠ চুকিয়ে
ওষ্ঠাগত দু’জনায় মত্ত আঁচলপাতা পিড়িতে,
বেলা-অবেলার আলিঙ্গনে মাথাগুঁজে ঠাঁই খোঁজে
পাহাড়ি অববাহিকার উঁচুনীচু বালিয়াড়ির খাঁজে।

মোট পড়েছেনঃ ৮৮০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৯টি মন্তব্য

  1. বুঝছি!
    বালিয়াড়ির ভাঁজে-খাঁজে নিরালে বসে উষ্ণ হিসেব নিকেশের লেখালেখি চালু রাখতে চান! এই শীতে!
    আহা শীত! এত্ত দেরিতে কেন আসে!

    1. মজারাজ এইতো বুইজা ফালাইসেন। 😃😃

      পাহাড়ি অববাহিকার উঁচুনিচুতে উষ্ণ ওমে মুখ গুজে এই শীত পার করতে চাই। আহা! শীত বড্ড তাড়াতাড়ি চলে যায়! ☺

  2. স্কুলে কবিতার শেষে শব্দার্থ , সারমর্ম, উদাহরণ সহ পড়েছিলাম তাই পাশ করতাম কিন্তু এখানে তো তা নেই, অনুবাদকের খুবই প্রয়োজন দেখছি সোনেলা তে। অনুবাদক না পেলে কবিতার শেষে এগুলো সংযুক্ত করার জোর আহ্বান জানাচ্ছি স্ব স্ব কবিতার কবিদের। তা না হলে ভবিষ্যতে আমার মতো মধ্যম মার্কা ছাত্রীর এগুলো পড়ার জন্য পাবেন না

    1. এ আর এমন কি! আরও একবার পড়লেই সব পানির মত সোজা। এই শীতে উষ্ণ ওম কে না ভালোবাসে বলেন?

      সোনেলায় আপনাদের কবিদের ভীড়ে নিজেকে শেষকাতারে হলেও দেখতে চাই। সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে কথা। তবে কবিতায় আমি খুব একটা অভ্যস্ত নই আপু। কি থেকে যে কি লিখি তা আপনারাই বলবেন। ভুল হলে শুধরে দেবেন এটাই কাম্য।

      ভালো থাকবেন সবসময়।

      1. আগের টাই এখনো বুঝতে পারিনি , দিলেন নতুন একটা দাঁতভাঙা কবিতা। এই শীতে দাঁতে দাঁতে ঠক্ঠক্ তার মধ্যে আপনার আর ছাইরাছ হেলাল ভাইয়ের কবিতা পড়ে সব পড়ে গেল দাঁত

    2. আমি আপনার সাথে আছি আপু।নতুবা দুর্বার আন্দোলন চলব।কবিরা নিজেই শুধু কবিতার মুল ভাব বুঝবে আমাগোও বুঝাইতে অইব অন্ততঃ ইঙ্গিত হিসাবে হলেও কবিতার সাথে কিছু না চিরকুট চাইইই চাই হুম।

  3. পাহাড়ে তো আরও বেশি ঠাণ্ডা। জবুথবু হয়ে দালানে লেপের ওমই ভালো।
    শীত এবার ভালোই নাচন দেখাচ্ছে। শুধু পরিবেশে না, লিখাতেও।

  4. অনবদ্য কবিতা।
    কালকে পড়েছিলাম একবার।
    আর আজ দুবার মোট তিনবার। বুঝতে হিমসিম খেয়েছিলাম। যাই হোক অবশেষে কিছুটা বুঝেছি।

    যদি সারমর্মে একটু বুঝিয়ে দেওয়া যায় দাদা।

  5. বিরহাতুর হিসেবনিকেশের টালিখাতার পাঠ চুকিয়ে
    ওষ্ঠাগত দু’জনায় মত্ত আঁচলপাতা পিড়িতে,
    বেলা-অবেলার আলিঙ্গনে মাথাগুঁজে ঠাঁই খোঁজে
    পাহাড়ি অববাহিকার উঁচুনীচু বালিয়াড়ির খাঁজে।

    ………কেমন যেন খুবই সহজ আবার কঠিন মনে হয়। বুঝতে গিয়েও বুঝতে পারিনা। শব্দার্থ বুঝলাম তয় সারমর্মটা নিয়েই যতো সমস্যা 😀

  6. কবিতাটা আমি বুঝছি। এখানে একজন ডাক্তারের শীত নিয়ে রোমাঞ্চকর রোমান্টিক টানাপোড়েনের গল্প আছে।

    তবে কথা হইলো তা না-
    আমি ডাক্তারের সহযোগী দেখে বুঝছি। কিন্তু যারা ডাক্তারের কাছে মাঝে মাঝে আসে তারা কী এতো কঠিন শব্দের দেয়াল টপকে তার রহস্য উন্মোচন করতে পারবে ‌?

    কবিতায় অবশ্যই আড়ালে থাকবে, তবে যেন দেয়াল না হয়ে যায়।
    “কবিতা হবে নববুধুর মতো , যাকে ঘোমটা খুলে আবিষ্কার করে যাবে।” এই কথা আমি যখন‌ প্রথম অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম ক্লাস করি সেদিন স্যার বলছিলো। তখন আমি খুব লজ্জায় জবুথবু হয়ে গেছিলাম।

    শেষ কথা হলো-
    কবিতা আমি বুঝছি সবাই না বুঝলেও।

মন্তব্য করুন