বৃষ্টির জল এবং নওগাঁ

মিডল নর্থ এর সবচে নিচু জেলাগুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য একটা নাম নওগাঁ । এখানে মুশুল ধারে বৃষ্টি হওয়ার প্রয়োজন পরে না। সাধারণত স্বাভাবিক এর চেয়ে একটু বেশি বৃষ্টি দির্ঘ সময় ধরে নামলেই হয়। এখানকার বেশির ভাগ উল্লেখ যোগ্য জায়গা যেমন হাসপাতাল, সি ও অফিস, নওগাঁ প্রেস, নওগাঁ কলেজ,জেলাস্কুল, টিচার্স ট্রেনিং সেন্টর এগুলোর সামনে মোটামুটি ছোটখাট পুকুরের মত হয়ে যায়। কিন্তু এবেরের বর্ষাকাল টা যেন একটু বেশিই ভোগাবে নওগাঁবাসী কে। কারন গত শুক্রবার সকাল থেকে মাঝে মাঝে কয়েক মুহুর্ত বিরতি দিয়ে দিনে এবং রাতে মুশুল ধারে চলেছ বৃষ্টি। ফলে নওগাঁ শহরের অনেকাংশই এখন পানিতে পুর্ন। ঘর থেকে বেরিয়ে সামান্য কোথাও যেতে হলেও ডাকতে হচ্ছে রিকশা এবং দিতে হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভাড়া।

নওগাঁ শহরের মাঝ খান দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদী
বৃষ্টির পানি এই ছোট যমুনা নদী ধারন করতে পারছেনা গভীরতা কম থাকায়

গতকাল আমার ছোট ক্যামেরা নিয়ে বের হয়েছিলাম ছবি তোলার জন্য। কিছু ছবি শেয়ার করছি সবার সাথে। ছবি দেখানো আসল উদ্যেশ্য নয়, ছবিতে দেখাচ্ছি নওগাঁ শহরের বৃষ্টির জলের অবস্থা।

খেজুরা গাছ পেঁচিয়ে আছে লতাপাতা। আশ্রিতদের প্রভাবে এমনিতে ঢেকে যায় জীবনের মূল অনেক কিছুই।
পানিতে প্লাবিত অসহায় নওগাঁর বর্ষার পানি এরকম কিছু ছোট্ট ড্রেন এর মধ্যে দিয়েই নদীতে নামে। আর সব গুলা ড্রেন এর কাছেই এরকম কিছু ছেলেপুলেকে দেখা যায় মাছ ধরার জন্য বসে থাকতে।
এটা দেখে পুকুর, দিঘী, বা নদী মনে হলেও এটা নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর খেলার মাঠ। যেখানে ছেলেরা খরার সময় ফুটবল/ক্রিকেট খেলে আর বরষার সময় মাছ ধরে
এই জায়গার মাঝখান টা মূলত একটা ছোট খাট পুকুর। কিন্তু গত দুদিন এর বৃষ্টির ফলে যেটা একটা বড়সড় দিঘী তে পরিনত হয়েছে। ডান পাশে যে বাড়ি গুলা দেখা যাচ্ছে সে খানে গিয়ে ওদের সাথে কথা বলার শত ভাগ ইচ্ছে থাকা শত্তেও যেতে পারি নি কারন, হাটু অব্দি কাপর উঠায়া যেতে হবে।

আরো কিছু ছবি

বিঃদ্রঃ মুলত এটি একটি প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করতে চেয়েছি। এটিই আমার প্রথম প্রতিবেদন। প্রতিবেদন লিখতে আর কি কি সংযোজন করা উচিৎ এ বিষয়ে পরামর্শ চাচ্ছি সবার।

মোট পড়েছেনঃ ১,০৯৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩২টি মন্তব্য

  1. বৃষ্টির পানিতে ডুবন্ত নওগাঁর উপস্থাপন ভালো লাগলো। বলে না দিলে কিছু কিছু ছবিকে সত্যিই খাল কিংবা দিঘি ভেবে নিতাম।
    ক্যাপশনে নওগাঁর বর্তমান অবস্থা উপস্থাপন করার দিকটা ভালো লেগেছে।

    বৃষ্টিবন্দী হয়েই কাটুক ভালো কিছু সময়, সেই কামনাই থাকলো 🙂

     

    1. ধন্যবাদ অলিভার ভাইয়া। ছবি গুলোর সাইজ কিন্তু খুব ছোট, কিন্তু এত বড় বড় আসলো কেনো বুঝলাম না। ছোট করার উপায় কি জানেন কিছু ভাইয়া ?

      1. ছবির সাইজ ওয়ার্ডপ্রেস নিজেই একটা নির্দিষ্ট সাইজে নিয়ে এসেছে, যাতে যারা ব্লগে ভিজিট করছে তাদের যেন দেখতে খুব সমস্যা পোহাতে না হয়। ছোট করতে চাইলে পোষ্ট ইডিট অপশন থেকে ছবিতে ক্লিক করে ইডিট অপশনে যান। তারপর সেখান থেকে নির্দিষ্ট সাইজ সিলেক্ট করে দিলেই সেই সাইজে তা দেখাবে।

        তবে এখানে যেভাবে এসেছে সেভাবে থাকলেও খুব সমস্যা দেখছি না আমি 🙂

  2. ছবি তোলায় আপনার আগ্রহ আছে দেখে ভালো লাগল।
    বড় ছবিটি দেখতে মন্দ লাগে না। আপনার চোখে বর্ষার নওগাঁ দেখে ভালো লাগল।

    1. খুব আগ্রহ আছে ভাইয়া। চেষ্টা করি নিজের মত করে। আপনি ভালো ফটগ্রাফার জেনেছি আমি। আমার ছবি সম্পর্কে মতামত দিলে উপকার হবে আমার ভাইয়া।

  3. নওগাঁ আমার অতি পরিচিত একটি শহর। এখানে আমার অনেক বছর কেটেছে। বন্যায় নওগাঁর মেইন রোডের উপর দিয়ে নৌকায় চলাচল করেছি। ছবিগুলো অত্যন্ত ভাল হয়েছে। এইজন্যই পোষ্টকারীকে অত্যন্ত ধন্যবাদ জানাই। চোখ জুড়িয়ে যায় ছবিগুলো দেখে।

  4. নওগাঁ শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে প্রতিবেদন ভালো হয়েছে আপু।  প্রতিবেধনের শেষে প্রতিবেদকের নিজস্ব একটি মতামত থাকে, এই সমস্যা থেকে পরিত্রানের উপায় কি, এমন ধরনের। এটি দিলেই চলবে। ভবিষ্যতে এমন প্রতিবেদন আরো চাই। ছবি এবং উপস্থাপনা ভালো হয়েছে।

  5. নৌকাটা ভীষণ ভীষণ সুন্দর — নৌকা দেখলেই আমার চালাতে ইচ্ছা করছে — আমি খুবই সুন্দরভাবে নৌকা চালাতে পারি —-

    সব ছবি এবং বর্ণনা — ভীষণ ভীষণ সুন্দর হয়েছে ———

  6. আপনি লিখে না দিলে বুঝতেই পারতামনা এটি একটি জেলা শহর।

    প্রথম প্রতিবেদন হিসেবে বেশ ভালো হয়েছে।
    আরো লিখুন এমনি প্রতিবেদন, আরো ভালো হবে।

    ফটো তোলায় আপনার হাত ভালোই
    মেঘলা আকাশে এর চেয়ে ভালো ছবি আসবে না।
    নৌকা সহ নদীর ছবিটা খুবই সুন্দর।
    খেজুর গাছের ছবিটাও বেশ ভালো লেগেছে।
    অন্যান্য ছবির পানিতে গাছের প্রতিবিম্ব দারুন লাগছে।

    শুভকামনা।

  7. প্রতিবেদন টি খুব ভাল হয়েছে।

    ন ওগায় শহরের এই দূর অবস্থা দূর হক কামনা করি। এদিকে নগর প্রধান দের দৃষ্টি আকর্ষণ হক।

    আর ছবি সহ সুন্দর একটি প্রতিবেদন।

    ধন্যবাদ।

  8. তাজ এক পরম টান অনুভব করছি আপনার জন্য। এই ছোট শহরের কাউকে দেখতে পেলেই আমি অনেক আনন্দ বোধ করি, এটা যে আমার শহর। ডিগ্রি কলেজের ছবিগুলো দেখে মন কেমন করলো, নওগাঁ গিয়েছি, ওখানে একবারও যাইনি এমন হয়নি। কতো বছর আমি শহর ছাড়া 🙁 ছবিগুলো, প্রথম প্রতিবেদন মূলক লেখা সবই ভালো লেগেছে। ছবির ক্যাপশানও সুন্দর।

    1. অনেক ধন্যবাদ। নিজেকে আর একা লাগছে না। খুব ভালো লাগছে আপনি নওগাঁর জেনে 🙂 আপনি নওগাঁর বাহিরে ভেবে মন খারাপ করবেন না। আমি মাঝেমাঝে নওগাঁর বিভিন্ন ছবি ব্লগে দেবো। দেখে নিবেন ভালো লাগবে।

  9. একদিকে ভালই নৌকা ব্যাবহার করেন, গাড়ির ধোঁয়া থেকে কয়দিন নিরাপদ। নিঃশ্বাস নিতে পারেন প্রান ভরে। তবু জলা বদ্ধতা কুমুক দ্রত। শুভকামনা নিরন্তর।

      1. আমি নওগাঁয় আমি জন্ম গ্রহন করিনি। নওগাঁর সেই মফস্বল শহরটিই আমার প্রথম শহর, যেখান থেকে শুরু আমার জীবনে একলা চলতে শেখা। নদী যে আমার খেলার সাথী, গল্প বলার বন্ধু ছিল, সে আপনার সেই যমুনার শাখা নদীটিই। নদী যখন শুকিয়ে যায় তখন রাতে অনেকে বোয়াল মাছ ধরার জন্য বড়শি ফেলে বসে থাকত। প্রত্যেকের সাথে রাখত একটা কুপি বা ছোট হারিকেন। পারঘাটের নৌকায় বসে দেখতে বেশ লাগত আমার। হ্যাঁ, আপনাদের সাব সেটে আমাকে রাখতে পারেন। ভাল থাকবেন।

মন্তব্য করুন